সড়কে সচেতনতা

আবরার হক

0
52

সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশে নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কতশত তাজা প্রাণ যে পিচঢালা রাস্তায় রক্তপিণ্ড হয়ে ঢলে পড়ছে, তার সঠিক পরিসংখ্যানও নেই, আহতদের কথা তো বাদই দিলাম। এই দুর্ঘটনা সমূহে যদিও সবসময় ড্রাইভারদেরকেই দোষারোপ করা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উভয় পক্ষের কিছু কিছু দোষ থাকে। সড়কে চলাচল সম্পর্কিত পর্যাপ্ত জ্ঞানে আমাদের অজ্ঞতাকেই প্রধান সমস্যা হিসেবে বলবো। সে জন্যে আজকে রাস্তায় চলাচলের সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আমরা জানবো।

সড়কে সিগন্যাল বাতির পরিবর্তন

আমরা শুরুতে জানবো ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পর্কে। আমাদের দেশে রাস্তায় তিন রঙের লাইট দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হয়। লাল, হলুদ ও সবুজ। অনেকেই হয়তো বলবে, ভাইয়া এগুলো দিয়ে তো এখন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আসলে করা হয় না, বরং ট্রাফিক পুলিশ ছোটাছুটি করেই তো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কথা হচ্ছে, আমরা চাই সঠিক পদ্ধতিই ব্যবহার করা হোক। সেজন্য আমাদের জানতে তো হবে, তাই না? সবুজ বাতি মানে হচ্ছে গাড়ি সামনে যাবে, আর লাল বাতি মানে হলো গাড়ি থেমে থাকবে। তাহলে হলুদ বাতির কাজ কী? এই দুই বাতির পরিবর্তনের মাঝে কিছুক্ষণের জন্য হলুদ বাতি জ্বলে। কেন জানো? এই ধরো, সবুজ বাতি জ্বলছে আর গাড়িগুলো সামনে যাচ্ছে। এমন সময় হঠাৎ করে লাল জ্বলে উঠলে গাড়িগুলো কি হার্ড ব্রেক করে দাঁড়িয়ে পড়বে? এ সমস্যা এড়াতেই হলুদ বাতি। হলুদ বাতি মানে হলো একটু পরেই সিগন্যাল চেঞ্জ হবে। সুতরাং গাড়ি চললে দাঁড়িয়ে যাওয়ার, আর দাঁড়িয়ে থাকলে সামনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিন।

ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পর্কে আলোচনা শেষে আমরা এখন রাস্তায় চলাচল ও রাস্তা পারাপারের কিছু নিয়ম জানার চেষ্টা করবো, যেগুলো আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
০১. কক্ষনো কানে হেডফোন লাগিয়ে অথবা মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপার হবে না।
০২. ট্রাফিক নিয়ম বা চিহ্ন উপেক্ষা করে রাস্তা পার হবে না।
০৩. রাস্তা পারাপারে ফুট-ওভারব্রিজ/আন্ডারপাস/জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করবে, যেখানে সেখানে রাস্তা পারাপার দণ্ডনীয় অপরাধ কিন্তু।
০৪. রেলওয়ে ক্রসিং/লেভেল ক্রসিং এ লাল বাতি জ্বলন্ত অবস্থায় রাস্তা পার হবে না। ট্রেন চলে যাবার পর রাস্তা পার হবে।
০৫. ডানে বামে তারপরে আবার ডানে দেখে রাস্তা পার হবে।
০৬. সতর্কতার জন্য রাস্তার বাঁক দিয়ে, যেখান থেকে দুই দিকেই অন্তত ২০০ মিটার পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যায় না, সেখান দিয়ে রাস্তা পার হবে না।
০৭. কখনো চলমান বা দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির বহর উপেক্ষা করে রাস্তা পার হতে যাবে না।
০৮. রাতের বেলা আলো ছাড়া রাস্তায় চলাচল বা রাস্তা পার হবে না।
০৯. রাস্তার ওপর দিয়ে কখনো হাঁটবে না। রাস্তার পাশের ফুটপাথ দিয়ে হাঁটবে।
১০. ফুটপাথ না থাকলে রাস্তার ডান পাশ দিয়ে হাঁটবে। কারণ বাম পাশ দিয়ে হাঁটলে তোমার পেছন থেকে গাড়ি দেখতে পাবে না।
১১. শিশুদের সাথে নিয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে হাটলে তাদের অবশ্যই রাস্তার বাইরের দিকে রাখতে হবে।
১২. রাস্তায় খেলাধুলা করা যাবে না।

