শিশু প্রিয় শিশু সংগঠক আহমেদ হিমেল

0
6

২০১২ সালের কোন এক বিকেলবেলা। রাজশাহী তেরোখাদিয়া স্টেডিয়ামের পাশের মাসজিদুল আবরারে আছরের নামাজ শেষ করে বের হলাম। ফুলকুঁড়ির একজন সংগঠক ভাইয়ার পাশে নাদুসনুদুস সুন্দর চেহারার একজন বালক আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু বলে দীর্ঘ সালাম দিলো। সালামের জবাব দিলাম। পরিচয় হলো, নাম মো. মোসাদ্দেকুর রহমান। ডাক নাম হিমেল। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। কথা না বাড়িয়ে গন্তব্য ফুলকুঁড়ি অফিসের দিকে রওনা হলাম। ফুলকুঁড়ি অফিসে অবস্থানকালীন স্ব-উদ্যোগে হিমেল তার আমার ডায়েরি দেখাতে এলো। এবার আরও একটু বিস্তারিত কথা হলো। জানাশোনা হলো। ডায়েরি দেখে অবাক হলাম। তার প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে আদায় করা হয়েছে। পড়াশোনাসহ অন্যান্য অধ্যয়নও বেশ ভালো। কথা বলতে গিয়ে তার প্রশ্নের বাণে জর্জরিত হওয়ার অবস্থা। জানার প্রবল আগ্রহে একের পর এক প্রশ্ন করছে। খুব দ্রুত অন্তরঙ্গ সম্পর্ক হয়ে গেল। তার চমৎকার ব্যক্তিত্ব ও আন্তরিক আচরণে হিমেল থেকে খুব দ্রুত হিমেল ভাইয়া হয়ে গেলেন।

আহমেদ হিমেল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম প্রফেসর আলহাজ্ব সুজাউর রহমান। পেশায় একজন শিক্ষক। নওগাঁর সাপাহার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। মৃত্যু- ২০১১ খ্রি.। মায়ের নাম মোছা. রাইহেনা বেগম। পেশা- গৃহিণী। মৃত্যু ২০১৫ খ্রি.।
৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে আহমেদ হিমেল ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। বালিয়াডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে এসএসসি পাশ করেন। এরপর পড়াশোনার উদ্দেশ্যে রাজশাহী গমন করেন। The North Polytechnic Institute রাজশাহীতে ডিপ্লোমায় ভর্তি হন। কৃতিত্বের সাথে ডিপ্লোমা উত্তীর্ণ হয়ে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে EEE বিভাগে বিএসসি সম্পন্ন করেন।

আহমেদ হিমেল ছিলেন খুব সৌম্য, শান্ত ও অমায়িক স্বভাবের। খুবই লাজুক ও স্বল্পভাষী। মিষ্টি হাসিমুখে কথা বলতেন সবার সাথে। কখনো কারো সাথে খারাপ ব্যবহার বা রাগ করতে দেখিনি। শিশুদের সাথে খুব দ্রুত মিশে যেতেন। শিশুদের খেলার সাথী ছিলেন হিমেল ভাইয়া। বিকেল হলেই তাকে পাওয়া যেত তেরোখাদিয়া স্টেডিয়াম বা মহিলা কমপ্লেক্স মাঠ অথবা মেডিকেল মাঠে শিশুদের সাথে খেলায় মগ্ন। খেলাধুলাকে হিমেল ভাইয়া সত্য ও সুন্দরের আহ্বান শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতেন। খেলা শেষে কুঁড়িদের মাঝে ফুলকুঁড়ি ম্যাগাজিন, ফুলকুঁড়ি সিলেবাসের বই, স্টিকার ইত্যাদি বিতরণ করতেন। আসরের মৌলিক অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের জন্য হিমেল ভাইয়া সবসময় খেলার মাঠকেই বেশি কাজে লাগাতেন। খেলার আগে ভ্রাতৃসভা, সবাই মিলে পড়া বা আসর অনুষ্ঠান যেকোন একটা অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করে তারপর খেলা শুরু করতেন। রাতিন, মুবিন, রাফিদ, ডালিম, নাজমুস সাকিব, নাঈম, নূর, তানসীম, আহনাফ সাদিক, কত শত ফুলকুঁড়িদের খেলার মাঠের সাথী ছিলেন হিমেল ভাইয়া। সেই ছোট্ট কুঁড়িরা বেশিরভাগই আজ সংগঠক হয়েছে। দেশের নামি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেলে পড়াশোনা করছে। খেলার মাঠের ঐ সময়গুলোতে হিমেল ভাইয়া সত্য ও সুন্দরের বীজ শিশুদের হৃদয়ে বপন করতেন। হিমেল ভাইয়া নিজেও খুব ভালো ক্রিকেট খেলতেন। সংগঠক ও বড়দের খেলায় হিমেল ভাইয়া ওপেনিং এ ব্যাটিং করতেন। খুব ভালো ব্যাটিং করতেন তিনি। তাকে খুব সহজে আউট করা যেত না।

