মরু অঞ্চলের এক পাহাড়ি মেয়ে। নাম তার লোলিতা। অবশ্য সবাই তাকে ‘লোলি’ বলেই চেনে। ১৩ বছরের এই মেয়েটি কিন্তু অন্য দশটি মেয়ের মতো না। অন্য মেয়েরা সারাক্ষণ দৌড়ঝাঁপ করে। হুড়োহুড়ি আর লাফঝাঁফ দিয়ে ছুটে বেড়ায়। লোলিতা ওসবের মধ্যে নেই। সে শুধু স্বপ্ন দেখে, আর স্বপ্ন বুনে। বুনতে বুনতে একটি কাহিনি বানিয়ে ফেলে। সেই কাহিনিগুলো আবার স্বপ্ন হয়ে যায়। অথবা স্বপ্নগুলোই কাহিনি হয়। লোলির স্বপ্নগুলো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখার স্বপ্ন নয়। সে জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে। চোখ খোলা রেখে স্বপ্ন দেখে। মজার মজার সব স্বপ্ন, অদ্ভুত অদ্ভুত গল্পের মতো স্বপ্ন। যেমন ধরো—
লোলিতা হয়তো তার ঘরের বারান্দায় বসে আছে। চেয়ে আছে দূর আকাশের দিকে। মরুর আকাশ, ঝকঝকে তকতকে পরিষ্কার। প্রচণ্ড রোদ যেন ফেটে পড়ছে মরুতে। অথচ লোলিতা দেখছে, আকাশ ভরা মেঘ। মেঘগুলো ভেসে ভেসে ছুটে চলছে দূরে। আর লোলিতা সেই মেঘের সাথে বারান্দায় বসে কথা বলছে।
লোলিতা বলছে- মেঘমালা গো। তোমরা উড়ে উড়ে কোথায় যাও?
মেঘেরা বলে- উত্তরের দেশে পাহাড়ে গাঁয়ে যাই গো। যাবে তুমি আমাদের সাথে?
লোলি- যাবো, পাহাড়ে বরফকন্যা আছে না? আমি তার কাছে যাবো। নিয়ে যাবে আমাকে?
মেঘ- বরফকন্যার কাছে? ওমা! সেতো হিম শীতল ঠান্ডা গো! তার কাছে গেলে তুমি যে জমে যাবে।
লোলি- জমে যাবো কেন? আমার কাছে চাদর আছে না? কাশ্মিরী শাল আছে আমার। কী যে উম্। অবশ্য, ঠান্ডা আমার ভালো লাগে। এই বড্ড গরমে একটুখানি বরফ দিয়ে যাও গো মেঘ।
অথচ যে দিন লোলি মেঘের সাথে কথা বলছিল, সেদিন আকাশে মেঘই ছিল না। প্রচণ্ড রোদ খাঁ খাঁ করছিল আকাশ। আর লোলি দেখছিল মেঘ। পেঁজা তুলার মতো মেঘ। ভেসে ভেসে দূরের পাহাড়ে চলে যাচ্ছে। তখন বরফের কথা ভেবে ভেবে লোলি নিজেও শীত অনুভব করে। বলে- উহ্, বড্ড শীত গো! আম্মু, আমার চাদরটা দিয়ে যাও তো। বড্ড শীত লাগছে।
লোলিতার স্বপ্নগুলো ঠিক এই রকমই। সেদিন বিকেল বেলা। আকাশে আগুনের হলকা। রোদ ফেটে পড়ছে মরুর বালুতে। লোলির মা বাইরে থেকে গরমে সিদ্ধ হয়ে বাড়ি ফিরে। বাড়ি এসে দেখে লোলি বারান্দায় বসে শীতে কাঁপছে। লোলিতার মা বলে, কী গো লোলি, কাঁপছো কেন?