রাস্তায় নামলেই আমরা অনেক ধরনের সাইন দেখে থাকি, যেগুলো আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য বা নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কিছু সাইন দেখেই আমরা বুঝতে পারি কী বলা হচ্ছে, আর বাকিগুলোর ক্ষেত্রে আমরা বুঝি না। আমাদের এবারের বিষয় এই রোড সাইন। রাস্তায় আমরা দুইভাবে সাইনগুলো দেখে থাকি। প্রথমত রাস্তার পাশে বা ওপরে সাইনবোর্ডে, আর দ্বিতীয়ত রাস্তাতেই সাদা বা হলুদ রঙের দাগ দিয়ে আঁকা।

সাইনবোর্ড আকারে যে সাইনসমূহ আমরা দেখে থাকি, তাকে প্রাথমিকভাবে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।
১. বাধ্যতামূলক সাইনসমূহ
২. সতর্কতামূলক সাইনসমূহ
৩. সাধারণ তথ্যমূলক সাইনসমূহ
৪.সাপ্লিমেন্টারি প্লেটসমূহ

রাস্তার ট্রাফিক বা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এই বাধ্যতামূলক সাইনসমূহ ব্যবহৃত হয়। এই ক্যাটাগরির সাইনগুলো আকারে গোলাকার হয়ে থাকে (বিশেষ ২টি ছাড়া)। এগুলো আবার ২ প্রকারের হয়ে থাকে। হ্যাঁ-বাচক বাধ্যতামূলক সাইনসমূহ আর না-বাচক বাধ্যতামূলক সাইনসমূহ।
আমাদের দেশে প্রচলিত হ্যাঁ-বাচক বাধ্যতামূলক সাইন ১৫টি। এগুলো আকারে গোল, সাদা বর্ডারবিশিষ্ট হয় এবং নীল ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপরে সাদা রঙ এ যে তথ্যটি বাধ্যতামূলক অনুসরণ করতে হবে, তার সিম্বলটি দেয়া থাকে (ছবি-১)।
না-বাচক বাধ্যতামূলক সাইন ২৩টি। এগুলো আকারে গোল, লাল বর্ডারবিশিষ্ট হয় এবং সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপরে কালো রঙ এ যে কাজটি থেকে বাধ্যতামূলক বিরত থাকতে হবে, তার সিম্বলটি দেয়া থাকে (ছবি-২) ।
ওপরে উল্লেখিত ৩৮টির বাইরে আরো ২টি বিশেষ বাধ্যতামূলক সাইন আছে।
প্রথমটি ‘থামুন ও রাস্তা দিন’ সাইন (ছবি-৩)। এটি সাদা বর্ডারবিশিষ্ট লাল রঙের অষ্টভুজাকৃতির হয়ে থাকে। সাধারণত পাহারাদারবিহীন রেললাইন অথবা যেসব জংশন বা গোলচক্কর সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না কিংবা না থেমে প্রবেশ নিরাপদ নয়, তার আগে এই সাইন বসানো হয়। এটি থাকলে চালককে অবশ্যই থামতে হবে এবং তারপর নিরাপদে অগ্রসর হওয়ার মতো অবস্থা থাকলে অগ্রসর হবে।
দ্বিতীয়টি ‘রাস্তা দিন’ সাইন (ছবি-৪)। এটি দেখতে লাল বর্ডারযুক্ত নীল ব্যাকগ্রাউন্ডের নিম্নমুখী ত্রিভুজাকৃতির হয়। সাধারণত জংশন ও গোলচক্করের আগে এই সাইন থাকে। এই সাইন দেখলে অবশ্যই গাড়ির গতি কমিয়ে সতর্কতার সাথে গোলচক্কর বা জংশনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।
এতক্ষণে তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারলে, শেষোক্ত দুইটি সাইন বা যেকোনো গোলাকার সাইন দেখলে আমাদেরকে অবশ্যই তার নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। নাহলে যে কোন ধরনের ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এরপরে আছে সতর্কতামূলক সাইনসমূহ। এই সাইনসমূহ এজন্যে দেয়া হয়, যেন চালক আসন্ন পরিস্থিতি সম্পর্কে আগেই অবগত হতে পারেন এবং প্রয়োজনে গতি কমানোসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন। এই ক্যাটাগরির সাইন মোট ৫৭টি। এর মাঝে ৪৪টি সাধারণ সতর্কতামূলক সাইন, যেগুলো আকারে লাল বর্ডারযুক্ত উর্ধ্বমুখী ত্রিভুজাকৃতির এবং তাতে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর কালো রঙে নির্দেশনাযুক্ত সিম্বলটি দেয়া থাকে (ছবি-৫)। আর চারটি সাইন ব্যবহৃত হয় বিকল্প রাস্তার ক্ষেত্রে। এগুলোতে আবার হলুদ রঙের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। তোমাদের সুবিধার্থে বলে রাখি রাস্তায় কোনো সাইনে হলুদ রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখলে বিকল্প রাস্তায় যাওয়ার কথাটা ধরে নিতে পারো। সে যাই হোক, আরো ৯টি সতর্কতামূলক সাইন আছে যেগুলো বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়।

