দ্যা সানস সুপারনোভা টাইম

মুজাহিদুল ইসলাম তাফহীম

0
88

এক.
৩২০০০ সাল। পৃথিবীর মানুষেরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বহু দূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পৃথিবীর সেরা দেশগুলোর একটি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের কারনেই মহাকাশ ভ্রমণ সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা আলোক গতিতে চলতে পারে এমন স্পেসশিপও আবিষ্কার করতে পেরেছেন। মহাকাশ ভ্রমণের জন্য কিছুটা ট্রেনের মতো একটি মহাকাশযান তৈরি করেছেন। নাম দিয়েছেন এধষধীু ঝঁঢ়বৎ ঢঢ়ৎববং। এখন মানুষ মহাকাশে এই ট্রেনের মাধ্যমে আরামে ভ্রমণ করতে পারে।
মানুষেরা মহাকাশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছে। কিন্তু ৩১৯০০ সালে বেটেলজিউস নামক একটি নক্ষত্রের সুপারনোভার কারণে পৃথিবীর বায়ুমÐলের ৭০ শতাংশেরবেশি ধ্বংস হয়ে গেছে।
একটি তারা ধীরে ধীরে বড় এবং উজ্জ্বল হয়ে তারপর চিরতরে নিভে যাওয়ার ঘটনাকে সুপারনোভা বলে। সুপারনোভা শব্দটির বাংলা করলে দাঁড়ায়- অতিনবতারা। সুপারনোভা হলো একধরনের নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণ প্রক্রিয়া, যার কারণে একটি নক্ষত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায় এবং শেষ থাকে শীতল নীহারিকা এবং কৃষ্ণবিবর। সকল নক্ষত্রের মতো আমাদের সূর্যেরও একদিন এই পরিণতি ঘটবে। একটি মাঝারি মানের নক্ষত্র নিউক্লিয় ফিশন প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়ামে রূপান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে জ্বলে থাকে। কোটি কোটি বছর ধরে জ্বলতে থাকা এই তারকায় যখন জ্বালানি সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যায় তখন নক্ষত্রটি তার পরিণতিতে পৌঁছে যাওয়ার আগে স্ফীত এবং উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং বিস্ফোরিত হয়। আর এই সুপারনোভা ঘটনার মাধ্যমেই একটি নক্ষত্রের মৃত্যু ঘটে। নক্ষত্রটির অত্যন্ত উজ্জ্বল আলোর কারণে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ ও জীবজন্তু মারা গেছে। পৃথিবীর অনেক সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন কৃত্রিমভাবে বায়ুমÐল তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সব জায়গায় ঠিক করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই ১০০ বছর ধরে বায়ুমÐল ঠিক করার জন্য বিভিন্ন সংস্থা অনবরত কাজে করে যাচ্ছে। যেমন : ঝহড়ভিষড়ঁৎ,ঊ.ট.ঈ (ঊধৎঃয টহরাবৎংব ঈবহঃবৎ) সহ বিভিন্ন সংস্থা। এ সংস্থাগুলো আগে প্রতিষ্ঠিত না হলে পৃথিবীতে মানুষ বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ত।

দুই.
ঢাকায় ঊ.ট.ঈ এর হেডকোয়ার্টার।
বিজ্ঞানী যিয়াদুল ইসলাম বসে বসে
ভাবছেন। পৃথিবীর হয়তো কিছুটা কৃত্রিমভাবে ঠিক করে পৃথিবীতে বসবাস করা সম্ভব। কিন্তু সূর্যের যখন মৃত্যু হবে তখন কী হবে?
