সুন্দরবনে চার গোয়েন্দা

পর্ব ১

0
20

জামতলা বীচ। সুন্দরবন। সবুজ সুন্দর একটি বনভূমি। পাখি আর প্রাণীর অভয়ারণ্য। চারদিকে যতটুকু চোখ যায় সবুজ ঘন সবুজ। গাছগুলো জড়াজড়ি করে আছে একটার সঙ্গে আরেকটা। পাশেই ছোট্ট নদী আর খাল। দূরে বড় নদী। টলটল পানিতে নিচের অনেকখানি দেখা যায়। এদিকটায় পানি কিছুটা স্বচ্ছ। এই পানিতে আছে ভেটকি, পারশে ও মৌরলা মাছের ঝাঁক। বাতাসে পানি তির তির করে কাঁপে। এখানে পানির উপরে ঘুরে বেড়ানো পোকার দল দেখতে পাওয়া যায়।
সুন্দরবনের এই অংশে, জামতলা এলাকাটায় বাঘের বেশ আনাগোনা। ফলে ঘুরতে আসা ট্রাভেলারদের সতর্কভাবে পা ফেলতে হয়। সুন্দরবনের দক্ষিণ পূর্বকোণে মংলা বন্দর থেকে মাত্র ৯০ কিলোমিটার দূরে কটকায় রয়েছে এই সমুদ্র সৈকত। সৈকত এলাকায় ছোট বড় প্রচুর জামগাছের জন্যই এর নামকরণ। সবাই বলে এ সৈকত যেন এক বুনো সুন্দরী।
স্কুল ফাইনাল শেষে চার বন্ধু বের হয়ে পড়েছে ঘুরতে। আজিম, স্বরাজ, শিপন ও রৌদ্র। ঢাকা থেকে মংলা। সেখান থেকে লঞ্চে করে ভ্রমণ শুরু। তাদের পড়েছে পাশাপাশি দুটি রুম। এম এল নূরবাহার লঞ্চটির নাম।
সুন্দরবন ভ্রমণে লঞ্চ কেন? প্রথমে খটকা লাগল স্বরাজের মনে। স্বরাজ ঢাকার নিকেতন হাইস্কুলের ক্লাস নাইনের ছাত্র। আজিমও এই স্কুলের। তারা চার জন দুই স্কুলের। স্কুল আলাদা হলেও তাদের বাসা এক স্থানেই। ঢাকা শহরের এটাই নিয়ম। স্কুলের কাছে বাসা হয় অতি কম ছাত্রছাত্রীরই। আর বলতে হবে তারা খুবই ভাগ্যবান। অধিকাংশেরই দূরের স্কুলে আসা যাওয়া করতে হয়। আজিম আর স্বরাজ পড়ে নিকেতন হাইস্কুলে। ওরা থাকে মধ্য বাড্ডায়। সেখান থেকে স্কুল অনেকটা পথ। দু‘জন নাইন থেকে উঠবে নিউ টেনে। পুরনো টেনের বন্ধুরা মার্চে এসএসসি শেষে বেরিয়ে যাবে।
শিপন ও রৌদ্রও নিউ টেনের ছাত্র। ওদের বাসাও বাড্ডায়। তবে এক জনের স্কুল দক্ষিণ বারিধারায় আর আরেক জন মধুবাগ স্কুলের ছাত্র। তারা সবাই এক সাথে ক্রিকেট খেলে। কোনো অনুষ্ঠান দেখতে গেলে এক সঙ্গে যায়। আবার খেলা দেখলে জাতীয় স্টেডিয়ামে বা মিরপুর স্টেডিয়ামে যায়। মাঝে মাঝে যায় অ্যাডভেঞ্চারে। তাদের যুক্তি অ্যাডভেঞ্চারে না বেরুলে কি চলে? বাবা মাকে না জানিয়ে দলবেঁধে কোথাও যাওয়াই ওদের কাছে অ্যাডভেঞ্চার। তবে তাদের সুন্দরবন ভ্রমণ অ্যাডভেঞ্চারের চেয়ে বেশি কিছু।
কটকা হয়ে হিরণ পয়েন্ট থেকে ভোরে রওয়ানা দিয়ে ট্রলার এসে থামলো জামতলা বীচের ঘাটে। আজিম, স্বরাজ , শিপন আর রৌদ্র ধুপ করে নেমে এল বীচের পাড়ে। পাশেই গোল গাছ। নারকেল গাছের মতো এই গাছগুলোই গোল গাছ। বলছিলেন তাদের ট্যুর গাইড। আরও কত কী জানা হলো দুদিনে।

২.
