গতবছর ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটায় দেশ ও দশের অন্যতম অভিভাবক সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ইহকাল ত্যাগ করে পরকালের পথে (নতুন সফরে) রওয়ানা দিয়েছেন।
বয়স্ক মানুষ ছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁকে আমরা বয়স্ক তরুণ বলে সম্বোধন করতাম। হাসতেন। এ বিষয়ে তাঁর দারুণ সম্মতি ছিল। সবাই জানেন মাত্র কয়েকটি দিন ছাড়া জীবনের পুরোটা সময় দৌড়ঝাঁপ করে অতিবাহিত করেছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি ছিলেন একক লিজেন্ড। যেখানেই তিনি যেতেন, আবাল বৃদ্ধ-বণিতা এই টপিক নিয়েই কথা বলতো। ভাবতো একজন বয়স্ক মানুষ এত দৌড়াদৌড়ি করে কীভাবে? কখন ঘুমায়? অনেকেই দুষ্টুমি করে বলতেন- আসলে তিনি মনুষ্য জাতির কেউ নন; তিনি হয়তো জিন জাতির কেউ।
ধর্ম-বর্ণ, মতবাদ, আদর্শ নির্বিশেষ সবার ডাকে তিনি সাড়া দিতেন। সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। সভা শেষে তিনি প্রধান অতিথি অথবা প্রধান মেহমানের ভাষণ দিতেন। সেই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি মহান আল্লাহর উদ্ভাসন, তাঁর সৃষ্টি, সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য, মহান আল্লাহর মহান কিতাবগুলোর বর্ণনা, ক্রমাগতভাবে নবী ও রসুলদের আগমন সম্পর্কিত কাহিনি, সৃষ্টির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, মানুষের সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে শুধু ধর্মীয়ভাবে আলোচনা করতেন না, বরং কোন কোন ধর্ম বিষয়গুলির ব্যাপারে কী কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেগুলো বলার পর তিনি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতেন। তাঁর ব্যাখ্যা শুনে সবাই অবাক হয়ে ভাবতো, তিনি কি আলেম না বৈজ্ঞানিক? ইতিহাসবিদ না আইনজ্ঞ? না রাজনীতিবিদ- আসলে তিনি কী?
সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল বিজ্ঞান নিয়ে, দর্শন নিয়ে বা বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিকদের নিয়ে তিনি যে সমস্ত কথা বলতেন, এ ধরনের কথা বলার মতো বিজ্ঞ ব্যক্তি আর মাত্র কয়েকজন ছিলেন।
বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ এর সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। মাত্র তখন গণঅভ্যুত্থান শেষ। থমথমে ভাব। আমরা তখন ‘মুক্তবুদ্ধি সাহিত্য সংঘ’ নামে আমাদের গড়া একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করছি। এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অফিস ছিল না। আমরা যখন যেখানে অবস্থান করি সেটাই ছিল আমাদের অফিস। আমরা দুই বন্ধু, আমি ও সানাউল্লাহ আখুনজী আবদুর রউফ স্যারের বাসার পাশে বাসা নেওয়ার পূর্বে অন্য দুইটি জায়গায় থাকতাম। প্রথমটি হলো, তোপখানা রোডের ‘ন্যাশনাল রেস্ট হাউস’। চারতলা এই খোলামেলা ভবনটির নাম পরবর্তীতে হয় ‘হোটেল সম্রাট’।
