পদ্মাপাড়ের বিলু

হোসেন মাহমুদ-এর আত্মজৈবনিক উপন্যাস

0
57

পর্ব : পাঁচ
নানাবাড়ির পথে-২

অবশেষে ট্রেন পোড়াদহ ছাড়ল। একটি স্টেশন পেরিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছল ভেড়ামারায়। এদিকে বিলুও জানালার পাশে জায়গা পেয়েছিল। ট্রেন ভেড়ামারা ছাড়তেই তার চোখ বাইরের দিকে সেঁটে রইল। একটু পরই ট্রেন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পেরোবে। বহুবার শুনেছে এ রেল ব্রিজের কথা। এত বড় রেল সেতু আর কোথাও নেই। এক মাইলেরও বেশি দীর্ঘ। ডবল লাইনের ব্রিজ। এক পাশে মানুষের পায়ে চলার পথ আছে। পদ্মার মতো প্রবল স্রোতস্বিনী নদীর ওপর ব্রিটিশরা এ ব্রিজ তৈরি করে এক বিরাট কাজ করেছিল। বড় হয়ে বিলু জেনেছে, সেকালে ভারতের রাজধানী কলকাতার সাথে আসাম ও উত্তরবঙ্গের ট্রেন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ব্রিটিশরা এ ব্রিজ তৈরি শুরু করে। ট্রেন ব্রিজে উঠতেই বিলু জানালা দিয়ে একটুখানি মাথা বের করে আরো ভালো করে দেখার জন্য। এদিকে ট্রেন ব্রিজের উপর ওঠার পর থেকে আওয়াজ প্রচণ্ডভাবে বেড়ে গেছে। কেউ আস্তে কথা বললে শোনা যায় না। বিশাল পদ্মা নদীর দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল বিলু। এ নদীকে ছোট থেকেই দেখে আসছে সে। কিন্তু এত ওপর থেকে দেখা আলাদা ব্যাপার। তবে তার মনে হয়, তাদের এলাকায় পদ্মা নদী আরো বেশি চওড়া। আর এদিকে নদীতে ভাঙন আছে কি না সে বুঝতে পারল না, কিন্তু তাদের এলাকায় আষাঢ় মাস এলেই ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। কত বাড়িঘর, কত জমি যে ভেঙেছে। এ বয়সেই বিলু নদী ভাঙনে সর্বস্বান্ত হওয়া অনেক মানুষের কান্না শুনেছে, বিলাপ দেখেছে। তা দেখে তার কচি মনটা ব্যথায় টন টন করে উঠেছে।
ট্রেনে চিনাবাদাম, চানাচুর, বিস্কুট, চকোলেট বিক্রি করে লোকজন। পাশের সিটের লোকজন বা ছেলেপুলেরা কেউ কেউ কিনে খাচ্ছিল তা। বিলু তাকিয়ে দেখে। এক-দু’টি চকলেট বা চানাচুরের দু’আনা দামের একটা ছোট্ট প্যাকেট তার কিনে খেতে খুব মন চায়। কিন্তু তার কাছে তো কোনো পয়সা নেই। তাই খেতে পারে না। মা যদি কিনে দিতেন তাহলে সে খেতো। তবে সে জানে যে তারা খুব গরিব। মা খুব অল্প টাকা মানে যাওয়ার খরচটা নিয়েই শুধু এসেছেন। ট্রেনে চার আনার কিছু কিনে খাওয়ার জন্য দেয়ার বিলাসিতা করা তার সাজে না। তাই কিছু কিনে খাওয়া হয় না বিলুর। এতে সে মন খারাপ করে না। তার ইচ্ছে আছে খাওয়ার, কিন্তু তা বলে সে লোভী নয়। তার মাও তো তার সাথে না খেয়ে থাকেন। মা কিছু না খেলে সেই বা খাবে কেন? তা বলে কি খিদে লাগে না তার? লাগে। মুখ শুকিয়ে যায়। আল্লাহ চাহে তো সন্ধ্যা বেলা নানা বাড়ি পৌঁছে রাতে খাবে।
