ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। শিশুদের কলরব, নতুন জামাকাপড় পরে হই-হুল্লোড়, নামাজ শেষে সবার সঙ্গে কোলাকুলি বা দিনভর ঘুরে ঘুরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। সঙ্গে সেমাই, লাচ্ছা, ফিরনি ও হরেক রকমের মিষ্টির স্বাদ নেওয়া। এমন একটি দিনকেই তো ঈদের দিন বলে। ছোটমনিদের কাছে ঈদ নিয়ে বাড়তি কিছু।
বছরে দুবার ঈদের আনন্দ আসে প্রত্যেক মুসলমানের ঘরে। এর মধ্যে একটি হলো ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এটি। দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের পর আসে খুশির এই দিনটি।
ঈদ উপলক্ষে দিনটিতে অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাহারি খাবার নিয়ে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর হওয়ায় খাওয়ার প্রতি বাড়তি আকর্ষণ কাজ করাই স্বাভাবিক। তবে এখানেই ঘটতে পারে বিপত্তি। খাবার নিয়ে এদিক-সেদিক হলে মাটি হতে পারে ঈদের আনন্দ।
দীর্ঘদিন রোজা রাখার পর ঈদে খাবার দাবার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নাহলে বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, এসিডিটি বা গ্যাস, পাতলা পায়খানাসহ নানা রোগ বাধতে পারে শরীরে। জেনে নেই, ঈদের দিন কী খাবে, কী খাবে না।
ঈদের সকালের খাবার
পুরো এক মাস রোজা রাখার পর ঈদের সকালে খাবে প্রথমে। যারা রোজা রাখ তাদের আনন্দটা বেশি। ছোটরা যারা রোজা রাখতে পার না, তোমাদেরও কিন্তু কম আনন্দ নয়। শুরু করতে পারো সেমাই খেয়ে। সেমাই বাঙালি রন্ধনশৈলিতে একটি মিষ্টি জাতীয় খাদ্য। অতি চিকন করে বানানো আটার ফালিকে দুধ, চিনি, গরম মশলা ও কিসমিস সহকারে সেমাই রান্না করা হয়।
ফিরনি জর্দা ইত্যাদিও খেতে পার। খোরমা খেজুর তো থাকবেই। এর পর বের হয়ে পড়ো ঈদের জামাতের জন্য। ফিরে এসে আবার খাওয়া। কোরমা পোলাও খিচুড়ি কত কী।
তবে বেশি খাবার খেয়ে ফেলা ঠিক নয়। পরিমাণে বেশি খেয়ে ফেললে বদহজম, পেটে অস্বস্তিসহ আরো নানা সমস্যা হতে পারে।
ঈদের দিন সকালের খাবার যাতে হালকা হয়, তা দেখতে হবে। সেক্ষেত্রে ফিরনি ও সেমাই হতে পারে খুব ভালো মেন্যু। দুধ, চাল ও গুড় দিয়ে ঘরেই মা খালামনি তৈরি করেন ফিরনি ও সেমাই। দুধের বানানো যেকোনো রেসিপি প্রোটিনের পাশাপাশি ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করবে। ফলের জুস বা ফল থাকতে পারে সকালের খাবার মেন্যুতে।
এদিকে ঈদের দিন ডিম না খাওয়াই ভালো। কেননা এই উৎসবে মাংস খাওয়া হয় বেশি। তাই ডিম না খেলে পুষ্টির একটা ব্যালান্স থাকে।
ঈদের দুপুরের খাবার
ঈদের দিন দুপুরে বেশি পদের খাবার না রাখাই ভালো। দুই থেকে তিনটি খাবার ভালোভাবে রান্না করলে পুষ্টি, তৃপ্তি, ক্যালোরি সবই পূরণ সম্ভব।
দুপুরের মেন্যুতে রাখতে পার সাদা পোলাও বা খিচুড়ি। তবে কেউ বিরিয়ানি করলে সাইড ডিশ যেন বেশি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবুজ সালাদ বা টক দই ও সবজির সালাদ দুপুরের মেন্যুতে অবশ্যই রাখবে, যা ভিটামিনস ও মিনারেলস প্রদান করে।
ঈদের রাতের খাবার
সারা দিন এত খেয়ে অনেকেই আর রাতে খেতে পারে না। এ জন্য রাতের মেন্যুতে খুব বেশি আইটেম রাখবে না। রুটি বা সাদা ভাতের সঙ্গে মুরগি বা গরুর কাবাব, সবজি বা মাংসের অন্য কোনো রেসিপি থাকতে পারে। আবার একটু ভিন্নধর্মী খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে চায়নিজ ফুডও ঘরে তৈরি করে নিতে পারেন তোমার মা বা খালামনিরা। কেননা এ জাতীয় খাবারে তেল-মসলা কম থাকে।
বাড়তি আয়োজন
যেহেতু এখন শীতও নয় গরমও নয়, ফলে খাবার খেয়ে বেশ আরাম পাবে। খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি, শরবত, ফলের রস ও অন্য তরল খাবার বেশি গ্রহণ কর।
যেসব খাবার খাবে না
এক. একমাস রোজা থাকার পর খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় এড়িয়ে যেতে হবে। যেমন-অনেকেই অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে। এটা করবে না।
দুই. ঈদের দিন সবার বাসায় মাংস থাকে এ জন্য সারাদিন অনেক মাংস খাওয়া হয়ে যেতে পারে। সে বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। দিনে ৭০ গ্রামের বেশি মাংস খাওয়া উচিত নয়। প্রতি বেলায় ঘরে রান্না করা মাংস ২-৩ টুকরার বেশি খাবে না।
তিন. বেশি তেলে বা দৃশ্যমান জমানো চর্বিসহ মাংস রান্না করবেন না মায়েরা। রান্না করতে হবে কম তেলে।
চার. নানা সোডা পানি বা সফট ড্রিংকস পান নয়, এসবের পরিবর্তে চিনি ছাড়া নানা মৌসুমি ফলের জুস, বোরহানি গ্রহণ করা উত্তম।
পাঁচ. ঘিয়ে ভাজা পরোটার পরিবর্তে সেঁকা রুটি খেতে পার। এছাড়াও ঈদে বাইরের সব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
ঈদের আনন্দ যেমন করবে তেমন খাবারের ব্যাপারেও আজ একটু খোলামেলা থাকতে হবে। কোনো বাসায় গেলে একটু হলেও খাওয়া উচিত। না খেলে ভালো দেখায় না। কিন্তু বেশি খাবার খেয়ে বদহজম যেন না হয় সেটাও মনে রাখতে হবে। ঈদ আনন্দ বয়ে আনুক সবার জন্য।
প্রকাশকাল: মার্চ ২০২৫