এমন সময় তাঁর অফিস রুমে প্রবেশ করলেন ঊ.ট.ঈ এর প্রধান বিজ্ঞানী আহমদ আবদুল্লাহ। তিনি বললেন, “পৃথিবীর স্থলভাগের সব
জায়গায় বায়ুমÐল কৃত্রিমভাবে ঠিক করা হয়েছে এবং সাগরের উপরও বায়ুমÐল ঠিক করার কার্যক্রম চলছে।”
কিন্তু বিজ্ঞানী যিয়াদ গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন তাই তিনি তাঁর কথা
শুনতে পাননি। যিয়াদুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী। তিনিই সর্বপ্রথম আলোর গতিতে চলতে পারে এমন স্পেসশিপ আবিষ্কার করেন। তিনি এখন ঊ.ট.ঈ এর প্রধান বিজ্ঞানী আহমদ আবদুল্লাহর সহযোগী বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ বুঝতে পারেন তিনি খুব গভীরভাবে কিছু ভাবছেন। তিনি গিয়ে বিজ্ঞানী যিয়াদের কাঁধে হাত রাখলেন। বিজ্ঞানী যিয়াদ চমকে উঠলেন। তিনি পিছন ফিরে দেখলেন প্রধান বিজ্ঞানী আহমদ আবদুল্লাহ। বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ বললেন, “পৃথিবীর স্থলভাগের সব জায়গায় বায়ুমÐল কৃত্রিমভাবে ঠিক করা হয়েছে এবং সাগরের উপরও বায়ুমÐল ঠিক করার কার্যক্রম চলছে।”
বিজ্ঞানী যিয়াদ বললেন, আলহামদুলিল্লাহ। মনে হয় সমুদ্রের উপরের বায়ুমÐলও ঠিক করতে পারব। বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ বললেন এত গভীর মনোযোগ দিয়ে নিশ্চয়ই কোন গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাবছিলেন। তিনি বললেন, আমি ভাবছিলাম বায়ুমÐল হয়তো কৃত্রিমভাবে ঠিক করা যাবে। কিন্তু সূর্যেরও তো প্রচুর বয়স হয়েছে। সূর্যের যখন সুপারনোভা হবে তখন কী হবে পৃথিবী ছেড়ে অন্য কোনো গ্রহে চলে যেতে হবে। তখন তো সৌরজগতের কোনো জায়গা ও নিরাপদ নয়। তাই আমাদের সৌরজগতের বাইরে কোনো বাসযোগ্য গ্রহ খোঁজা উচিত। হুম ঠিক বলেছেন। সূর্যের অবস্থা দেখার জন্য একটা অভিযান পরিচালনা করা উচিত। তাহলে আমরা অফিসে বসে কোনো মানুষ ছাড়া দূর নিয়ন্ত্রণিত খুবই ছোট্ট একটি মহাকাশযান সূর্যের কাছে পাঠিয়ে দিই। হ্যাঁ, ঠিক আছে। আপনি মিশনটির নেতৃত্ব দেবেন। বললেন বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ।
তারপর, তিনি চলে গেলেন। বিজ্ঞানী যিয়াদ এবার ঊ.ট.ঈ পরিচালক প্রফেসর বার্ন এর রুমে প্রবেশ করলেন। বিজ্ঞানী বার্ন তাকে স্বাগত জানিয়ে বসতে বললেন।
বিজ্ঞানী যিয়াদ বললেন, বিজ্ঞানী আহমদ আবদুল্লাহ সূর্যের সুপারনোভা কখন হবে তা জানার জন্য সূর্যের অবস্থা দেখার জন্য একটা মিশন পরিচালনা করতে বলেছেন। এখন আমাদের দূরনিয়ন্ত্রণিত একটি
মহাকাশযান তৈরি করে সূর্যের কাছে পাঠাতে হবে।
বিজ্ঞানী বার্ন বললেন, ঠিক আছে মহাকাশযানটি তৈরীর জন্য ৬ ঘণ্টা লাগবে। তৈরি করার পর আপনাকে বিজ্ঞানী আহমদ আবদুল্লাহ, সহযোগী পরিচালক ড. ফেক্সকে জানাবো। বিজ্ঞানী যিয়াদ বললেন, ঠিক আছে। বিজ্ঞানী যিয়াদ এবার বিদায় নিলেন। নিজের অফিস রুমে বসে বসে কম্পিউটারে বাসযোগ্য গ্রহ ও উপগ্রহগুলো খুঁজে বের করছেন। বাসযোগ্য তেমন গ্রহ খুঁজে পেলো না। সৌরজগতের ভিতরে কোনো বাসযোগ্য গ্রহ নেই। কিন্তু যেসব গ্রহ পেলেন সেসব গ্রহগুলো পৃথিবী থেকে অনেক দূরে সেসব গ্রহে যেতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।
