ভ্যারিয়াস ভাইরাস

আবরার হক

0
51

গোটা পৃথিবী একই আতঙ্কে ভুগছে। চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়ানো নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। গবেষকরা ধারণা করছেন সাপ ও বাদুড় এ রোগের মূল ভাইরাসবাহী প্রাণি, যার থেকে মানুষে শরীরে এ ভাইরাস বাসা বেঁধেছে। আতঙ্কিত না হয়ে এ অবস্থায় সচেতনতাই আমাদের বেশি প্রয়োজন। এরই মাঝে আজ আমরা জানার চেষ্টা করবো করোনার পূর্বসূরীদের কথা, মানে পূর্বে যে সকল ভাইরাস বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল আর নির্মম মৃত্যুর কারণ ছিল, তাদের কথা।
ভাইরাস কথাটা বললে দুই ধরণের ভাইরাসের কথা আমাদের মাথায় আসে। একটা হলো কম্পিউটার ভাইরাস, অন্যটি বায়োলজিক্যাল ভাইরাস। দুই রকমের হলেও দুইটার কাজ আসলে একই টাইপের। সে যাই হোক, আজ আমরা কেবল বায়োলজিক্যাল ভাইরাস নিয়েই জানার চেষ্টা করবো। কম্পিউটার ভাইরাসের বিষয়টি অন্য কোনো সময়ের জন্য তোলা থাকলো।
ভাইরাস নিয়ে কথা বলতে হলে প্রথমে তো এটা কী জিনিস সেটা বুঝতে হবে। জীব তো বিভিন্ন সাইজের হয়। এই যেমন হাতি বা তিমি অতিকায় জীবন। আবার মশা-মাছি ক্ষুদ্রকায় জীব। এভাবে ভাইরাস একটি অতিক্ষুদ্র ও অকোষীয় অনুজীব যাদের খালি চোখে দেখা যায় না। এরা জীবদেহে অর্থাৎ উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়ার দেহে বাস করে এবং এখানেই তাদের বংশবিস্তার ও সকল প্রকার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। এরা মূলত জীবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই সৃষ্টির জন্য দায়ী।
১৩৩০ থেকে ১৩৫০ সালের মধ্যকার সময়ে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর প্রায় ২০ কোটি মানুষ মারা যায়। এটি বø্যাক ডেথ নামে পরিচিত। ধারণা করা হয়, ১৩৩০ সালের দিকে চীন বা মধ্য এশিয়ায় প্রথম মহামারি আকারে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ক্রিমিয়া হয়ে পৌঁছায় ইউরোপে। ১৩৪৮ সালের দিকে ইউরোপে ভয়াবহ আকার ধারণ করে বø্যাক ডেথ। ধারণা করা হয়, ‘বø্যাক র‌্যাট’ নামে এক প্রজাতির ইঁদুরের মাধ্যমে প্লেগ রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ইউরোপে এসেছিল। সে সময় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে এ ইঁদুরের প্রচÐ উপদ্রব ছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইউরোপের কয়েক কোটি মানুষ প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ইউরোপের তৎকালীন জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৬০ শতাংশই সে সময় প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ইউরোপের জনসংখ্যা স্বাভাবিক হতে সময় লাগে প্রায় ১৫০ বছর।
১৯৬৭ সালের জার্মানীর মারবুর্গ আর ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে হঠাৎ এক নতুন ধরণের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। ওই বছরই বিজ্ঞানীরা ঐ রোগের ভাইরাস শনাক্ত করে তাকে নাম দেয় মারবুর্গ ভাইরাস এবং উদঘাটন করেন, উগান্ডা থেকে নিয়ে আসা কিছু বানর থেকেই এই রোগটি ছড়িয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সাধারণত হেমোরেজিক জ্বর দেখা যায়। যার ফলে প্রচন্ড জ্বর এবং পুরো শরীর থেকেই রক্তপাত হয়। ২০১৭ সালে সর্বশেষ উগান্ডায় এ রোগের রোগী শনাক্ত করা হয়। রেকর্ড অনুযায়ী ৪২৩ জন শনাক্ত হওয়া রোগীর মধ্যে ৩৮২ জনই এ রোগে মৃত্যুবরণ করে, যা ৯০ শতাংশের বেশি।