রাজশাহীতে একই রুমে দীর্ঘদিন বসবাস করায় খুব কাছ থেকে হিমেল ভাইয়ার জীবনাচরণ দেখার সুযোগ হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে আহমেদ হিমেল ছিলেন খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও গুছানো মানুষ। তার পড়ার টেবিল ও বিছানা সবসময় পরিপাটি থাকতো। সবসময় পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করতেন। তিনি ছিলেন খুবই হিসাবি ও দক্ষ ব্যবস্থাপক। আহমেদ হিমেল ফুলকুঁড়ি আসর রাজশাহী মহানগরীতে একদম আসর পর্যায়ে কাজ করে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা একজন শিশু সংগঠক। আসর তত্ত্বাবধায়ক, অঞ্চল পরিচালক, মহানগরীর অর্থ সম্পাদক ও শাখার সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অঞ্চল পর্যায়ে যখন দায়িত্ব পান তখন থেকে তিনি ফুলকুঁড়ি কাজের জন্য একটি ট্রাংক ব্যবহার করতেন। তার ট্রাংকের ভেতর ছিলো অনেক ডিপার্টমেন্ট। যেমন- অফিসিয়াল ডকুমেন্টস, আর্থিক হিসাবের লেজার-ভাউচার, প্রকাশনা, পাঠাগারের বই ও বিভিন্ন তালিকা রাখার জায়গা। সারাদিন বাহিরে ক্লাস, টিউশনি, ফুলকুঁড়ি কাজ শেষ করে বেশিরভাগ দিন তিনি বাসায় ফিরতেন রাত ১০টা নাগাদ। গভীর রাতেও দেখতাম ঐ ট্রাংক নিয়ে হিমেল ভাইয়া ব্যস্ত। হয়তো কোনো তালিকা করছেন বা আর্থিক হিসাবের লেজার-ভাউচার তৈরি করছেন। ফুলকুঁড়ি আসর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হওয়ায় এর আয়ের ঊৎস হলো ফুলকুঁড়ি অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুদান। হিমেল ভাইয়া ৫ টাকা ও ১০ টাকার অনুদান সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ রাস্তা পায়ে হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে দায়িত্ব পালন করতেন। শিশু কিশোরদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের জন্য অর্থের প্রয়োজন হতো। তখন শুধু মাসিক আয় দিয়ে এসব অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন দুরুহ হয়ে পড়তো। হিমেল ভাইয়া এসব ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্পৃক্ত করে অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করতেন। যেমন- কোনো একজন ফুলকুঁড়ির আব্বু-আম্মুর সাথে দেখা করে বা কল করে তিনি বলতেন- আগামীকাল শিশুদের নিয়ে আমাদের একটা অনুষ্ঠান আছে। সেখানে দুপুরের খাবার আমরা আপনার পক্ষ থেকে আশা করছি। হিমেল ভাইয়া কথা বলতেন ছোট ছোট বাক্যে, কথা বলতে গিয়ে বারবার আটকে যেতেন, কথা বলার মাঝে বারবার নিঃশ্বাস নিতেন। তবে হিমেল ভাইয়ার কথা বলার মধ্যে সরলতার সৌন্দর্য ছিলো। তিনি যা করতেন, বলতেন একদম হৃদয় থেকে করতেন বা বলতেন। শিশুদের নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে হিমেল ভাইয়া অভিভাবকদের সহযোগিতা নিতে হীনমণ্যতায় ভুগতেন না। তিনি খুব সরলমনে আবদার করতেন আংকেল আন্টিদের কাছে। আমি নিজে এমন অনেক অনুষ্ঠানের সাক্ষী যেখানে হিমেল ভাইয়ার ব্যানার ও যাতায়াতের খরচ ব্যতীত বাকি সকল খরচ যেমন পুরস্কার, আপ্যায়ন ইত্যাদি অভিভাবকরা বহন করেছেন। হিমেল ভাইয়া এভাবেই আসরের সুন্দর সুন্দর পরিকল্পনাগুলো আশেপাশের মানুষদের সম্পৃক্ত করে বাস্তবায়ন করতেন।

