খুলনা জিলা স্কুল

সুন্দরবনের মানসকন্যা, ভৈরব রুপসা বিধৌত, বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম বন্দরনগরী খুলনার প্রান্ত ছুঁয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে শতাব্দীর ঐতিহাসিক সাক্ষী খুলনা জিলা স্কুল। এটি খুলনা জেলার অন্যতম পুরাতন বিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যালয়গুলির একটি। বিদ্যালয়টি ১৮৮৫ সালে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত হয়। এই বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাদান করা হয়। খুলনা জিলা স্কুল-এর মাঠটি খুলনা শহরের মধ্যে অন্যতম বড় মাঠ হিসেবে পরিচিত। বিদ্যালয়ের সকল সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নিজ বিদ্যায়তনের মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
খুলনা জিলা স্কুলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অস্পষ্ট। কারও মতে ১৮৫৬ সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই হিসেবে এটি খুলনা শহরে প্রতিষ্ঠিত প্রথম স্কুল। আবার কারও মতে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৩ সালে। এ হিসেবে খুলনা জিলা স্কুল শহরের প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় স্কুল এবং প্রথমটি হচ্ছে খুলনার দৌলতপুরস্থ মুহসিন হাইস্কুল (১৮৬৭)। প্রতিষ্ঠাকালে এর নাম ছিল খুলনা হাইস্কুল। বাবু সাতুরাম মজুমদার তাঁর নিজ অর্থায়নে স্কুলের প্রথম পাকা ভবন তৈরি করেন। সেই সময়ের খ্যাতিমান শিক্ষক সারদা চরণ মিত্র ছিলেন প্রধান শিক্ষক।
১৮৮৫ সালের হান্টার কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৮৮৩ সালের এপ্রিল মাসে ইংরেজ সরকার এ বিদ্যাপীঠের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ভার গ্রহণ করেন। তখন প্রতিষ্ঠিত একটি লাল ভবনে ‘খুলনা জিলা স্কুল’ নামে এর নতুন পরিচয় হয়। মূল কাঠামোকে অক্ষুণ্ন রেখে ভবনটিকে ১৯৯৫ সালে সংস্কার করা হয়। ১৯৬৩ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান সরকার টেকনিক্যাল শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের মাঠের উত্তর পার্শ্বে তিনতলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করে। এটি বর্তমানে প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশাসনিক কার্যক্রম:
বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন। বিদ্যালয়ে দুই শিফটে ছাত্রদের শিক্ষা দেওয়া হয়। দুই শিফটে অধ্যয়নরত মোট ছাত্রসংখ্যা ২০১৮ জন। প্রভাতী শাখা চলে সকাল ৭:১৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং দিবা শাখা চলে দুপুর ১২:১৫টা থেকে বিকাল ৫:১৫টা পর্যন্ত।
বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বেশ পুরানো, গ্রন্থসংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। এখানে অনেক দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থও রয়েছে। পড়াশুনার সাথে সাথে খেলাধুলা এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সঙ্গীতে পারদর্শিতার ছাপ রেখে চলেছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে কৃষি বিভাগ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান চর্চা, বিএনসিসি কার্যক্রম, স্কাউটস ও রেডক্রিসেন্ট কার্যক্রম।

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের জন্য ৬টি ভবন, ২টি একতলা ছাত্র হোস্টেল, একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি শিক্ষক মিলনায়তন, ৪টি ল্যাবরেটরি, ২টি লাইব্রেরি, একটি খেলার মাঠ, একটি মসজিদ, একটি অডিটোরিয়াম ও একটি শহীদ মিনার রয়েছে।

কৃতিত্বের স্বাক্ষর:
এই বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে পর পর ছয় বার প্রথম স্থান অধিকার করে। ৫ম শ্রেণির বৃত্তি ও সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে মেধাতালিকার শীর্ষে অবস্থান করেছে। ২০১০ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকার শীর্ষ দশ জনের মধ্যে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারী তিনজনই এই বিদ্যালয়ের ছাত্র।