অফিসের প্রয়োজন তীব্রতর হওয়ায় ১৯৭০ সালে আমরা একটু দূরে চলে যাই- স্বামীবাগে। বাড়িটি ছিল স্বামীবাগের পীর সাহেবদের। প্রাচীন হলেও সবকিছু মিলে বিশাল সুন্দর ঐতিহ্যিক বাড়ি। আমাদের পূর্বে ওই বাসাটায় বসবাস করতেন অবজারভার পত্রিকার সম্পাদক মরহুম আব্দুস সালাম। মুক্তিযুদ্ধের সময়, এখন যেখানে সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড, সেই বিশাল খালি জায়গায় রাতের বেলায় যুদ্ধ হতো। কে-বা, কারা এখানে যুদ্ধ করত বোঝার উপায় ছিল না। মাঝে মাঝে রাইফেলসহ নানা ভারী আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি আমাদের বাড়ির দেয়ালে এসে লাগতো।
জীবন বাঁচানোর তাগিদে আমাদের সংস্কৃতিজন বন্ধু এম. এ. হান্নানের বাড়ি, ৩৯/৩ রেংকিন স্ট্রিটে গিয়ে উঠি। যেখানে ৬৯ সাল থেকে আমরা সাহিত্যের আড্ডা জমিয়ে আসছি। নিচতলায় আমরা ছোট দু’টো রুম পাই। সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই প্রকাণ্ড বারান্দাসহ যে বাসাটি ছিল, সেখানেই থাকতেন মরহুম মোহাম্মদ আবদুর রউফ। আমরা হলাম তাঁর ক্লোজ ডোর নেইবার।
আমাদের বাসা মানে, ওটাই অফিস, ওটাই বাসা। তখন তিনি বিচারপতি ছিলেন না। ছিলেন তরুণসমুজ্জ্বল অ্যাডভোকেট। সকালে বেরিয়ে যেতেন, বেশ রাতে ফিরতেন। বাসায় তাঁর চেম্বার ছিল না। যাওয়া আসার পথে তাঁর সাথে মাঝে মাঝে দেখা হতো। আমরা সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের সাথে জড়িত ছিলাম বলে আমাদেরকে খুব ভালোবাসতেন।
স্যারের সঙ্গে দেখা হতো মাঝে মাঝে। যখন তাঁর টুপি-রুমাল-মোজা বন্ধুবর বানরগুলো নিয়ে এসে আমাদের সঙ্গে আড্ডা দিত। আমাদের সাথে বেশ জমে ওঠেছিল এক ঝাঁক ছোট-বড় বানরের। বেশ প্রাচীন কাঁঠাল গাছটায় ওদের বড় বাসা ছিল। বাড়ির মমতাময়ী খালাম্মা ওদের খাবার দিতেন। আমরা মাঝে মাঝে পাউরুটি দিয়ে খাতির রাখতাম। স্যার বাসা থেকে মাঝে মাঝে হাসতে হাসতে বলতেন- বানরের সাথে আপনাদের তো অনেক খাতির, দেখেন তো অনুরোধ করে, আমার টুপিটা দেয় কি না। তাকিয়ে দেখতাম কাঁঠাল গাছের শেষ মাথায় টুপি-রুমাল-মোজা নিয়ে ওরা বেশ খেলাধুলা করছে। আনন্দে মাতামাতি করছে। আমরা পাউরুটিসহ কিছু খাবার-দাবার দিয়ে ওদেরকে বশে আনতাম।
রেংকিন স্ট্রিটের পেছনে ছিলো বনগ্রাম। সেখানে মোহাযেররা বসবাস করতো। মুক্তিযুদ্ধকালে বাঙালিদের সাথে তাদের টুকটাক ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। এই ঝগড়াঝাটি ছিল রাজনৈতিক। যখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মোহাযেররা গোপনে গোপনে পাকিস্তানী সৈন্যদের সহযোগিতা করছে, তখনই এপাড়ায় ছোটখাটো হামলা ও মারামারি শুরু হয়ে গেল। সে অবস্থায়, নিরাপত্তার খাতিরে অনেকের সাথে আমরাও রেংকিন স্ট্রিট থেকে বেরিয়ে যে যার মতো চলে গেলাম। এখানেই স্যারের সঙ্গে আমাদের বিচ্ছিন্নতা ঘটে গেল। মুক্তিযুদ্ধের পর অনেকদিন স্যারের সাথে দেখা হয়নি। সত্য কথা বলতে- স্যারকে আমরা সেভাবে খুঁজিওনি। হঠাৎ একদিন এম. এ. হান্নান ভাই বললেন, বড়ভাই এডভোকেট গাফফার ভাইয়ের (মজাদার মানুষ ছিলেন) চেম্বারে আবদুর রউফ স্যারের সাথে দেখা হয়েছে। আমাদের সবার কথা তিনি জিজ্ঞেস করেছেন। হান্নান ভাই আরো বললেন, স্বদেশ সংস্কৃতি সংসদের পরবর্তী প্রোগ্রামে তিনি মেহমান হিসেবে আসবেন। সেই তাঁর সাথে শুরু হলো পুনঃযোগাযোগ। এই সময়টায় তিনি নিজস্ব আইন পেশায় দারুণভাবে মগ্ন, সংযুক্ত ও থিতু হয়েছেন। তবুও আমাদের আহবানে মাঝে মাঝে তিনি সাড়া দিতেন। সময় নিয়ে ধীরে-সুস্থে, গুছিয়ে-গাছিয়ে খুব সুন্দরভাবে