গাছবাড়ি

0
2

আক্কাস মৃধার বাপ গাছপাগল ঘরামি রজব মৃধা। ছেলের রক্তে বীজ বুনে দিয়েছে সে। ঘরামির স্বপ্ন অনেক লম্বা অনেক চওড়া। সে ছেলেকে সময়ে অসময়ে বলত, ব্যাটা তুই কিন্তুক লেহাপড়া শিখ্যা অ-নে-ক বড় হবি। আর এই যে আমাগোর চারিপাশে বিরিক্ষ লতা-পাতা এগুলানের যতন করবি। মাস্টোর সাব আমারে কইছেন-বিরিক্ষ না থাকলি মনুষ্য পরানে বাচপি নানে। বিরিক্ষ আমাগরে ভালা বাতাস দেয় সেইটারে কয় অক্সিজেন। সেই দাওয়াই আমরা নিয়াস ভইরা টাইনা নিয়া বাঁইচা আছি। আর মন্দ বাতাস বিরিক্ষ টাইনা লয়। মন্দ বাতাসের নাম বড় খটোমটো। মনে আহে না বাজান। আল্লাতালার কী লীলাখেলা! তাইলে বাজান এই কথাগুল মনে রাইখো জেবনভর।’
আক্কাস মৃধা বাপের বেটা। সে আট ক্লাস পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। আক্কাসের মাও আদাজল খেয়ে লেগেছিল বেটার পিছনে। দুই মেয়ের শাদি মোবারকের কালে বিস্তর পয়সা-কড়ি খরচা হয়ে গেছে। এখন ব্যাটা মানুষ করতে খানিক বেস্তুত দশা। তাই বলে স্বপ্নগুলান ভেসে যায়নি বানের জলে। মিয়াবিবির আশাফুল মনের কোঠাগারে দিব্যি মজুদ আছে। আক্কাস পড়তে বসলে কদবানু পিঠের ঘামাচি মেরে দেয়, তালপাখা ভিজিয়ে অক্লান্ত বাতাস করে। অভাবের সংসারেও আক্কাসের জন্য একপোয়া দুধ রোজ করা আছে। উঠানের গাছে ডালিম ফলে, পাছদুয়ারে হিমসাগর আম ফলে মওসুমে ঝোপা ঝোপা। আক্কাস ফল-ফলারি খায়। দুধে ফলে বুদ্ধি বাড়ে।
ঘরামি রজব মৃধাকে শুধু ঘরামি বললে ভুল হবে অবশ্যই। সে দস্তুর মতো জাত শিল্পী। চৌচালা টিনের চালার সদর কিনারা ঘিরে জাতশিল্পী। ঝরকা কাটা নকশা জুড়ে দেয়। লোকে বারবার ফিরে তাকায়। সে সদর দরজার চূড়ায় জোড়া ময়ূর বানায় টিন কেটে। চাঁদতারা বানায়। নিত্য খুরপি দিয়ে গাছ-গাছালির গোড়ার মাটি নিড়ায়। বাড়ির চার পাশ বৃক্ষ-লতাপাতা হাত ধরাধরি করে পাহারা দেয় যেন। রজব মিয়ার হাতে জাদু আছে, লোকে বলাবলি করে। সে বিসমিল্লাহ বলে যে বেছনটিই ভূঁইয়ে রোপণ করে, সেটিই তরতাজা চারাগাছ হয়ে কলকলিয়ে বেড়ে ওঠে। গাঁয়ের মানুষজন আধাপাগল মানুষটারে দিয়ে বেছন পোতায় নিজেদের
ভূঁইমাটিতে। রজব মিয়ার হাতে জয় আছে যে। মানুষটা পাতা দেখে গাছের নামধাম গড়গড় করে কয়ে যায়। কবরেজি লতা, শেকড়-বাকড় এক নজরে ঠাওর করতে জানে।
ছেলে আক্কাসকে বৃক্ষের তরিকা শেখাচ্ছে সেই শিশু বয়স থেকেই। উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুল গাঁয়ের ছায়া ছন্ন এই গাছবাড়ি দেখার মতো। পুত্র বাপের বিদ্যায় বিদ্বান হয়ে উঠছে। সে বুঝি আরেক কাঠি সরেস। সে কেবল চারা রোপণই করে না বরং চারাগাছটি কিঞ্চিত সাবালক হলেই তাদের সাথে গাল-গল্পে কুশল বিনিময়ে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। দুপুর গড়িয়ে গেলে রোদের তেজ শীতল হতে থাকে। আক্কাস মিয়ার তখন খানিক অবসর। সে তখন স্যান্ডো গেঞ্জির ওপর সবুজ রঙের শার্টটি চাপিয়ে পাকঘরের পাছ দুয়ারে গিয়ে সতেজ সবুজ লাউডগার সাথে খোশগল্পে মেতে ওঠে। কিরে ভাই লাউডগা কেমুন আছিস? কালকা দেকছিলাম একটু ন্যাতান্যাতা। শরীলডা খারাপ করছিল মনে হয়। খাইখাদ্যের একটু ঘাটতি হয়েছিল মনে কয়। আইচ্ছা চিন্তার দরকার নাই। মায়েরে কবনে রোজ মাছ দোয়া পানিটুক তোমার গোড়ায় ঢালতি। তাইলেই তুমি ফের টলটলা হয়্যা উঠবেনে। এমনি করে আম গাছতলায় যায় একা একা কথা কয়, ‘কী খবরাখবর মুকুলের গুষ্টিও নাই তোমার ডালে। এ বছর ঘুমাইবা নাকি?’