ভ্রমণটা হলো আকস্মিক। শিপনের এক মামা দাওয়াত করেছেন ভাগ্নে শিপনকে। তিনি জানেন তার ভাগ্নে একজন ক্ষুদে গোয়েন্দা। মামা শফিউল বাশার খাজা কোস্টগার্ডের একজন অফিসার। কথায় কথায় এক দিন বলছিলেন,
: বিভিন্ন কারণে সুন্দরবনে হরিণ লোপাট হয়ে যাচ্ছে। যাবি নাকি রহস্য উদ্ধারে?
শিপনের মা বলেন-
: তোরা বাঘা বাঘা অফিসার কী করিস রে?
: আরে আপু, বলিস না। আমরা তৎপর বলেই তো হরিণ এখনো আছে।
: মামা আমি রাজি। এমন লোভনীয় প্রস্তাব কে ফেরায় বল? তবে আমি একা যাব না।
: আয় না তোর বন্ধুদের নিয়ে। সমস্যা নেই।
ব্যস, হয়ে গেল।
এর পর ব্যাগ গুছিয়ে বের হয়ে পড়েছে চার কিশোর।
সুন্দরবন বলতে অনেকেই জানে দুই পাশে ঘন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে যাওয়া সরু খালের কথা। কখন বাঘ আসে এই উৎকণ্ঠা নিয়ে অজানা অচেনা পাখপাখালির কিচিরমিচির শুনতে শুনতে এগিয়ে চলা, গভীর বনের ভিতর হঠাৎ দেখা যায় বানর, হরিণ পাল এবং নানা রকম বন্য প্রাণীর পানি পান করতে আসার দৃশ্য। ট্রলার বা লঞ্চে যেতে যেতে কখনো আবার শুশুক এর খেলা করার দৃশ্য চোখে পড়ে। এভাবে সুন্দরবন ভ্রমণের বড় একটা অংশ কেটে যায় নদী আর খালেই। এটা এই চারজনের নতুন অভিজ্ঞতা।
এভাবে লঞ্চে করে সুন্দরবন দেখতে হবে এমন ধারণা তাদের ছিল না। আজিম ভাবে মানুষ আসলে কত কিছু জানে না! এই দলের মধ্যে আজিম সবচেয়ে বুদ্ধিমান। তার মাথা থেকে আসে অনেক সুন্দর সুন্দর ডিসিশন। বাকি সবাই তা মেনেও নেয়।
এই সুন্দরবনে যে সমুদ্রসৈকতও আছে তা কিন্তু অনেকেই জানে না। আজিমেরও জানা ছিল না। জামতলা বীচে নেমে সেটা টের পাওয়া গেল।
প্রায় তিন কিলোমিটার ঘন সুন্দরী, গেওয়া, গরান, এবং কেওড়ার বন পেরিয়ে সৈকতে যেতে হয়। জামতলা সমুদ্র সৈকতের পথে শুধু ম্যানগ্রোভ বন নয়, বেশ খানিকটা ফার্নের ঝোপও পেরুতে হয়। পথে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারও আছে। সৈকতটির আবার দুইটি ভাগ আছে। একটাতে ঝোপঝাড় বেশি, অন্যটা একটু বেশি খোলামেলা। মাটির স্তুপ করা পলি। ধুয়ে যাওয়া মরা গাছের শেকড়, সব মিলিয়ে এক অপূর্ব সৌন্দর্য।
এক বাগান কর্মীর সাথে ভাব জমায় স্বরাজ। বাগান কর্মী তো আছেই সেই সাথে বনকর্মী। বনকর্মীরা হলেন বনভূমি রক্ষা ও পরিচালনাকারী কর্মকর্তা। তারা বনভূমি ও গাছপালা সংরক্ষণ প্রকল্পেও নিযুক্ত হন যাতে বনের মূল্য বৃদ্ধি পায়। বন রেঞ্জ অফিসাররা হলেন তারা, যারা বন সম্পদ এবং বনে বসবাসকারী মানুষের জীবন রক্ষার সাথে সম্পর্কিত। যেমন শিপনের মামা একজন রেঞ্জ অফিসার। তাদের পেশার অংশ হিসেবে এই কর্মকর্তাদের বনভূমি নিরাপদ এবং সুরক্ষিত আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদিন বনাঞ্চলে টহল দিতে হয়।
: আপনার কী নাম? বাগান কর্মীকে জিগ্যেস করে স্বরাজ।
: আবদুল জলিল। সবাই ডাকে জলিল।
: ও আচ্ছা। আমি স্বরাজ। ঢাকা থেকে এসেছি। আপনাদের এলাকা দেখতে।
: দেখেন। তবে সাবধান। এটা কিন্তু বাঘের এলাকা।
: বলেন কি?