কথা বলতেন। এই কথা বলতে বলতেই আমরা অবাক হয়ে লক্ষ করলাম, তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যাচ্ছে। গন্তব্য ঘুরে যাচ্ছে এবং লক্ষ্যও ঘুরে যাচ্ছে। সুফিজম থেকে শুরু করে, তাঁর সত্যের অন্বেষা দ্রুততার সাথে বেগ পেতে থাকলো। সত্যের অন্বেষা ও পেশায় তিনি দারুণভাবে স্থিত হয়ে গেলেন। আইন পেশায় যে মগ্নতা তিনি স্থাপন করেছিলেন, তা তাঁকে সমাজের উঁচুতলায় স্থান করে দিয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ।
বিচারপতি হওয়ার পর তাঁর মধ্যে আমরা তেমন কোনো পরিবর্তন দেখিনি। বরাবরের মতোই ছিলেন। মরহুম আবদুর রউফের আশেপাশে অর্থাৎ তাঁর আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে শ্বশুর ছিলেন প্রধান বিচারপতি এবং ভায়রাভাইসহ বেশ কয়েকজন ছিলেন প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতি। সুতরাং তাঁদের সামগ্রিক আবহাওয়াটা ছিল সাধারণের চেয়ে অনেকটা ভিন্ন ধরনের।
আমাদের ছোটকালে দেখেছি, বিচারপতি দূরে থাক, জজ ম্যাজিস্ট্রেটরাই এক ধরনের অসামাজিক, পরাধীন বা বন্দি জীবনযাপন করতেন। আমাদের পাশের বাসায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকতেন। ওই পরিবারটি সমাজ-বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করতো। ভদ্রলোক আব্বাজানের বন্ধু ছিলেন। কিন্তু তাঁদের যোগাযোগ হতো কোর্টে। আমরা নেক্সট ডোর নেইবার ছিলাম। কিন্তু দুই পরিবারের মধ্যে কোনো যাওয়া-আসা ছিল না। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের বড় ছেলে ছিলো আমার নিকটতম বন্ধু। আমরা একই কলেজে পড়তাম। কিন্তু আমাদের একসাথে যাওয়া-আসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। কলেজে এবং পাড়ার মসজিদে আমাদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো।
আমাদের স্যার তেমনটি ছিলেন না। ওকালতি করার সময় যে স্বাধীন জীবন তিনি উপভোগ করেছিলেন অর্থাৎ যে জীবনাচরণে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন, সেটার ওপরেই তিনি থিতু ছিলেন। প্রচুর সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করতেন। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাসায় তিনি বেড়াতে যেতেন। মানুষের সুখ-দুঃখের সাথি হতেন। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমানভাবে দেখতেন। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করতেন না।
বিচারপতি থাকাকালেই সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হয়েছিলেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন, একটা সুষ্ঠু, সুন্দর, ন্যায়ানুগ ও সুবিচারপূর্ণ নির্বাচনের। নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক চিন্তা-ভাবনা ও জ্ঞান গবেষণা করে অগ্রসর হচ্ছিলেন। বড় দুই রাজনৈতিক দলের অন্যায় হস্তক্ষেপের ফলে তাঁর সে স্বপ্ন ভণ্ডুল হয়ে যায়। এর ফলশ্রুতিতে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে অব্যাহতি নেন।