মারবুর্গ ভাইরাসের কাছাকাছি বা ক্ষেত্রবিশেষে তারচেয়ে ভয়ঙ্কর ভাইরাস হিসেবে পৃথিবীকে নাড়া দিয়ে গিয়েছিল ইবোলা ভাইরাস। এ ভাইরাসের সাথে কাজের দিক থেকেও মারবুর্গ ভাইরাসের ভালো মিল আছে। ১৯৭৬ সালে মধ্য আফ্রিকার জায়ারেতে এই ভাইরাসের প্রথম দেখা মেলে। বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। এই ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে কোনো সংক্রমিত পশুর রক্ত বা শরীর রস-এর সংস্পর্শ থেকে। মনে করা হয় যে বাদুড় নিজে আক্রান্ত না হয়ে এই রোগ বহন করে ও ছড়ায়। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানেইজেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৭৬ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ২৪ বার প্রাদুর্ভাব ঘটে যার ফলে আক্রান্তের ৬৬ শতাংশের বেশি দেড় সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। ডিসেম্বর ২০১৩ থেকে জানুয়ারি ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকায় মহামারী হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে এ রোগ, যাতে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এরপরে ২০১৭, ২০১৮ আর ২০১৯ সালেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। ইবোলা ভাইরাসে সংক্রমিত হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যুই অবধারিত। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে প্রথম এর কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক তৈরি করা হয়।
ভ্যারিওলা ভাইরাস থেকে ছড়িয়ে হাজার বছর ধরে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ ছিল গুটিবসন্ত বা স্মলপক্স। এটি ছড়িয়েছিল মূলত ইউরোপ থেকে। হাজার বছর ধরে সেখানকার মানুষ ভাগ্যের অন্বেষণে, বাণিজ্যের প্রসার কিংবা উপনিবেশ স্থাপন করতে পৃথিবীর নানা প্রান্তে গেছে। সঙ্গে নিয়ে গেছে এই ভাইরাস। এর সঙ্গে পরিচিত নয় বলে এতে আক্রান্ত হয়ে ইউরোপের তুলনায় বাইরের মানুষই মারা গেছে বেশি। এর সংক্রমণে মানবদেহে প্রথমে এক ধরনের গুটি বের হয় যা পরবর্তী সময়ে তিল বা দাগ, কুড়ি, ফোস্কা, পুঁজবটিকা এবং খোসা বা আবরণ ইত্যাদি পর্যায়ের মাধ্যমে দেহে লক্ষণ প্রকাশ করে। অষ্টাদশ শতাব্দিতে শুধু ইউরোপে প্রতিবছর গুটিবসন্তের কারণে প্রায় ৪ লাখ মানুষ মারা যেত। বেঁচে গেলেও বাকি জীবন কাটাতে হতো পক্সের অভিশাপ নিয়ে। গা-ভর্তি দগদগে ক্ষত নিয়ে। কেউ বা হারাতো দৃষ্টিশক্তি। অনেকে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ শতাংশ আদিবাসীই এতে মারা গিয়েছিল। ১৭৯৬ সালে এর টিকা আবিষ্কৃত হয়। তবে টিকা আবিষ্কারের পরও প্রায় ২০০ বছর কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ ছিল এ রোগ। ধারণা করা হয়, বিশ্বজুড়ে সব মিলিয়ে শুধু বিংশ শতাব্দিতেই স্মলপক্সে মারা গেছে অন্তত ৩০ কোটি মানুষ! এখন অবশ্য আধুনিক চিকিৎসার কাছে আর পাত্তা পায় না পক্স। সামান্য ফুসকুড়ি ওঠা ও শরীর ব্যথা ছাড়া আর কিছুই হয় না। ১৯৮০ সালে ওয়ার্ল্ড হেলথ এসেম্বলি পৃথিবীকে গুটিবসন্তমুক্ত ঘোষণা করে।
প্রাণঘাতী ভাইরাস লিস্টের আরেক ভয়ঙ্কর নাম র‌্যাবিস ভাইরাস বা জ্বলাতঙ্ক। র‌্যাবিস ভাইরাসের কারনে সৃষ্ট রোগের নাম র‌্যাবিস। এই ভাইরাস ছড়ায় বিড়াল, বাদুর, কুকুর, বানর এবং বেজির কামড়ের ফলে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে এই র‌্যাবিস ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বহু লোক মারা গেছে। র‌্যাবিস ভাইরাসের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ মারা যায়। এন্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশেই এবং ১৫০টিরও বেশি দেশে এ ভাইরাসের অস্তিত্ব বিদ্যমান। র‌্যাবিস ভাইরাস আছে এমন এলাকাতেই পৃথিবীর ৩০০ কোটির বেশি মানুষের বসবাস। শুধু ২০১৫ সালেই এ রোগে ১৭,৪০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। তবে র‌্যাবিস ভাইরাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এর মৃত্যুহার। রোগের লক্ষণ দেখার পর র‌্যাবিস ভাইরাস এর প্রভাবে মৃত্যুহার প্রায় ১০০%। ২০১৬ সালে এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ হওয়ার পরও মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছে এমন সৌভাগ্যবান মাত্র ১৪ জন। আর এর কারণ হলো, র‌্যাবিস ভাইরাস সরাসরি মানুষের ব্রেইন এবং স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে। তাই রোগের লক্ষণ হিসেবে জ্বলাতঙ্ক কিংবা বিকলাঙ্গ পর্যন্ত হতে দেখা যায়।
