বিজ্ঞানী আব্রুর ভীতিকর সাক্ষাৎকার

0
34

এক নজরে পরিচিতি :
ডাকনাম : আব্রু
শখ : মানুষের ভুল ধরা
যা করতে ভালো লাগে : জ্ঞান দিতে
অবসরে যা করেন : ফন্দি
প্রিয় খেলা : কুস্তি
প্রিয় দেশ : হনুলুলু
প্রিয় রঙ : লাল
প্রিয় পোশাক : সোয়েটার
প্রিয় মানুষ : চার্লিচ্যাপলিন
প্রিয় আবিষ্কার : কথাযন্ত্র
প্রিয় জিনিস : খেলনা পিস্তল

বন্ধুরা, হৈ চৈ এর এই সংখ্যায় আমরা বিখ্যাত আর্টসের বিজ্ঞানী জনাব আবরারুল হক ওরফে বিজ্ঞানী আব্রুর সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। মূলত তিনি কথায় কথায় নানান কিসিমের জিনিসপাতি আবিষ্কার করে থাকেন। এই অসম্ভব ভীতিকর সাক্ষাৎকারটি নিয়ে প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফিরেছেন হৈ চৈ প্রতিনিধি আজাদ আশরাফ।
হৈ চৈ : কেমন আছেন?
বিজ্ঞানী আব্রু : জি। ভালো আছি। আপনারা কারা? এই অসময়ে আমার বাসায়?
হৈ চৈ : আমরা হৈ চৈ থেকে এসেছি…!
বিজ্ঞানী আব্রু : কী বললেন! হৈ চৈ! কোথায় হৈ চৈ হয়েছে! এই হৈ চৈ এ আপনারা আমার বাসায় কেন আসলেন? দাঁড়ান, আগে দরজা বন্ধ করে আসি!
হৈ চৈ : আরে আরে কী করছেন? বসুন তো। আপনি যা ভাবছেন তা না। আমরা হৈ চৈ পত্রিকা থেকে আপনার সাক্ষাৎকার নিতে এসেছি।
বিজ্ঞানী আব্রু : ও আচ্ছা। আগে বলবেন না। হৈ চৈ শুনলেই তো মনের ভেতর কেমন জানি একটা চিনচিন ব্যথা অনুভব করি।
হৈ চৈ : আপনি তো দেখি চরম ভিতুর ডিম। হৈ চৈ-এর কথা শুনেই ভয়ে পালাচ্ছেন। ব্যাপারটা কী? একটু খুলে বলুন তো?
বিজ্ঞানী আব্রু : দেখুন। আপনি কিন্তু আমার ব্যক্তিগত বিষয়ে নগড়বহস্তক্ষেপ করছেন। একবার না হয় ভুল আবিষ্কার করে জনগণের উত্তম-মধ্যম খেয়েছিলাম। এগুলো কেন আপনাদের বলতে যাব?
হৈ চৈ : (মনে মনে হেসে) কখন? কিভাবে? একটু বিস্তারিত বলুন তো?
বিজ্ঞানী আব্রু : আপনারা তো দেখছি আস্ত পাজি লোক। সব কথায় বাম হাত দিচ্ছেন। বিজ্ঞানী হিসেবে আমার একটা মান-ইজ্জত আছে তো। সে বিষয়ে কোনো কিছু বলা যাবে না। যে কাজে আসছেন তা করে বিদায়
হোন।
হৈ চৈ : আচ্ছা। সামনে তো ঈদ। এই ঈদে আপনার ভাবনা কী?
বিজ্ঞানী আব্রু : আমি তো সব সময় ভাবতেই পছন্দ করি। একজন বিজ্ঞানীর কাজই তো ভাবনা করা। এতে ঈদ নিয়ে নতুন করে ভাবনার কী আছে? উল্টাপাল্টা প্রশেড়ব বিরক্ত না করে ভালো কোন কথা থাকলে বলেন।
না থাকলে কেটে পড়েন।
হৈ চৈ : না মানে! ঈদে কী কী করবেন তা জানতে চাচ্ছিলাম।
বিজ্ঞানী আব্রু : সবাই যা করে! আমি আবার নতুন করে কী করব?
হৈ চৈ : আপনি তো একজন বিজ্ঞানী। ঈদ নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা থাকতেই পারে। তা যদি বলতেন তাহলে আপনার ফ্যানরা উপকৃত হতে পারত।
বিজ্ঞানী আব্রু : শুনুন। আমার ফ্যান এমনিতেই অনেক উপকারী। তার নিজের কোনো উপকারের দরকার নেই। বরং উল্টো গরমকালে আমাকে বাতাস দিয়ে উপকার করে।
হৈ চৈ : আরে জনাব সেই ফ্যানের কথা বলিনি। আপনি তো অনেক বড় একজন বিজ্ঞানী। আপনাকে যারা পছন্দ করে এমন ফ্যান বা অনুসারীর কথা বলছি।
বিজ্ঞানী আব্রু : (বিরক্ত নিয়ে) সেই তখন থেকে যত্তসব উল্টাপাল্টা অবৈজ্ঞানিক প্রশড়ব করে যাচ্ছেন। এতো বড় একজন বিজ্ঞানীর সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় সেটাই তো জানেন না। আমার সামনে থেকে যান তো!
হৈ চৈ : না মানে…
বিজ্ঞানী আব্রু : যাবেন নাকি আমাদের বাসার কুকুরকে ডাকবো?
হৈ চৈ : না, থাক। ডাকতে হবে না। আমরা নিজেরাই চলে যাচ্ছি।
(যাক এই ভয়ভীতির মধ্যেও সাক্ষাৎকারটি নেওয়া সম্ভব হলো)