আহমেদ হিমেল যখন ফুলকুঁড়ি আসর রাজশাহী মহানগরীর অর্থ সম্পাদক সে সময় ঢাকায় লিডারশিপ ক্যাম্পে অংশগ্রহণের ডাক আসে। ক্যাম্পে স্বাভাবিকভাবেই মহানগরী শাখাকে অর্থনৈতিক ভালো একটা সাপোর্ট দিতে হয়। হিমেল ভাইয়া সে উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন উপদেষ্টা, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে অনুদান সংগ্রহ করছিলেন। একজন অভিভাবক হিমেল ভাইয়ার কাছে জানতে চাইলেন ক্যাম্পে তোমাদের কোন বিভাগে বেশি খরচ হয়? হিমেল ভাইয়া বললেন-খাদ্য বিভাগে। তিনি বললেন খাদ্য বিভাগের জন্য তোমরা কী কী অনুদান নাও? হিমেল ভাইয়া বললেন-চাল, মাছ, ডিম, মাংস ইত্যাদি। তখন ঐ অভিভাবক হিমেল ভাইকে ৫০০ ডিম দেয়ার সিদ্ধান্ত জানালেন। হিমেল ভাইয়া তো পড়ে গেলেন বিপদে। কারণ, ক্যাম্প হবে ঢাকায়, রাজশাহী থেকে এতোগুলো ডিম নিয়ে যাওয়া তো কষ্টকর। পরে অবশ্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।

রাজশাহীর ফুলবাগানে আহমেদ হিমেল ছিলেন একটি প্রস্ফুটিত ফুল। যার সুবাসে সুবাসিত হয়েছে অসংখ্য শিশুকিশোর। শিশুকিশোরদের আগামী দিনের সৎ চরিত্রবান ও দেশসেবার উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আহমেদ হিমেল ছিলেন একজন নিবেদিত শিশু সংগঠক। তার কথা ও কাজে ছিলো অপূর্ব মিল। নিজের পড়াশোনার ব্যাপারেও ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী। তিনি কখনো সকালে ঘুমাতেন না। সকালের সময়টাকে তিনি শরীরচর্চা ও পড়াশোনার জন্য ব্যয় করতেন। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি অধ্যয়নকালে বিভাগে ১ম স্থান অর্জন করায় বিশ্ববিদ্যালয় তাকে স্কলারশিপ প্রদান করে। আহমেদ হিমেলের জ্ঞানার্জনের তৃষ্ণা ছিলো প্রবল। পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়নের পাশাপাশি হিমেল ভাইয়া প্রচুর অন্যান্য সাহিত্য অধ্যয়ন করতেন। তার একটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ছিলো। আহমেদ হিমেল ছড়া ও গল্প লিখতে পারেন এটা আমাদের অজানা ছিলো। রাজশাহীতে থাকাকালীন কীভাবে তার এই প্রতিভার বিকাশ হয়েছে, এটা আমরা টেরও পাইনি। হঠাৎ করেই দেখলাম বিভিন্ন সাহিত্য আসরে আহমেদ হিমেলের সরব উপস্থিতি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশ দেখে যারপরনাই আশ্চর্য হয়েছি। তার প্রতিভার বিকাশ দেখে ভালো লাগাও কাজ করেছে। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিভাগের জন্য কেন্দ্রীয় সংগঠন আহমেদ হিমেলকে নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করে। সেই পরিকল্পনার আলোকে তাকে মহানগরীর সহকারী পরিচালক থেকে সরাসরি কেন্দ্রে নিয়ে এসে সহকারী সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারপর থেকে তার লেখালেখির হাত আরও বেশি সমৃদ্ধ হতে থাকে। আহমেদ হিমেলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিলো তিনি কোনো কাজের দায়িত্ব পেলে সেটা নিয়ে নিয়ে খুব চিন্তা ও গবেষণা করতেন, অভিজ্ঞদের সাথে দেখা করে বা কল দিয়ে কথা বলে পরামর্শ নিতেন। দায়িত্ব পালনে তার যোগ্যতা ও আন্তরিকতার কারণেই তিনি পরবর্তীতে জাতীয় শিশুকিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ির সহ-সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। সহ-সম্পাদক থাকাকালীন আহমেদ হিমেল পত্রিকার মানোন্নয়নের জন্য রাত দিন পরিশ্রম করেছেন। গুণী লেখকদের লেখা সংগ্রহের পাশাপাশি দেশের আনাচে কানাচে অনেক লেখকের সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে।