এমনি করে বেলি, টগর আর ঝুমকো জবার সাথে কথা কয় আক্কাস।। সে তার মায়েরে কত বয়ান শোনায়। বৃক্ষলতা হাঁসে কাঁদে। গল্পও করে বন্ধুদের সাথে। বলে আক্কাস, ‘দেখ না মা গাছপালা একজনের গায়ে আরেকজন কেমন ঢলে পড়ে। শক্ত খুঁটি গেড়ে ওদের খাড়া করতি হয়। ওরা কিন্তু হাসি তামাশা করে আবার মরা কান্দনও কাঁন্দে। আক্কাসের বেটা চান্দ মিয়া, বাপ তাকে নিয়মিত স্কুলে পাঠায়। তাকে আইএ, বিএ পাস দিতে হবে। দিতেই হবে। আক্কাস মৃধা তার বাপের তরিকায় উঠতে বসতে বয়ান করে। বৃক্ষ বয়ান। পুরা-তনি নেমা। চাঁদমিয়া গাছগুলা ভালবাসে আরো ভালবাসে পাখ-পাখালি। চাঁদমিয়া অঙ্কে পাকা অন্যান্য বিষয়েও মন্দ না। কিন্তু ঘুঘু যখন তার মন উদাস মিহি ঘু-উ-উ ঘু-উ-উ ডাকে চাঁদমিয়া তখন অঙ্ক কষা স্থগিত রেখে বেরিয়ে পড়ে সুন্দর বাউল সুরকারটির দর্শনলাভে। তার স্বশিক্ষিত বাপজানকে বলে, বাজান গাছগাছড়ার অক্সিজেন যেমন মানুষের জান ব-চায় পাখপাখালিও তেমনি জীববৈচিত্র্য বাঁচায়া রাখে। সমাজবিজ্ঞানের নতুন স্যার কইছেন। কথাডা সত্য। চাঁদ কাঁঠালগাছের ডালে মাটির হাঁড়ি সযতনে বেঁধে দিয়েছে। পাখিদের শোয়ার ঘর, ঘুমাবার ঘর। মৃধাবাড়িটা ঠিক যেন গাছগ-াছালি পাখপাখালিদের জাদুঘর। প্রকৃতির পা-ঠশালা আর হেডপণ্ডিত রজব মৃধা।
চাঁদের দাদীজান কসবানুর বয়স হয়েছে তিনকুড়ির বেশি। তবু সে রোজ রোজ মাটির হাঁড়ি ভরে পানি ঢালে। পাখ-পাখালি গোসল করে। ঠোঁট ডুবিয়ে পানি খায়। চড়ই রোজ কিচিরমিচির করতে করতে গোসল করে। কাকগুল চটজলদি স্নান করে কা..কা করতে করতে কোথায় উড়ে যায়। চাঁদের মা শহরবানু একটু কড়া মেজাজের মানুষ। তার এইসব বেহুদা কাজকাম সহ্য হয় না। গাছলতা পক্ষীটক্ষী আছে আছে নাই তো নাই। তাই নিয়ে এমন পাগলামি পেরেশানি কিসের? শহরবানুর গলায় লাল লঙ্কার ঝাঁজ, ‘বাপবেটায় মিলমিশ কইর‍্যা দুনিয়ার গাছগাছালি বাড়িডা ঘেরাও কইর‍্যা লাগাইছো। কিন্তু কোন কামে সড়কের ধারে, বড় মসজিদে, ময়দানে, খালে-বিলে দিন রাইত গাছগাছালি লাগাইতাছ। কোন কামে বেহুদা পেরেশানি করতাছ। দুনিয়ার ব্যাবাক ভালা বাপবেটায় বোকা। আমি কিছুই বুঝি না। দশ পয়সা কামাই করলেই তার অর্ধেকটা চারা বেছন কিনতে খইস্যা যায়। আবার ছাওয়ালের হইচে পাখপাখালির খেদমতগিরির খায়েস। আমি কি গলায় ফাঁস দিয়া মরমু?’ আক্কাস মিয়া তবু হাসে।
