ঈদ রেসিপি

0
7

[ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। আর বাঙালির কাছে খুশি মানেই খাওয়াদাওয়া। সুতরাং বালাদেশে ঈদের খুশি মূলত জমে ওঠে খাওয়াদাওয়ার মাধ্যমেই। ঈদের দিন কী খাবার তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে শিশুদের বেশ কৌতূহল থাকে। খাবার যদি পছন্দ হয় তাহলে বাড়ির শিশুদের ঈদ-আনন্দও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শিশুদের ঈদ-আনন্দ বাড়িয়ে দিতে কয়েকটি ডেজার্ট আইটেম নিয়ে লিখেছেন মুকরিমা তাসলীম।]

ছোট্ট বন্ধুরা, ঈদ মোবারক। আজ তোমাদের জন্য কয়েকটি ডেজার্ট আইটেম নিয়ে হাজির হয়েছি। সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে বানানো এ আইটেমগুলো তোমরাও বানাতে পারো ঈদের আয়োজনে। তবে সাবধান, আব্বু-আম্মুর সহযোগিতা ছাড়া একা একা বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ো না কিন্তু।
চলো তাহলে, শুরু করি শাহী ফিরনি দিয়ে-

শাহী ফিরনি-
উপকরণ :
ফুলক্রিম দুধ- ১ লিটার
বাসমতি চাল- ১/২ কাপ (৩০ মিনিট ভিজিয়ে মোটা করে বাটা)
চিনি- ১/২ কাপ (নিজ নিজ স্বাদ অনুযায়ী)
কনডেন্সড মিল্ক- ১/২ কাপ (শাহী স্বাদের জন্য)
ফ্রেশ ক্রিম- ১ কাপ ( শাহী স্বাদের জন্য)
এলাচ গুঁড়ো- ১/২ চা চামচ
গোলাপ জল- ১ চা চামচ
জাফরান- ৪-৫ টুকরা (২ টেবিল চামচ গরম দুধে ভেজানো)
কাজু, কাঠবাদাম- ২ টেবিল চামচ (কুচি)
কিসমিস- ১ টেবিল চামচ
পেস্তা বাদাম কুচি- সাজানোর জন্য
ঘি- ১ চা চামচ

প্রণালী :
একটি পাত্রে দুধ নিয়ে ১০-১৫ মিনিট জ্বাল দিয়ে ঘন করে নেব।
এরপর এতে ভেজানো চালের বাটা ধীরে ধীরে দিয়ে দেবো। নিরবচ্ছিন্নভাবে নাড়তে থাকব যেন দলা বেঁধে না যায়।
মাঝারি আঁচে ১৫-২০ মিনিট রান্না করব, যতক্ষণ না চাল সেদ্ধ হয়ে ফিরনি ঘন হয়ে আসবে।
এবার চিনি ও কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে দেবো। ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নেব। এরপর ক্রিম মিশিয়ে নেব।
অন্য একটি প্যানে ঘি গরম করে কাজু ও কিসমিস হালকা ভেজে ফিরনিতে দিব।
এবার এলাচ গুঁড়ো, জাফরান দুধ ও কেওড়া জল যোগ করব
আরও ৫ মিনিট অল্প আঁচে রান্না করে চুলা বন্ধ করে দেবো।

পরিবেশন :
বাটিতে ঢেলে উপরে পেস্তা ও বাদাম ছড়িয়ে দেবো।
ফ্রিজে ২/৩ ঘণ্টা রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করলে স্বাদ হবে দারুণ মজাদার।
চিনির বদলে খেজুর গুড় ব্যবহার করলে আলাদা ঘ্রাণ ও দুর্দান্ত স্বাদ পাওয়া যায়।

 

ফ্লোটিং আইল্যান্ড ডেজার্ট :
উপকরণ :
ডিম- ৪-৫ টি
চিনি- ৬ টেবিল চামচ
ভ্যানিলা এসেন্স- ১/২ চা-চামচ
লবণ- এক চিমটি
দুধ- ২ কাপ
কুচানো বাদাম/পেস্তা- ১/২ কাপ
ক্যারামেল সস
সামান্য গোলাপ পাপড়ি

