আমরা কত রকম!

0
6

বন্ধুরা, গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম যে আমাদের পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব কী কী ভিত্তিতে আলাদা হয়। এ পর্বে আমরা ১৬টি আলাদা আলাদা পার্সোনালিটির স্বরূপ এবং ভবিষ্যত ক্যারিয়ার পরামর্শ সম্পর্কে। আদ্যাক্ষরগুলো মনে আছে?

১. Introvert (I), Extrovert (),
২. Sensing (S), Intuitive (N),
৩. Thinking (T), Feeling (F),
৪. Judging (J), Perceiving (P)
প্রতিটি গ্রুপ থেকে একটি আদ্য অক্ষর নিয়েই গঠিত হয় ১৬ টি পার্সোনালিটি টাইপ। যেমন- ESTJ, INTP ইত্যাদি।

বিখ্যাত একটি বই আছে পার্সোনালিটি এবং ক্যারিয়ার চয়েস নিয়ে। বইটির নাম- ডু হোয়াট ইউ আর। বইটি লিখেছেন- পল ডি. টিগার, বারবারা ব্যারন এবং কেলি টিগার। সে বই অনুসারে এবার চলো প্রতিটি ব্যক্তিত্বের আলাদা আলাদা বিশ্লেষণ করা যাক-

Analyst (NT) – কৌশল ও যুক্তিনির্ভর গ্রুপের মধ্যে চার ধরনের ব্যক্তিত্ব আছে-
INTJ
বৈশিষ্ট্য : এরা দীর্ঘমেয়াদি ভিশন তৈরি করতে পারে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। জটিল সমস্যার পরিকল্পিত সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।
পেশা গাইডলাইন : এদের জন্য উপযুক্ত জায়গা হলো যেখানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে কম আবেগঘন, বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ আছে। যেখানে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আছে।
উপযোগী ক্ষেত্র : প্ল্যানিং, ডিসিশনমেকিং, গবেষণা, প্রযুক্তি পরিকল্পনা, স্ট্রাটেজিক ম্যানেজমেন্ট।
INTP
বৈশিষ্ট্য : গভীর বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা করতে পারে। তাদের পছন্দের কাজ হলো কোনো বিষয়ে আইডিয়া ও তত্ত্ব তৈরি করা। তবে তারা একা কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
পেশা গাইডলাইন : তাদের জন্য উপযুক্ত জায়গা হলো যেখানে নতুন আইডিয়া আবিষ্কারের সুযোগ আছে। যেখানে কাজের সময়ের স্বাধীনতা আছে। একই দৈনন্দিন কাজ যেখানে বারবার করতে হয় না। অর্থাৎ রুটিনওয়ার্ক কম।
উপযোগী ক্ষেত্র : গবেষণা, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, একাডেমিক কাজ।
ENTJ
বৈশিষ্ট্য : তারা হলো স্বতঃস্ফূর্ত নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন। তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তাদের কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকেন্দ্রিক। তারা লক্ষ্যপূরণ ও ফলাফল ছিনিয়ে আনতে চায়।
পেশা গাইডলাইন : তাদের জন্য ভালো জায়গা হলো লিডারশিপের জায়গা। যেখানে চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ আছে, প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ আছ।
উপযোগী ক্ষেত্র : উদ্যোক্তা, ব্যবসা পরিচালনা, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন পরিচালনা
ENTP
বৈশিষ্ট্য : তারাও নতুন ধারণা তৈরি করতে ভালোবাসে। বিতর্ক ও আলোচনা পছন্দ করে। একইসাথে তারা পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তারা গ্রুপে কাজ করতে পছন্দ করে।
পেশা গাইডলাইন : তারা উদ্ভাবনী কাজ করতে ভালোবাসে। কাজের পরিবেশ পরিবর্তন করতে চায়। তারা কমিউনিকেশনে ভালো ভূমিকা রাখে।
উপযোগী ক্ষেত্র : স্টার্টআপ, মার্কেটিং, আইন, মিডিয়া।

