আদুরে পুষি

0
0

রোজ মায়ের ডাকে ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ বসে বসে চোখ কচলাতে থাকে তিতলি। বাবা এসে তখন তিতলিকে বলেন, এইভাবে চোখ কচলালে চোখের ক্ষতি হবে সোনা মা। বাবা তিতলিকে প্রতিদিনের মতো আদর করে কোলে নিয়ে বারান্দায় ফুল-পাখিদের সাথে কথা বলতে দেয়। তিতলি আধো আধো গলায় বলে- ‘বাবা, গোলাপগুলো খুবই সুন্দর আর দারুণ তাদের সুগন্ধি।’ মা এসে তখন বলতে থাকে- ‘তিতলি মা, তিতলি মা, এসো তাড়াতাড়ি। ফ্রেশ হয়ে খেয়ে স্কুলের জন্য তৈরি হতে হবে তো।’ মায়ের ডাকে তিতলি দ্রুত ফ্রেশ হতে যাবে, এমন সময় আদুরে পুষি এসে হাজির। তিতলির মায়ের পোষা বিড়ালছানাটিকে সবাই আদুরে পুষি বলেই ডাকে। তিতলি তখন আদুরে পুষি, আদুরে পুষি বলে বিড়াল ছানাকে কোলে তুলে নেয়। স্কুল যেতে হবে, তাই তিতলি বলে ওঠে, ‘আদুরে পুষি, এখন কিন্তু তোমাকে কোল থেকে নামতে হবে। আমার স্কুল আছে কিন্তু আদুরে পুষি!’

বাবা-মা দুজনে একই অফিসে চাকরি করেন। অফিস যাওয়ার সময় তিতলিকে স্কুলে নামিয়ে দেন তারা। নার্সারিতে পড়া তিতলি এরপর দাদার সাথে বাসায় আসে। মাঝেমধ্যে দাদা-দাদু দুজনেই যান তিতলির স্কুলে। আজ দাদু তিতলিকে আনতে যাওয়ার সময় আদুরে পুষিকে কোলে করেই নিয়ে যান। পুষিকে দেখে তিতলি তো মহা খুশি!

তিতলি দাদুর গালে অনেক অনেক চুমু দেয়, আদুরে পুষিকে স্কুলে এনেছে এজন্য। বাসায় এসে তিতলি আর আদুরে পুষি অনেকক্ষণ খেলা করে। আদুরে পুষি যেন তিতলির সব কথা বুঝতে পারে। দাদা-দাদুর সাথে তিতলি একসাথে খেয়ে বিকেলে ঘুমিয়ে পড়ে। পাশে ঘুমিয়ে পড়ে আদুরে পুষি। বাবা মা বাসায় ফিরে দেখতে পান আদুরে পুষি আর তিতলি অনেক সুন্দর করে ঘুমাচ্ছে। তিতলি পড়তে বসলে আদুরে পুষি সাথে চুপচাপ বসে থাকে। তিতলি পড়ার ফাঁকে মাঝেমধ্যে আদুরে পুষির গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করে দেয়।

তিতলি আজ রান্নাঘরে গিয়ে বিস্কুটের বয়াম নিতে গিয়ে ধপাস করে পড়ে যায়। কেউ না দেখলেও পুষি ঠিকই দেখে। সে দৌড়ে দাদুর ঘরে গিয়ে দাদুর ওড়না ধরে টানতে থাকে। দাদু প্রথমে না বুঝলেও পরে ঠিকই বুঝতে পারেন, পুষি আসলে দাদুর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছে কোনো কারণে। পুষির সাথে রান্নাঘরে এসে দাদুর চোখ কপালে! দাদু চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘আমার তিতলি দাদুর কী হয়েছে? কী হয়েছে তিতলি সোনা?’ তিতলি ভয়ে বলতে না চাইলেও পরে ধীরে ধীরে বললো, ‘দাদু, উপর থেকে বিস্কুটের বয়াম নিতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। পড়ে আঙুলে ব্যথা পেয়েছি; এখন আর হাঁটতে পারছি না।’ দাদা-দাদু দুজন মিলে তিতলিকে রুমে এনে খাটে শুইয়ে দেন। এরপর পায়ে বরফ দিয়ে দেন যেন তিতলি খানিকটা আরাম পায়। আদুরে পুষি তিতলির পাশে শুয়ে কী যেন মায়াবী পরশে দেখছে।

ইতোমধ্যেই বাবা-মা অফিস থেকে বাসায় ফেরেন। ঘটনা শুনে বাবা তিতলিকে ডাক্তারের কাছে নিতে চাইলেও তিতলি বললো, তার ব্যথা নাকি কমে গিয়েছে। আঙুল সামান্য ফোলা থাকলেও ব্যথা যেহেতু কমে গিয়েছে, এজন্য পরে আর ডাক্তারের কাছে নেয়া হলো না তিতলিকে।

কিছুক্ষণ পর তিতলি বলে ওঠে, ‘বাবা! ও বাবা! দেখছো, আমার আদুরে পুষিটা আমার কতো খেয়াল রাখে!’ তিতলি আরও বললো, ‘আমাদের সবাইকে আদুরে পুষিটা দেখতে পারে। একবার যেহেতু আমরা সবাই মিলে আদুরে পুষিকে ডাক্তারের কাছে নিয়েছিলাম, তাই হয়তো আমরা অসুস্থ হলে পুষিও আমাদের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে তাড়া দেয়।’ ছোট্ট তিতলির পাকনা কথা শুনে বাবা-মা, দাদা-দাদু সবাই হা হা করে হেসে ওঠেন।

বাবা এবার তিতলিকে বুঝিয়ে বলেন, ‘বুঝছো তিতলি মামণি, আর কখনো এইরকম উপর থেকে একা একা বিস্কুট বা কিছু নিতে যাবে না, কেমন?’ তিতলি মাথা নেড়ে হ্যাঁসূচক জবাব দেয়।
দাদা-দাদু, বাবা-মা এবং তিতলির এইভাবে হাসি আনন্দে দিন কাটে আদুরে পুষির সাথে। তাদের সাথে সাথে আনন্দময় দিন কাটে বারান্দায় কিছু পাখি আর হরেকরকম ফুলগাছের।

প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৫