ঈশ্বরদী থেকে সিরাজগঞ্জের ট্রেন রওনা হলো। চাটমোহর, লাহিড়িমোহনপুর, আড়ানি, বড়াল ব্রিজ, সলপ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ এসব স্টেশন পাড়ি দিতে দিনশেষ হয়ে এলো। বড়ালব্রিজ স্টেশনের আগে ঝমঝম শব্দে বড়াল নদীর উপরের রেল ব্রিজ পার হল ট্রেন। এ সময় গড়াই ব্রিজ ও পাকশী ব্রিজের কথা মনে পড়ল বিলুর। বড়াল ছোট নদী, ব্রিজটাও তাই ছোট। অল্পক্ষণেই ব্রিজ পার হলো ট্রেন। একটি বা দু’টি স্টেশনে ব্রিটিশ আমলে লাগানো চা পানের প্রচারণামূলক সাইন বোর্ড চোখে পড়লÑ ‘যাহাতে নাহিক মাদকতা দোষ, কিন্তু পানে করে চিত্ত পরিতোষ।’ সারাটা পথে বিলুর সাথে রইল রেল লাইনের পাশের টেলিগ্রাফের তার টাঙানো খুঁটি। কোথাও কোথাও দেখল ফিঙে পাখি বসে আছে তারের ওপর। তবে হঠাৎ দু’এক জায়গা ছাড়া কোথায়ও ট্রেন লাইনের আশপাশে কোনো বাড়িঘর দেখতে পেল না সে। দ্রুত অপশ্রীয়মান গাছ-গাছালি, ঝোপঝাড়, বাঁশবন, ফাঁকা মাঠ, রাখাল ছেলে, মাঠে ঘাস খেতে থাকা গরু বা ছাগল, লাঙ্গল বইতে থাকা চাষি, নদী, খাল দেখতে দেখতে এক সময় পথ ফুরিয়ে এলো। অবশেষে ঠিক সন্ধ্যার মুখে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশনে পৌঁছল ওরা। এ স্টেশন মায়ের জন্ম চেনা। স্টেশনের পাশেই পাকা রাস্তা। কয়েকটি রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। মা একটি রিকশাকে ্ডেকে নানা বাড়ি বাণীকুঞ্জে যাওয়ার কথা বলতেই সে রাজি হয়ে গেল। আট আনা ভাড়া। মা-ছেলে উঠে বসল রিকশায়।
নানা বাড়ি মানে বেশ বড়সড় ব্যাপার। বাড়ির পুব সীমানায় পরপর তিনটি তালগাছ। তার নিচে শিরাজী স্মৃতিসৌধ বা মাজার। সেখানে চিরঘুমে শায়িত আছেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী। মাজারের সীমানা শেষে পশ্চিম দিকে শুরু হয়েছে বাড়ি। একটি দু’রুমের একতলা, একটি টিনশেড দালান, দু’টি পাকা মেঝে টিনের ঘর ও একটি পৃথক একতলা দালান। সব মিলিয়ে গোটা দশেক ঘর। টিনের বড় ঘরটিতে তার এক মামা বাস করেন। বাকি সব ঘর ব্যবহার করেন বড় মামা। বাড়ির দক্ষিণ ও পুব পাশে মাঠের মতো বেশ খানিকটা খোলা জায়গা। সেখানে একটি বিরাট আমগাছ ও জামরুলগাছ অনেকখানি জায়গায় ছায়া ছড়িয়ে রেখেছে। এখন বহু মানুষ। তাই, সকালে গণ- নাশতা হিসেবে খিচুড়ি খেলো বিলু। খাওয়ার পর এ ও ঘর খুঁজল পড়ার মতো কোনো বই পাওয়া যায় কিনা। সব ঘরেই লোকজন ভরা, কোনো বইটই নেই। তার আবার বই পড়ার ভীষণ নেশা। গোয়েন্দা