কৃতি শিক্ষার্থী:
কবি ফররুখ আহমদ, উপন্যাসিক ইমদাদুল হক, সাবেক পাকিস্তান সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী খান-এ-সবুর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কৃষি উপদেষ্টা জনাব এস. এ. করিম, বিচারপতি মকসুম উল হাকিম, কথাশিল্পী আনিস-সিদ্দিকী, প্রখ্যাত অভিনেতা সালমান শাহ ও নাদিম, মহান মুক্তিযুদ্ধের ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক নিজাম মোহাম্মদ সিরাজুল আলম খান, বিশিষ্ট ক্রিকেটার প্রয়াত মানজারুল ইসলাম রানা ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান ক্রিকেটার নুরুল হাসান সোহান প্রমুখ এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

বিদ্যালয়ের সাধারণ তথ্য

স্কুলের নাম: খুলনা জিলা স্কুল
প্রতিষ্ঠাকাল: এপ্রিল ১৮৮৫
ঠিকানা: ১নং কে. ডি. ঘোষ রোড, খুলনা
ডাকঘর: খুলনা- ৯১০০
ফোন: ০২৪৭৭ ৭২০৫৩৩
প্রধান শিক্ষক: মো. সৈয়দ আহাম্মদ (ভারপ্রাপ্ত)
মোবাইল: ০১৯১২ ৯৪৩৬৮৮
মোট শিক্ষক: ৫৩ জন
মোট ছাত্র: ২০১৮ জন
বিদ্যালয়ের ধরন: বালক
শ্রেণি কার্যক্রম: ৩য় – ১০ম শ্রেণি
মোট জমির পরিমাণ (একর): ৮.১০ একর
ভবন সংখ্যা: ৬টি
মোট শ্রেণিকক্ষ: ৩২টি
বিজ্ঞানাগার-এর কক্ষ সংখ্যা: ৪টি
পাঠাগার-এর কক্ষ সংখ্যা: ২টি
অডিটোরিয়াম আছে কি না: হ্যাঁ
সীমানা প্রাচীর আছে কি না: হ্যাঁ
EIIN NO: 117135
ই-মেইল: zillaschool_Khulna@yahoo.com
ওয়েবসাইট:www.kzs.edu.bd

মাসিক ফুলকুঁড়ির সাথে কথা হয় স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ক শাখার ছাত্র এইচ টি এম রাউসাবের। আলোচনার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো-

মাসিক ফুলকুঁড়ি: তোমার বিদ্যালয় সম্পর্কে আমাদের কিছু জানাও।
রাউসাব: খুলনা জিলা স্কুল, খুলনা এবং যশোর বোর্ডের অন্যতম ভালো একটি বিদ্যালয়। আমি এই বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি থেকে পড়ছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমার সহপাঠীরা সবাই খুবই ভালো। আমাদের কোনো বিষয়ে জানার থাকলে শিক্ষকরা সেই বিষয়ে খুব সহনশীলতার সাথে আমাদের বুঝানোর চেষ্টা করেন। আমার সহপাঠীরাও খুব ভালো, আমার সব রকমের বিপদে তারা আমাকে সহযোগিতা করে থাকে।

মাসিক ফুলকুঁড়ি: তোমার বিদ্যালয়ের কোন বিষয়টি তোমার সবথেকে বেশি ভালো লাগে?
রাউসাব: আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠটি অনেক বড় এবং আমরা প্রতিদিন সেখানে খেলতে পারি, এটিই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।

মাসিক ফুলকুঁড়ি: তোমার বিদ্যালয়ের পাঠদান আরও উন্নত করতে কী করা যায় বলে তোমার মনে হয়?
রাউসাব: আমাদের ক্লাসরুমগুলোর কিছু উন্নয়ন করতে পারলে আমাদের পাঠদান আরোও উন্নত হতো।
মাসিক ফুলকুঁড়ি: তোমার বিদ্যালয় নিয়ে তোমার কোনো স্বপ্ন আছে কি?
রাউসাব: হ্যাঁ। আমি যদি বড় হয়ে ভালো কোনো পর্যায়ে যেতে পারি তাহলে আমি আমাদের বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করবো।

মাসিক ফুলকুঁড়ি: ধন্যবাদ তোমাকে।
রাউসাব: মাসিক ফুলকুঁড়িকেও ধন্যবাদ।

প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০২৪