অবসর গ্রহণের পরে আজ থেকে প্রায় ২১/২২ বছর আগে তিনি জাতীয় শিশুকিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সম্পাদক সানাউল্লাহ নূরীর ইন্তেকালের পর ফুলকুঁড়ি আসর এমন একজন সভাপতিকে আন্তরিকভাবেই খুঁজছিলো। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য ছিলো বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফের। যিনি ছিলেন তখন জাতীয় পর্যায়ের একজন অন্যতম অভিভাবক। সেই থেকে ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি ফুলকুঁড়ি আসরের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি হিসেবে বয়স্ক যুবকের মতোই কাজ করেছেন। তিনি ফুলকুঁড়ি আসরের শিশুকিশোরদের ভাইয়া বলতেন। তারাও তাঁকে ভাইয়া বলে ডাকতেন। এই দৃশ্য দেখলে কী-যে ভালো লাগতো। আসলে তিনি ছিলেন ফুলকুঁড়িদের দাদা ও নানার মতো। উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের কেউ ফুলকুঁড়ির কোনো ত্রুটি তুলে ধরলে তিনি দারুণভাবে বিব্রতবোধ করতেন। তখন তিনি আপন দাদা ও নানার মতো তাদের পক্ষ নিয়ে সুন্দর সুন্দর কথা বলতেন। বলতেন, “আপনারা উপদেষ্টা হিসেবে যারা এখানে আছেন, তারা সবাই বয়স্ক। অর্থাৎ আপনারা বাবা, চাচা, মামা, ফুফা ও খালুর মতো। আপনারা শুধু শাসন করেন। এটা হলো না কেন? ওটা করলে না কেন? কিন্তু আমি তো আপনাদের সেই স্টেজ পার করে এসেছি। সবাই আপনারা এমপ্লয়ার, আপনাদের অধীনে অনেকে চাকরি করে। সেজন্য আপনারা মানুষের দোষ-ত্রুটি দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আমি তো এখন আর আগের মতো এমপ্লয়ার নই। আবার এমপ্লয়িও নই। তাই আমার সাথে আমার ভাইয়াদের খুব মিল আছে। তারাও আমার মতো। এমপ্লয়ার নয় আবার এমপ্লয়িও নয়। তারা চাকরি করে না এবং চাকুরেও নয়। আপনারা একটু আলাদা। আসুন, আমরা ওদের দোষ-ত্রুটি না ধরি। ওরা এখানে স্বেচ্ছাসেবক। ওরা সবাই ভালো ছাত্র। ওদের অনেক পড়াশুনা করতে হয়। লাইব্রেরি ওয়ার্ক করতে হয়। খেলাধুলা করতে হয়। ব্যায়াম করতে হয়। মাঝে মাঝে পরীক্ষা দিতে হয়। এর ভেতরেও আসরের অনেক কঠিন-কঠিন কাজের সাথে তারা জড়িত। কোথায় ওদের সময়। ওদের পিতামাতা ও অভিভাবকগণ চান উচ্চশিক্ষা শেষ করেই ওরা ভালো চাকুরিতে ঢুকে পড়বে। বাবা-মাসহ ছোট ভাই-বোনদের জীবন ও জগত নির্বাহ করবে। কত তাদের স্বপ্ন, কত তাদের আশা। এর ভেতর দিয়ে জাতি গড়ার জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছে। ভুল তো হবেই। ক্ষমা করে দিতে হবে। সতর্ক করতে হবে। সাবধানতার বাণী উচ্চারণ করতে হবে। তবেই ওদেরকে নিয়েই আমরা সত্য, সুবিচার ও মানবতার পৃথিবী গড়তে পারবো।”
ফুলকুঁড়ি আসরকে তিনি নিজের নাতি-নাতনিদের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। তাদেরকে তিনি জীবনে যত সময় দিয়েছেন, তার চেয়ে ঢের বেশি সময় দিয়েছেন ফুলকুঁড়ি আসরকে। আর্থিক ও নৈতিক দিক থেকে তিনি ফুলকুঁড়ি আসরকে সাজিয়েছেন। রূপান্তর করেছেন জাগতিকভাবেও। এখন তো দেশে ফুলকুঁড়ি আসর ছাড়া আর কোনো উন্নত শিশুকিশোর সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। ফুলকুঁড়ি আসর দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে, প্রাণবন্ত হচ্ছে, সজীব হচ্ছে- এর বড় কারিগর ছিলেন বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ। আমাদের বিশ্বাস ও আস্থা, ‘যতদিন ফুলকুঁড়ি আসর ও এদেশের নৈতিক মানুষ বেঁচে থাকবে, ততদিন তিনিও ইনশাআল্লাহ বেঁচে থাকবেন এদেশের আপামর নৈতিক জনতার কাছে।



