মার্চ মানেই ফাগুন, আর ফাগুন মানেই ফুলকুঁড়িদের নতুন বছর শুরু। নতুন বছর কেনো বলছি জানো? কারণ প্রতিবছর মার্চ মাসের ৩ তারিখ শিশুকিশোরদের প্রিয় পত্রিকা শিশুকিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আসে। এবছর শিশুকিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ি তার বর্ণিল অভিযাত্রার ৪৮ ফাগুন অর্থাৎ ৪যুগে পদার্পণ করেছে।
৪যুগ উপলক্ষে দেশব্যাপী বর্ণিল প্রকাশনার ৪যুগ উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মাসিক ফুলকুঁড়ি। এরই ধারাবাহিকতায় মাসিক ফুলকুঁড়ির সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ও উৎসবমূখর অনুষ্ঠানের আয়োজনটি করে গত ০৪ মার্চ, বুধবার বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে। এদিন মাসিক ফুলকুঁড়ির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ৪১২তম সাহিত্য সভা, লেখক-পাঠক আড্ডা ও ইফতার অনুষ্ঠানের।
অনুষ্ঠান শুরুর সময় ছিলো বিকেল ৩.৩০টা। তবে দুপুর ৩টা থেকেই অনুষ্ঠানস্থল লেখক, পাঠকসহ শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হওয়া শুরু করে। অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতেই চোখে পড়ে, বর্ণিল প্রকাশনার ৪যুগ পূর্তির শুভেচ্ছার প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে আছে হাবা মোহন।
কী, অবাক হলে? হ্যাঁ, শুধু লেখক কিংবা পাঠক নয়, বরং ইফতারের লোভ সামলাতে না পেরে হাবা মোহনও চলে এসেছিলো মাসিক ফুলকুঁড়ির আয়োজনে।
পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করে ফুলকুঁড়ি বন্ধু মুজ্জাম্মিল রহমান গালিব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাসিক ফুলকুঁড়ির সম্পাদক আহমদ মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ০৪জন প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক- এম. এ. কে শাহিন চৌধুরী, আবরারুল হক, হুমায়ুন কবীর ও সাইফুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন শিশুকিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ির নির্বাহী সম্পাদক নাঈম আল ইসলাম মাহিন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও ফুলকুঁড়ি আসরের প্রধান পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম এবং মাসিক ফুলকুঁড়ির সহ. সম্পাদক ও ফুলকুঁড়ি আসরের সহকারী প্রধান পরিচালক আশরাফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাসিক ফুলকুঁড়ির সহ. সম্পাদক আরিব মাহমুদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিশুকিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ির প্রাক্তন সহ. সম্পাদক ওয়াহিদ আল হাসান, জাকারিয়া নুরী ও হুসাইন দিলাওয়ার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের নিয়ে ‘ইচ্ছেমতো লিখি’ নামক লেখালেখি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালা পরিচালনা করেন কবি মুর্শিদ উল আলম। এরপর উপস্থিত শিশুবন্ধুদের নিয়ে
“কোথায় আছে গরিব দুঃখী
একটু কাছে নাও
খুশি করো ভাগাভাগি
তাদের খানিক দাও”-
এ ৪ লাইনের উপর ভিত্তি করে ইচ্ছেমতো লিখি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেরা লেখার ভিত্তিতে জোবায়ের বিন মিজান, সিফাতুল্লাহ সামী ও সিয়াম উদ্দীন রিফাত- এ তিনজনকে পুরস্কৃত করা হয়।
কর্মশালা শেষে শুরু হয় লেখাপাঠ পর্ব। লেখাপাঠ পর্বে সাহিত্য সভায় আগত লেখকবৃন্দ তাঁদের স্বরচিত লেখা পাঠ করেন। লেখা মূল্যায়ন করেন কবি নাসির হেলাল।
লেখা আলোচনা শেষে শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে অতিথিবৃন্দ মাসিক ফুলকুঁড়ির পথচলাসহ কবি, লেখক-পাঠকদের উদ্দেশ্যে কথা রাখেন। ইফতারের পূর্বে উপস্থিত সকলকে নিয়ে দোয়া পরিচালনা করেন শিশুকিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ির নির্বাহী সম্পাদক নাঈম আল ইসলাম মাহিন।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করে সিফাত উল্লাহ সামী, আব্দুল্লাহ আল মাহদী, মুত্তাকী। পত্রিকা সঙ্গীত পরিবেশন করে মিহফাজ উদ্দীন আত তাসদীক। শিশুকিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ি নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে আদিব আহনাফ ও অগ্রপথিক আব্দুল্লাহ আল ওয়াহাব।
অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ছিলো হাবা মোহনের রেপ্লিকা এবং পত্রিকা স্টল। শিশুকিশোররা হাবা মোহনের সঙ্গে ছবি তুলে। পত্রিকার স্টলে মাসিক ফুলকুঁড়ির পুরোনো সংখ্যাসমূহ প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়। পুরোনো পত্রিকা দেখে প্রবীণ ও নবীন পাঠকরা আবেগাপ্লুত হন। স্মৃতির সাগরে হারিয়ে যান অনেকে।
সর্বোপরি, লেখক-পাঠক ও শিশুকিশোরদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে আরও প্রাণোচ্ছল।