লোলি বলে- বড্ড শীত গো। আমার শালটা দাও না। শীতে জমে যাচ্ছি।
লোলিতার এ কথা শুনে অবাক হয় না মা। কারণ, সে জানে মেয়ে তার স্বপ্নিল বালিকা। স্বপ্ন দেখাই তার স্বভাব। স্বপ্ন দেখতে দেখতে লোলি নিজেও স্বপ্নের মতো হয়ে যায়। স্বপ্নে সে রাতকে বানায় দিন, আর দিনকে বানায় জোনাক জ্বলা রাত।
লোলির মা বলে- আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছ। নাহ! তোমাকে নিয়ে আর পারিনে। এদিকে বেলা যে পড়ে গেল। পানি আনতে হবে। ঘরে এক ফোঁটা পানিও নেই। শুধু স্বপ্ন দেখলে পেয়াস মেটে না লোলি।
মা-ও রসিকতা করে মেয়েকে বলে- তোমার ওই পা দুটোকে এখন বলো- পা, পা গো আমার। আর বসে থেকো না। এবার গা ঝাড়া দিয়ে ওঠো। ওই দূরের ঝরনা থেকে কলসি ভরে পানি নিয়ে আসি, চলো।
মায়ের কথায় লোলি ওঠে। সত্যি সত্যিই সে পা দুটোকে বলে, চলো যাই। অনেক বিশ্রাম নিয়েছ। এখন একটু কাজ করে খাও। আমাকে হাঁটিয়ে নিয়ে চলো, ওই দূরের ঝরনায়। পানি আনব গো। ভরা কলসি নিয়ে তোমার বুঝি হাঁটতে কষ্ট হয়? নিজের পায়ের সাথে কথা বলতে বলতে ঘরের ভেতর চলে যায় লোলি।
এবার লোলির পা উত্তর দেয়- আচ্ছা, চলো যাই। তাড়াতাড়ি করো। সন্ধ্যে ঘনিয়ে এলে কিচ্ছু দেখা যাবে না। আঁধার পথে পাথরে হোঁচট খেয়ে পড়বে। ব্যথা পাবে। তখন হাঁটতে বড্ড কষ্ট হবে গো।
লোলি আর লোলির মা পানি আনতে বের হয়। দুটো কলসি দু’জনার মাথায়। পুরনো একখণ্ড কাপড় গোল করে পেঁচিয়ে পাগড়ি করে মাথায় বসানো। তার ওপর কলসি বসিয়ে মরুর পথে হাঁটছে মা-মেয়ে। হেঁটে অনেক দূর যেতে হবে তাদের। ওই যে দূরে ছোট্ট পাহাড়টা দেখা যায়, ওটার গাঁ ঘেষে বয়ে চলছে ঝরনা। সেখান থেকেই পানি আনবে ওরা।
মায়ের পিছু পিছু লোলিতা হাঁটছে। হাঁটছে তো হাঁটছেই। মরুর পথ, সহজে কি আর ফুরায়? অবশ্য, এই পথচলা লোলির কাছে ভালো লাগে। ওর মনে হয়, যতই হাঁটছে ওরা, পথটা ততই দূরে সরে যাচ্ছে। হঠাৎ একটি পাথরে হোঁচট খায় লোলি।
হোঁচট খেয়েই সে বলে, উহ, পা আমার! তোমাকে নিয়ে আর পারিনে। কী ব্যথাটাই না পেলাম। এতো করে বলি, সাবধানে হাঁটো। এখন হোঁচট খেলে তো! ব্যথা কি তুমিও পাওনি? পাথরের আঘাতে তোমার আঙুল যে ফেটে গেল! উহ, এতো বে-খেয়ালি পা আমার! তোমার খুনে পাথর রাঙালে! এতটা পথ! এখন হাঁটবে কী করে, তুমি হ্যাঁ?
লোলির আহত পা উত্তর দেয়, একটুখানি জিরিয়ে নিলে হয় না লোলি? বড্ড ব্যথা পেয়েছি।
লোলি বলে, ও তাই বলো! তোমরা একটু জিরিয়ে নিতে চাও? বেশ, দেখি মাকে বলে। মা যদি রাজি হয়।
মা ততক্ষণে সামনে অনেকটা দূর এগিয়ে গেছে। মায়ের সাথে হেঁটে পারছিল না লোলি। তাই, বেশ খানিকটা পেছনে পড়েছে সে এবং হোঁচট খেয়ে আঙুল ফাটিয়েছে।
লোলি তার মাকে ডাকে- মা গো, শুনছো? আমরা তো হেঁটে হেঁটে অনেকটা পথ এলাম। এবার আমাদের পা দুটো একটু বিশ্রাম নিতে চায়। ওরা বলছে, আর পারিনে। আমার একটি পা পাথরে হোঁচট খেয়েছে। তার একটি আঙুল ফেটে গেছে। এবার একটু জিরিয়ে নিই মা। পায়েরও তো কষ্ট হয় হাঁটতে। ওরাও তো ব্যথা পায়, নাকি?
মা পেছন ফিরে তাকায়। বলে, আর একটুখানি পথ হেঁটে আসো লোলি। তোমার পা দুটোকে বলো, কষ্ট হলেও আর একটুখানি হাঁটো। এই খাঁ খাঁ রোদ্দুরে বিশ্রাম নেব কোথায়? ওই যে কাছেই একটি মরুগুল্ম গাছ। ওর পাশটায় একটু ছায়া আছে। সেখানে গিয়ে বিশ্রাম নিই?
মা আবার বলে- বেশিক্ষণ বিশ্রাম নেয়া যাবে না গো। বেলা পড়ে এলো। নেকড়ের উৎপাত শুরু হবে। মরু-নেকড়ে! একবার দেখতে পেলে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে আমাদের। তোমার পা দু’খানিও রক্ষা পাবে না নেকড়ের হাত থেকে।
লোলিরা ছোট্ট একটি গাছের নিচে গিয়ে বসে। গাছটিতে ঝাঁকড়া ডালপালা। পাতাগুলো ছোট ছোট কণ্টকাকীর্র্ণ। ঘন ডালপালায় সূর্যটা আড়ালে পড়ে আছে। তাই হালকা ছায়া পড়েছে তলায়। লোলি গাছটির নিচে গিয়ে বসে। তারপর ওপরের দিকে তাকায়। তাকিয়েই অবাক হয় সে। ওমা, দেখছো, দেখছো? একটি পাখির বাসা!
মা বলে- নীলকণ্ঠ! নীলকণ্ঠ পাখির বাসা ওটা। তাকাসনে, তাকাসনে। মানুষের নজর পড়লে নীলকণ্ঠের ডিম ফুটে বাচ্চা হয় না।
এমন সময় কোত্থেকে যেন মা পাখিটা উড়ে চলে আসে। পাখিটার কণ্ঠের পালকগুলো নীলাভ, ঝিকমিক করছে। কী অদ্ভুত সুন্দর পাখিটি! মাঝারি আকারের লম্বাটে গড়ন! বাসার কাছাকাছিতে এসে দেখে, দু’জন মানুষ! ওদের দেখে ভয় পায় পাখিটা। আবার উড়েও যায় না। ওর ভয়, মানুষ দুটো যদি তার বাসাটি ভেঙে দেয়। তাই, এ ডাল ও ডাল করছে নীলকণ্ঠ।
লোলি পাখিটিকে বলে- ভয় নেই গো নীলকণ্ঠী, ভয় নেই। আমরা বাসা ভেঙে দেবো না। এতো অস্থির কেন গো তুমি? বুঝতে পারছো না? আমরা কি দুষ্টু মানুষ? কিছুক্ষণ পর লোলি অবাক হয়ে বলে- তোমার ঠোঁট দু’টো কী টুকটুকে লাল গো? কী মেখেছো ঠোঁটে? লিপস্টিক? পায়ে আলতাও মেখেছো দেখছি! পা দুটো তোমার টুকটুকে লাল! বেশ সুন্দর লাগছে তোমায় নীলকণ্ঠী।
লোলির কথাগুলো পাখিটি কি বুঝতে পারছে? লোলির কথা শুনে সে একটু ভরসা পায়। মানুষের ভাষা কি বুঝে পাখিটি? না বুঝুক। তবে, পাখিটা এটুকু বুঝতে পারছে যে, এ মানুষ দুটো তাকে ক্ষতি করবে না। বাসাও ভেঙে দিবে না। ভালো প্রকৃতির মানুষ পাখির বাসা ভাঙে না।
টিউ টিউ করে পাখিটি লোলিকে বলে- ওই যে দূরে লাল সূর্যটা দেখছো, ওটার কাছ থেকে লালিমা এনে আমি ঠোঁট রাঙিয়েছি। আর পায়ের আলতা? এটি তো তোমার হোঁচট খাওয়া পায়ের খুন! পাথরে হোঁচট খেয়েছিলে না তুমি? তোমার আঙুলের খুনে পাথর রাঙিয়েছো। ওই রাঙা পাথর থেকেই আমি খুন মেখে নিয়েছি পায়। টিউ টিউ টিউ।
