রঙিন প্রজাপতির দেশে

0
0

লুনা ছিল খুবই কৌতূহলী আর মিষ্টি মেয়ে। তার বয়স মাত্র সাত বছর। সকাল হলেই সে বাগানে গিয়ে ফুলের গন্ধ শুঁকতো আর প্রজাপতিদের পেছনে ছোটাছুটি করতো। তার মনে একটা কল্পনার জগৎ তৈরি হয়েছিল। সে ভাবতো, হয়তো একদিন এমন কোনো দেশে যাবে যেখানে চারপাশে শুধু ফুল আর প্রজাপতি।
সেদিন ভোরে ঝিরিঝিরি বাতাস বইছিল। লুনা ঘুম থেকে উঠে নিজের ছোট্ট নীল রঙের জামাটা পরে বাগানে চলে এলো। ফুলগুলো তখনো ভোরের শিশিরে ভেজা। লুনা খুব সাবধানে একটা গোলাপের পাপড়ি ছুঁয়ে বলল, ‘তোমরা এত সুন্দর কেন?’
হঠাৎ করেই একটা রঙিন প্রজাপতি লুনার সামনে উড়ে এলো। তার ডানাগুলো এত সুন্দর ছিল যে লুনা চোখ সরিয়ে নিতে পারছিল না। প্রজাপতিটা লুনার মাথার উপর ঘুরতে ঘুরতে মিষ্টি কণ্ঠে বলল, ‘তুমি কি আমাদের দেশে যেতে চাও?’
লুনা অবাক হয়ে বলল, ‘তোমাদেরও একটা দেশ আছে?’
‘হ্যাঁ, আছে। সেটা এক রঙিন পৃথিবী, যেখানে কেবল আনন্দ আর খুশির ঝরনা বয়ে চলে। তবে সেখানে যাওয়ার জন্য তোমাকে কিছু শর্ত মানতে হবে। তুমি কি রাজি?’
লুনা একটুও না ভেবে বলে দিলো, ‘অবশ্যই রাজি!’
প্রজাপতিটা বলল, ‘তাহলে তোমাকে চোখ বন্ধ করতে হবে এবং মনের মধ্যে একদম সুন্দর একটি রঙিন বাগানের ছবি আঁকতে হবে। আর মনে মনে বলতে হবে, ‘আমি আনন্দের দেশে যেতে চাই।’’
লুনা চোখ বন্ধ করল। কিছুক্ষণ পর সে বুঝতে পারল, চারপাশের পরিবেশ বদলে গেছে। চোখ খুলে দেখল, সে এক নতুন জগতে এসে দাঁড়িয়েছে। আশেপাশে অসংখ্য প্রজাপতি উড়ছে আর প্রতিটা প্রজাপতির ডানায় ছিল রংধনুর সাত রঙের ঝিলিক। চারদিকে ফুটে আছে নানা রঙের ফুল, আর বাতাসে ভেসে আসছে মধুর সুগন্ধ। পাখিরা কিচিরমিচির গান গাইছে, আর দূরে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট একটি পাহাড়ি নদী।
লুনা মুগ্ধ হয়ে চারপাশ দেখছিল। এমন সময় একটি বড় প্রজাপতি তার কাছে এসে বলল, ‘আমাদের দেশে স্বাগতম, লুনা! তুমি আজ আমাদের অতিথি। এসো আমরা সবাই মিলে খেলি।’
লুনা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে প্রজাপতিদের সাথে খেলা শুরু করল। তারা ফুলের পাপড়ির উপর বসে গান গাইছিল, কখনো বাতাসে ভেসে নাচছিল। লুনা তাদের সঙ্গে দৌড়াচ্ছিল, নাচছিল, হাসছিল। সে কখনো এত মজা করেনি।
হঠাৎ করে সূর্য ঢলে পড়ল আর আকাশে মৃদু আলো ছড়িয়ে পড়ল। প্রজাপতিটা লুনাকে বলল, ‘লুনা, এখন তোমার ঘরে ফেরার সময় হয়েছে। কিন্তু চিন্তা করো না, এই ফুলটা তোমার জন্য। যখনই তুমি একা অনুভব করবে বা মন খারাপ হবে, এই ফুলের গন্ধ নিলে আমরা তোমার কাছে চলে আসব।’
লুনা ফুলটা হাতে নিয়ে বলল, ‘তোমাদের দেশে এসে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমি আবার আসব, কথা দাও।’
প্রজাপতিটা হেসে বলল, ‘তুমি যখনই প্রকৃতির সঙ্গে কথা বলবে আর ফুলকে ভালোবাসবে, তখনই আমরা তোমার কাছে চলে আসব। আমরা কখনো তোমাকে একা থাকতে দেবো না।’
লুনা চোখ খুলে দেখল, সে বাগানেই বসে আছে। কিন্তু তার হাতে সত্যিই সেই রঙিন ফুলটা ছিল। মায়ের কাছে গিয়ে সে সব কথা বলল। মা হেসে বললেন, ‘প্রকৃতি আমাদের বড় বন্ধু, লুনা। আমরা যদি প্রকৃতিকে ভালোবাসি, প্রকৃতি আমাদের আনন্দ দিয়ে ভরিয়ে দেবে।’
এরপর থেকে লুনা প্রতিদিন বাগানে যেত। ফুলের সঙ্গে কথা বলত, প্রজাপতিদের খুঁজে বেড়াত। যখনই তার মন খারাপ হতো, সে সেই রঙিন ফুলের গন্ধ নিত আর মনে মনে চলে যেত প্রজাপতিদের রঙিন দেশে।

প্রকাশকাল: মার্চ ২০২৫