তৃতীয়ত তথ্যমূলক সাইনসমূহ। এর মধ্যে প্রথমে আছে ৮টি পথনির্দেশক তথ্যমূলক সাইন। এগুলোর মাধ্যমে চালককে তার উদ্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পথনির্দেশ দেয়া হয়। ফ্লাইওভার, জংশন বা গোলচক্করের ক্ষেত্রে এগুলোর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কখনো কখনো এর নির্দেশনা অনুসরণে ভুল হলে দীর্ঘ পথ ঘুরে আসতে হয় চালককে। তাই এই সাইনসমূহ খুব ভালো করে বুঝে ব্যবহার করতে হয়। জংশন বা ফ্লাইওভারের আগে প্রস্তুতির জন্য, যেখানে রাস্তাসমূহ মিলিত হয় অথবা ফ্লাইওভার শুরু হয় সেখানে চূড়ান্ত নির্দেশনা এবং জংশনের পরে পরের রাস্তা শুরু হওয়ার পরপরই কনফার্মেশন বা নিশ্চিতকরণ সাইন দেয়া থাকে। পথনির্দেশক তথ্যমূলক সাইনসমূহ রাস্তার বাম পাশে বা ওপর দিকে দেয়া হয়। এগুলো আকারে আয়তাকার হয়ে থাকে। জাতীয় মহাসড়ক ও অন্যান্য সড়কে এগুলোর ব্যবহারে রঙের ভিন্নতা তুমি লক্ষ করে থাকতে পারো। জাতীয় মহাসড়কে এই সাইনসমূহ সবুজ রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড আর সাদা রঙের বর্ডারযুক্ত হয় আর সাদা রঙে পথনির্দেশক তথ্যসমূহ লেখা থাকে (ছবি-৬) । আর অন্যান্য সড়কে এই সাইনসমূহ সাদা রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড আর কালো রঙের বর্ডারযুক্ত হয় আর কালো রঙেই পথনির্দেশক তথ্যসমূহ লেখা থাকে।

এর পরে আসে ১৭টি সাধারণ তথ্যমূলক সাইন। এগুলোতে সামনের বিভিন্ন সুবিধা, যেমন মসজিদ, রেস্টুরেস্ট, পেট্রল পাম্প ইত্যাদির উল্লেখ থাকে। এগুলো নীল বর্ডারের বর্গাকৃতির হয় এবং তাতে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপরে কালো ও বিশেষ ক্ষেত্রে লাল রঙে তথ্যসূচক সিম্বলটি দেয়া থাকে (ছবি-৭) ।

এরপরে আছে চতুর্থ প্রকারের ট্রাফিক সাইন, যেগুলোকে বলা হয় ‘সাপ্লিমেন্টারি সাইন’। নাম দেখেই বুঝতে পারছো এগুলো মেইন সাইনসমূহকে সহায়তা করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এগুলো একা ব্যবহৃত হয় না। মেইন সাইনসমূহের নিচে আরেকটা প্লেটে যেখানে বাংলা বা ইংরেজি অথবা উভয় ভাষায় উপরের সাইনের বিবরণ সংক্ষেপে অথচ পরিষ্কারভাবে লেখা থাকে, সেগুলোকেই সাপ্লিমেন্টারি সাইন বলে (ছবি-৮)। বিআরটিএ এর ম্যানুয়ালে ২৭টি সাপ্লিমেন্টারি সাইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এতক্ষণ আমরা জানলাম রাস্তার পাশে বা ওপরে ব্যবহৃত হয় এমন সাইন সম্পর্কে। এবার আমরা জানবো রাস্তায়, হুম, একদম রাস্তার ওপরে সাদা বা হলুদ দাগ টেনে দেয়া হয়, তেমন সাইনগুলো সম্পর্কে। আমাদের দেশে রাস্তায় ব্যবহৃত হয় এমন সাইন ২০টি। তন্মোধ্যে যেগুলো জানা খুব দরকার, সেগুলো আমরা আলোচনা করবো। বাকিগুলো তোমরা বিআরটিএ এর ম্যানুয়াল থেকে দেখে নিও।