Diplomats (NF)- মানবিক ও মূল্যবোধকেন্দ্রিক। এই ক্যাটাগরিতে আছে-
INFJ
বৈশিষ্ট্য : তারা গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন। তাদের আগ্রহ থাকে কীভাবে মানুষের মঙ্গল করা যায়। তাদের জীবনের মহৎ উদ্দেশ্য থাকে।
পেশা গাইডলাইন : তাদের জন্য উপযুক্ত জায়গা হলো যেখানে থেকে মানুষকে সাহায্য করা যায়। যেখানে আদর্শিক কাজ আছে, সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা যায়।
উপযোগী ক্ষেত্র : কাউন্সেলিং, লেখালেখি, সমাজসেবা।
INFP
বৈশিষ্ট্য : তারাও আদর্শবাদী। তবে নিজস্ব ব্যক্তিগত মূল্যবোধে দৃঢ় থাকে। মূল্যবোধের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ তারা করতে পারে না। তারা সৃজনশীল কাজ প্রকাশে আগ্রহী।
পেশা গাইডলাইন : তাদের জন্য ভালো জায়গা হলো যেখানে স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত চিন্তা প্রকাশের সুযোগ আছে। কর্মপরিবেশ উদার। কাঠামোবদ্ধ কাজ কম। আদর্শ ও চিন্তাগত উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ আছে।
উপযোগী ক্ষেত্র : সাহিত্য, শিল্প, মানবাধিকার।
ENFJ
বৈশিষ্ট্য : তারা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা ভালো। তারা টিম বিল্ডিং এবং টিম ম্যানেজমেন্টে পারদর্শী।
পেশা গাইডলাইন : সাধারণত টিম নিয়ে কাজ করার জায়গায় তারা ভালো করে। প্রশিক্ষণ/শিক্ষাদান সামাজিক প্রভাব তৈরির সুযোগ
উপযোগী ক্ষেত্র : শিক্ষকতা, HR, নেতৃত্বমূলক কাজ।
ENFP
বৈশিষ্ট্য : এরা উদ্যমী ও কল্পনাপ্রবণ। তাদের আগ্রহ থাকে নানামুখী। তবে বহির্মুখী হওয়ায় তারা মানুষকে নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করে।
পেশা গাইডলাইন : তাদের জন্য উপযুক্ত হলো সৃজনশীল ও গতিশীল কাজ। তারা একঘেয়ে রুটিন এড়িয়ে নতুন সুযোগ অনুসন্ধান করতে পছন্দ করো।
উপযোগী ক্ষেত্র : মিডিয়া, বিজ্ঞাপন, উদ্যোক্তা।

Sentinels (SJ)- দায়িত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ সম্পন্ন। এই ক্যাটাগরিতে আছে-
ISTJ
বৈশিষ্ট্য : এরা কাজের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল। নিয়মমাফিক ও রুটিনবদ্ধ কাজ এরা পছন্দ করে। কাজের ক্ষেত্রে নির্ভুল হওয়াকে প্রাধান্য দেয়।
পেশা গাইডলাইন : তাদের জন্য উপযুক্ত কাজ হলো কোনো প্রতিষ্ঠান স্থায়ী রুটিনমাফিক দাপ্তরিক কাজ। যেখানে নির্ধারিত নিয়মবলয়ের মধ্যে নির্ভুল কাজের সুযোগ পাওয়া যায়।
উপযোগী ক্ষেত্র : হিসাবরক্ষণ, প্রশাসন, সিভিল সার্ভিস।
ISFJ
বৈশিষ্ট্য : এরা যেকোন কাজে যত্নশীল ও সহায়ক ভূমিকা পছন্দ করে। তারা বিশ্বস্ত ও ˆধর্যশীল। অধিক সময় ধরে মনোযোগের সাথে কাজ করতে পারে।
পেশা গাইডলাইন : তাদের জন্য ক্ষেত্র হলো সেবামূলক কাজ। যেখানে সংগঠিত পরিবেশ পাওয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী কাজ পাওয়া যায়।
উপযোগী ক্ষেত্র : স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা।
ESTJ
বৈশিষ্ট্য : তারা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবেচনা করে। তারা সংগঠক ও দায়িত্বশীল নেতা হয়ে থাকে।
পেশা গাইডলাইন : তাদের জন্য উপযুক্ত হলো প্রশাসনিক ক্ষমতা বিষয়ে কাজ। যেখানে সুনির্দিষ্ট কাঠামো থাকবে। টার্গেট পূরণের মানসিকতা থাকবে।
উপযোগী ক্ষেত্র : ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা।
ESFJ
বৈশিষ্ট্য : তারা সামাজিকতা পছন্দ করে। সহযোগিতাপ্রবণ ও দায়িত্ববান হয়।
পেশা গাইডলাইন : তারা টিমওয়ার্ক ভিত্তিক কাজ, কমিউনিকেশন, ইত্যাদিতে ভালো করে।
উপযোগী ক্ষেত্র : মানবসম্পদ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট

Explorers (SP) – অভিযোজন ও বাস্তব দক্ষতা। এদের মধ্যে আছে-
ISTP
বৈশিষ্ট্য : তারা হাতে-কলমে কাজের ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে থাকে। সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করতে এরা পারদর্শী। তবে তারা স্বাধীনচেতা হয়।
পেশা গাইডলাইন : এদের জন্য উপযুক্ত হলো প্রযুক্তিগত কাজ। যেখানে তদারকি কম থাকে। তবে তারা নিজেদের আগ্রহেই কাজ শেষ করে, ফলাফল অর্জনে সচেষ্ট থাকে।
উপযোগী ক্ষেত্র : ইঞ্জিনিয়ারিং, চিত্রশিল্পী।
ISFP
বৈশিষ্ট্য : তারা নীরব সৃজনশীল মানুষ হয়। তবে সংবেদনশীলতা ও নমনীয়তা তাদের ব্যক্তিত্বে থাকে।
পেশা গাইডলাইন : তারা সাধারণত শিল্পকর্মে পারদর্শী হয়। যেখানে স্বাধীনভাবে শান্ত পরিবেশে নিজের কাজ ফুটিয়ে তোলা যায়।
উপযোগী ক্ষেত্র : হস্তশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা।
ESTP
বৈশিষ্ট্য : তারা সাহসী ও দ্রুত সিদ্ধান্তকারী হয়। তারা হৈ হুল্লোড় পছন্দ করে।
পেশা গাইডলাইন : তাদের জন্য উপযোগী হলো দ্রুত সমাধান করা যায় এমন মাঠপর্যায়ের কাজ। তারা তাৎক্ষণিক ফলাফল নিয়ে আসতে চায়।
উপযোগী ক্ষেত্র : পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স।
ESFP
বৈশিষ্ট্য : এরা প্রাণবন্ত এবং জমিয়ে রাখা মানুষ হয়।
পেশা গাইডলাইন : তারা বিনোদনমূলক কাজ, অনুষ্ঠান আয়োজন এবং সরাসরি মানুষের সাথে যোগাযোগ।
উপযোগী ক্ষেত্র : স্বাস্থ্যসেবা, সমাজসেবা।

এগুলো হচ্ছে ব্যক্তিত্বের ধরন অনুযায়ী ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে পরামর্শ। তবে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে- এগুলো সুনির্ধারিত বিষয় নয়। অর্থাৎ তুমি একজন এক্সট্রোভার্ট হলেই বড় নেতা হতে পারবে এমন নয়। আবার তুমি ইনট্রোভার্ট বলেই তুমি মার্কেটিং বা সেলস এ কাজ করতে পারবে না এমন নয়। নিজের প্যাশন এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও গাইডলাইন মানুষকে অনেক উন্নত ও দক্ষ করে তুলতে পারে।

প্রকাশকাল: মার্চ ২০২৬