চোর

0
2

একটা ছোট শহরে এক লোক বাস করতো, লোকটির নাম মন্টু মিয়া। মন্টু মিয়াকে সবাই এক নামে চিনতো। সবাই তাকে ভালোবাসতো তার ভালো চরিত্রের জন্য। কিন্তু কেউ তো আর জানতো না যে মন্টু মিয়ার এই ভালো চরিত্রের ওপর লুকিয়ে আছে একটা খারাপ চরিত্র। রাত হলেই সে বেরিয়ে পড়তো চুরির জন্য। প্রতিদিনের মতো মন্টু মিয়া চুরি করে যাচ্ছিলো বাড়ির উদ্দেশ্যে। তখনই সে দেখতে পেলো সামনে কয়েক জন পুলিশ। পুলিশ দেখেই ভয়ের শীতল স্রোত বয়ে গেলো তার গোটা দেহে। ভাবলো, কী করা যায়? হঠাৎ একটা বুদ্ধি পেলো সে। তার চুরি করা জিনিস পকেটে ঢুকিয়ে পুলিশদের সামনে মাথা নিচু করে সালাম দিয়ে চলে যেতে চাইলো সে।
একটা পুলিশ তাকে হাত নেড়ে কাছে ডাকলো। কাছে যেতেই সে বলে, যা আছে চুপচাপ দিয়ে দে বলছি। নয়তো এই চাকুটা দেখছিস? পেটে ঢুকিয়ে দেবো একেবারে। মন্টু মিয়া ভয়ে ভয়ে বলল, পুলিশের কাজ তো এসব না। পুলিশটা বলল, ছাড় তোর পুলিশ-টুলিশ। আমরা পুলিশ না, আমরা ডাকাত। আমাদের যাতে কেউ চিনতে না পারে, এজন্য আমরা পুলিশের ড্রেস পরে আছি। এখন দে বলছি, নয়তো…..
মন্টু মিয়া ভয়ে তার চুরি করা জিনিস আর তার ব্যবহৃত মোবাইলটাও দিয়ে দেয়।
এরপর কয়েকটা দিন সে চুরি করতে বের হয় না ভয়ে। যদি আবার পুলিশরূপী ডাকাতের পাল্লায় পড়ে!

কয়েকদিন পরের ঘটনা।
একদিন সে চুরি করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলো। সেদিনও সে দেখলো, ৫/৬ জন পুলিশ তার দিকেই এগিয়ে আসছে। সে ভাবলো, এরাই হয়তো সেই ডাকাতগুলো। তাই সে প্রতিশোধ নেবার জন্য একটা লাঠি তুলে তাদেরকে মারতে লাগল আর বলতে লাগল, আর আমার জিনিস চুরি করবি? বল। মারা শেষ হওয়ার পর একটা পুলিশ তাকে বলল, এই তুই আমাদের মারলি কেন? আমরা কি চোর নাকি? এই বলে তাকে ধরে নিয়ে গেল। মন্টু মিয়া তাদের অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু কে শোনে কার কথা? তারা তাকে ধরে থানায় নিয়ে গেলো আর ইচ্ছা মতো মারলো। তখন মন্টু মিয়ার অবস্থা হলো বেহাল।

প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৬