আর সৌরজগতের কিছু উপগ্রহ বাসযোগ্য। বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহ ইউরোপা, শনি গ্রহের উপগ্রহ টাইটান ও টথিক। এসব উপগ্রহে বসবাস করা সম্ভব। কিন্তু সূর্যের সুপারনোভা পুরো সৌরজগতকে ধ্বংস করে দিতে পারে। সৌরজগতের বাইরের কিছু গ্রহের উপগ্রহে বাসযোগ্য। তিনি একটি গ্রহের সন্ধান পেলেন যে গ্রহটি বাসযোগ্য। গ্রহটির নামকেপলার টুটুবি। এই গ্রহটি নাসার বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার। এই গ্রহ দেখতে পুরোপুরি পৃথিবীর মতো। এটির অবস্থান আবার বাসযোগ্য স্থানে। নাসা এই এক্সোপ্ল্যানেটের নাম দিয়েছে সুপার আর্থ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর চেয়ে আকারে বড় এই হও সমুদ্রে পরিপূর্ণ। কেপলার টুটুবি গ্রহ আবিষ্কার করা হয় ২০১১ সালে। এই গ্রহ কক্ষপথের তারা থেকে নিরাপদ দূরত্বে আছে। এর উপরিভাগের তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গ্রহটি একটু বেশি কাত হয়ে থাকায় এর উত্তর আর দক্ষিণ মেরুতে বছরের অর্ধেকটা সময় দিন আর অর্ধেকটা সময় রাত থাকে। কেপলার টুটুবিতে ভর পৃথিবীর তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম। নিজের প্ল্যানেটারি সিস্টেমের কক্ষপথে একবার ঘুরতে এ গ্রহের সময় লাগে ২৮৯দিন। তিনি ভাবলেন এই গ্রহে গিয়ে দেখা উচিত। কিন্তু গ্রহটিতে যেতে অনেক বছর লাগবে। তিনি আলোর গতির চেয়েও শক্তিশালী গতি আবিষ্কার করতে হবে তা না হলে এরকম শক্তিশালী গতিতে চলতে পারে এমন কোন পদার্থ আছে কিনা তা অনুসন্ধান করতে হবে। এসব ভাবতে ভাবতে ৬ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। বিজ্ঞানী বার্ন মহাকাশে পাঠানোর জন্য দূরনিয়ন্ত্রিত মহাকাশযানের মতো যন্ত্রটি তৈরি করে ফেলেছে। তিনি বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ, বিজ্ঞানী যিয়াদ, ফেক্সে কথাটা জানিয়ে দিলেন। বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ, বিজ্ঞানী যিয়াদ, বিজ্ঞানী ফেক্স প্রবেশ করলেন বিজ্ঞানী বার্নের অফিস রুমে। বিজ্ঞানী বার্ন কম্পিউটারে ঝ.গ.গ (ঝঢ়ধপব গরংংরড়হ গধপযধরহ) অর্থাৎ দূরনিয়ন্ত্রণিত মহাকাশযানকে সূর্যের কাছে পাঠানোর জন্যে সবকিছু ঠিক আছে কিনা তা চেক করছিলেন। বিজ্ঞানীরা আসার সাথে সাথে কম্পিউটারের সামনে বসলেন। বিজ্ঞানী যিয়াদ বললেন- ঝ.গ.গ কে মহাকাশে পাঠাতে। বিজ্ঞানী বার্ন ঝ.গ.গ কে কম্পিউটারের সাহায্যে মহাকাশের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন।
বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ বললেন- আমি যতটুকু জানি সূর্যের মতো ছোট নক্ষত্রতো সুপারনোভায় পরিণত হয়ে মৃত্যু হয় না।
বিজ্ঞানী ফেক্স বললেন, সূর্য ছোট নক্ষত্র হলে ও মৃত্যু হবে তা তো নিশ্চিত।
বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ বললেন, নক্ষত্রের মৃত্যু সুপারনোভা থেকে কম ভয়ঙ্কর।
কিন্তু সূর্যের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সুপারনোভায় পরিণত হবে। বিজ্ঞানী যিয়াদ বললেন।
তিনি সূর্যের পারমাণবিক জ্বালানি পরীক্ষা করছিলেন।
সূর্য প্রায় ৯৮ ভাগের বেশি জ্বালানি শেষ করে ফেলেছে। আকর্ষণবল ও কমে কেন্দ্রের দিকে চলে গেছে। বাইরের গ্যাসীয় অঞ্চলটিও মনে হচ্ছে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। ছোট্টখাট্ট একটা সুপারনোভা হবে হয়তো।