প্রণালী :
ডিমের কুসুম আলাদা করে নিব এবং সাদা অংশে এক চিমটি লবণ দিয়ে বিট করতে থাকব।
ফেনা উঠলে ধীরে ধীরে চিনি দেবো। একসাথে সব চিনি দেয়া যাবে না।
ভ্যানিলা এসেন্স যোগ করে আরও কিছুক্ষণ বিট করে নেব।
একটি প্যানে দুধ হালকা গরম করব (ফুটাবো না)
চামচ দিয়ে হালকা হাতে মেরিং ঢেলে নেব।
দুই পাশে ৩০/৪০ সেকেন্ড করে রান্না করে তুলে ঠান্ডা করতে দেবো।

অন্য একটি প্যানে দুধ গরম করে নেব। একটি বাটিতে আলাদা করে রাখা কুসুম এক কাপ চিনি দিয়ে ফেটিয়ে নেব। এবার গরম দুধ ধীরে ধীরে ঢেলে কম আঁচে নেড়ে ঘন করে নেব। দুধ ঘন হয়ে এলে ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে চুলা, বন্ধ করে ঠান্ডা করতে দেবো।

পরিবেশন :
বাটিতে আগে কাস্টার্ড ঢেলে নেব
তার উপর মেরিং হালকা করে বসিয়ে নেব। (মেরিং খুব যত্ন করে বসাতে হবে, যেন ভেঙে না যায়)
উপর থেকে ক্যারামেল সস ও বাদাম কুচি ছড়িয়ে দেবো।
১/২টা গোলাপের পাপড়ি উপরে বসিয়ে নেব সুন্দর একটা লুক দেয়ার জন্য।

 

গাজরের পুডিং রেসিপি-
উপকরণ :
গাজর (কুচানো)- ২ কাপ
দুধ- ২ কাপ
ডিম- ২ টি
চিনি- ১/২ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কমবেশি)
কর্নফ্লাওয়ার- ২ টেবিল চামচ
এলাচ গুঁড়ো- ১/২ চা চামচ
ঘি- ১ টেবিল চামচ
কাজু/কিসমিস- পরিমাণমতো
লবণ- এক চিমটি

প্রণালী :
প্রথমে কর্নফ্লাওয়ার ১/৪ কাপ ঠান্ডা দুধে গুলিয়ে রাখব। বাকি দুধের মধ্যে ডিম দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নেব। যতক্ষণ না ডিম দুধের সাথে মিশে যায়।
এবার একটি প্যানে ঘিয়ে কাজু-কিসমিস হালকা ভেজে তুলে রাখব।
একই প্যানে কুচানো গাজর দিয়ে ২/৩ মিনিট নেড়ে নেব, গাজরটা হালকা লাল হয়ে আসা পর্যন্ত।
এবার ফেটানো দুধ ঢেলে মাঝারি আঁচে গাজর নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করব।
চিনি ও এক চিমটি লবণ দিয়ে এ পর্যায়ে অনবরত নাড়তে থাকব।
দুধ একটু ঘন হলে কর্নফ্লাওয়ার মিশ্রণ ঢেলে নাড়তে থাকব যাতে দলা না বাঁধে। ঘন হয়ে এলে এলাচ গুঁড়ো ও ভাজা কাজু-কিসমিস দিয়ে হালকা হাতে নেড়ে দেবো। এবার একটা ট্রে বা ডিসে ঢেলে ছড়িয়ে দেবো। ঠান্ডা করে পুডিং সেট হওয়ার জন্য ফ্রিজে রাখব কয়েক ঘণ্টার জন্য।
পুডিং সেট হওয়ার পর নিজের পছন্দ মতো শেইপ দিয়ে কেটে নেব। পুডিং ক্রিমি করার জন্য উপর দিয়ে কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে দেবো।

পরিবেশন : পরিবেশনের সময় পুডিং এর উপর কাজু কিসমিস কুচি ছড়িয়ে দেবো।

তো বন্ধুরা, পরিবারের সাথে সুন্দর ঈদ কাটাও, এই প্রত্যাশায় শেষ করছি। আর হ্যাঁ, ঈদের দিন কোন ডেজার্টটি বানালে, তা জানাতে ভুলবে না কিন্তু।

প্রকাশকাল: মার্চ ২০২৬