একজন মুসলিম হিসেবে আহমেদ হিমেল ইবাদত বন্দেগিতে ছিলেন খুবই মনোযোগী। জামায়াতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে ছিলেন খুবই সিরিয়াস। রাজশাহী তেরোখাদিয়া স্টেডিয়ামের পাশে ফুলকুঁড়ি আবাসনে যখন থাকতেন – বর্ডাররা বাসায় জামায়াতে নামাজ পড়লে তিনি মন খারাপ করতেন। নামাজের সময় হলে মসজিদে যাবার সময় রুমে রুমে গিয়ে সবাইকে নামাজের জন্য ডেকে যেতেন। ঢাকায় ৭ তলা বাসায় থাকলেও তিনি নামাজ আদায়ের জন্য বারবার মসজিদে যেতেন। ৭ তলায় উঠা-নামার কষ্টের চেয়ে তিনি মসজিদে নামাজ পড়াকে সবসময় প্রাধান্য দিতেন। হিমেল ভাইয়া নামাজ পড়তেন অনেক সময় নিয়ে, ধীর স্থিরতার সাথে। তাকে সাথে নিয়ে ফুলকুঁড়ির কাজে বেড়িয়েছি এমন সময় নামাজের ওয়াক্ত হলেই হিমেল ভাইয়া তাড়া দিতেন পাশের কোনো মসজিদে নামাজ আদায়ের। আমি নামাজ শেষ করে বাহিরে এসে অপেক্ষা করতাম, দেখতাম হিমেল ভাইয়া তখনও মসজিদে নামাজ পড়ছেন। রাজশাহী ও ঢাকাতে যতদিন হিমেল ভাইয়ার সাথে ছিলাম দেখতাম ভাইয়া বেশিরভাগ সময়ই সাপ্তাহিক সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। মাসে আইয়ামে বিজের সিয়ামের কথা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতেন।
আহমেদ হিমেল শিশুকিশোর ও সংগঠকদের খাওয়াতে পছন্দ করতেন। তার ব্যাগে সবসময় চকলেট থাকতো। শিশুদের নিয়ে তার স্বপ্ন ছিলো অনেক। শিশুদের নিয়ে তার চিন্তাগুলো অনেক সময় ধরে শেয়ার করতেন। তিনি শিশুদের সাথে ছবি তুলতে পছন্দ করতেন। তার ছবিগুলো শিশুদের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ। তিনি সবসময় শিশুদের সামনে দিয়ে নিজে পেছনে দাঁড়াতেন কিংবা শিশুদের বুকের কাছে টেনে নিতেন। একবুক ভালোবাসা দিয়ে শিশুদের জড়িয়ে ধরে ছবি তুলতেন। পথশিশুদের জন্য আহমেদ হিমেলের ভালোবাসা ছিলো গভীর। রাজশাহীতে ডিপ্লোমা শেষ করে তিনি ডুয়েটে বিএসসি পড়াশোনার জন্য কোচিং করতে গাজীপুর মহানগরীতে আসেন।

গাজীপুর মহানগরীতে আহমেদ হিমেল অঞ্চল
পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি জয়দেবপুর স্টেশনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে স্কুল কার্যক্রম শুরু করেন। বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে আহমেদ হিমেল শিশুদের আইসক্রিম, চকলেট, কখনো বা পেট ভরে খাবার খাওয়াতেন। ঈদের সময় তিনি অভিভাবকদের থেকে অনুদান সংগ্রহ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নতুন পোশাক কিনে দিতেন। আহমেদ হিমেল নিজেও একজন এতিম হওয়ায় তিনি এতিম শিশুদের ভালোবাসার অভাব বুঝতেন। তাই সাধ্যানুযায়ী তিনি সেইসকল শিশুর পাশে দাঁড়াতেন।

শিশুদের প্রাণপ্রিয় আহমেদ হিমেল ভাইয়া হঠাৎ করেই ২০২৪ এর সেপ্টেম্বর মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ২ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, মতিঝিলে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক তাকে আইসিইউ-তে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। সেপ্টেম্বর এর ৭ তারিখে আহমেদ হিমেলকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, মহাখালী আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। তার সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট আসলে দেখা যায় ফুসফুসের প্রায় ৭০% অকেজো হয়ে গেছে। ১০ তারিখে অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকগণ তাকে লাইফ সাপোর্টে দেন। ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬.৪৫ মিনিটে শিশুপ্রিয় শিশু সংগঠক আহমেদ হিমেল মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়ার সফর শেষ করেন। মহান আল্লাহ শিশুদের প্রিয় আহমেদ হিমেল ভাইয়াকে ক্ষমা করুন। তার ভালো কাজগুলোর বিনিময়ে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।

প্রকাশকাল : অক্টোবর ২০২৪