সকালে কালে ঘুম ভেঙে বাইরে তাকিয়েই মনটা খুশি হয়ে উঠল তুলতুলের। রোজ সকালে অবশ্য এমন হয় না। আম্মা এসে চাদরটা সরিয়ে দেয় আর বলে, উঠে পড়ো সোনা, ব্যাগটা গুছিয়ে নাও, হরলিকসটা খেয়ে নাও। পাউরুটিতে জ্যাম লাগাতে লাগাতে গলা তুলে ডাকে আম্মা-বুয়া, চার্লিকে খেতে দাও, ও তুলতুলকে ইস্কুলে দিতে যাবে না?
কিছুক্ষণ পরে আব্বার সঙ্গে গাড়িতে উঠে বসে তুলতুল। ব্যাগটা পিঠে ঝুলিয়ে নেয়। ওয়াটার বটলটা হাতে ঝুলিয়ে একলাফে গাড়িতে উঠে বসে। তার সঙ্গে সাদা পশমের ঝালর নাচিয়ে পাশে এসে বসে চার্লি। ওর গলায় একটা ঘণ্টি লাগানো আছে। মিষ্টি সুরে বেজে ওঠে চার্লি লাফ দিয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে। ইস্কুলে পৌঁছে চার্লিকে আদর করে তুলতুল নেমে যায়। চার্লি তখন থাবা মুড়ে গাড়ির সিটে বসে থাকে। সারা দিন ধরে লাফিয়ে খেলে বেড়ায় চার্লি। বিকেল বেলায় তুলতুলকে আনতে যায় সে। তুলতুলের বন্ধুরা চার্লিকে খুব পছন্দ করে। ওর গলার লাল রঙের ফুলটা লাগিয়ে চার্লি তুলতুলকে ঘিরে ছোট ছোট আদরের শব্দ তুলে লাফায় ঝাঁপায়। সবাই খুব মজা পায়। ছোট্ট চার্লি শুধু কুকুরছানা নয়, তুলতুলের বন্ধু।
আমাদের তুলতুল ছবি আঁকতে খুব ভালবাসে। একদিন হল কি, বড় মামা বলল, তুলতুল, তুমি কিসের ছবি বেশি আঁকতে ভালবাসো বল তো মা?
-আমি। কেন গাছ, ফুল, পাখি, নদী, বাগান সবকিছুই আঁকতে চাই মামা।
-খুব ভাল কথা। তাহলে তুমি সুন্দর করে এগুল এঁকে আমাকে দেবে। আমি তোমার হাতের ছবি দিয়ে একটা
বইয়ের মলাট বানাবো কেমন?
-ঠিক আছে মামা, খুশি হয়ে খাতা, পেন্সিল, ক্রেওন এইসব আনার জন্য আম্মার পেছনে লেগে পড়ল। আম্মা বললেন আগের ডজনখানেক ক্রেওন আছে। সেগুল দিয়ে শুরু কর। পরে আবার এনে দেবো।
-না। আমার এখনই চাই। পুরনোগুলতে ছবি ভাল হবে না। জিদ ধরে ঘ্যান ঘ্যান শুরু করল তুলতুল।
-ঠিক আছে। আনিয়ে দিচ্ছি।
ব্যস। তার পর থেকে শুরু হল ছবি আঁকার পেল্লায় কাও। প্রথম ক’দিন একটা শুঁয়োপোকা আঁকতে শুরু করল তুলতুল। না, মনের মতো হয় না কিছুতেই। কী আর করবে তুলতুল? ছিঁড়ে ছিঁড়ে ফেলে দিল বুড়ির মধ্যে। আচ্ছা, তাহলে প্রথমে সে আঁকবে একটা হাতি। যেহেতু চিড়িয়াখানায় দেখা হাতির দুষ্টু দুষ্টু চোখ দু’টো তুলতুলের খুব পছন্দ। হাতি আঁকাটাই ভাল মনে হল তার। মস্তবড় একটা গাছ তো তাদের দোতলার বারান্দার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। কাজেই গাছটার পাতাভরা ডালগুল আঁকতে তার ভালই লাগল। এখন কী আঁকবে তুলতুল? ছুটির
দিনে দুপুরে খাওয়ার পরে একটু না ঘুমোলে আম্মু বকুনি দেবে। তাই শুয়ে শুয়ে ঘুমোতে চেষ্টা করছিল সে। হঠাৎ কানে এল শালিক পাখির রাগী গলার চিৎকার- ছি.. ছি… ছি… কি ছিরির ছবি এঁকেছে ছোট্ট মেয়েটা। ওর ছবিতে একটাও শালিক নেই, চড়ই নেই, কবুতর নেই। তাহলে বাগানটা ভরবে কী দিয়ে শুনি?
