
আল জিসাউর রহমান জিহাদ। বগুড়ার প্রত্যন্ত এক গ্রামের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট্ট এক কিশোর। ২০২৫ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত WMTC (World Mathematics Team Championship) এ অংশগ্রহণ করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। সম্প্রতি জিহাদের সাথে মাসিক ফুলকুঁড়ির কথা হয়। আলোচনার চুম্বকাংশ মাসিক ফুলকুঁড়ির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো –
মাসিক ফুলকুঁড়ি : কেমন আছো?
জিহাদ : আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : WMTC তে ব্রোঞ্জ জয় করায় তোমাকে অভিনন্দন।
জিহাদ : ধন্যবাদ।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : একটা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিশ্বমঞ্চে যাওয়ার এ যাত্রাটা নিশ্চয়ই সহজ ছিল না তোমার জন্য। তোমার গল্পের শুরুটা কোথা থেকে?
জিহাদ : আমাদের স্কুলে গরীব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করানো হয়। CZM (Center for Zakat Management) যাকাতের টাকায় পড়াশোনার খরচ বহন করে। স্কুল থেকে জানানো হয়েছিলো ‘বাংলার ম্যাথ’ WMTC তে অংশগ্রহণ এর মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এরপর আমরা স্কুলের মাধ্যমে অনলাইন সিলেকশনে অংশগ্রহণ করি। তারপর ঢাকায় ন্যাশনাল রাউন্ড হয়। এরপর টেস্ট নেওয়া হয়। আমি ১২তম হই। জুনিয়র গ্রুপ থেকে মোট ১৫ জন সিলেক্ট করা হয়। আমাদের ১৫ জনকে প্রায় দেড় মাস ঢাকায় সরাসরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আমাদের আসা যাওয়াসহ যাবতীয় কাজে ‘বাংলার ম্যাথ’ গাইড এর ভূমিকা পালন করে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : ব্রোঞ্জ জয় করার পর তোমার অনুভূতি কী ছিল ?
জিহাদ : WMTC তে অংশগ্রহণ এর পর প্রথমে বোর্ড এ নাম আসে এবং পরে মঞ্চে ঘোষণা হয়। বোর্ডে নাম দেখে আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে যাই।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : গণিতের প্রতি তোমার ভালোলাগার শুরুটা ঠিক কোথা থেকে?
জিহাদ : গণিতের প্রতি ভালোলাগা শুরু হয় ৪র্থ শ্রেণি থেকে। একবার একটা টার্ম পরীক্ষায় গণিতে ৩০ জনের সবাই ফেল করে। আমি একা পাশ করি। মূলত তখন থেকেই ভালোলাগাটা শুরু, আমার মনে হয়েছে আমি গণিত পারবো, এরপর থেকে আস্তে আস্তে চর্চা করি। এরপর মানিকগঞ্জে একটা কম্পিটিশনে আমাকে নিয়ে যায়, সেখানে উইনার হয়েছিলাম। তখন থেকেই একধরনের আসক্তি তৈরি হয়েছে গণিতের প্রতি।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : সাধারণভাবে অনেক শিশুকিশোরের কাছেই গণিতটা একটা ভয়ের বস্তু। গণিতের ভয় কাটানোর জন্য তাদের তুমি কী পরামর্শ দিবে?
জিহাদ : আমাদের দেশে যেটা হয়, একজন শিক্ষার্থী তার বইয়ে যদি দশটা অধ্যায় থাকে তাহলে সে ছয়টি অধ্যায় ভালোভাবে পড়ে, যার ফলে সহজেই এ প্লাস পেয়ে যায়। কিন্তু দক্ষ হওয়ার জন্য, আরো ভালো করার জন্য তাকে সকল অধ্যায় ভালোভাবে রপ্ত করা উচিত।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : মাসিক ফুলকুঁড়ি শিশুদের গণিতভীতি, আরও বড় করে বললে পড়াশোনাভীতি কাটাতে চায়। এক্ষেত্রে মাসিক ফুলকুঁড়ির প্রতি তোমার পরামর্শ কী থাকবে?
জিহাদ : মাসিক ফুলকুঁড়ি নিয়মিত কুইজ, মজার গণিতসহ ধাঁধাঁর মাধ্যমে আমাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে সহযোগিতা করে। যখন কুইজ, ধাঁধাঁ সল্ভ করতে পারি তখন আরো বেশি আকর্ষণ তৈরি হয় যেটা খুবই কাজে দেয়। তাই মাসিক ফুলকুঁড়ি যদি প্রব্লেম-সল্ভিং ঘরানার কন্টেন্ট বেশি বেশি প্রকাশ করে, তবে তা একইসাথে শিশুদের গণিতভীতি ও পড়াশোনাভীতি কাটাতে সাহায্য করবে বলে মনে করি।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : ভবিষ্যতে তুমি কী হতে চাও?
জিহাদ : ভবিষ্যতে আমি একজন বিজ্ঞানী হতে চাই।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : এবারের ঈদ ঘিরে তোমার পরিকল্পনা কী?
জিহাদ : তেমন বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ছুটির মধ্যে হয়তো কোডিং করবো সময় পেলে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : অনেক ধন্যবাদ তোমাকে, ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা।
জিহাদ : মাসিক ফুলকুঁড়িকেও ধন্যবাদ এবং সকল ফুলকুঁড়িকে ঈদের শুভেচ্ছা।

