প্রিয় ফুলকুঁড়ি বন্ধুরা, গত মাসে তোমরা বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভব করেছো নিশ্চয়ই। অনেকেই হয়তো আতঙ্কিত হয়েও পড়েছিলে বেশ। হ্যাঁ, ভূমিকম্প যেহেতু বলে-কয়ে আসে না, তাই আতঙ্কিত হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু না। তবে ভূমিকম্প হলে আমাদের কী করণীয়, আর কী বর্জনীয়, তা যদি আমাদের জানা থাকে, তাহলে আমরা আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার মাত্রাটাকে একটু কমিয়ে আনতে পারি।
ভূমিকম্প কী, কেন হয়, এসব নিয়ে গত কয়েকদিনে হয়তো তোমরা পড়াশোনা করেছো টুকটাক। সেদিকে আর যাচ্ছি না। তবে কেউ জানতে চাইলে পাশের কিউআর কোডটি স্ক্যান করে মাসিক ফুলকুঁড়িতে পূর্বে প্রকাশিত ভূমিকম্পের ওপর একটি লেখা পড়ে নিতে পারো।
প্রথমেই আসি ভূমিকম্পের পূর্বে আমাদের কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে, সে আলোচনায়-
– যেসব জায়গায় তুমি বেশিরভাগ সময় থাকো, যেমন বেডরুম, রিডিংরুম বা ক্লাসরুম, এসব স্থানের নিরাপদ স্থান কোনটি, তা চিহ্নিত করে রাখতে হবে। হতে পারে তা কলামের পাশে, বীমের নিচে কিংবা টেবিলের নিচে। নিরাপদ জায়গা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তোমরা বড়দের সাহায্য নিতে পারো।
– শোবার খাটের ঠিক পাশেই বড়ো বা ভারী কোনো ফার্নিচার না রাখা। হতে পারে রাতে তুমি ঘুমাচ্ছ, এমন সময় ভূমিকম্পে ফার্নিচারটি তোমার ওপর এসে পড়লো। তখন?
– আপৎকালীন যদি পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তবে তুমি কোন নম্বরে/ঠিকানায় যোগাযোগ করবে, তা ভালোভাবে জেনে রাখা। পরিবারের কাউকে না পেলে এরপর কার সাথে যোগাযোগ করতে হবে, তাও জেনে রাখতে পারো।
– রুমে তোমার হাতের নাগালের মধ্যে একটি ইমার্জেন্সি কিট রাখতে পারো। কিটের মধ্যে টর্চলাইট, লাল কাপড়, কিছু জরুরি ঔষধ এবং শুকনো খাবার রাখতে পারো। ভয়ংকর কোনো বিপদের সময় হয়তো এ কিটটিই তোমাকে বেঁচে থাকার রসদ সরবরাহ করতে পারে।
ভূমিকম্প চলাকালীন-
– ভূমিকম্প চলাকালীন কোনোভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়া যাবে না। ভূমিকম্পের সময় মাথা ঠান্ডা রাখতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
– আগে থেকে চিহ্নিত করে রাখা নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে পড়বে।
– দুই হাত দিয়ে মাথা ঢেকে রাখবে। সুযোগ পেলে বালিশ বা নরম কিছু মাথার ওপর দিয়ে রাখবে। সুযোগ পেলে ইমার্জেন্সি কিটটি সাথে নিবে।
– নিচতলায় যদি না থাকো, তাহলে কখনোই নিচে নামার জন্য সিঁড়িতে দৌড় দিবে না। মনে রাখবে, ভূমিকম্প চলাকালীন একটি বিল্ডিংয়ের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর মধ্যে সিঁড়ি অন্যতম।
– ভুলেও বারান্দা থেকে বা জানালা দিয়ে লাফ দেবার চিন্তা করবে না।
– মহান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করতে থাকবে। একমাত্র তিনিই পারেন আমাদের রক্ষা করতে।
ভূমিকম্পের পর-
– প্রথমেই দেখে নিবে কোনো আঘাত পেয়েছো কি না। ছোট-বড় যাই আঘাত হোক না কেন, সাথে সাথে বড়দের জানাবে।
– পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে একসাথে হয়ে যাবে। পরিবারের কাউকে না পেলে বা দূরে থাকলে আশেপাশে থাকা বড় কারো (অবশ্যই পরিচিত) সঙ্গে থাকবে।
– যদি কোথাও আটকে পড়ো, তাহলে অবশ্যই মাথা ঠান্ডা রেখে বর হয়ে আসার চেষ্টা করবে। একান্তই বের হয়ে আসতে না পারলে তোমার ইমার্জেন্সি কিট ব্যবহার করে সুস্থ থাকার চেষ্টা করবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমাকে কেউ না কেউ অবশ্যই উদ্ধার করবে।
ভূমিকম্প একটি আকস্মিক দুর্যোগ। তবে তুমি যদি আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারো, তবে আশা করা যায় ভয়াবহ বিপর্যয়েও তুমি নিরাপদে থাকতে পারবে।
সবাই নিরাপদে থাকো, এই প্রত্যাশায় আজকের মতো এটুকুই।
প্রকাশকাল: ডিসেম্বর ২০২৫
