ফরিদপুর জিলা স্কুল ফরিদপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ বিদ্যাপীঠের রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। ১৮৩৭ সালে লর্ড অকল্যান্ড ফরাসির পরিবর্তে ইংরেজিকে সরকারি ভাষা করে এদেশে ইংরেজি শিক্ষা প্রবর্তন করেন। এর তিন বছর পর ১৮৪০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এডগার এর লুথার ইংলিশ সেমিনারি স্কুল নামে ফরিদপুরে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৫১ সালে এটির জাতীয়করণ করা হয় এবং ব্রিটিশ সরকার স্কুলটির পরিচালনার খরচ ও দায়িত্ব গ্রহণ করে। এস ফ্রানকয়েস লেফেবরা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বহু গুণী ব্যক্তিত্ব বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ চার্লস উডের নিম্নগামী প্রস্রবণনীতির আলোকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ব্যতীত তৎকালীন ১৭টি জেলা শহরে জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মধ্যে ফরিদপুর জিলা স্কুল একটি।
অবকাঠামো : ফরিদপুর জিলা স্কুল ফরিদপুর শহরের মুজিব সড়কের পাশে ১১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়ে একটি তিনতলা প্রশাসনিক ভবনসহ মোট ৪টি পৃথক ভবন রয়েছে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোর মধ্যে আছে ১টি ছাত্রাবাস, ১টি ব্যায়ামাগার, ১টি মসজিদ, ৩টি খেলার মাঠ, ১টি বাস্কেটবল চত্বর ও ২টি পুকুর।
শিক্ষা কার্যক্রম : ১৯৯০ সাল থেকে ফরিদপুর জিলা স্কুলে প্রভাতি ও দিবা দুইটি শাখায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের মোট ছাত্র সংখ্যা ১৫০০ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ৫০ জন। এছাড়া অফিস সহকারী, এমএলএস ও নৈশ প্রহরী মিলে ১০ জন প্রশাসনিক কর্মচারী রয়েছে। বিদ্যালয়ে ছাত্রদের সুযোগ-সুবিধার মধ্যে আছে গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ও ল্যাবরেটরি। স্কুল গ্রন্থাগারে গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় দশ হাজার এবং কম্পিউটারের সংখ্যা ১০টি।
প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে ঘঈঞই কর্তৃক নির্ধারিত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের ওপর নির্ভর করে নতুন বছরের শিক্ষা সময়সূচি প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সারা বছরের জন্য সময়ের চাহিদা, পাঠের গুরুত্ব ও উপযোগিতা যাচাই করে শিক্ষাসূচি প্রণয়ন করা হয়। প্রণীত শিক্ষাসূচিগুলোকে সিলেবাস নামে পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করে ছাত্রদের হাতে তুলে দেয়া হয়। এই পুস্তিকায় পূর্ণ শিক্ষাবছরের ছুটির তালিকা (শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত), পরীক্ষাপদ্ধতি, পরীক্ষা অনুষ্ঠান ও ফলাফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ থাকে। নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস সম্পূর্ণ করার জন্য নির্ধারিত পাঠপরিকল্পনা অনুসারে শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শিক্ষার্থীদের পোশাক : স্কুলের নির্দিষ্ট পোশাক হলো আকাশি বা নীল শার্ট, নেভি ব্লু প্যান্ট ও সাদা জুতো। শার্ট ফুল হাতা গ্রহণযোগ্য। শার্টের পকেটের উপর স্কুলের লোগো থাকা এবং গলায় ঝুলানো ফিতাযুক্ত আইডি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া শীতকালে নীল রঙের সোয়েটারও ইউনিফরমের অন্তর্ভুক্ত।
সহশিক্ষা কার্যক্রম: জিলা স্কুলের সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে-বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ফরিদপুর জিলা স্কুল ডিবেটিং ক্লাব(ঋতঝউঈ), ফরিদপুর জিলা স্কুল ক্রিকেট দল, বাংলাদেশ স্কাউটস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট।
উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী: বেশ কিছু খ্যাতনামা ব্যক্তি এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। যে সব খ্যাতনামা ব্যক্তি এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম – পল্লীকবি জসীমউদ্দীন, বিশিষ্ট কবি আ.ন.ম বজলুর রশীদ, প্রাক্তন মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদ এল.কে সিদ্দিকী, প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামছুল হুদা, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দীন মুহাম্মদ, মাসিক ফুলকুঁড়ির নির্বাহী সম্পাদক নাঈম আল ইসলাম মাহিন প্রমুখ।
বিদ্যালয়ের সাধারণ তথ্য
স্কুলের নাম : ফরিদপুর জিলা স্কুল
প্রতিষ্ঠাকাল : ১৮৪০
ঠিকানা : ফরিদপুর
পোস্ট অফিস : ফরিদপুর সদর
পোস্ট কোড : ৭৮০০
উপজেলা : ফরিদপুর সদর
জেলা : ফরিদপুর
বিভাগ : ঢাকা
ফোন : ০১৭১৫৪৭৭২০৫
প্রধান শিক্ষকের নাম: প্রীতিলতা সরকার (ভারপ্রাপ্ত)
মোবাইল : ০১৭১৫৪৭৭২০৫
মোট ছাত্র : ১৫০০
বিদ্যালয়ের ধরন : বালক
বিদ্যালয়ের শিফট : প্রভাতি, দিবা
মোট জমির পরিমাণ (একর) : ১১
ভবন সংখ্যা : ৪
মোট শ্রেণিকক্ষ সংখ্যা : ৩৭
বিজ্ঞানাগার এর জন্য কক্ষ সংখ্যা : ৬
পাঠাগার এর জন্য কক্ষ সংখ্যা : ১
অডিটোরিয়াম আছে কি না : আছে
সীমানা প্রাচীর আছে কি না : হ্যাঁ।
মাসিক ফুলকুঁড়ির সাথে কথা হয় স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির প্রভাতি শাখার ছাত্র ফারহান মাহির-এর। আলোচনার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো-
মাসিক ফুলকুঁড়ি : তোমার বিদ্যালয় সম্পর্কে সংক্ষেপে বলো।
মাহির : ফরিদপুর জিলা স্কুল দক্ষিণবঙ্গের একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুল, এটি এমন একটি বিদ্যাপীঠ যা হতে শিক্ষা লাভ করে অনেক বরেণ্য ব্যক্তি বিশ্বের বুকে আলোকবর্তিকা হয়ে আলো বিলিয়ে যাচ্ছেন। কবি জসীমউদদীন-এর মতো বিখ্যাত কবি এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এটি দেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। আমি তাই গর্ব করি এ বিদ্যালয় নিয়ে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : বিদ্যালয়ের কোন বিষয়টি তোমার খুব ভালো লাগে এবং কেনো?
মাহির : বিদ্যালয়ের এক্সট্রা কারিকুলার- যেমন ডিবেটিং ও স্কাউটিং আমার ভালো লাগে, কারণ এ ইভেন্টগুলো আমাদের অধিকতর শাণিত করে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : বিদ্যালয়ের কোন বিষয়টি তোমার ভালো লাগে না?
মাহির : আলোর পাশেও কিছু অন্ধকার লুকিয়ে থাকে। দুষ্ট প্রকৃতির কিছু ছাত্র মাঝে মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যা আমাকে পীড়া দেয়।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়ে তোমার মন্তব্য কী?
মাহির : এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ যথেষ্ট বন্ধুসুলভ, মেধাবী, অনুপ্রেরণাদায়ী ও সুনাগরিক গড়ার কারিগর।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি আরো উন্নত করতে তোমার পরামর্শ কী?
মাহির : পাঠদান আরো সহজবোধ্য ও অংশগ্রহণমূলক হলে ভালো হয়।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : তোমার বিদ্যালয় নিয়ে তোমার মন্তব্য কী?
মাহির : ফরিদপুর জিলা স্কুল দক্ষিণ বঙ্গের অহংকার। মেধাবী ছাত্রদের ঊর্বর ভূমি। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মূহূর্তগুলোতে এ বিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রজ্জ্ব্লিত সূর্যের মতো এ বিদ্যালয় সর্বদা আলো বিকিরণ করে যাচ্ছে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : ধন্যবাদ তোমাকে।
মাহির : মাসিক ফুলকুঁড়িকেও ধন্যবাদ।
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৪