কাহিনী, গল্প, নাটক, উপন্যাস, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী যাই হোক, বই পেলেই সে পড়তে শুরু করে। পড়া তো নয়, গোগ্রাসে গেলা। তার মা তার এ রকম পাগলের মতো বই পড়া একদমই পছন্দ করেন না। তবুও তার চোখ এড়িয়ে বই পড়ে সে। এখন কোনো বই না পেয়ে মন খারাপ হয়ে গেল তার। চলে এলো বাড়ির বাইরে। খানিকক্ষণ ঘুরল। কাল থেকে ওরস শুরু হবে। বড় মামার মুরিদরা তা নিয়ে ব্যস্ত। লোকজন আসছে নানা জায়গা থেকে। পুরুষদের থাকার জন্য খোলা জায়গার এক দিকে সারি ধরে তাঁবু আর বাড়ির মধ্যে বড় উঠোনে তাঁবু খাটিয়ে মেয়েদের থাকার জায়গা করা হয়েছে। ঘুরতে ঘুরতে বাড়ির বাইরের প্রবেশপথের কাছে পৌঁছল বিলু। দেখে, সেখানে পুরনো খবরের কাগজের বড় বড় চার পাঁচটা স্তূপ। খুশি হয়ে ওঠে সে, এবার পড়ার মতো কিছু পাওয়া গেছে। এসব কাগজ বাজার থেকে কিনে আনা হয়েছে বোধ হয়। পাশে দুটি বড় পাত্র ভরা আটা জ¦ালিয়ে বানানো অনেক আঠা। কয়েকজন মুরিদ একটি স্তূপ থেকে খবরের কাগজ নিয়ে আঠা লাগিয়ে বাড়ির সীমানা ঘেরা কোমর সমান উঁচু বেড়া মুড়ে দিচ্ছে। একটা কাগজের গাদার পাশে সে বসে পড়ে। আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, পয়গাম প্রভৃতি কাগজ। খবরের কাগজে তার প্রধান আকর্ষণ বিদেশী খবর। এক একটা কাগজ নেয় আর বিদেশী খবরগুলো পড়তে থাকে। দেশ-বিদেশের খবর জানতে তার ভীষণ আগ্রহ। ভিয়েতনামে যুদ্ধ চলছে। ভিয়েতকং গেরিলারা লড়াই করছে মার্কিন সৈন্যদের বিরুদ্ধে। রবিবারের খবরের কাগজে সাহিত্য পাতা পেল। তাতে প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা দেখতে পেল। তবে গল্পগুলোই সে পড়ল। ঘন্টা দুই ধরে পড়ে গেল সে কাগজগুলো। ততক্ষণে মুরিদদের চোখ পড়েছে তার দিকে। তারা অবাক হয়ে ছোট বিলুর তন্ময় হয়ে কাগজ পড়া দেখল। এর মধ্যে ওর মামাতো ভাই শামীম এসে দু’বার ডাকল তাকে পত্তিন ওড়ানোর জন্য। গেল না বিলু।
ওরস উপলক্ষে বাণীকুঞ্জ মানুষে মানুষে ভরপুর। সত্যি বলতে কি, এ ওরস হচ্ছে শিরাজী পরিবারের সদস্যদের সবার এক সাথে মিলিত হওয়ার একটি সুযোগ। বিলু গিয়ে দেখল, বগুড়ার ধনকুণ্ডি থেকে বড় খালা, ঢাকা থেকে ছোট খালা ও তার ছেলে মেয়েদের কেউ কেউ, বড় মামার তিন মেয়ে ও তাদের ছেলেমেয়েদের সবাই এসেছে। এদের মধ্যে বড় খালা সবার মুরব্বি, আর তিনিই শুধু এসেছেন একা। বিলু তিনজন সঙ্গী পেল। বড় মামার ছোটছেলে শামিম, ছোটখালার বড় ছেলে পারভেজ আর বড় মামার বড় মেয়ের বড় ছেলে আরিফকে। পারভেজ ও আরিফ তার চেয়ে যথাক্রমে এক ও দেড় বছর এবং শামিম দু’বছরের ছোট। বিলু পড়ে ক্লাস সেভেনে, পারভেজ ক্লাস সিক্সে, আর আরিফ ও