বন্ধুরা, মাছে আছে ভালো প্রোটিন বা আমিষ যা মাংসপেশি ও হাড় গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমিষ ছাড়াও মাছে রয়েছে শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেল যা বিপাকীয় কাজে, রোগ প্রতিরোধে, বুদ্ধি বিকাশে ভূমিকা রাখে। শুধু তা-ই নয়, ক্যানসার প্রতিরোধেও সুরক্ষা দেয়। তাই মাছ না খেলে শিশু বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগতে পারে। আমিষের অভাবে শিশুদের মধ্যে কোয়াশিয়রকর নামক অপুষ্টিজনিত রোগ হয়।
মাছ স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের সবচেয়ে শক্তিশালী উৎসগুলোর মধ্যে একটি। মাছে রয়েছে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা শিশুর স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক ও দৃষ্টিশক্তি বিকাশের জন্য দরকার। এ ছাড়া মাছে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন ডি, আয়োডিন যা শিশুর বিকাশে সহায়তা করে। কিন্তু বেশিরভাগ শিশুরই মাছ খাওয়ায় থাকে অনীহা।
আরেকটু বিষদভাবে বলা যায়, সাদা মাছে প্রোটিন বেশি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকে। বেড়ে ওঠার জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। তৈলাক্ত মাছে আছে ইপিএ ও ডিএইচএ। এই দুটি ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী। এ ছাড়াও থাকে ভিটামিন ডি, যা হাড়, পেশি ও দাঁতে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
মাছ মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে। মাছের ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি এবং শেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্যামন, ইলিশ, পাঙ্গাশের মতো সামুদ্রিক মাছে ভিটামিন ডি আছে। ভিটামিন ডি শিশুদের শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে। শক্তিশালী হাড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম। এ ছাড়া মাছ সেলেনিয়াম ও আয়োডিনসমৃদ্ধ, যা শিশুর থাইরয়েড গ্রন্থির বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের মাছ খাওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ার একটা কারণ হলো খাদ্যাভ্যাস তৈরির সময় অনেক মা-বাবা গলায় কাঁটা আটকানোর ভয়ে মাছ দিতে চান না। আবার অনেক অভিভাবক মনে করেন মাছের চেয়ে দুধ, ডিম, মাংস বেশি ভালো। এসব কারণে দেখা যায় শুরুর খাদ্যতালিকা থেকে বাদ পড়ে যায় মাছ, তাই শিশুর মাছ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে না। ছোটবেলা থেকে মাছ খাওয়ার অভ্যাস না তৈরি হলে, হঠাৎ করে এই অভ্যাস গড়ে তোলা কঠিন। তাই শিশুকে একটু একটু করে মাছ খাওয়ানোর অভ্যাস করাতে হবে। সপ্তাহের খাদ্যতালিকায় কমপক্ষে পাঁচ দিন এক বেলা মাছ রাখা উচিত।
বন্ধুরা, এবার জেনে নাও তোমরা মাছ খাওয়ার অভ্যাস করবে কীভাবে। পরিবারের সবার সঙ্গে একত্রে খেতে বসবে। পরিবারের অন্য সদস্যদের মাছ খাওয়া দেখে তাদের অনুকরণ করে তোমরাও মাছ খাওয়ার চেষ্টা করবে। প্রথম দিকে পরিবারের কাউকে দিয়ে মাছের কাঁটা বেছে আস্তে আস্তে খাওয়ার অভ্যাস করবে। নরম এবং কম কাঁটাযুক্ত মাছ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। তোমাদের অভ্যাস তৈরি হতে সময় লাগবে। কখনো কখনো ছয় সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।
সরাসরি মাছ রান্না খেতে তোমাদের মতো অনেক শিশু অনীহা প্রকাশ করে থাকে, সে ক্ষেত্রে মাছ ভেজে, কাটলেট, চপ, ফিশ ফিঙ্গার, স্যান্ডউইচ অথবা ফিশ বল খাওয়া যেতে পারে। তোমরা হয়তো অনেকে একই ধরনের খাবার প্রতিদিন খেতে পছন্দ করো না, তাই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বিভিন্নভাবে রান্না করা মাছ খাওয়ার অভ্যাস করবে। মাছ, মাংস, ডিম একসঙ্গে মেনুতে না রেখে একেক বেলা একেক পদ রাখলে তোমরা মাছ খেতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
তবে বাবা-মারা জোর করে না খাইয়ে আস্তে আস্তে অভ্যাস করালে শিশুও আগ্রহ করে মাছ খাবে। কোনো মাছে শিশুর অ্যালার্জি আছে কি না খেয়াল রাখতে হবে। ছোট শিশুরা মাছ খেতে চায় না। তাই যেকোনো নতুন খাবার অভ্যস্ত করার সময় দেখতে হবে শিশুটি ভালোভাবে গ্রহণ করছে কি না, অ্যালার্জির কোনো প্রতিক্রিয়া কিংবা বদহজম হচ্ছে কি না। একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের মাছ না খাইয়ে একেকটি করে খাওয়ার অভ্যাস করাতে হবে। বলা হয় যে, একটি নতুন খাবার গ্রহণ করতে শিশুদের কমপক্ষে ১৫ বার পর্যন্ত চেষ্টা করতে হয়। বাবা-মাকে ধৈর্যসহকারে অবিচল থাকতে হবে।
গবেষকরা সপ্তাহে কমপক্ষে দু’বার সামুদ্রিক মাছ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সপ্তাহে একবার পরিবেশন করলে এতে ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম ওমেগা-থ্রির চাহিদা পূরণ হয়। শিশুদের জন্য, চর্বি কম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ খাওয়ানো খুবই ভালো।
প্রকাশকাল: আগস্ট ২০২৫