শালিকের কথায় তড়াক করে লাফিয়ে ওঠে তুলতুল। ঠিক বলেছে তো শালিকটা। খাট থেকে নামতে যাবে, কানে আসে আম্মার গলা-তুলতুল এখনই উঠবে না। আরও কিছুক্ষণ শুয়ে থাকো। তুলতুল শুয়ে পড়ে চোখ বন্ধ করে।
বিকেল হলে নিচের দেয়ালঘেরা কম্পাউন্ডে চার্লিকে নিয়ে খেলতে যায় তুলতুল। পাড়ার বন্ধুদের নিয়ে খানিকটা দৌড়ঝাঁপ করে খেলে সে। চার্লিও তার পাশে পাশে দৌড় দেয়, আর প্রজাপতিগুল ধরার জন্য লাফ দেয়। খেলাধুল শেষ করে বাসায় ফিরে হোমওয়ার্ক করতে বসে তুলতুল। ঘণ্টাখানেক পরে টেবিল থেকে উঠে স্কুল ব্যাগটা গুছিয়ে রেখে আবার ছবি আঁকতে বসে তুলতুল। শালিকটার চেঁচামেচি শুনে ওদের ছবিই আগে আঁকতে শুরু করে সে। বাদামি রঙের দু’টো শালিক বিকেল বেলায় খামের ওপরে নেচে বেড়াচ্ছিল। ওদের হলুদ রঙের ঠোঁট আঁকতে খুব ভাল লাগে তুলতুলের। চড়ুই পাখিরাও বাদ যায় না। ছবি আঁকতে আঁকতে একসময় চোখ দু’টো ঘুমে ঢলে আসে তুলতুলের।
একসময় তার কানে আসে পায়রাদের ডানা ঝাপটার শব্দ। সাদা ধবধবে দু’টো কবুতর এসে কানের কাছে ডেকে ওঠে বাক বাকুম, বাক বাকুম।
-ওমা! তোমরা কোথা থেকে এলে ভাই? বল না! তুলতুল আদুরে গলায় কথা বলে।
-এইতো তোমাদের কাছাকাছিই থাকি আমরা। ঐ যে দেখছো পাশের বাড়ির জানালা? ওর ওপরে একটা কাঠের বাকসো আছে। ওখানেই আমরা থাকি। রোজ এসে তোমাদের বাগানে বেড়িয়ে যাই। তুমি কি আমাদের ছবি আঁকতে চাও? তাহলে খুব মজা হবে।
-আঁকবো তো। নিশ্চয় আঁকবো।
-তুমি খুব লক্ষ্মী মেয়ে। ডানা মেলে উড়ে গেল কবুতররা।
আম্মা এসে মেয়ের মাথাটা বালিশে উঠিয়ে দেন। ঠিকঠাক করে ওকে শুইয়ে দিলেন। দেখ কাণ্ড। হাতের মুঠোয় রঙের ক্রেওনগুল আঁকড়ে ধরে ঘুমিয়েছে। চাদরটা মেয়ের গায়ে মেলে দিলেন।
ক্লাসে চটপট উত্তর দিতে পারে বলে তুলতুলকে টিচাররা আদর করেন। সেদিন টিচার জানতে চাইলেন- বল তো, “মোরগ হলেও মোরগ নয়। বাতাস মেঘের কথা কয়” সেটার মানে কী? সারা ক্লাসে সবাই চুপ। কেউ বলতে পারল না। মোরগ হলেও মোরগ নয়-তার মানে কী? হঠাৎ লাফিয়ে ওঠে তুলতুল। হাত উঁচু করে বলে, আমি বলবো টিচার!