: জে। খালের পাড়ে বাঘের পাড়া লেখা দেখেন নাই?
: না।
: এখানে সকালে বাঘ ঘুইরা বেড়ায়। এই যে কেয়া গাছ, এর নিচে বইসা থাকে।
: বলেন কি? এখন আসবে নাকি?
: না না, অহন এহানে আইব না। রাইতে ঘুইরা বেড়ায়। ঐ যে টাওয়ার দেহেন ঐহানে।
: টাওয়ারে গেলে বাঘ দেখা যায়?
: যায়, রাইতে থাকন লাগব।
সব শুনে অবাক হয় স্বরাজ আর বাকি সবাই।

৩.
১৯৭৭ সালে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে ইউনেস্কো। পৃথিবীজুড়ে যে পঞ্চাশ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে, তার পঁয়ত্রিশ প্রজাতিই পাওয়া যায় সুন্দরবনে। বাংলায় সুন্দরবন-এর আক্ষরিক অর্থ সুন্দর জঙ্গল বা সুন্দর বনভূমি। সুন্দরী গাছ থেকে সুন্দরবনের নামকরণ হয়ে থাকতে পারে, যা সেখানে প্রচুর জন্মায়। তবে সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয় যে সুন্দরী গাছ থেকেই সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে।
আজিম ভ্রমণে আসার আগে সুন্দরবন নিয়ে কিছু পড়াশুনা করে এসব জানতে পেরেছে। সে জেনেছে, মুঘল আমলে (১৫২৬-১৮৫৭) স্থানীয় এক রাজা পুরো সুন্দরবনের ইজারা নেন। ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই অঞ্চলের নদীপথে পর্তুগিজ জলদস্যুদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। এই সময় পর্তুগিজ জলদস্যুদের অত্যাচারে সুন্দরবনের অনেক সমৃদ্ধশালী জনপদ জনশূন্য হয়ে যায়। সতের শতাব্দীর শুরুতে বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম রাজা প্রতাপাদিত্য যশোর, খুলনা, বরিশালসহ গোটা চব্বিশ পরগনা জেলার অধিপতি ছিলেন। যশোররাজ প্রতাপাদিত্য পর্তুগিজ জলদস্যুদের সঙ্গে বারবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিলেন। তিনি সাগর দ্বীপ, সরসুনা, জগকূল প্রভৃতি অঞ্চলে দুর্গ বানিয়ে এদের আটকাবার চেষ্টা করেন।
সেনরাজা লক্ষ্মণসেন-এর সুন্দরবনলিপি থেকে জানা যায়, দ্বাদশ শতকের শেষে (১১৯৬ খ্রিষ্টাব্দ) অযোধ্যা থেকে আগত পালবংশের ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধিধারী শ্রীমদ্ ডোম্মনপাল নামে এক সামন্ত রাজা উত্তর-পশ্চিম সুন্দরবনের ‘পূর্বখাড়ি’তে (বর্তমান খাড়ি গ্রাম) স্বাধীন রাজ্য স্থাপন করেন।
১৭৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীরের কাছ থেকে স্বত্বাধিকার পাওয়ার পরপরই সুন্দরবন এলাকার মানচিত্র তৈরি করা হয়। বনাঞ্চলটি সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আসে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ভারতের তৎকালীন বাংলা প্রদেশে বন বিভাগ স্থাপনের পর থেকে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে সুন্দরবনের আয়তন বর্তমানের প্রায় দ্বিগুণ ছিল। বনের উপর মানুষের অধিক চাপ ক্রমান্বয়ে এর আয়তন সংকুচিত করেছে।
পৃথিবীর সর্বাধিক একক লবণাক্ত জলাভূমি, দেশের একক বনভূমি সুন্দরবন। অর্থনীতিতে এ বনের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তবে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য এখন সঙ্কটাপন্ন। জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাছকাটা, সচেতনতার অভাব এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে বনের মূল্যবান প্রাণিসম্পদ। একসময় এ বনে বাস করত চারশো প্রজাতির পাখি। কমতে কমতে এখন দাঁড়িয়েছে ২৭০ প্রজাতিতে। বিলুপ্ত হয়েছে একশো তিরিশ প্রজাতির পাখি। সারা বিশ্বে বিপন্ন একত্রিশ প্রজাতির প্রাণী এখনো সুন্দরবনে টিকে আছে।