বিজ্ঞানী বার্ন বিজ্ঞানী আবদুল্লাহকে বললেন, সুপারনোভার আরো কিছু লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা দরকার। তাহলে আমি ম্যাগাজিন থেকে আর কিছু জিনিস দেখে আসছি। যাতে সুপারনোভা সম্পর্কে আরো অভিজ্ঞ হয়ে করণীয় বের করতে পারব। বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ বললেন।
বিজ্ঞানী বার্ন বললেন, আচ্ছা তাহলে আপনি গিয়ে খোঁজ নিন। আমরা সূর্যের ব্যাপারটা দেখছি। বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ প্রফেসর বার্ন এর রুম থেকে বেরিয়ে তাঁর অফিস রুমে প্রবেশ করলেন। বিজ্ঞানী ফেক্স দেখলেন বুধ গ্রহসূর্যের একটি অগ্নিগোলক লেগে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা চমকে উঠলেন। তাহলে সুপারনোভা শুরু হতে যাচ্ছে। শুক্র গ্রহের দিকে সূর্যের একটি গ্যাসীয় অঞ্চল এগিয়ে আসছে। তাহলে তো পৃথিবীতে একটু পরেই সূর্যের গ্যাসীয় অঞ্চল আঘাত হানবে। এমন সময় বুধ গ্রহের সাথে গ্যাসীয় অঞ্চলের সংঘর্ষ হলো এবং বুধ গ্রহ অগ্নিগোলকে পরিণত হলো। তবে বুধ গ্রহের আগেই অনেক অংশ পুড়ে গিয়েছিল।বিজ্ঞানী বার্ন বিজ্ঞানী যিয়াদকে বললেন, আপনি এবং ফেক্স বিজ্ঞানী আবদুল্লাহর কাছে গিয়ে কথাটা জানিয়ে দিন।
ঝহড়ভিষড়ঁৎ-সহ অন্যান্য বিজ্ঞান সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোকে ও বিষয়টি জানিয়ে দিয়ে মানুষকে ও সর্তক করে দিন। আমি মিশনটা দেখছি। বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ তাঁর অফিস রুমে বসে বসে পৃথিবীর বিখ্যাত সায়েন্স ম্যাগাজিন দ্যা সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন সংখ্যা দেখছিলেন। সুপারনোভার তেমন কিছু তথ্য পাননি।
স্যার সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের আর কোনো সংখ্যা মনে হয় নেই। বলল বিজ্ঞানী যিয়াদুল ইসলামের সহযোগী বিজ্ঞানী সোফিয়া অ্যাঞ্জেলা। তিনি বিজ্ঞানী যিয়াদ ও আবদুল্লাহকে বিভিন্ন কাজে সহায়তা করেন। বিজ্ঞানী সোফিয়া এ্যাঞ্জেলা মানুষ হলেও তাঁর শরীরে অনেক রোবটিক অঙ্গ আছে। তার একটি কারণ ও আছে। সোফিয়ার বয়স যখন চৌদ্দ বছর তখন ঝহড়ভিষড়ঁৎ সংস্থার একটি স্যাটেলাইট দুর্ঘটনা ক্রমে তাঁর উপর পড়ে। তাতে সোফিয়ার অনেক ক্ষতি হয়।
ঝহড়ভিষড়ঁৎ এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাঁর শরীরে কিছু রোবটিক অঙ্গ বৈজ্ঞানিকভাবে ফিট করে দেয়। কারণ এত ক্ষতি হয়েছিল যে সে ক্ষতিপূরণ করা যেত না। রোবটিক অঙ্গ দেওয়ার এখন চলাফেরা সম্ভব এমনকি আগের মতো সুস্থসবল আছেন।
বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ বললেন, এতগুলো সংখ্যাতো বিজ্ঞানী যিয়াদের কাছে আছে। তিনি এসব ম্যাগাজিন খুবই পছন্দ করেন ও সবগুলো সংখ্যা তিনি রাখেন।
এই সময় বিজ্ঞানী যিয়াদ ও ফেক্স তাদের রুমে প্রবেশ করলেন।
তিনি বসলেন ও বললেন, সূর্যের আলোর উজ্জ্বলতা দ্র্র্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বুধ গ্রহের সাথে সূর্যের গ্যাসীয় অঞ্চলের সংঘর্ষ হয়েছে। ভেনাস গ্রহের (শুক্র গ্রহ) দিকে একটি অগ্নিগোলক ধেয়ে আসছে। সূর্যের অবস্থা সুপারনোভার মতোই উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও গ্যাসীয় অঞ্চল ছিন্নভিন্ন হওয়া সুপারনোভাই।
বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ বললেন,সূর্যের মতো নক্ষত্রের তো সুপারনোভা হয় না। বিজ্ঞানী ফেক্স বললেন, সূর্য তো মাঝারি আকারের নক্ষত্র। তাই সুপারনোভা হবে। কিন্তু এত বড় জায়গার ক্ষতি হবে না ২৫ আলোকবর্ষের বেশি জায়গায় এর প্রভাব পড়বে না।
তাহলে আমাদের সুপারনোভা থেকে নিরাপদে ভিন্ন গ্রহে যাওয়ার পথ খোঁজা উচিত। বললেন বিজ্ঞানী আহমদ আবদুল্লাহ।
তাহলে আমরা বিজ্ঞানী যিয়াদের লাইব্রেরিতে গিয়ে সুপারনোভা থেকে নিরাপদে বের হওয়ার কোনো তথ্য জেনে সুপার আর্থে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করব। উনার লাইব্রেরিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই আছে।
বিজ্ঞানী সোফিয়া ঠিক বলেছেন আমি বিজ্ঞানী যিয়াদ ও তুমি আমাদের সাথে লাইব্রেরিতে চলো। বললেন বিজ্ঞানী আহমদ আবদুল্লাহ।
বিজ্ঞানী ফেক্স বললেন, “আমি তাহলে বিজ্ঞানী বার্নের সাথে সূর্যের দিকে নজর রাখি। বিজ্ঞানী যিয়াদ, আবদুল্লাহ ও সোফিয়া একসাথে বিজ্ঞানী যিয়াদের বাসায় গেলেন। বিজ্ঞানী যিয়াদ ঊ.ট.ঈ এর বিজ্ঞানীদের একটি কলোনিতে থাকেন। বিজ্ঞানীরা লাইব্রেরিতে প্রবেশ করলেন। বিজ্ঞানী যিয়াদ একটি বই নিয়ে পাশের টেবিলে বসতে যাচ্ছিলেন। তখন বিজ্ঞানী সোফিয়ার কাছে ভূমিকম্প অনুভব করছিলেন। তিনি দেখলেন ফিল্টারে থাকা পানি নড়ছে। সাথে সাথে ভয়ানক এক ভূমিকম্প হলো। পৃথিবী পশ্চিম দিকে খুব জোরে হেলে পড়ল। তাই ভূমিকম্পে সবকিছু পশ্চিম দিকে চলে গেল। বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ ও যিয়াদ পশ্চিম দিকের দেয়ালের সাথে বাড়ি খেলেন। সাধারণ বিল্ডিং হলে ভেঙে চুরমার হয়ে যেত। কিন্তু বিজ্ঞানীদের বিল্ডিংটি খুবই শক্তিশালী। ইটের বদলে লোহা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তাই এত বড় ভ‚মিকম্পে কিছুই হলো না শুধু ভিতরে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরেই নিরাপত্তা কর্মীরা ছুটে এসেছিল। কিন্তু এবার পৃথিবী পূর্বের দিকে হেলে যাওয়ায় সবকিছু আবার পূর্ব দিকে চলে গেল। পৃথিবীর সব জায়গায় ভ‚মিকম্প ও সুনামি হলো। বহু মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা ইত্যাদি সম্পদ ধ্বংস হলো। এভাবে ভ‚মিকম্প উত্তর ও দক্ষিণ দিকে হলো। বইগুলো সবার উপরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়ায় তারা ব্যথা কম পেলেন। ভ‚মিকম্প শেষ হওয়ার সাথে সাথে বিজ্ঞানী ফেক্স, বার্ন ও নিরাপত্তা কর্মীরা ছুটে এলো। বিজ্ঞানী বার্ন ও ফেক্স যখন ভ‚মিকম্পের বিষয়টি বুঝতে পারেন তখন তারা অফিস থাকা বিজ্ঞানীদের সর্তক করে দিয়েছিলেন বলে অফিসে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমাদের এখনই সৌরজগতের বাইরে নিরাপদ গ্রহ সুপার আর্থে চলে যাওয়া উচিত। সৌরজগতের কোনো জায়গা এখন নিরাপদ নেই। পৃথিবী কক্ষপথের দিকে চলে আসছে একটি অগ্নিগোলক। ঘরের বাইরে এখন অনেক বেশি গরম। পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ দিনের রেকর্ড আজকে। পৃথিবীতে তেমন বেশি মানুষ বেঁচে নেই। অল্প কিছু মানুষ নিয়ে সুপার আর্থে চলে যাওয়া যাবে সহজেই। বললেন বিজ্ঞানী ফেক্স। তাই করা উচিত, এছাড়া উপায় ও তো নেই। বিজ্ঞানী যিয়াদ বললেন। সবাই দ্রুত ঊ.