লোলিরা আবার হাঁটতে শুরু করে। দু’জনের মাথায় দুটো কলসি। পথ আর বেশি নেই। বয়ে চলা ঝরনার শব্দ কানে আসছে। সেখানে কাচের মতো স্বচ্ছ পানি। কলকল করে বয়ে চলছে। ঝরনা থেকে দুই কলসি পানি নিয়ে মা-মেয়ে বাড়ি ফিরবে। সন্ধ্যার আগেই ফিরতে হবে তাদের। না হলে নেকড়েরা পথ আগলে দাঁড়াবে। মরুভূমির নেকড়েরা বড্ড হিংস্র। এছাড়া, মরুর তপ্ত বালুরাশির ভেতরে লুকিয়ে থাকে ছোট ছোট বিষাক্ত সাপ। সাপগুলো দিনের বেলায় বালুর ভিতরে লুকিয়ে থাকে। রাতে বের হয়। রাজস্থানের মরু, রাতের বেলা ভয়ংকর রূপ নেয়।
হেঁটে হেঁটে লোলিতরা ঝরনার কাছে চলে আসে। লোলি ঝরনার পানির সাথে কথা কয়। ওগো ঝরনার পানি, তোমরা এতো মিষ্টি কেন? চিনি গুলিয়ে রেখেছ গায়? পানি লোলির কথা শুনে কলকল করে হেসে ওঠে।
ঝরনার পানিতে সাঁতরে বেড়াচ্ছে ছোট ছোট মাছ। কোনো কোনোটি এমন রঙিন! দেখলে মনে হয়, এই তো সবে মাত্র বিয়ে হয়েছে মাছটির। গায়ের আলতা এখনো মুছে যায়নি। লোলি বলে, এই যে রঙিন মাছ- শুনছো আমার কথা? কাছে এসো। দুই কলসি পানি দাও আমাদের। এতো মিষ্টি পানি এই ঝরনার!
রঙিন মাছগুলো পানিতে বুদ বুদ ছাড়ে। কথা কয় না। সাঁতরিয়ে এদিক সেদিক চলে যায়। উল্টো হয়ে ডিগবাজি খায়। কী যে আনন্দ ওদের! খুশি যেন ধরে না আর। মাছগুলো ঝরনার পানি তোলপাড় করে।
মাছেরা লোলিকে বলে- নাও, নাও। পানি নিয়ে চলে যাও। দুটো কলসি কেন? আরো কলসি নিয়ে আসো। আরো পানি নিয়ে যাও। আমরা কিন্তু তোমাদের কাছে যাবো না। তোমরা ধরে ফেলবে আমাদের। তারপর বাড়িতে নিয়ে বটিতে ফেলে কেটেকুটে রান্না করে খাবে। তোমাদের দেখে তাই বড্ড ভয়!
লোলি আর লোলির মা ঝরনার পানিতে নেমে গোসল করে। তারপর দুই কলসি পানি ভরে মাথার ওপরে তোলে। অতিরিক্ত এক টুকরো কাপড় প্যাঁচানো বিড়ার ওপর বসায় কলসিটি। এতে ভারী কলসি মাথায় ওপর সুন্দরভাবে বসে থাকে। পড়ে যায় না। গোসল শেষে পানির কলসি মাথায় নিয়ে আবার ওরা বাড়ির পথ ধরে। লোলির মা বলে- লোলি, এবার হোঁচট খেয়ে পড়ে যেও না যেন! তাহলে, পানিও যাবে, পানির কলসিও ভাঙবে।
লোলি বলে- না মা, আর হোঁচট খাবো না। পা দুটোকে বলে রেখেছি। সাবধানে হাঁটবে। মাকে শুনিয়ে শুনিয়ে লোলি আবার তার পা দুটোকে বলে- এই যে পা আমার। শুনেছো এবার? আর হোঁচট খাওয়া চলবে না। খেলেই সর্বনাশ! পানির কলসিটাও ভাঙবে।
লোলির পা বলে- হুঁ, পড়ে গেলেই দোষটা পড়ে আমাদের ওপর। বলি, কার দোষে হোঁচট খাই আমরা? তুমি আমাদের সাবধানে ফেলতে পারো না? তাহলে তো আর হোঁচট খাই না।
ওদিকে কলসির ভেতরের পানি কলকলিয়ে ওঠে। পানিও লোলির সাথে কথা কয়। পানি বলে- পড়ে যেও না লোলি। পড়ে যেও না। মরুর বালুতে একবার পড়ে গেলে আমাদের হায়াৎ শেষ। অতল বালুতে শুকিয়ে যাবো। আর খুঁজেই পাবে না আমাদের।
ওরা আবার ফিরতি পথে হেঁটে হেঁটে সেই মরুগুল্মের কাছে চলে আসে। লোলি বলে- মা, নীলকণ্ঠের বাসাটা একটু দেখে আসি? বাসায় পাখিটা এখনো আছে কি না?