শহরবানু উঠান ঝাড়ু দিতে দিতে কড়কড় করতে থাকে। তার ঝাঁটার ডগায় ঝরা পাতার তুমার। একসময় আক্কাস মুধা শীতল স্বরে বলে, ‘শোন চান্দের মা। আমাদের নবীজী বলেছেন রোজ কিয়ামতের দিনেও যদি তোমার কাছে একটি বীজ থাকে তবে তুমি সেটা জমিনে পুঁতে দিও। আর জানো মরণের পর এই ফলবান বৃক্ষের যা তুমি নিজ হাতে বুনছিলে তার ফল পাকড় পাখপাখালি মানুষজন খাইবে আর তার দোয়া আমলনামায় জমা পড়বে, সদকায়ে জারিয়া। তাইলে ভাবো মনুষ্যের জন্য গাছলতা কতবড় বন্ধু। ঢাকা শহরের গাছপালা কাটতে কাটতে সব সাফা। খালি সমানে আকাশমুখী দালানকোঠা উঠতাছে। টিয়া পাখির ঝাঁক আর আকাশ দিয়া উইড়্যা যায় না। ডাহুক, বুলবুলি আর কোকিল উধাও। ঘুঘুর ডাকতো আর শোনায় যায় না। দেখ চান্দের মা আমরা এই বাড়িত গাছলতা পক্ষীগুলা নিয়া কত সুখেই না আছি। ম্যালা বড়লক না ঠিকই। তাও ডালভাত শাকপাতার তো অভাব নাই। আল্লার দরবারে হাজার হাজার শুকরিয়া। পূর্বের জমিনের পঞ্চাশটা মেহগনি গাছগুলা জোয়ান কি দেখছ। পিছদুয়ারের বাঁশঝাড় কী ঘনই না হইছে। আম, কাঁঠাল, সফেদা, জলপাই কিন্যা খাইতে হয় না। আত্মীয় কুটুমবাড়িও যায়। খোশ-পড়শি দোস্ত-দুশমন সবাইরে কমবেশি দিয়া খাই। কত না সুখের বিষয়। লাউ, শিম, বেগুন কি আর কিন্যা খাওয়া লাগে। কারবারিরা ফলফলালি, শাকসবজি সবটার মধ্যে কত জাতের বিষ মিশায়। তুমি জানো না বানু। মাস্টার সাব নিত্যই এ কথাগুলান আমারে বুঝায়া কন। আমি বুঝি শহরবানুর পাকঘরে বিস্তর কাম। এইসব আলগা নসিহত তার মোটেও মনে ধরে না। সে অর্ধেক উঠান ঝাড় দিয়ে শলার ঝাড়ুটা ঢিল মেরে ডালিম গাছের নিচে ফেলে। তারপর দুমদাম পা ফেলে পাকঘরে ঢোকে।
আজ মৃধাবাড়ির চুলা জ্বলেনি। বাসিমুখে ঘরবার করছে রজব মিয়ার পরিবার। কান্দে পাছদুয়ারের ঘন বাঁশঝাড়। ঝুমকো জবা দুলেদুলে কান্দে। পাখপাখালি কান্দে বেশুমার। কান্দে শহরবানু চিকুর দিয়ে দিয়ে। চাঁদের কঠিন বিমার। শেষরাত থেকে চৌকি জুড়ে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছে কিশোর। ডান দিকে তলপেটে যমের খামচি। কিছুতেই বিন্দুখানিক আসান হয় না। কদবানু, শহরবানু তেলপানি ডলে বিছানা বালিশ একসা করে ফেলেছে। উনিশ-বিশ নাই বেদনার। সাত সকালে আক্কাস মৃধা মফিজ ডাক্তারকে প্রায় হাতে-পায়ে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসছে। ডাক্তার নাড়ি টেপে, পেট টেপে। বুকে টেথিস্কোপ লাগায়। সব বৃথা। ছাওয়ালটা জবেহ করা মোরগের মতো তড়পায়। মফিজ ডাক্তারের বাপের সাধ্য নাই রোগ শনাক্ত করার। ডাক্তার তার যাবতীয় কেরামতি গাম্ভীর্য বিসর্জন দিয়ে ফ্যাসফেসে গলায় বলে, ‘এ আমার কম্ম নয়গো আকু। পকেট ভরে টাকা পয়সা নিয়া সদরে যাও জলদি। সিমটম ভাল নয়।’… দিশা নাই।
