পাতার বাঁশি

রফিকুল নাজিম

0
64

আজ বুধবার। বুধবার শেষ পিরিয়ডে শিয়ালউড়ি স্কুলে কোনো পাঠদান করা হয় না। স্কুলের নতুন ম্যাম তানিয়া বেগম এই নিয়ম করেছেন। ম্যাম এই স্কুলে যোগদান করার পর অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে।
তিনি তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতি বুধবার একটা মজমা বসান। স্কুলের দক্ষিণ দিকে জামতলায় সবাই গোল হয়ে বসেন। সেই মজমার আসরে প্রতি সপ্তাহে কেউবা গান করে, ছড়া আবৃত্তি করে আবার কেউ নাচে।

আজ রতনের পালা। সে আমপাতা সাথে করে নিয়ে এসেছে।
কয়েক মাস আগেও রতন স্কুলে আসতে চাইত না। জোর করে ধরে নিয়ে আসতে হতো। দুষ্টু ছাত্র হিসেবে তার বেশ নামডাক। তবে পড়াশোনায় সে ঠনঠনে। কখনোই সে পড়া পারত না। প্রতিদিন তাকে শাস্তি পেতে হতো। দুই হাতে দুই কান ধরে বেঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে সে বাইরে শালিকদের ওড়াউড়ি দেখত। আজমল স্যারের বেতের বাড়ি খেয়েও রতন মুখ টিপে টিপে হাসত। অথচ সেই রতন এখন নিয়মিত স্কুলে আসে। পড়া শিখে আসার চেষ্টা করে। সবকিছু ঐ তানিয়া ম্যামের কারণেই। ম্যাম শিয়ালউড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা এখন নিয়মিত স্কুলে আসে। মাঠে খেলতে পারে। ক্লাসে পড়ার পাশাপাশি গান বাজনাও হয়। রতন ক্লাসে রঙিন কাগজ কাঁচি দিয়ে কেটে ক্লাসরুম সাজায়। স্কুলটাকে এখন একটা রঙিন ফুল মনে হয়। আর শিশুরা সে ফুলের প্রজাপতি। রতন একমনে পাতার বাঁশি বাজাচ্ছে। সে বাঁশিতে “ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা” গানের সুর তুলেছে। তানিয়া ম্যামসহ সবাই হতবাক হয়ে শুনছে সেই সুর। অদ্ভুতরকম সুন্দর পাতার বাঁশি বাজায় রতন! বাঁশি বাজানো শেষ হতে না হতেই সবাই করতালি দিলো। সবাইকে খুশি দেখে রতনও আনন্দিত।

তানিয়া ম্যাম রতনের কাছে পাতার বাঁশি বানানো শিখতে চান। রতন ম্যামকে কিভাবে পাতার বাঁশি বানাতে হয় তা শিখিয়ে দিয়েছে। ক্লাসের অনেকেই এখন পাতা দিয়ে বাঁশি বানাতে পারে। রাতুল, কনক, আয়াত, মিম, মমিনসহ অনেকে রতনের কাছে পাতার বাঁশি বানানো শিখেছে। একসময় রতন ভালো ছাত্র ছিল না বলে সহপাঠীদের কেউ রতনের সাথে মিশতো না। তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যেত। এখন স্কুল ছুটির পর সবাই একসাথে মহা আনন্দে পাতার বাঁশি বাজিয়ে বাড়ি ফেরে। পাতার বঁশির সুরে মোহনীয় মূর্ছনা তৈরি হয় গাঁয়ের মেঠো পথে। আর সে পথের হিরো হয় রতন।