
ঈদ মানে খুশি আর আনন্দ এবং বাড়তি খাবারের ছড়াছড়ি। তাই না ফুলকুঁড়ি বন্ধুরা? ঈদে শুধু মজা করলে হবে না। তুমি নতুন জামা পরলেও মজা পাবে না, যদি তোমার বাড়ির পাশের একটি গরিব শিশু জামা না পায়। তুমিও তার জন্য কিছু একটা করতে পারো। তবেই তো ঈদ সবার জন্য আনন্দের হবে। দেশে দেশে ঈদে সেমাই কোরমা পোলাও গোশত কত বাড়তি খাবারের ছড়াছড়ি। এখন বলব কিছু সাবধানতার কথা। তাহলে আর অসুস্থ হয়ে তোমাকে কষ্ট পেতে হবে না।
ঈদের দিনগুলোতে শিশুদের জন্য নিতে হবে বাড়তি যত্ন। এটা বড়দের ভেবে দেখতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঈদে সুস্থ থাকার জন্য চাই পরিমিত ও নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ। মানে খুব বেশি খেয়ে যেন বদ হজম বা পেট নষ্ট না হয়। তা হলে তো কয়েকটা দিনের আনন্দ নষ্ট হয়ে যাবে। ঈদে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং বেশি বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। এটা মোটেই চলবে না। কী করতে হবে তা বলছি।
ঈদে শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন হবে :
১. ঈদ আনন্দে হঠাৎ করে তোমরা বেশি খাবার খাবে না। শিশুদের বেশি খাবার খেতে দেবেন না বাবা মায়েরা। এক খাবার থেকে অন্য খাবারের মধ্যে তিন থেকে চার ঘণ্টা বিরতি দিতে হবে।
২. শিশুদের খাবারে ক্ষতিকর রং, লবণ, ঘি, বাটার, পাম অয়েল ব্যবহার করবেন না। কারণ, এগুলো শিশুদের স্বাভাবিক হজম, বিপাক ক্রিয়াকে নষ্ট করে।
৩. শিশুরা যেহেতু মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশি পছন্দ করে, তাই শিশুদের জন্য চিনি কম ব্যবহার করে মিষ্টিজাতীয় খাবার রান্না করুন। এতে চিনি থেকে হওয়া বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে।
৪. শিশুদের কম চর্বিজাতীয় খাবার খেতে দিন।
৫. শরীরের প্রোটিনের দরকার অনুসারে মাংস খেতে দিন এবং মাংসের সঙ্গে বেশি করে আঁশযুক্ত শাকসবজি খেতে দিন।
৬. শিশুদের খাবারের সঙ্গে সালাদ হিসেবে টমেটো, শসা, লেবু, কাঁচামরিচ খেতে দেবেন। ঈদের দিনগুলোতে শিশুদের দেশি ফ্রেশ ফল খেতে দিতে ভুলবেন না।
৭. শিশুদের বাজারের প্রচলিত কোমল পানীয় দেবেন না। কারণ, এ ধরনের পানীয় বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। তাই বিকল্প হিসেবে বাসায় বানানো দেশি ফল, ডাবের পানি ও লেবুর শরবত খেতে দিন।
৮. শিশুদের হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য টক দই খেতে দিন। পাশাপাশি খেলাধুলা করার সুযোগ দিন।
৯. ঈদ আনন্দে শিশুদের বাইরে ঘোরাঘুরির সময় অবশ্যই বিশুদ্ধ খাবার পানি সঙ্গে রাখুন। বাসায় বানানো খাবার খেতে শিশুকে উৎসাহিত করুন।
অনেকগুলো নিয়ম বললাম। এটা তোমাদের ভালোর জন্য । এর পরও সবার জন্য ঈদ আনন্দময় হোক এটাই কামনা করছি।
প্রকাশকাল: মার্চ ২০২৬



