ছোট্ট সুমন ক্লাস থ্রির ছাত্র। তার চোখে চশমা স্টাইলের জন্য নয় কিন্তু। সে চশমা ছাড়া বইপত্র পড়তে পারে না। পড়তে পারে না প্রিয় পত্রিকা ফুলকুঁড়ি। কেন তার এ অবস্থা হলো তা আজ বলবো তোমাদের। শিশুর চশমা ব্যবহার কিন্তু এড়ানো যায়।
শিশুর চোখ সুস্থ রাখার জন্য পুষ্টি দরকার, বিশেষ করে দীর্ঘসময় ধরে স্ক্রিনে থাকা এবং জাঙ্ক ফুড, ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের কারণে শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য ঠিক রাখা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠছে। কেননা বর্তমান ডিজিটাল যুগে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে সঠিক পুষ্টির উপর মনোযোগ দিতে হবে। শিশুকে সব ধরনের সুষম খাবার দেয়া দরকার। কারণ সুষম খাদ্য চোখের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে এবং সুস্থ দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
শিশুরা সাধারণত সব ধরনের খাবার গ্রহণ করতে চায় না। এজন্য খাবারটিকে কৌশলে রঙিন ও মজাদার করে তুলতে হবে। চোখের পুষ্টির কোনো অভাবের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখা উটিত। যেমন শিশু ঘন ঘন চোখ ঘষা বা চোখের ক্লান্তি, দূরের বা কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা, শুষ্ক, লাল, চুলকানিযুক্ত চোখ।
চোখের স্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টি কেন গুরুত্বপূর্ণ ? কারণ এটি চোখের সমস্যার ঝুঁকি কমায়। চোখের জন্য নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদান চোখকে শুধু পুষ্টি জোগায় না বরং ইউভি রশ্মি এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের মতো কারণে সৃষ্ট ক্ষতি থেকেও রক্ষা করে থাকে।
চোখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান :
ভিটামিন এ : ভিটামিন এ চোখের শ্লেষ্মা ঝিল্লীর স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভূমিকা পালন করে। এটি ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে বাঁধা হিসেবে কাজ করে। ভিটামিন এ কর্নিয়ার পৃষ্ঠ বজায় রাখতে ও রেটিনার স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, রাতকানা প্রতিরোধ করে। গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পালংশাক, কলিজা, ডিম ইত্যাদিতে ভিটামিন এ রয়েছে।
ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড : এটি রেটিনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিজিটাল ডিভাইসে যারা বেশি সময় কাটায় তাদের জন্য ওমেগা-থ্রি গুরুত্বপূর্ণ। এ অ্যাসিডযুক্ত খাবার, চর্বিযুক্ত মাছ, তিসিবীজ, চিয়াবীজ, আখরোট, ইত্যাদি।
ভিটামিন সি : এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চোখের রক্তনালীগুলিকে শক্তিশালী করে। পাশাপাশি ছানিপড়ার মতো রোগ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন সি খাদ্যের উৎস: কমলালেবু, স্ট্রবেরি, পেয়ারা, ব্রকলি, আমড়া, আমলকি, জাম্বুরা ইত্যাদি।
ভিটামিন ই: চোখের কোষগুলিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং বয়সজনিত চোখের রোগগুলিকে ধীর করে দেয় ভিটামিন ই। ভিটামিন ই রয়েছে কাঠবাদাম, চীনাবাদাম, আখরোট, কাজুবাদাম এবং বিভিন্ন বীজজাতীয় খাবারে।
লুটেইন এবং জিয়াক্সিনথিন, এই ক্যারোটিনয়েডগুলি প্রাকৃতিক সানগ্লাস হিসেবে কাজ করে এবং ক্ষতিকারক নীল আলো এবং অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করে। এজন্য খাদ্যতালিকায় নিয়মিত রাখতে হবে সবুজ শাকসবজি, ডিম, ভুট্টা ইত্যাদি।
জিঙ্ক : জিঙ্ক ভিটামিন এ-কে মেলানিন তৈরিতে সাহায্য করে যা চোখকে রক্ষা করে। মেলানিন হলো একটি রঞ্জক যা অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে চোখকে রক্ষা করে। এটি শরীরকে ভিটামিন এ শোষণ করতেও সাহায্য করে। রেটিনার স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার : মাংস, মটরশুটি, বাদাম, গোটাশস্য, কুমড়োর বীজ, মসুর ডাল ইত্যাদি।
ভিটামিন বি : দৃষ্টিশক্তি সুস্থ রাখতে ভিটামিন বি গুরুত্বপূর্ণ । যেমন ভিটামিন বি৬ ম্যাকুলার ডিজারেনশনের মতো কিছু চোখের সমস্যা রোধ করতে পারে। অন্যদিকে ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকনিকা গঠনে ভূমিকা পালন করে, যা চোখের টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য প্রয়োজন। ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবারগুলো বেশিরভাগই প্রাণিজ, যেমন মাংস, মাছ, ডিম ইত্যাদি।
শুষ্ক চোখ প্রতিরোধ করতে সারাদিনে তোমাদের প্রচুর পানি খেতে হবে।
কিছু টিপস :
১. ২০-২০-২০ রুল মেনে চলতে পারো অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকাতে হবে।
২. স্ক্রিন টাইম কমাতে হবে তোমাদের। একান্ত প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হলে ১৬ থেকে ২০ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে।
৪. চোখ আঙুল দিয়ে ঘষবে না। এতে ইনফেকশন হতে পারে।
প্রকাশকাল:জানুয়ারি ২০২৬