বল দেখি? দু’দিন আগে আব্বার কাছে শুনে যে জিনিসটা শিখেছে, সেটাই বলে দিল তুলতুল। বিদেশে বহু জায়গায় বিশেষ ধরনের টিন বা লোহার তৈরি মোরগ রাস্তাঘাট উঁচু করে লাগানো আছে। অনেক ওপরে থেকে বাতাসের গতি বোঝানোর জন্য। তাকে বলে ওয়েদার কক বা আবহাওয়ার পরিমাপক। প্রায় মুখস্থ বলার মতো করে এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলল তুলতুল। টিচার খুশি হয়ে বললেন, গুড, ভেরি গুড। তো ক্লাসে একটা নতুন জিনিস শিখলে আজকে। সবাই খাতা খোল, লিখে নাও। মহাখুশিতে বাসায় ফিরল তুলতুল। আব্বুও খুশি, কারণ খেলার ছলে মেয়েকে অনেক শব্দ, অনেক বিষয় শিখিয়ে দেন আম্মু-আব্বু দু’জনেই। কালারফুল, স্ট্রেঞ্জার, অনেস্টি, সামারটাইম এরকম অনেক শব্দই এখন তুলতুল আর ওর বন্ধুদের খেলার বিষয়।
ওদিকে আবার দিন চলে যাচ্ছে খুব দৌড়ে দৌড়ে। মামা তুলতুলকে দশ দিন সময় দিয়েছিলেন। ছবিটা এঁকে শেষ করতে। ছ’দিন চলে গেছে। মনটা মোটেই ভাল নেই তুলতুলের। এর মধ্যে একদিন হল কি, তুলতুলের ব্যাগের পাশে ছোটো ব্যাগটার মধ্যে নতুন ক্রেওন ভর্তি বাকসো রাখা ছিল। হঠাৎ একদিন সেটা পাওয়া গেল না। তুলতুলরা ক্লাসসুদ্ধ সবাই খুঁজে হয়রান। সব থেকে খারাপ খবর হল ছবি আঁকার ক্রেওনসুদ্ধ বাকসোটা তো হারিয়েছেই, তার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আদরের চার্লিটাকেও পাওয়া যাচ্ছে না। চার্লি এসেছিল তুলতুলকে ইস্কুলে পৌঁছাতে। তুলতুলের আব্বা টেরই পাননি। রোজকার মতো চার্লি পেছনের গদিতে উঠে বসেইনি। তার আগেই কেউ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। ইস্কুলে পড়াশুনা দূরে থাক কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলিয়ে ফেলল তুলতুল। অনেক খুঁজেও চার্লিকে পাওয়া গেল না। স্কুলের দারোয়ান ভাই বলল, হয়তো কেউ বাইরের গেটের কাছে পেয়ে তাকে নিয়ে গেছে। মোটের ওপর কথা হল এই যে, চার্লি ইস্কুল গেটের বাইরে থেকে হারিয়ে গেছে। জুনিয়র সেকশনের কেউ তাকে দেখেইনি।
তুলতুলের আব্বা অবশ্য প্রিন্সিপাল স্যারের সঙ্গে দেখা করলেন এবং সাহায্য চাইলেন। প্রিন্সিপালও দুঃখিত হলেন। তাকে বললেন সকাল বেলায় অ্যাসেম্বলির সময়ে তিনি ব্যাপারটা সবাইকে বলবেন। যদি কেউ কিছু জানতে পারে তবে সে অবশ্যই জানাবে।