ট.ঈ এর অফিসের দিকে চললেন। বিজ্ঞানী বার্ন বললেন, পৃথিবীর বেশিরভাগ বিল্ডিং বর্তমানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরী না হলে পৃথিবীর একটি মানুষেও বেঁচে থাকতো না। বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ বললেন, ঠিক বলেছেন মাত্র এক ঘণ্টার পরেই সুপার আর্থের দিকে যাত্রা শরু করব। আমাদের অফিসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র এধষধীু ঝঁঢ়বৎ ঊীঢ়ৎবংং স্পেসশিপ ট্রেনের মধ্যে দিয়ে দিন। আর সবাই স্পেসশিপ, এধষধীু ঝঁঢ়বৎ ঊীঢ়ৎবংং স্পেস ট্রেন, সুপার স্পেস শাটলে উঠে পড়–ন। আমরা এখনই পৃথিবী ছাড়তে হবে। না হলে পৃথিবীতে থাকা কোনো কিছু বাঁচবে না। সূর্যের অত্যন্ত উজ্জ্বল আলো এখন মানুষের শরীরে লাগার সাথে সাথে রেডিশিয়নে মারা যাবে। মাইকে ঘোষণা করললেন বিজ্ঞানী আহমদ আবদুল্লাহ। পৃথিবীকে ছেড়ে যেতে আমার খুবই খারাপ লাগছে। বুকটা একেবারে ফেটে যাচ্ছে। বললেন বিজ্ঞানী সোফিয়া কান্নারত অবস্থায়।
বিজ্ঞানী যিয়াদ সান্তনা দিয়ে বললেন, “পৃথিবীর কথা আমরা মানুষ জাতি চিরদিন মনে রাখবো। যেখানেই থাকি না কেন পৃথিবীই আমাদের বাসস্থান। পরবর্তী প্রজন্মকে মানুষের সম্পর্কে একটি বই আমরা লেখে দিয়ে যাব যেটা পড়ে তারা জানবে মানুষ কেপলার টুটুবি গ্রহের নয় বরং পৃথিবীর তাই পৃথিবীর মায়ার স্মরণ গ্রহটির নাম আমরা দিলাম সুপার আর্থ। বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ বললেন, দ্রæত স্পেসশিপে উঠুন একটি অগ্নিগোলক আমাদের পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। সবাই দ্রæত স্পেসশিপে উঠলেন। স্পেসশিপ ছাড়ার সাথে সাথে অগ্নি গোলকটি পৃথিবীতে আঘাত হানল। বিজ্ঞানী বার্ন স্পেসশিপ চালাচ্ছিলেন তিনি বিজ্ঞানী যিয়াদের আবিষ্কার করা আলোক গতিতে চলার সুইচটিতে চাপ দিলেন। সাথে সাথে স্পেসশিপ আলোর গতিতে চলা শুরু করল। পৃথিবী অগ্নি গোলকের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ বললেন, এখন মহাকাশে না এলে আমরা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যেতাম।

তিন.
কিন্তু কেউ পৃথিবীর কথা ভুলে যায় নাই।
পৃথিবী থেকে আসার পর এমন কিছু বিজ্ঞানীরা একটি বই দিয়ে গেছেন। যার মধ্যে রয়েছে মানুষের আসল পরিচয় গ্রহটির নাম কেন সুপার আর্থ। মানুষ জাতিসুপার আর্থ থেকে নয় বরং পৃথিবীর বা আর্থের থেকে এসেছে। এখনো পৃথিবীর ছবি সুপার আর্থের জাদুঘরে সংরক্ষণের মধ্যে রয়েছে। পৃথিবী এখন না থাকলেও স্মরণীয় হয়ে আছে মানুষের কাছে। মানুষ জাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানী যিয়াদদুল ইসলাম, আহমদ আবদুল্লাহ, প্রফেসর বার্ন, ড. ফেক্স, সোফিয়া অ্যাঞ্জেলা সহ বহু বিজ্ঞানী এখনো স্মরণীয় হয়ে আছেন মানুষের কাছে। পৃথিবীর সম্মানে গ্রহের নাম দেওয়া হয়েছিল সুপার আর্থ। কারণ পৃথিবী থেকে এটি বড় ও দেখতে পৃথিবীর মতো। মানুষ জাতি যত দিন আছে তত দিন পৃথিবী অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।