জাদুর কাঁচি

0
4

আজ আমি আমার এক অদ্ভুত স্বপ্নের কথা বলব। এক গাঁয়ে বাস করত এক ছেলে, তার নাম ছিল তাহান। তার পরিবার ছিল খুব গরিব। সে প্রতিদিন সকালে পান্তা ভাত খেত আর খাওয়ার পর সে বন্ধুদের সাথে খেলা করত। একদিন তার মা তাকে বলল যে, ‘দুপুরে ভাতের সাথে খাওয়ার কিছুই নেই, তাই নদী থেকে মাছ ধরে নিয়ে আয়।
তাই সে জাল নিয়ে নদীতে গেল। নদীতে জাল ফেলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর সে আস্তে আস্তে জালটা উপরে টানছিল, তখনই সে আওয়াজ পেল-আমাদের ছেড়ে দাও, আমাদের ছেড়ে দাও। তাহান আশেপাশে তাকিয়ে দেখল কেউ নেই। এরপর পানিতে তাকিয়ে দেখল তিনটি মাছ তার দিকে তাকিয়ে বলছে- আমাদের মেরো না, আমাদের মেরো না। আমাদের ছেড়ে দাও, এর বদলে আমরা তোমাকে একটা জাদুর কাঁচি দেবো, সেটা দিয়ে তুমি যা কিছু কাটবে তাই জীবন্ত হয়ে যাবে।
মাছেদের কথা শুনে তাহান একটু অবাক হলো, কিন্তু ভাবল মাছ তো আমি আবার ধরতে পারব, কিন্তু এই কাঁচি আর কখনো পাব কি না জানি না। তাই সে কাঁচিটি নিয়ে মাছেদের যেতে দিল। সে চিন্তা করছিল যে, এটা দিয়ে কী বানানো যায়? তখনই তার সামনে দিয়ে একটি পাখি উড়ে গিয়ে পাশে একটি বড় গাছে বসল। তখন তাহান ভাবল, একটি পাখি বানানো যাক। সে একটা পাতা থেকে একটা পাখি কাটল। কাটা মাত্রই পাখিটি উড়ে গিয়ে আরেকটি পাখির সাথে সেই বড় গাছটিতে বসল। তাহান এটা দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল।
তাহান দৌড়ে আসল তার বাবা-মায়ের কাছে পুরো ঘটনা বলার জন্য। এসে দেখে তারা পুরনো জামাকাপড় পরে আছে। ঘটনা বলতে বলতে বাবা-মায়ের জন্য সুন্দর দুটি জামা কেটে দিল। এরপর সে দৌড়ে গিয়ে কলাপাতা কেটে নিয়ে আসল তাদের বাসার সামনের একটি কলাগাছ থেকে। আর সেগুলোতে কতগুলো প্রচলিত মুদ্রার ছবি আঁকল এবং সেগুলো ঐ জাদুর কাঁচি দিয়ে কেটে নিল। কাটার সাথে সাথেই সেই পাতাগুলো আসল মুদ্রায় পরিণত হয়ে গেল।
তাহান ও তার বাবা সেই মুদ্রা দিয়ে বাজার থেকে নানা রকম মাছ, মুরগির মাংস, গরুর মাংস, পোলাওয়ের চাল ও কাগজ কিনে আনল। তার মা রান্নাঘরে পোলাও-মাংস রান্না করছিল আর তাহান ও তার বাবা কাগজ ও কাঁচি দিয়ে মুদ্রা তৈরি করছিল। তাহানের বাবা তাকে কাগজে মুদ্রা এঁকে দিচ্ছিল আর সে কাগজগুলো কেটে কেটে মুদ্রা বানাচ্ছিল। এভাবে ধীরে ধীরে তাহানের পরিবার ধনী হয়ে গেল।
কিন্তু! যত তারা ধনী হলো তত তাহানের আনন্দ কমে গেল। কারণ সে তার ইচ্ছামতো কিছু করতে পারত না। সে তার বন্ধুদের সাথে খেলতে যেতে চাইলে তার মা বলত- ওদের সাথে মিশা যাবে না। তাই সবার সাথে খেলতে দিত না। সে মন ভরে খেতেও পারত না। কারণ তার মা বলত- বাসায় চামচ দিয়ে খেয়ে অভ্যাস করতে হবে, না হলে বাইরে সবার সামনে চামচ দিয়ে খেতে পারবে না।
সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার সে খেলার সময় পেত না। কারণ স্কুল থেকে এসে কোচিং, বাসার শিক্ষক, এরপর হোমওয়ার্ক করে খেয়ে দেয়ে ঘুম। ছুটির দিনেও আর্ট ক্লাস, গানের ক্লাস, সুইমিং ও ক্যারাটে ক্লাস। অবসর সময়ই পেত না। সব মিলিয়ে অনেক প্রেসারে থাকতে হতো তাকে। ধীরে ধীরে তার জীবন আনন্দহীন হয়ে গেল।
একদিন রাতে বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ হতে থাকে তাহান। ঘুম আসছিল না তার। অবশেষে বিছানা থেকে নেমে ড্রয়ার থেকে কাঁচিটি বের করে নিয়ে গেল নদীর তীরে মাছেদের কাছে। নদীর তীরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল-বন্ধুরা দেখা দাও। কিন্তু কেউ উপরে আসল না। তাহান তাদেরকে অনেকক্ষণ চিৎকার করে ডাকল তবুও কোনো সাড়া পেল না। তাই সে রাগ করে কাঁচিটা নদীতে ফেলে দিয়ে বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়ল।

ঘুম থেকে উঠে দেখে তার সেই রাজপ্রাসাদ আর নেই। তার সেই আগের পুরনো বাসা। তার মা পুরনো জামা পরে তার জন্য পান্তা ভাত নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে খুশি হয়ে পান্তা খেয়ে তার বন্ধুদের সাথে খেলতে চলে গেল। কী মজা! এখন আর তাকে রুটিন মতো চলতে হবে না। সে এখন স্বাধীন তাহান।