আলখাল্লা পরা ভূত

চিংকি আর মিংকি দুই জমজ বোন। তারা তাদের মা-বাবার সাথে থাকে। তারা দুজন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। তারা দুষ্টু হলেও পড়ালেখায় খুবই ভালো। সারাদিন হই হুল্লোড়ে বাড়ি মাতিয়ে রাখে, আর রাত হলেই ভূতের ভয়ে চুপ থাকে। ভূতকে খুব ভয় পায় দুজনেই। আর এটাও জানে যে, ভূতেরা রাতেই আসে।
একদিন তাদের দুজনের বার্ষিক পরীক্ষা ছিলো। তাদের বড় মামা তখন গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি। তাদের বাবা-মা চলে গেলেন হাসপাতালে। বললেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফেরার চেষ্টা করবেন। ওরা যেন মন দিয়ে পড়াশোনা করে। দুই বোন তো ভয়ে আধমরা, এক রুম থেকে অন্য রুমে যাচ্ছিলোই না- যেহেতু তারা ছাড়া এই ঘরে আর কেউ নেই। চিংকি বলল এই মিংকি আমি আমার বইটা বাবার রুমে রেখে এসেছি। আয় আমরা দুজন মিলে নিয়ে আসি। তখন তারা দুজনে বাবার রুমে গেলো, যেই লাইট অন করতে যাবে তার আগেই দেখতে পেলো একটি সাদা আলখাল্লা পরা ভূত তার বাবার রুমে উড়ছে। তারা তো ভয়ে সে রুম থেকে পালিয়ে এলো। অন্য রুমে গিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইলো। অনেকক্ষণ পর মিংকি বলল- আয় দেখে আসি ওই ভূতটা চলে গেছে কিনা। সেদিন বৃষ্টি ছিলো, তারা আবারও দেখতে গেলো দেখলো ভূতটা এখনও উড়ছে। চিংকি আর মিংকি ভয়ে দরজা বন্ধ করে ফেললো। দমকা হাওয়া এসে দরজাটা খুলে দিয়ে গেলো। তারা ভাবল যে, ভূতটা হয়তো খুলেছে। তা দেখে তারা চিৎকার দিল। তাদের চিৎকার শুনে দোতলার আংকেল দৌড়ে এলেন। তাদের কোনো সাড়াশব্দ নেই। ভেতর থেকে দরজাও বন্ধ। অনেক কষ্টে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখলেন তারা দুজনই বেহুঁশ। বুঝলেন নিশ্চয়ই কিছু দেখে ভয় পেয়েছে। তড়িঘড়ি করে তাদের বাবাকে ফোন করলেন।
যখন তাদের হুঁশ ফিরলো, তখন তাদের বাবাকে ভয় পাওয়া কণ্ঠে তারা বললো- বাবা, ভূত দেখেছি আমরা! সাদা আলখাল্লা পরা ভূত!!

তাদের বাবা বললেন কোথায় আমাকে দেখা। বাবাকে তারা নিয়ে গেলো সেই রুমে যে রুমে ভূত দেখেছিলো।
ওখানে তাদের বাবার পাঞ্জাবি রাখা একটা রশির মধ্যে। অন্ধকারে সেটা বোঝা যাচ্ছিলো না, জানালা খোলা ছিলো এর জন্য সেটা বাতাসে উড়ছিলো। আর তারা ভেবেছিলো সেটি ভূত।

প্রকাশকাল: মার্চ ২০২৫