স্বাধীনতার কথা

কোহিনুর হক

0
22

দেখতে দেখতে ৫৫টি বছর পার হয়ে গেছে। ২৬ মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। আমরা স্বাধীনতা অর্জনের ৫৫ বছরেও বলতে গেলে সুফল পাইনি। নানা চড়াই উৎরাই পার হয়েছে। যে সব মহান লক্ষ্য নিয়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল তা গিয়েছিল হারিয়ে। হয়েছিল এক দলের শাসন। ১৯৭৫ সালের আগস্টে তা থেকে আমরা মুক্তি পাই। কিন্তু কয়েক বছর চলার পর সেই পথ আবার রুদ্ধ হয়। আসে স্বৈরশাসন। ৯ বছরের আন্দোলন সংগ্রামে দেশে আবার গণতন্ত্র আসে। আবার শুরু হয় সুন্দর পথ চলা। কিন্তু এক সময়ে স্বৈরাচারেরা সেই স্বাধীনতা কেড়ে নেয়। এর পর দীর্ঘ দিন তা অব্যাহত থাকে। তবে ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসন ও বৈষম্য বিরোধী লড়াই শেষে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বলতে গেলে এ দেশের মানুষ নতুন করে স্বাধীনতার স্বাদ নিতে পারছে।

এই পরিবর্তনের ফলে গণতন্ত্র পুর্নহাল হয়েছে। সব দল সমানভাবে লড়াই করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে একটি সরকার গঠিত হয়েছে। এই বিপ্লবে তোমাদের মতো অনেক তরুণ তাজা প্রাণ রক্ত দিয়েছে রাজপথে । হয়েছে শহীদ। তাদের কথা স্মরণে রেখে এ বছরের স্বাধীনতা দিবসটি উদযাপন করতে হবে। এটা আমাদের স্বাধীনতাকে নতুন তাৎপর্য এনে দিয়েছে।

২.
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, জাতির সবচেয়ে গৌরবের দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। দিনটি কী করে এল? দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের মাঝে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে স্বাধীনতার ডাক দেয়া হয়, ঘোষণা করা হয় স্বাধীনতা। এরপর ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এতে লাখ লাখ লোক চরম আত্মত্যাগ করেন, শহীদ হন। আজ সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের এই দিনে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর, পরে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

এরপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা, ধ্বংস ও পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে ৯ মাসের মরণপণ লড়াইয়ে লাখো শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলার আকাশে ওড়ে বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা। মরণপণ লড়াই ও এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় এই বিজয়। স্বাধীনতা তাই বাংলাদেশিদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। গোটা জাতি আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের।
প্রতি বছরের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এ বছরও হচ্ছে। তবে এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরই নতুন একটি আমেজে স্বাধীনতা দিবস এসেছে। প্রত্যুষে ঢাকাসহ সারা দেশে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। এদিন সরকারি ছুটি। মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। দেশের সব হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।
আগেই বলেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম আমাদের স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণে আবারও বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী, সুন্দর ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।

গত ১৬ বছর দেশের মানুষ এই স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারেনি, স্বৈরাচারী শাসক জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের ঘাড়ে চেপে বসে তাদের স্বাধীনতা ও মৌলিক সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষকে স্বৈরাচারীর রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করেছে।

৩.
স্বাধীনতার সুফল পেতে সবার দায়িত্ব রয়েছে। শিশু কিশোররা, ফুলকুঁড়িরা লেখাপড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের মধ্য দিয়ে নিজেকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুললেই স্বাধীনতা অর্থবহ হবে। কারণ আজকে যারা ছোট, তাদেরকেই আগামীতে বড় হয়ে দেশের দায়িত্বভার নিতে হবে। সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। সেটাই হবে দিবসটির সত্যিকার প্রেরণা।

Author