বিশ্বকাপ ফুটবলের মজার ঘটনা

কামরুল হাসান রিপন

0
111

আবারো শুরু হয়ে গেল জমকালো ফুটবল বিশ্বকাপ। বলা হয়ে থাকে বিশ্ব কাঁপে বিশ্বকাপে। আয়োজক মরুর ছোট দেশ কাতার। এবারের আসরটি বিশ্বকাপের ২২তম আসর। ২০০২ সালে কোরিয়া-জাপানের পর দ্বিতীয় এশিয়ান দেশ হিসেবে কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পরবর্তী ২৩তম আসর অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয়। ৩২ দল নিয়ে আয়োজিত এটিই সর্বশেষ বিশ্বকাপ। পরবর্তী আসর থেকে ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ লেখাটি যখন তোমরা পড়বে তখন প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শুরু হবে। তবে জেনে নেয়া যাক এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপগুলোর কয়েকটি মজার ঘটনা।
প্রথম বিশ্বকাপে ফিফার নিজস্ব কোনো বল ছিল না। দলগুলোর বল দিয়ে খেলা হতো। সেবার ফাইনালে বল নিয়ে দ্ব›দ্ব লেগে যায় দুই ফাইনালিস্ট উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার মধ্যে। দুই দলই চায় নিজেদের বল নিয়ে খেলতে। শেষে সিদ্ধান্ত হয় প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার বল দিয়ে খেলা হবে আর দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের। মজার ব্যাপার হলো, প্রথমার্ধে নিজেদের বল দিয়ে ২টি গোল দেয় আর্জেন্টিনা। আর দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের বল দিয়ে উরুগুয়ে দেয় ৪টি গোল। ফলে ৪-২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ফিফার ইতালিয়ান ভাইস প্রেসিডেন্ট অত্তোরিনো বারসি বিশ্বকাপ ট্রফি নিজের বেডরুমের বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখেন। তার ভয় ছিল নাৎসি বাহিনী ট্রফিটি চুরি করতে পারে!
আর্নেস্ত ইউলিমোস্কির রেকর্ডটা একটু হতাশারই। বিশ্বকাপে চার গোল করেও পরাজিতের দলে ছিলেন তিনি। পোল্যান্ডের ইউলিমোস্কি সেই চার গোলসহ হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন ১৯৩৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ব্রাজিলের লিওনিদাসও। ব্রাজিল জিতেছিল ৬-৫ গোলে।
১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। দলের খেলোয়াড়দের কমিটমেন্ট করা হয় যদি কেউ গোল করতে পারে, তাহলে তাকে দেওয়া হবে একটি রোল রয়েস গাড়ি। অনভিজ্ঞ দলটির ভালো করার সুযোগ ছিল খুবই কম। তবে গ্রæপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার আগে তারা ২টি গোল দিতে সমর্থ হয়। আর প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী শেখ মোহাম্মদের কাছ থেকে দুই গোলদাতা ইসমাইল মোবারক ও থানি জুমা একটি করে রোল রয়েস গাড়ি উপহার পান।
১৯৫০ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে কোনো নক আউট, ফাইনাল ছিল না। তার পরিবর্তে পরীক্ষামূলক রাউন্ড রবিন লিগ ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহকারী দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। আর তাতে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। তেমনি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ বিশ্বকাপে ছিল না কোনো গ্রæপ পর্ব।
কোনমতে হার এড়াতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন। আগের সব ম্যাচেই ব্রাজিল পায় বড় বড় জয়। তাই এ ম্যাচে নিয়ে বিশাল আগ্রহ ছিল ব্রাজিলিয়ানদের। ১৯৫০ বিশ্বকাপের ফাইনাল রাউন্ডের শেষ ম্যাচে উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের লড়াই দেখতে রিও’র মারাকানা স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিত হয়েছিল ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৮৪ জন। যা এখনোওবিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ম্যাচটি হারে ব্রাজিল। আর সে ম্যাচে হারের বেদনা সহ্য করতে না পেরে বেশ কিছু ব্রাজিলিয়ান ভক্ত মারাকানার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন।
বাছাই পর্ব থেকে বাকি দলগুলো নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় কোনো ম্যাচ না খেলেই ১৯৫০ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে যায় ভারত। সে সময়ে খালি পায়ে খেলে অভ্যস্ত দলটি বিশ্বকাপেও খালি পায়ে খেলার দাবি করে। কিন্তু ফিফা সে অনুমতি দেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে নাম প্রত্যাহার করে নেয় ভারত।
ব্রাজিলই একমাত্র দল যারা বিশ্বকাপের সবগুলো আসরে খেলেছে। আগের ২১ আসরে সর্বোচ্চ পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নও তারা। তবে সফল এ দলটির বিশ্বকাপ সূচনাটা ভালো ছিলো না। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৯৩০ বিশ্বকাপে যুগো¯øাভিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করে দলটি।
১৯৯৪ বিশ্বকাপে টপ ফেভারিট দল ছিল কলম্বিয়া। কিন্তু গ্রæপ পর্বের ম্যাচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় তারা। সেখানে একটি আত্মঘাতী গোল দেন আন্দ্রে এসকোবার। সেই আত্মঘাতী গোলের কারণে গ্যাংস্টাররা তাকে গুলি করে হত্যা করে।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় টানা চ্যাম্পিয়ন থাকার রেকর্ডটি ইতালির। ১৯৩৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৩৮ সালেও বিশ্বকাপ জিতে নেয় তারা। এর পরের দুই আসর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ১৯৩৪ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ছিল তারা।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০০২ সালেই দুটি ভিন্ন দেশে এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে আয়োজন করেছিল সে আসর। একই সঙ্গে দুই মহাদেশে বিশ্বকাপ আয়োজক দেশ রাশিয়া। কারণ রাশিয়া ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশের মধ্যে পড়েছে।
প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচটি খেলেছিল স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ড ১৮৭২ সালে। কিন্তু বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে স্কটল্যান্ডের সময় লাগে ৮২ বছর। ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে সুযোগ পায় তারা। আর ইংল্যান্ডের সুযোগ পেতে সময় লাগে ৭৮ বছর। ১৯৫০ বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেয় দলটি। প্রথম ম্যাচেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ০-১ গোলে হারে তারা। যদিও ইংলিশ মিডিয়া এটা মানতে নারাজ। তাদের দাবি ইংল্যান্ড আসলে ম্যাচটি জিতেছিল ১০-১ গোলে। ভুলবশত ছাপা হয় ০-১!
তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট