ছোটদের ঈদ ফ্যাশন

0
7

পছন্দের পোশাকটি পাওয়ার জন্য ছোটরা ভীষণ আগ্রহী। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আয়োজনে অনুষ্ঠানের ধরণ অনুযায়ী পোশাক পছন্দ করে সবাই। কিন্তু ঈদের পোশাক এসব থেকে খানিকটা আলাদা। ঈদ আসে বছরে মাত্র দুটি। প্রথমটি রোজার ঈদ, একমাস রোজা রাখার পর। এই ঈদের আনন্দ অনেক বেশি। সবাই এই ঈদ ঘিরে ¯^প্ন দেখতে থাকে। চোখে ঘুম থাকে না ঈদের উৎসব সামনে এলে। কি করবে আর কি না করবে এমন সব পরিকল্পনায় সাজাতে থাকে। কেমন পোশাকে নিজেদেও মানাবে, এটাও তার চিন্তায় থাকে। কিছু পোশাকের কথা-

পায়জামা-পাঞ্জাবি
ঈদের দিনে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পোশাক হলো পায়জামা পাঞ্জাবি। ঈদের নামাজে উপস্থিত হওয়ার জন্য এর চেয়ে উত্তম পোশাক আর নেই। ছোট বড়, ছেলে বুড়ো সবাই পায়জামা পাঞ্জাবি পরে ঈদগাহে যায়। বহু ধরনের, বিভিন্ন রঙের পাঞ্জাবি দেখা যায়। কেমন রঙের পাঞ্জাবি পছন্দ করবে তুমি?
কারো সাদা, কারো লাল, কারো সবুজ, কারো নীল, কারো কালো। আবার কারো অনেক রঙের মিশ্রণও পছন্দ! শুধু মনে রাখতে হবে যে রঙই হোকনা কেনো সেটি যেনো ক্যাটক্যাটে রঙ না হয়। দেখতে খারাপ লাগে এমনও নয়। দেখতে ভালো, গায়ে দিলে মন খুশি হবে। সবাই দেখেই বলবে- বাহ্ পাঞ্জাবিটা তো খুব সুন্দর! এমন পাঞ্জাবিই পছন্দ করা উচিৎ।

শার্ট- প্যান্ট
ঈদে অনেকে শার্ট প্যান্ট পরতেও পছন্দ করে। যারা পায়জামা পাঞ্জাবি পরে না, সাধারণত তারাই শার্ট প্যান্ট পরে ঈদগাহে যায়। শার্ট প্যান্টও নানারকম আছে। শার্টের কালারও সুন্দর, মনোরম এবং চোখে আরামদায়ক হওয়া চাই। শার্ট যেমন তেমন আছে। কিন্তু প্যান্ট নিয়ে সমস্যা খুব। কিছু প্যান্ট খুব চিপা। যেটিকে স্কিন টাইট প্যান্ট বলে। এ প্যান্ট এতোটাই ফিটিং যে ঠিক ভাবে নামাজের সেজদা দেয়াও মুশকিল আছে। এধরণের প্যান্ট পরা মোটেই উচিৎ নয়। পোশাক হলো সৌন্দর্যের প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সে দিকটিই যদি অসুন্দর হয় তো কীভাবে হবে?

টি-শার্ট
কেউ কেউ আছে যারা না পাঞ্জাবি পরে। না শার্ট পরে। এরা টি-শার্ট বা গেঞ্জি গায়ে জড়ায়। টি শার্টেরও নানারকম বিষয় থাকে। রঙের বিষয় তো থাকেই। সেই সাথে থাকে ফিটিংের বিষয়টিও। বেশি টাইট গেঞ্জি বা অতিরিক্ত ঢিলা, কোনোটাই সুবিধাজনক নয়। বরং শরীরের গঠন ও মাপ অনুযায়ী কিনতে হবে টি-শার্ট। সত্যি কথা হলো মানানসই গেঞ্জি এবং প্যান্ট পরতে হবে।

ফতুয়া
ফতুয়া একটি অন্যরকম পোশাক। এটি পাঞ্জাবি নয়, শার্টও নয়। এর কলারের দিকটি দেখতে পাঞ্জাবির মতো, বডিও অনেকটা পাঞ্জাবির মতোই। কিন্তু নীচের অংশ কোনোভাবেই পাঞ্জাবির মতো নয়। আবার হাতা দেখে হঠাৎ মনে হবে বুঝি হাফ শার্ট। কিন্তু না হাফ শার্টও নয়। গেঞ্জির সাথেও মিলানো যায় না। কিন্তু এ পোশাকটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পাঞ্জাবির কাপড় দিয়ে বানানো হয়। এই পোশাকটি পরে খুব কম মানুষ। শিশুদের মধ্যে দেখাই যায় না। কিশোরদের কেউ কেউ পরে। বড়রা বিশেষ করে মধ্য বয়সী আর বৃদ্ধ মানুষেরা বেশি পরে।

ফতুন্জী
এটি একটি আলাদা ধরণের পোশাক। এ পোশাকটি উপরের দিকে দেখেই যে কেউ বলবে এটি পাঞ্জাবি। কিন্তু নীচের দিকে দেখলে বলবে- নাহ্ এটি ফতুয়া। আসলে এটি ফতুয়া ও পাঞ্জাবির সমন্বয়ে তৈরি বলে একে বলা হয় ফতুন্জী। অবশ্য এটি খুব পরে না শিশু কিশোরেরা। এটি একটি অন্যরকম ফ্যাশনেবল পোশাক। সবাই হয় তো জানেও না এরকম একটি পোশাক আছে। এটি ফতুয়ার চেয়ে লম্বা হয়। কিন্তু পাঞ্জাবির চেয়ে খাটো। আবার নীচে দুপাশে কাটা থাকে। কিন্তু কোনো পকেট থাকে না। ফুল হাতা হয়। কালার থাকে। কিন্তু সে কলার ফতুয়া ও পাঞ্জাবির কলারের চেয়ে একটু বড় হয়। ফতুন্জীর সাথে সাধারণত প্যান্ট পরতে হয়। পায়জামা পরা যায় না। কারণ এটি পাঞ্জাবির মতো লং হয় না।

পোশাকের বিষয়টি কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে। কে কোন মাপের মানুষ সেটি কিন্তু পোশাক দেখে কিছুটা নয় শুধু অনেকটা অনুমান করা যায়। সুতরাং ঈদে পোশাক কেনার সময় একথা মাথায় রাখতে হবে যে, পোশাক দেখেই কেউ যেন বিরূপ মন্তব্য করতে না পারে। পোশাকে সুন্দর এবং ˆশল্পিক দিক দুটোই যেনো থাকে। নইলে পোশাক সমালোচনার বিষয় হয়ে যায়। ফ্যাশনের নামে একজন আরেকজনের যে অনুকরণ করে এটি ঠিক নয় মোটেই। কারণ অনুকরণ কখনও ফ্যাশন হতে পারে না। ফ্যাশন তো একটি সুন্দর মানানসই বিষয়। ফ্যাশন মানেই হলো সুন্দর, আনন্দময় এবং পরিশীলিত রূপ। এটাই গ্রহণ করতে হবে আমাদের।

প্রকাশকাল: মার্চ ২০২৬