দিনাজপুর জিলা স্কুল

দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর প্রতিটি ছাত্রের স্বপ্ন, বহু ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক, উত্তরবঙ্গের একটি অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিনাজপুর জিলা স্কুল। দিনাজপুর শহরের সদর হাসপাতাল সংলগ্ন দিনাজপুর পৌরসভার সামনে অবস্থিত। ১৮৫৪ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত স্কুলটি সুনামের সাথে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে যতগুলা জিলা স্কুল আছে তার মধ্যে শুধুমাত্র দিনাজপুর জিলা স্কুলেই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মানচিত্র পাথরের সুচারুকার্যে তৈরি করা হয়েছে। এটি দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যালয়।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
দিনাজপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী স্কুলটির ইতিহাস এর ক্রমবর্ধমান অবকাঠামো ও পাঠদান পদ্ধতির সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুর জিলা স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। তার পূর্ববর্তী কালে খ্রিষ্টান মিশনারীদের পরিচালিত একটি প্রাইমারি স্কুল এবং আর একটি বেসরকারিভাবে পরিচালিত প্রাইমারি স্কুল ছিল। বিজয় চক্রবর্তী নামক এক তরুণ সমাজকর্মীর চেষ্টায় বেসরকারিভাবে পরিচালিত প্রাইমারি স্কুলটি ১৮৪৮ সালে স্থাপিত হয়। ১৮৫২ সালে স্কুলটি শহরের মধ্যস্থলে তুলে আনা হয়। ১৮৫৪ সালে সরকারের শিক্ষানীতি প্রবর্তনের ফলে প্রত্যেক জেলা শহরে একটি করে সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পণা গ্রহণ করা হয়। তারই ফলশ্রুতিতে সেই প্রাইমারি স্কুলটি জিলা স্কুলের মর্যাদা লাভ করে এবং তৃতীয় শ্রেণি থেকে ক্লাশ শুরু হয় পুরাতন ভবনটিতে। বর্তমানে এখানে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। পূর্বে স্কুলের ভবনটি রাজাদের কাচারী ছিল। ১৯৯২ সালে উত্ত ভবনটি ভেঙে নতুন দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে এটি ত্রিতল বিশিষ্ট ভবন এবং অন্যান্য আরও তিনটি তিনতলা ভবন রয়েছে। রয়েছে একটি অডিটোরিয়াম, শহিদ মিনার ও তিনটি প্রবেশ দরজা।

শিক্ষা কার্যক্রম:
সাধারণত স্কুলটি দুই শিফটে পাঠ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রতিটি শ্রেণিতে প্রতি শিফটে ২টি করে মোট ৪টি শাখা রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ ৪০টি ও মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮০০ জন। এখানে ছাত্রদের জন্য লাইব্রেরি আছে। এছাড়াও রয়েছে কমন রুম, যেখানে ইনডোর গেমস এর সুব্যবস্থা রয়েছে। নিজস্ব হোস্টেল এবং হোস্টেল সংলগ্ন বিশাল বড় খেলার মাঠ আছে। এছাড়াও এখানে অন্যান্য সহপাঠ কার্যক্রম রয়েছে, যেমন- স্কাউট, বিএনসিসি, ডিবেট, কালচারাল ক্লাব ইত্যাদি। সুবিশাল অডিটোরিয়াম রয়েছে যেখানে প্রায়ই দিনাজপুরের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ৬টি সুবিশাল ভবনঘেরা ২টি মাঠ এর স্বনামধন্য এই স্কুলটি দিনাজপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।

উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন ছাত্র:
বেশ কিছু খ্যাতনামা ব্যক্তি এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। আইনুন নিশাত (বাংলাদেশী ইমেরিটাস অধ্যাপক, পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ), আলহাজ্ব নিজামউদ্দিন আহমেদ (দক্ষ সংগঠক ও রাজনীতিবীদ। মাহমুদপুর ইউনিয়ন বোর্ডের নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রথম চেয়ারম্যান। তৎকালীন সময়ের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী), এ. টি. এম. আফজাল (আইনবিদ এবং ৮ম প্রধান বিচারপতি), মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম (শহীদ বুদ্ধিজীবী), মোহাম্মদ ফরহাদ (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য), রামপ্রাণ গুপ্ত (বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও লেখক), সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম (রাজনীতিবিদ এবং দিনাজপুর সদরের মেয়র) প্রমুখ এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

বিদ্যালয়ের সাধারণ তথ্য

বিদ্যালয়ের নাম : দিনাজপুর জিলা স্কুল
প্রধান শিক্ষকের নাম : আকতারা পারভীন
EIIN নং : ১২০৭১৯
পোস্ট অফিস : দিনাজপুর সদর
পোস্ট কোড : ৫২০০
উপজেলা : দিনাজপুর সদর
জেলা : দিনাজপুর
ওয়েবসাইট :www.dinajpurzillaschool.edu.bd
টেলিফোন : ০৫৩১-৬৫১৬৬
E-mail : dzs1854@gmail.com
শ্রেণিকক্ষ : ৪০টি
শিক্ষার্থী সংখ্যা : ১৮০০ জন
বিদ্যালয়ের ধরন: বালক
ভবন সংখ্যা : ৪টি
মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ সংখ্যা : ৪টি
আইসিটি ল্যাব : ২টি
বিজ্ঞানাগার কক্ষ : ৩টি
পাঠাগারের জন্য কক্ষ : ১টি
অডিটোরিয়াম আছে কি না : আছে
সীমানা প্রাচীর : আছে।

মাসিক ফুলকুঁড়ির সাথে কথা হয় স্কুলের নবম শ্রেণির খ শাখার ছাত্র সারোয়ার জাহান প্রিন্সের। আলোচনার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো-

মাসিক ফুলকুঁড়ি : তোমার বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি তোমার কেমন লাগে?
প্রিন্স : বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আমাদের ক্লাসের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতার শিক্ষা দেন ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে আমাদের উৎসাহী করেন।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : বিদ্যালয়ের কোন বিষয়টি তোমার খুব ভালো লাগে এবং কেনো?
প্রিন্স : বিদ্যালয়ে পড়ালেখার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা আছে। পড়াশোনার একঘেয়েমি থেকে বাঁচতে প্রতি বছর আমাদের স্কুলে ২টি করে বার্ষিক ভোজের আয়োজন হয়ে থাকে। এছাড়া স্কুলের টিফিনও আমাদের আত্মতৃপ্তির অন্যতম কারণ।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : বিদ্যালয়ের কোন বিষয়টি তোমার ভালো লাগে না?
প্রিন্স : বিদ্যালয়ে আমার সবথেকে খারাপ লাগে কিছু শিক্ষার্থীর আচরণ ও কর্মকাণ্ড। তারা স্কুলের কাচ ভাঙা, দেয়াল ও টেবিল নষ্ট করা, টয়লেটের ট্যাপ নষ্ট করা, ফ্যানের পাখা বাকিয়ে দেয়া ইত্যাদি কাজ করে থাকে। এসব কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হয়।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি আরো উন্নত করতে তোমার পরামর্শ কী?
প্রিন্স : বিদ্যালয়ে পাঠাগার বা লাইব্রেরি থাকা সত্ত্বেও আমাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় না। বিদ্যালয়ের আইসিটি ল্যাবের কিছু কম্পিউটার অচল, এসবের মেরামত প্রয়োজন।
মাসিক ফুলকুঁড়ি: ধন্যবাদ তোমাকে।
প্রিন্স : মাসিক ফুলকুঁড়িকেও ধন্যবাদ।

প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৪