অনেক শিশুই মুখে সুন্দর করে নিজের ভাবনাটি প্রকাশ করতে পারে, বলতে পারে, কিন্তু লিখতে বসলে আটকে যায়। কেউ কেউ খুব মেধাবী হলেও পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে। তাই ছোটবেলা থেকেই লেখার দক্ষতা গড়ে তোলা জরুরি। কারণ ছাত্রছাত্রীদের লেখা বিশেষ করে পরীক্ষায় খাতায় লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটা না হলে ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে পিছিয়ে পড়বে।
কেনো লিখতে সমস্যা হয়?
লেখার অসুবিধার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন-
১. হাতের পেশি দুর্বল হলে বা আঙুলের নিয়ন্ত্রণ কম থাকলে পেন্সিল ঠিকভাবে ধরতে কষ্ট হয়।
২. চোখ ও হাতের সমন্বয়ে সমস্যা থাকলে লেখা অগোছালো বা অস্পষ্ট হতে পারে।
৩. আরও কিছু জিনিস আছে যার কারণে এটা হতে পারে। Dysprayia ADHD, Dysgraphia থাকলে লেখা, বানান কিংবা চিন্তা গুছিয়ে প্রকাশ করা কঠিন হতে পারে।
এগুলো কঠিন শব্দ মনে হচ্ছে? ডিসপ্লাসিয়া হলো একটি মেডিকেল শব্দ যা টিস্যু বা অঙ্গগুলোর মধ্যে কোষগুলোর অস্বাভাবিক বিকাশকে বোঝায়।
৪. ADHD তে আক্রান্ত শিশুরা তাড়াহুড়া করে লিখতে গিয়ে অক্ষর, শব্দ বা বাক্য বাদ দিতে পারে বা উল্টো লিখে ফেলতে পারে। Attention Deficit Hyper Activity Disorder এর সংক্ষিপ্ত রূপ ADHD বা শিশুর অতি চঞ্চলতা ও অমনোযোগ। এটি শিশুর বিকাশজনিত একটি সমস্যা।
৫. অটিজমে আক্রান্ত কিছু শিশুর ক্ষেত্রেও গল্প লেখা বা ভাব প্রকাশ করা কঠিন হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এসব সমস্যা থাকলেই যে শিশুর বুদ্ধিমত্তা কম – এমন নয়। প্রয়োজন শুধু সঠিক অনুশীলন, উৎসাহ এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।
যদি আগে শিশুর লেখা স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করে অনেক খারাপ হয়ে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কখনো কখনো এর পেছনে স্নায়ুবিক সমস্যাও থাকতে পারে।
লেখার দক্ষতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার:
শুধু অনুশীলন নয়, সুষম খাদ্যও শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১. প্রোটিন : মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে সহায়তা করে। এটি মনোযোগ, শেখা এবং চিন্তাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, বাদাম ইত্যাদি।
২. কোলিন : স্মৃতিশক্তি, ভাষা বোঝা এবং শেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। কোলিন পাওয়া যায় ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, পনির, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ ও পিনাট বাটার এ। এ ছাড়া দই উপকারী জীবাণু বাড়াতে সাহায্য করে, যা মস্তিষ্কের সুস্থতায়ও ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড : ওমেগা-৩, বিশেষ করে ডিএইচএ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার ইলিশ, রুই, পাঙ্গাস, সামুদ্রিক মাছ ও চিংড়ি। যেসব শিশু মাছ খেতে চায় না, তাদের আখরোট, চিয়া বীজ, তিসি বীজ দেওয়া যেতে পারে। তবে এসব উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে শরীরে প্রয়োজনীয় ডিএইচএ কম পরিমাণে তৈরি হয়। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যেতে পারে।
অভিভাবকদের করণীয়:
প্রতিদিন শিশুকে ১৫-২০ মিনিট সুন্দর করে লেখার অনুশীলন করান। শিশুকে তাড়াহুড়া না করে ধীরে ও পরিষ্কারভাবে লিখতে উৎসাহ দিন। ভালো লেখা হলে প্রশংসা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম, খেলাধুলা ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করুন। দীর্ঘদিন লেখার সমস্যা থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী বা অকুপেশনাল থেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশুর শেখার গতি আলাদা। ধৈর্য, নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক পুষ্টি এবং পরিবারের উৎসাহই একটি শিশুর সুন্দর হাতের লেখা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।
আশা করি ফুলকুঁড়ি বন্ধুদের কারো মধ্যে এই সমস্যা থাকলে এখনি সচেতন হবে। লেখার অভ্যাস থাকলেই তো পরীক্ষার খাতায় ভালো লিখতে পারবে, ভালো নাম্বার ওঠাতে পারবে আর ক্লাসে প্লেস পাবে।
প্রকাশকাল: আগস্ট ২০২৬


