রঙ্গন ফুল শোভা বা সৌন্দর্য বর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে অতি জনপ্রিয়। রঙ্গন ঘন চিরসবুজ গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ যা তিন থেকে ছয় মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। রঙ্গনের মঞ্জুরি পত্র বিশিষ্ট। গাঢ় লালবর্ণের পুষ্প-মঞ্জুরিতে থাকে অসংখ্য পুষ্পের সমাবেশ। রঙ্গন গাছে সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতুতে বেশি ফুল ফোটে। তখন বাগান আলোকিত হয়ে যায় এই ফুলে। তবে সারাবছরই কম বেশি ফুল ফুটতে দেখা যায়। তবে বর্ষায় রঙ্গন ফুল সবচেয়ে বেশি ফোটে।
রঙ্গন ফুল দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং পর্যায়ক্রমে ফোটে। ঢাকায় প্রায় সবখানেই এই গাছ দেখা যায়। রমনা পার্কসহ সব পার্কেই আছে এই গাছ। আমি ঢাকা চট্টগ্রামসহ অনেক স্থানে সড়ক দ্বীপে ও রাস্তার মিডিয়ানে দেখেছি এই গাছ। বাসাবাড়ির বাগানে ও ছাদ বাগানে অনেকে লাগিয়ে থাকেন এই গাছ। শোভা বাড়ানোর জন্যই মূলত লাগানো হয় এই গাছ। ছোট্ট বন্ধুরা, এই গাছের পরিচিতি ও বিশেষ বিশেষ গুণ তোমাদের জানাবো। জানাবো এর বৈজ্ঞানিক নাম ও উদ্ভিদবিদ্যায় বর্ণিত পরিচয়। যা তোমাদের উচ্চ শিক্ষায় কাজে লাগবে।
বাগান জুড়ে যখন ফুটে থাকে এর শোভায় চার পাশ রঙিন হয়ে ওঠে। রঙ্গন গাছের পাতা ঘন বিন্যাসের হয়। পাতা সরল, উপবৃত্তাকার প্রায় ৪ ইঞ্চির মতো লম্বা হয়। কচি পাতা বাদামি রং আর পরিণত পাতা চকচকে, মসৃণ গাঢ় সবুজ রঙের। রঙ্গন খুব কষ্টসহিষ্ণু গাছ। তেমন কোনো যত্ন ছাড়াই বেড়ে উঠতে পারে।
ফুল নলাকৃতি, তারার মতো চারটি পাপড়ির বিন্যাস। রঙ্গনের একক ফুল নলাকৃতি, চারটি পাপড়ির বিন্যাস তারার মতো। রঙ্গনের এক-একটি থোকায় প্রায় ১৫ থেকে ৫০ টির মতো ফুল থাকে। কিছু কিছু থোকায় ফুলের সংখ্যা আরো বেশি হতে দেখা যায়। লাল রঙের থোকার মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ সোনালি বা ঘিয়ে রঙের একটা দুটা ফুল ফুটে থোকার সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেয়।
রঙ্গন গাছ খুব বড় হয় না, সাধারণত এরা ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়, তবে সর্বোচ্চ ১২ ফুটের মতো লম্বা হতে পারে। বাগানে বা লনে এদের প্রতিবছর ছেটে দিয়ে সুন্দর আকৃতিতে রাখা হয়। রঙ্গন কম বা ধীর বর্ধনশীল গাছ। এই গাছে কোনো কাঁটা নেই। রুদ্রাকৃতির সবুজ ফল থেকে গাছের চারা জন্মানো যায় কিংবা পরিণত গাছের ডাল নিচ থেকে কেটে মাটিতে রোপণ করে নিয়মিত পানি দিয়ে পরিচর্যা করলে ক’দিন পরই মূল গজায়। ফুল শেষে গাছে গোলগোল ফল হয়। ফল থেকে বীজ ও বীজ থেকে চারা করা সম্ভব। পরিপক্ক ডাল লাগালে বা কলম করেও চারা তৈরি করা যায়। নিজে নিজে এই গাছ জন্মে না। জোড় কলম করেও রঙ্গনের বংশবিস্তার করা যায়।
রঙ্গনের আদি নিবাস ক্রান্তীয় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া। শহর বা গ্রামে, বাগানে বা বাড়ির সামনে, এমনকি সড়কদ্বীপেও দেখা মেলে এই রূপসী রঙ্গনের। কতো রঙের বাহার এই রঙ্গনের। কমলা, কমলা লাল, গোলাপি, হলদে গোলাপি, লাল, হলুদ, সাদা ইত্যাদি রঙের রঙ্গন হরহামেশাই দেখা যায়। এর অন্যান্য নাম : রুক্সিনী, রক্তক, বন্ধুক, ঈশ্বর। ইংরেজি নাম – Burning Love, Jungle Flame, Jungle Geranium, Flame of the woods, West Indian Jasmine.
এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম ইক্সোরা কোসিনে (Ixora coccinea), বর্গ বা অর্ডার – জেন্টিয়ানালেস (Gentianales) , পরিবার বা ফ্যামিলি- রুবিয়াসি (Rubiaceae), গণ বা জেনাস- ইক্সোরা (Ixora), প্রজাতি বা স্পেসিজ- আই কোসিনে (I. coccinea), দ্বিপদী নাম বা বিনোমিয়াল নেম ইক্সোরা কোসিনে এল (Ixora coccinea L.). এই টার্ম বা শব্দগুলো মনে রাখার চেষ্টা করো।
রঙ্গনের কোনো ঘ্রাণ থাকে না, শুধু ব্যতিক্রম সাদা রঙ্গনের বেলায়। এই সাদা রঙ্গণকে সুরভী রঙ্গনও বলা হয়। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে সাদা রঙ্গনের ঘ্রাণ আছে। তোমরা তোমাদের বাড়ির আঙিনা, বাগানে বা বারান্দার টবেও রঙ্গন গাছ লাগাতে পার। গড়ে তুলতে পারো শখের বাগান।
প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০২৪