তার মানে চোরা শিকারীরা সুন্দরবনকে ফোকলা করে ফেলছে।
সুন্দরবন ঘুর্ণিঝড় থেকে দেশকে বাঁচায়। সে বুক দিয়ে আগলে রাখে পুরো দেশকে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার হচ্ছে সুন্দরবনের প্রধান আকর্ষণ। আজিম ভাবে, আহা! যদি বাঘ মামার দেখা পেত, কতই না ভালো হতো।

স্বরাজ লঞ্চে শুয়ে শুয়ে সে দিন বলছিল-
: আমার মন বলছে বাঘ মামার দেখা পাবো রে আজিম।
: তাই নাকি রে? তো জামতলায় থেকে গেলেই তো হতো। টাওয়ার থেকে দেখতে পেতি?
দু’জনের কথায় হেসে দেয় শিপন ও রৌদ্র। শিপন বলে-
: তোরা থামবি?
শুয়ে শুয়ে কয়েকটি প্রতিবেদনের দিকে নজর বুলায় আজিম। একটিতে লেখা-
“সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন এবং বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের একটি অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এই বন এর জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং চিত্রা হরিণের জন্য। সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে হরিণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অবৈধ শিকার, বন-দস্যুতা এবং সচেতনতার অভাবে বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে নিরীহ প্রাণীটির। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালিয়ে ছ’শো একচল্লিশ কেজি হরিণের মাংস, একটি জবাই করা হরিণ, একটি মৃত হরিণ, হরিণের দুটি চামড়া, দুটি মাথা, আটটি পা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।”
অবাক হয় আজিম। তাহলে কাহিনি এই?
আরও একটি পেপার ক্লিপিং বের করে আজিম। তাতে লেখা-
“হরিণ শিকারের মাধ্যমে আমরা শুধু হরিণকেই হত্যা করছি না, বরং সুন্দরবনের সমগ্র বাস্তুতন্ত্রকে এক ভয়াবহ হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি। পর্যটন খাতেও হরিণ একটি গুরুত্বপূর্ণ। চিত্রা হরিণ দেখতে বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনে আসে। হরিণ না থাকলে এই পর্যটনের আকর্ষণ অনেক কমে যাবে এবং এর ফলে আর্থিক ক্ষতি হবে। তাই হরিণ সংরক্ষণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, আমাদের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধ শিকারিদের দৌরাত্ম্য সুন্দরবনের এক মারাত্মক সমস্যা। বন বিভাগের পর্যাপ্ত জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাবে শিকারিরা সহজেই বনে ঢুকে পড়ে এবং ফাঁদ পেতে হরিণ ধরে নেয়। এদের অনেকেই সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য, যারা চামড়া, মাংস এবং হরিণের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কালোবাজারে বিক্রি করে থাকে।”
এ পর্যন্ত পড়ে থামে আজিম। তার আর বুঝতে বাকি নেই ঘটনা আসলে কী।
তার মানে সুন্দরবনে থামছে না হরিণ শিকার। চিরল চিরল পাতার সুন্দরবন, চিত্রা হরিণের সুন্দরবন আসলে সংঘবদ্ধ চোরা শিকারি চক্রের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। (চলবে)