অদৃশ্য দানবদের এ লিস্টের আরেক নাম ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে দেখা দেয় কাপুনী, মাথা ব্যথা ও শুরু হয় শুকনো কফ। এর ফলশ্রæতিতে উচ্চ জ্বর, পেশিতে বাথা, খারাপ লাগা, অস্থির লাগা এগুলো শুরু হয়। প্রায় ৩ দিন ধরে জ্বর থাকে, শ্বসননালীর সমস্যাগুলো প্রায় সপ্তাহব্যাপি থাকে। ব্যক্তি ভেদে ১ থেকে ৩ সপ্তাহ ধরে দুর্বল লাগতে পারে। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েরই একই সমস্যা দেখা যায়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি জ্বর ও বমি থাকতে পারে। প্রায় ১২% শিশুর কানে ব্যথা হয়। ধারণা করা হয় প্রাণঘাতী এই ভাইরাস প্রথম আবিষ্কার হয় ১৯১৮ সালে আমেরিকার কানসাসে। তখন এই ভাইরাসের নাম ছিলো স্প্যানিশ ফ্লু। ১৯১৮ থেকে ১৯২০ সাল সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জাতে বিশ্বব্যাপি প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা যায়। ১৯৫৭ সালে এশিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জায় প্রায় ২০ লাখ আর ১৯৬৮ সালে হংকং ইনফ্লুয়েঞ্জায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। গ্রিক বিজ্ঞানী হিপোক্রেটিস প্রথম ২৪০০ বছর আগে ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের লক্ষণ লিপিবদ্ধ করেন। এখন ইনফ্লুয়েঞ্জা অতটা মারাত্মক না হলেও বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে মারা যায়।
এইচআইভি সংক্রমণে মানবদেহে এইডস রোগের সৃষ্টি হয়। মূলত এইডস কোনো রোগ নয়, এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব জনিত নানা রোগের সমাহার। এইচআইভি ভাইরাস মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, ফলে নানা সংক্রামক রোগ ও কয়েক রকম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রোগী মৃত্যু মুখে ঢলে পড়ে। এইচআইভি ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর অনাক্রম্যতা কমতে কমতে এইডস ঘটাবার মতো অবস্থায় পৌঁছতে অনেক বছর লাগে। তবে শরীরে এই ভাইরাস একবার সংক্রমিত হলে তা কমানো সম্ভব হলেও সম্পূর্ণ দূর করে এখনো সম্ভব নয়, তাই শেষপর্ষন্ত সেই রোগীর এইডস হওয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়। এই ভাইরাস ছোঁয়াচে না হলেও বিভিন্ন কারনে এইচআইভি ভাইরাস ছড়াতে পারে। যেমন: অবাধ ও অবৈধ যৌন মিলন, সমকামিতা, এইচআইভি পজিটিভ অন্য করো রক্ত গ্রহণ, একই সিরিঞ্জ বহুজনে ব্যবহার, মাড়ির ক্ষত হতে রক্ত নিঃসৃত লালা ইত্যাদি সহ শিশুকালে এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত মায়ের মাতৃদুগ্ধ পান করার ফলেও এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে সর্বপ্রথম এ ভাইরাসের অস্তিত্ব নজরে আসে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে এপর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭.৫ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং এর কারণে এখনো পর্যন্ত ৩.২ কোটি মানুষ মানুষ মারা গেছে।
এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হবার কারণ হলো ডেঙ্গু ভাইরাস। এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। উপসর্গগুলোর মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি। দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষয়ী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষয়ী জ্বর বলা হয়। গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলোতে এ ভাইরাসের আক্রমণ বেশি দেখা যায়। বিগত ২০ বছরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ বেশ বেড়েছে। সা¤প্রতিক সময়ে প্রতি বছর প্রায় ৩৯ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত বছরই আমাদের দেশে ১ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে মৃত্যু হয় ১৬৪ জনের।
নতুন নতুন ভাইরাস কয়েক বছর পর পর কোথা থেকে আসে? তাছাড়া এই নতুন নতুন ভাইরাসগুলো জন্ম নেয়ই বা কিভাবে? এই প্রশ্নটি আমাদের প্রায় সবার মনেই কিন্তু কোনো না কোনো সময় এসেছে। আমাদের কেউ এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি, আর কেউবা মনের এই প্রশ্নকে এড়িয়ে চলে যান। এই এড়িয়ে যাওয়া কিন্তু কখনো ভালো না। আমাদের মন আমাদেরকে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন বিষয়ে কৌতুহল তৈরি করে দিয়ে নতুন বিষয় জানার একটা সুযোগ করে দেয়। আমরা এ সুযোগ নিলে আমাদেরই লাভ। সে যাই হোক, কথা বলতে যাচ্ছিলাম নতুন ভাইরাস কিভাবে তৈরি হয় বা মানবদেহে স্থান করে নেয়, তা নিয়ে।
গবেষকরা বলছেন, মানবদেহে পাওয়া অধিকাংশ ভাইরাসের উৎপত্তি আসলে অন্য কোনো প্রাণির দেহে। এরপরে যেসব জায়গায় মানুষের সাথে অন্য প্রাণির সংস্পর্শ ঘটে, তখন এটি মানবদেহে চলে আসে। যেমন মার্স ভাইরাস উট থেকে, সার্স বিড়াল থেকে আর সোয়াইন ফ্লু শুকর থেকে মানবদেহে ছড়িয়েছে। এভাবে মানবদেহে এসে ভাইরাসগুলো শুধু মানুষের ক্ষতি করে তাই নয়, বরং নিজেদের অন্য মানুষের শরীরেও ছড়ানোর মত উপযুক্ত করে গড়ে তোলে। আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ এর ২০১২ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, (তখন পর্যন্ত) মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ২১৯ প্রজাতির ভাইরাসের সন্ধান তাদের কাছে আছে, যেগুলো মানবদেহের ক্ষতি করতে পারে। এই লিস্টে প্রতিবছর ৩/৪টি নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। এরকম অন্যান্য প্রাণির শরীরে এই ভাইরাসের পরিমাণ যে কতো, তা কে বলতে পারে?
বন্ধুরা, উপরে এতক্ষণ ধরে লেখাটা পড়ার সময় বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ কোটি মানুষের মৃত্যুর কথা পড়ছিলে। কি সহজেই না আমি লিখে ফেললাম, আর তুমি পড়ে ফেললে। অথচ প্রতিটি মানুষের জীবনই কতইনা মূল্যবান। আমাদের আত্মীয়স্বজন বা প্রিয় কেউ যখন মারা যায়, তখন এটা আমরা বেশি অনুভব করতে পারি। সা¤প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাস পুরো পৃথিবীকেই যেন একটা কঠিন বাসস্থানে পরিণত করে তুলেছে, যেখানে চীনের উহান শহর থেকে এক অদৃশ্য দানব ছড়িয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে। আমাদের অজান্তেই আমাদের মতো কারো কারো মাধ্যমেই এ নীরব ঘাতক নিজের জায়গাকে আরো শক্তিশালী করে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় আমাদের কী করা উচিত? প্রথম কথা হলো আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। কারণ আতঙ্কে মানুষ কখনো কখনো নির্বোধের মত কাজ করে বসে। এরপর আমাদের সচেতন হতে হবে, এ ভাইরাস সম্পর্কে জানতে হবে, ডাক্তার বা গবেষকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে। আমাদের সাধ্যমতো অন্যদের সচেতন করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ ধরনের সকল বিপদ থেকে রক্ষা করুন। তোমাদের সুস্বাস্থ্য আর নিরাপত্তার জন্য দোয়া করি, তোমরাও সবার জন্য দোয়া করো। আল্লাহ হাফেজ।