রাত্রিবেলা মেয়েকে কিচ্ছু খাওয়াতে পারল না তুলতুলের আম্মা। ঘুমের মধ্যে কেঁদে কেঁদে উঠে বসছে সে। চার্লি চার্লি বলে ফুঁপিয়ে উঠছে। সকাল ন’টায় ইস্কুলে যাওয়ার আগে হঠাৎ টেলিফোন বেজে উঠল। তুলতুলের আব্বা ফোন ধরে চিৎকার করে উঠলেন-কী? কী বলছেন সব? পাওয়া গেছে? বেঁচে আছে তো?–হ্যাঁ, হ্যাঁ এক্ষুনিই আসছি স্যার। অনেক ধন্যবাদ।
ইস্কুলে পৌঁছাতেই, দারোয়ান ভাই দৌড়ে এল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিন্সিপাল স্যার, অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডস্যার, ড্রিল স্যার।
তুলতুল দৌড়ে যেতে চেয়েও স্যারদের দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল। প্রিন্সিপাল স্যার দারোয়ানকে বললেন-কই? বাচ্চাটাকে নিয়ে আসো। একটু পরে একটা ঝুড়িতে বসিয়ে চার্লিকে নিয়ে এল দারোয়ান। চার্লি লাফ দিয়ে নামতে চাইলেও পারল না। পড়ে গেল কাত হয়ে। ইস্কুলের ডিসিপ্লিন ভুলে কেঁদে উঠল তুলতুল।
-যাও ওর খাবারটা নিয়ে এসো, বলল ড্রিল স্যার।
আসল কথা, ইস্কুল থেকে গাড়িতে ওঠার আগেই এক ফাঁকে ক্লাস থ্রির দুইজন দুষ্টু ছেলে চার্লিকে ধরে ওর মুখটা দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে একসময়ে একটা খালি লিচুর ব্যাগে ভরে বাথরুমে লুকিয়ে রাখে। মুখ বাঁধা থাকায় চার্লি কোনো চিৎকার করতে পারেনি। কিন্তু সারাক্ষণ পা দিয়ে হাঁচড়পাঁচড় করে বের হওয়ার চেষ্টা করেছে, পারেনি। সকাল বেলা জমদারনী আয়া ক্লাসরুম ঝাড়ু দিয়ে বাথরুমে গিয়ে চার্লিকে দেখতে পায়। সাদা রঙের ব্যাগটা লাফাচ্ছে দেখে ভূত ভূত বলে চেঁচাতে চেঁচাতে সে বাইরে আসে। তখন মালী আর দারোয়ান মিলে চার্লিকে বের করে আনে। কিন্তু সারা রাতের কষ্টে আর ধকলে চার্লি খুব বেশি শব্দ করতে পারছিল না। মুখটাও তো বাঁধা ছিল বেচারার। বাইরে এসে যখন দুধরুটি এসব ওকে খাওয়ানো হল, তারপর সে কিছুটা শক্তি পেয়ে চাঙ্গা হয়েছে। চার্লি কখনো ইস্কুলে ঢোকে না স্যার! ও ইস্কুলের নিয়ম জানে। কেঁদে বলে তুলতুল। -কিন্তু ওকে যারা লুকিয়ে রেখেছিল, তারা কেন এরকম অন্যায় কাজ করল? তাদেরকে খুঁজে বের করে শাস্তি দিতেই হবে। বললেন প্রিন্সিপাল স্যার।
বেশ ক’দিন ইস্কুলের পরিবেশটা গুমোট হয়ে থাকে। চার্লিকেও ইস্কুলে আসতে দিচ্ছেন না আম্মা। কিছুদিন যেতে না যেতেই বড় মামার ফোন এল-কিরে, তোর ছবির কত দূর? কোনরকম সাড়াশব্দ নেই যে?
জবাবে আম্মা সব কাণ্ড জানিয়ে দিল বড় মামাকে। সেই সঙ্গে বলল- ও খুব ভাল করে ছবি আঁকছে বড় ভাই। ওকে তুমি আর ক’দিন সময় দাও।
-ঠিক আছে। আসল কথা ওর ভেতরের শিল্পীটাকে দেখতে চাই আমি। সে যাক, চার্লি কেমন আছে?