চার দিক মিশমিশে আঁধার। আক্কাস মিয়া শতবর্ষী বৃক্ষের প্রাচীন বাকলের মতো ক্রমশ বিবর্ণ হতে থাকে। বিস্তর টাকা পয়সার দরকার। কিন্তু আকু মৃধা পয়সাকড়ির ধান্দা তো এ যাবৎ করে নাই। মিশমিশে আন্ধার আরো মিশমিশে হতে থাকে। সিরাজগঞ্জের বড় হাসপাতালের ডাক্তার কায়সারের অভিজ্ঞ চোখজোড়া কুঁচকে যায়। সাদা অ্যাপ্রোন পরা ডাক্তার রায় ঘোষণা করেন বুঝি। থেমে থেমে উচ্চারণ করেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সে এখনই ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে হবে। কুইক… ইমার্জেন্সি অপারেশন করতে হবে। টাকা পয়সার জোগাড় আছে তো?’ আবার মিশমিশে আন্ধার ঘনায় মৃধার চোখের তারায়। নগদ টাকাকড়ি কিছু জমামাত্রই আক্কাস মৃধা গাছের চারা কিনে ছুটে যায় দূর-দূরান্ত কিংবা কাছের পিঠে। গতপরশু শাহজাদপুর কাচারিবাড়িতে ঘাটটা গাছের চারা রোপণা করে এসেছে সে। এ যাবৎ প্রায় আড়াই হাজার চারাগাছ রোপণ করেছে সে। রজব মৃধ্য এই নিদানের কালেও লাউডগা পুঁই শিম লত্যা লতিয়ে দেয় মাচানে। নিড়ানি দেয় সযত্নে আক্কাস মিয়াকে উপজেলা চেয়ারম্যান সভা ডেকে গলায় মেডেল ঝুলিয়ে দিয়েছেন শহরবানু হাসপাতালের বারান্দায় ডাক ছেড়েন কাঁদে-বিলাপ করে আওয়াজ করে, ‘গলায়া মেডেল ফুলাইয়া বইস্যা থাহ্যে। আমারা চান্দবাবার কিছু হলি আমি তোমার বাড়িত আগুন জ্বালাইয়া দেবো।’
বিপদের বন্ধু রোকন ব্যাপারি খবর পেয়ে ছুটে এসেছে। আদ্যোপান্ত দুঃখের কাহিনি শুনে কিছুক্ষণ নীরব থাকে। আক্কাস ব্যাপারি বন্ধুর দুই হাত অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরে। ‘দোস্ত আমার ম্যালা টাহার দরহার কিন্তু আমার হাতে তো কানাকড়িও নাই তালি কি আমার ছাওয়াল’… ডুকরে ওঠে আক্কাস। ব্যাপারি বন্ধু পিঠে আশ্বাসের হাত বুলায়। মোলায়েম গলায় বলে, ‘দোস্ত তোর কোনোই চিন্তা নাইকা। তোর জমিন থেইক্যা চারডা মেহগনি গাছ বেইচা দে। নগদ কমপক্ষে আশি হাজার টাহা পায়া যাবি নে। আমি এহনই গ্রাহক নিয়া আইতাছি, হাতে হাতে টাহা দিয়া যাবে।’
মাগরিবের আজান মিহি মিহি আওয়াজে ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে চাঁদকে উঠানো হল। ডাক্তার ব্যথানাশক ইনজেকশন পুরেছে। ছেলে ঘুমিয়ে পড়েছে। সহি সালামতে অ্যাপিনডিসাইটিসের অপারেশন হয়ে গেছে চাঁদের। উচা লম্বা ফর্সা ডাক্তার বললেন, ঝুঁ-কিমুক্ত আছে সে। ‘আল্লাহ মেহেরবান। আর একটা দিন দেরি হরে অ্যাপেনডিক্স বাস্ট করত খুব সম্ভব। বড় বাঁচা বেঁচে গেছেন আপনারা।’ আক্কাস মৃধা কেবল ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে বড় ডিগ্রিঅলা ডাক্তারের দিকে। এই মুহূর্তে মেহগনি গাছগুলকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করে তার। টানা বিশ্রামে কাটছে চাঁদের কটা দিন। বিকেলের ফিকে রোদে দাওয়ায় মোড়া পেতে বসে সে। বৈশাখী বাতাস উঠানময়। পাখিগুল চাড়ির পানিতে নাচতে নাচতে গোসল করছে। চাঁদ বিড়বিড় করে, ‘আল্লাহর রহমত আর তোদের দোয়ায় আমি ভাল হইচিরে বন্ধুরা।’ চারিদিকে তখন কিচিরমিচির। যেন পাতার বাঁশি বাজে।

প্রকাশকাল : জুলাই ২০১৬।