প্রিয় বন্ধুরা, কেমন আছো? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই অনেক ভালো আছো। নিশ্চয়ই রমাদানের দিনগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাচ্ছো। যেহেতু এটা ঈদ সংখ্যা তাই অগ্রিম ঈদ মুবারক। গত পর্বে আমরা জেনেছি ‘কাজ’ নিয়ে। আজ আমরা পদার্থবিজ্ঞানের একটি মজার বিষয় নিয়ে জানবো। আর সেটা হলো শক্তি। চলো তাহলে শুরু করা যাক!
প্রতিদিনের কথাবার্তায় আমরা সকলেই শক্তি শব্দটি ব্যবহার করে থাকি। শক্তি বলতে আমরা অনেক সময় বল প্রয়োগ করাকেই বুঝিয়ে থাকি। যেমন- কেউ অনেক জোরে ফুটবলে কিক করতে পারে তাহলে আমরা বলি তার শরীরে অনেক শক্তি। পদার্থবিজ্ঞানে শক্তি শব্দটির নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা বস্তু যদি কাজ করতে পারে তাহলে আমরা বুঝি তার মাঝে শক্তি আছে। অর্থাৎ কাজ করার সামর্থকে শক্তি বলে।
চলো একটি উদাহরণ দিয়ে দেখা যাক, ধরো তুমি সর্বমোট ১০০টি ইট ছাদে উঠাতে পারো। এর বেশি আর সম্ভব হয় না। এটিই তোমার সর্বমোট শক্তি। অন্যদিকে তোমার বন্ধু সর্বমোট ৫০টি ইট ছাদে উঠাতে পারে। তাহলে আমরা বলবো তোমার শক্তি তোমার বন্ধুর চেয়ে দুইগুণ।
ইট ছাদে তোলার জন্য তোমার শরীর খাবার থেকে পাওয়া রাসায়নিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। আর পৃথিবীর আকর্ষণ বলের বিরুদ্ধে কাজ করে তুমি ইটগুলো ছাদে নিয়ে যাও। তুমি যে শক্তি ব্যবহার করে ইটগুলোকে ছাদে নিয়ে গেলে, এই শক্তি ইটের মাঝে বিভব শক্তি হিসেবে জমা আছে। বিভব শক্তি হলো অবস্থান পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে কাজ করার সামর্থ অর্জন করে তা। কি! বিশ্বাস হচ্ছে না ইটের মাঝে আবার কীভাবে শক্তি জমা থাকবে? তাহলে এই ইট ছাদ থেকে ফেলে দাও। দেখবে, ইটের মাঝে গতির সঞ্চার হবে। অর্থাৎ এই বিভব শক্তি গতিশক্তিতে পরিণত হলো। আর এই গতিশীল ইট তার সামনের কোনো কিছুকে ভেঙে ফেলতে পারবে বা সাথে নিয়ে নিচে নামবে। অর্থাৎ কাজ করবে। ইটটি নিচে পড়ার পর এই গতিশক্তি, শব্দ ও তাপ শক্তিতে পরিণত হবে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে শক্তি একরূপ থেকে অন্যরূপে পরিবর্তিত হচ্ছে। মূলত, সব শক্তিই এক। আমরা শুধু শক্তিকে এক প্রকার থেকে অন্যপ্রকারে পরিবর্তন করতে পারি।
বিভিন্ন কাজে আমরা শক্তির বিভিন্ন রূপ ব্যবহার করে থাকি। যেমন, আমাদের খাবার রান্না থেকে শুরু করে পানি গরম করা এমনকি গাড়ি চালানোর জন্যও তাপ শক্তির প্রয়োজন হয়। একটা গাড়ি মূলত পেট্রোলে থাকা রাসায়নিক শক্তিকে তাপ শক্তিতে পরিণত করে তাকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে থাকে। আবার পাখা চালানো, বাতি জ্বালানো থেকে শুরু করে মোবাইল ব্যবহার ইত্যাদি সকল কাজে প্রয়োজন হয় বিদ্যুৎ শক্তি। আমাদের দেখার জন্য প্রয়োজন আলোক শক্তি। আমরা সূর্য থেকে পাই আলোক শক্তি। যা আমাদের শক্তির অন্যতম উৎস। সূর্য থেকে শক্তি নিয়ে সকল গাছপালা খাবার উৎপাদন করে প্রাণিজগতের শক্তির যোগান দেয়। তাছাড়া শক্তির আর অন্যান্য রূপ হচ্ছে- শব্দ শক্তি, চৌম্বক শক্তি, বিদ্যুত শক্তি, রাসায়নিক শক্তি, নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি। শক্তির সবচেয়ে সাধারণ রূপ হলো যান্ত্রিক শক্তি । বস্তুর অবস্থান, আকার ও গতির কারণে যে শক্তি পাওয়া যায় তাই যান্ত্রিক শক্তি। এটি আবার দুই প্রকার- গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
তাহলে, আমরা বুঝলাম শক্তি আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শক্তি ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারতাম না। তাই শক্তির সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং অপচয় করা যাবে না।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আশা করি, শক্তি সম্পর্কে ধারণা পেয়েছো। আবার দেখা হবে নতুন কোনো মজার বিষয় নিয়ে। আল্লাহ হাফিজ!
প্রকাশকাল: মার্চ ২০২৫