-ভালই আছে।
-ঠিক আছে, ভাল থাকিস তোরা।
ছবিটায় ক’দিন হাতই দেয়নি তুলতুল। সেদিন বিকেল বেলায় আবার শুরু করল। একটা কাক রোজ বারান্দায় উঁকি মারে। জোরে কা কা করে ডাক দেয়। তুলতুল রাগ করে বলে- যা যা ভাগ বলছি পালা, তোর সঙ্গে কথা বলার সময় নেই আমার। হাত তুলে ধমক লাগায় তুলতুল। কাকটা ঘাড় কাত করে শোনে। তারপর উড়ে যায়। এখন ছবি আঁকার সময় কাকটার উড়ে যাওয়া মনে আসে, আর কাল রঙের কাকটার উড়ে যাওয়ার ছবি এঁকে ফেলে তুলতুল। বাহ! বেশ জমে উঠেছে ছবিটা। এবার ঘাস আর ফুল আঁকতে হবে। তার আগে আমার নিজের ছবিটাও আঁকা চাই। তবে সবকিছুর আগে চার্লিকে বসাবো আমার সঙ্গে।
ছবিটা বেশ জমজমাট হয়েছে। ঘাসে ভরা সবুজ জমি, তার মধ্যে পেখম মেলে রয়েছে দু’টো সাদা রঙের কবুতর। ঘাসের ফাঁকে ফাঁকে অনেক রঙের ফুল ফুটে আছে। বাতাসে উড়ছে দু’তিনটে রঙিন প্রজাপতি। এখন খালি চার্লির ছবিটা দিতে হবে। তুলতুল আদর করে ডাকে এই চার্লি, এখানে এসে বোস। চার্লি এসে থাবা মুড়ে বসে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে বেশ ভালভাবে চার্লির ছবিটা ফুটে ওঠে। আর সাদা সাদা টান দিয়ে চার্লির পশমগুল ওর গালের দু’পাশে দিব্যি ঝরে পড়ে। চার্লির গোলাপি ঠোঁট দু’টো থেকে খসে পড়ে দু’টি ছোট্ট আদুরে শব্দ, ঘেউ…. ঘেউ!
সত্যিই চমৎকার হয়েছে ছবিটা। বড় মামা তো মহাখুশি। বললেন, আমি এর জন্য পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করছি। আমার প্রোডাকশন হাউস থেকে যে শিশুসাহিত্য সঙ্কলন বেরোবে, তার প্রচ্ছদ হিসেবে আমি এই ছবি আমাদের সম্পাদকমণ্ডলীর সামনে বিচার করার জন্য জমা দিয়েছিলাম। তারা সবাই একসঙ্গে এই ছবিটিকে প্রচ্ছদের জন্য বাছাই করেছেন।
আম্মা বললেন- আমি তো দেখেছি, মেয়েটা কী কষ্ট করেই না ছবিটা এঁকেছে, সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়। আব্বা সংক্ষেপে বললেন, ‘দেখতে হবে তো কার মেয়ে’।
এত খুশি ধরে রাখতে পারে না তুলতুল। কেঁদে ফেলে খুশিতে। আম্মা বলে- যা কষ্ট গেছে কয় দিন। চার্লিকে নিয়েও কি চিন্তা ছিল! খাবার পরে ঘুম পেয়ে যায় তুলতুলের। পড়ার টেবিলে ক্রেওন আর রঙতুলির গোছা আরামে শুয়ে আছে। তুলতুলের ঘুমের মাঝখানে বাগানের শিশিরভেজা ঘাসে পা রাখে সে। ঘাসফুলের মাঝখানে খাবার খুঁটে খাচ্ছে শালিক দু’টি, চড়ুই পাখিরা নেচে বেড়াচ্ছে তড়বড়িয়ে। কবুতররা সফেদ পেখম মেলে গলা ফুলিয়ে ডেকে ফিরছে। সবাই ভারী খুশি।
চার্লির গলার বকলেসটা ধরে সামনে এগিয়ে যায় তুলতুল। হাতিটা আস্তে আস্তে শুঁড় দোলায়। কাকটা কোথা থেকে উড়ে আসে আর ফুর্তিতে ডেকে ওঠে কা কা…..।
তুলতুল স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু সামনে বিছানো সবুজ বাগান থেকে ছুটে এক পশলা নরম বাতাস। ঘিরে ধরল তুলতুল আর তার বন্ধুদের। সবাই যেন এক সঙ্গে বলে উঠল-এসো তুলতুল, তোমার সবুজ বাগানে, এসো আমাদের সাথে খেলা করবে। ০
প্রকাশকাল : জুলাই ২০১৬।