অন্তত দুই লেনবিশিষ্ট রাস্তার মাঝে দেখবে ৩ ধরনের দৈর্ঘ্যে সাদা দাগ দেখা দেখা যায়। ছোট ছোট, মাঝারি লম্বা আর একদম টানা সাদা দাগ (ছবি-৯) । এই দাগসমূহের নির্দেশনা না বুঝা বা না মানাটাই আমাদের দেশের অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বলে মনে হয় আমার। ছোট ছোট দাগ অর্থাৎ শহর ও সাধারণ জায়গা ভেদে ৪.৫ বা ৭ মিটার দূরত্বে ১.৫ মিটার বা ২ মিটার লম্বা দাগকে বলা হয় লেন লাইন। লেন লাইন থাকলে সহজে লেন পরিবর্তন করা যাবে। এরপরে মাঝারি লম্বা দাগ অর্থাৎ শহর ও সাধারণ জায়গা ভেদে ৪ বা ৬ মিটার দূরত্বে ২ মিটার বা ৩ মিটার লম্বা দাগকে বলা হয় ওয়ার্নিং লাইন। ওয়ার্নিং লাইন থাকলেও লেন পরিবর্তন করা যাবে, তবে সে ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সাথেই তা করতে হবে। আর ব্যারিয়ার লাইন বা টানা সাদা দাগ থাকলে সেক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই লেন পরিবর্তন করা যাবে না। আর রাস্তার সর্বডানে বা সর্ববামে এই টানা দাগ থাকলে তা হচ্ছে রাস্তার সমাপ্তি চিহ্ন। এর বাইরে কোনভাবেই গাড়ি যেতে পারবে না। বামপাশে হলুদ রঙে টানা দাগ থাকা মানে হচ্ছে জায়গা থাকলেও সেখানে গাড়ি পার্ক করা যাবে না। আর ২টা হলুদ দাগ পাশাপাশি থাকলে সেখানে থামাই যাবে না।

জেব্রা ক্রসিং

বড় রাস্তার জংশন, যেখানে যে কোনো মুখী একাধিক লেনে গাড়ি চলে, সেখানে জংশনে প্রবেশের আগে কোনো দিকে যেতে হলে কোন লেনে থাকতে হবে, তা রাস্তার ওপরেই মার্ক করা থাকে। এগুলো না মানার কারণে আমাদের বড় শহরগুলোতে অনেক দীর্ঘ জ্যামের সৃষ্টি হয়। রাস্তায় স্পিডব্রেকার থাকলে তার ওপরে দূর থেকে দেখা যাওয়ার মতো সাদা মার্কিং করে দেয়া থাকে। আর জেব্রা ক্রসিং এর লাইন তো তোমরা চেনো।তোমাদের সুবিধার্থে আমাদের দেশে ব্যবহৃত দুই ধরনের জেব্রা ক্রসিংয়ের ছবি সাথে দেয়া হলো।

এ পর্যায়ে আমরা লেন সিস্টেম সম্পর্কে হালকা ধারনা নেবো। হালকা ধারণা এজন্যে বলছি, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে ২০এর অধিক প্রকৃতির লেন আছে। আমরা অত ডিটেইলে না গিয়ে বরং একেবারে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো জেনে নেবো। আমাদের দেশে যেহেতু রাস্তার বাম পাশ দিয়ে চলাচল করতে হয়, এখানে ওয়ান ওয়ে রোডে একমুখী কমপক্ষে ২ লেনবিশিষ্ট রাস্তায় সর্বডানের লেন দিয়ে সবচেয়ে দ্রুতগামী গাড়ি চলাচল করবে। লেন যত বামে আসতে থাকবে, গাড়ির গতি তত স্লো হতে থাকবে। ডানের লেনে গাড়ি থামানো দূরের কথা, গাড়ির গতি খুব বেশি স্লোও করা যাবে না। গাড়ির গতি স্লো করতে হলেও বাম দিকের লেনে চলে আসতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইমার্জেন্সি লেন আমাদের দেশে বেশ আলোচিত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ ভ্যান চলাচলের জন্যই এই লেনটির ব্যবহার। আমাদের দেশের স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে অন্তত কয়েক লেন বিশিষ্ট একমুখী রাস্তার সর্বডানের লেনটিই হবে ইমার্জেন্সি লেন। সাম্প্রতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের আগে এই সিস্টেমের ব্যবহার আদৌ আমাদের দেশে দেখা যায়নি। যথারীতি আন্দোলনশেষে আবার আগের অবস্থাই ফিরে এসেছে। যাকগে, সেটা আমাদের আলোচ্য নয়।

তোমরা রাস্তায় চলাচলের বিভিন্ন ধরনের নিয়মসমূহ ভালোভাবে মেনে ভালো থাকবে, আর অন্যদেরকেও জানিয়ে দেবে, তারাও যেন ভালো থাকতে পারে। আজ এ পর্যন্তই থাকল। তোমাদের এ নিয়ে আরো কিছু জানার থাকলে জানাবে। নিজে ভালো থেকো, অন্যদেরকেও ভালো রাখতে সচেষ্ট থেকো। আল্লাহ হাফেজ।

প্রকাশকাল : সেপ্টেম্বর ২০১৮