মা বলে, সাবধানে যেও। পাখিটারে ভয় পাইয়ে দিয়ো না। অবুঝ পাখি ওরা। মানুষকে বড্ড ভয় পায়।
কলসিটা বালুর ওপর নামিয়ে রেখে লোলি এগিয়ে যায় গাছটির কাছে। দেখে পাখিটি বাসার ভেতরে বসে আছে। ডিমে তা দিচ্ছে। এবার লোলিকে দেখে নীলকণ্ঠ নিজেই কথা বলে। ফিরে এসেছ লোলি? আমার বড্ড পিয়াস পেয়েছে। একটুখানি পানি পিয়োবে আমায়?
লোলি বলে, বেশ, আমি নিয়ে আসছি। নামিয়ে রাখা কলসি থেকে লোলি দুই হাতের আঁজলায় পানি এনে নীলকণ্ঠীর কাছে আসে। পাখিটি ঠোঁট বাড়িয়ে দিয়ে পানি পান করে। সে এখন আর লোলিকে ভয় পায় না।
লোলির হাতের আঁজলা থেকে পানি খেয়ে পাখিটি বলে- তুমি বড্ড ভালো মেয়ে লোলি। তুমি স্বপ্ন দেখতে জানো। তুমি অনেক বড় হবে। যারা স্বপ্ন দেখে তারাই বড় হয়, অনেক বড় হয়। তোমাকে আমি একটি জিনিস দেবো। তোমার মতো মেয়ের জন্যই এটা আগলে রেখেছি এতকাল। তুমি একটুখানি বসো। আমি এই আসছি বলে। নীলকণ্ঠ পাখিটি বাসা থেকে উড়ে চলে যায়। কোথায় যায়, কেউ জানে না।
অল্প কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসে পাখিটি। ঠোঁটে তার ছোট্ট একটি নকশা কাটা ভারী সোনার কৌটা। কৌটাটি ঠোঁট দিয়ে লোলির দিকে বাড়িয়ে দেয় সে। বলে, এই নাও লোলি। এই সোনার কৌটাটি তোমার। তুমি আমাকে পানি খাইয়েছ। আমার সাথে কথা বলেছ। আমার বাসাটি ভেঙে দাওনি। তাই, সোনার কৌটাটি আমি তোমাকেই দিলাম। এর ভিতরে অনেক অলঙ্কার আছে। সব তোমার। তোমার মতো স্বপ্নিল একটি মেয়েকেই কৌটাটি দেবো। এটা ভেবে এতকাল আগলে রেখেছি কৌটাটি।
কথাগুলো বলে নীলকণ্ঠী ঠোঁটে টিউ টিউ টিউ শব্দ করে। গাছটির ডালে লেজ দুলিয়ে কিছুক্ষণ নাচে। তারপর উড়ে চলে যায়। যাবার সময় পাখিটি বলে, আবার এসো লোলি। আবার আমাদের দেখা হবে। আমি তোমার জন্য অপেক্ষায় থাকব। তখন তোমাকে কিন্তু এক রাজকুমারীর মতো লাগবে। গায়ে থাকবে সোনার অলঙ্কার। রাজকুমারীর হাতের আঁজলায় পানি খেয়ে সেদিনও আমি পিয়াস মিটাবো। ভালো থেকো লোলি। টিউ টিউ টিউ।
পাখির কথাগুলো এবার লোলির মা-ও বুঝতে পারে। মা বলে- বেশ তো লোলি। আমরা আবার এসে নীলকণ্ঠীকে পানি খাইয়ে যাবো। এমন সুন্দর পাখি!
প্রকাশকাল: ডিসেম্বর ২০২৪