শামিম ক্লাস ফাইভে। আগেও যখন এসেছে তখনো ওদের সাথে দেখা হয়েছে তার। শামিম বেশি চঞ্চল, তার নেশা হচ্ছে পত্তিন কিনে ওড়ানো আর কাটাকাটির খেলা। ঘুড়িকে বিলুদের এলাকায় বলে ঘুন্নি, আর এখানে বলা হয় পত্তিন। বাড়ির পাশেই একটি বাড়িতে পত্তিন তৈরি হয়। হলুদ, লাল, বেগুনি, সবুজ রঙের প্রতিটি পত্তিন এক টাকা। শামীম দিনে অন্তত সাত-আটটি পত্তিন কেনে। হাতে থাকে কাঁচের গুঁড়ো আর শিরিষের আঠা মাখানো ধারালো সুতার লাটাই। সে সুতার মাথায় পত্তিনের সুতা বেঁধে উড়িয়ে দেয়া হয়। অনেক ওপরে উঠে যাওয়ার পর শুরু হয় আরেকজনের সাথে কাটাকুটি খেলা। কাটাকুটি প্রতিযোগিতার একপর্যায়ে একটি পত্তিন কাটা পড়ে। বাতাসে ভেসে সেটা বেশ দূরে চলে যায়। কোনো উঁচু গাছের ডালে আটকায় বা কোনো বাড়ির মধ্যে গিয়ে পড়ে। সেসব ঘুড়ি ফিরে পাওয়া অসম্ভব। শামিমের ঘুড়ি কাটা গেলে তখন সে আরেকটা কিনে আবার উড়ায়। রোজ এ রকম সাত-আট টাকা যায় ঘুড়ির পেছনে। এভাবে উড়ানোর কথা বিলুর কাছে এক স্বপ্নের ব্যাপার। পয়সার অভাবে ট্রেনে এক আনার চকলেট, চার আনার বাদাম কিনে খাওয়ার সামর্থ্যই তার নেই। এক টাকা করে একেকটি ঘুড়ি কেনার কোনো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু শামিমের পকেটে সব সময় দু’তিন টাকা থাকে। পত্তিন কাটা পড়লেই এক দৌড়ে গিয়ে আরেকটা নিয়ে আসে। টাকা শেষ হলে বাড়ি গিয়ে তার মায়ের কাছ থেকে আবার আনে। মা-বাবার আদরের ছোট ছেলে, চেহারাও খুব সুন্দর। মায়ের কাছে চাইলেই টাকা পেয়ে যায়। যতবার চায় ততবারই। তবে পারভেজ, আরিফও ঘুড়ি কেনে না বা ওড়ায় না। ঢাকায় ঘুড়ি ওড়ানোর চল নেই।
ওরা তিনজনই শহরের ছেলে। পারভেজ আর আরিফ ঢাকা শহরের ছেলে, আর শামিম সিরাজগঞ্জের। তাদের গায়ে ভালো পোশাক, চলাফেরায় স্মার্ট, শহুরে ভাষায় বা ভদ্দর লোকের ভাষায় কথা বলে। তাদের সাথে বিলুর অনেক ক্ষেত্রেই পার্থক্য। সে তিনজনের চেয়ে বয়সে বড়, শরীরের গঠনে বেশি লম্বা, আর চেহারা ও স্বাস্থ্য সবার চেয়ে ভালো। তবে তাদের কাছে বিলু একেবারেই গাঁইয়া। তার কথায় গ্রাম্য ভাষার ছাপ আছে। তিনজন প্রায়ই এক টাকা দামের কুলফি বরফ বা দু’টাকা দামের মিল্ক আইসক্রিম কিনে খায়। বিলুর পক্ষে তা সম্ভব নয়। তাই তারা যখন আইসক্রিম খায় তার আগেই বিলু তাদের কাছ থেকে সরে যায়। তারাও তাকে খেতে বলে না। বিলু এতে কিছু মনে করে না। কারো কাছ থেকে কিছু চেয়ে খাওয়া তার স্বভাবে নেই। কেউ কিছু দিলে সে তা নেয় না। তার আত্ম্সম্মানবোধ প্রখর।
তার মায়েরা ছিলেন তিন বোন। সবার বড় ছিলেন সৈয়দা ফেরদৌস মহল শিরাজী। বগুড়ার চান্দাইকোনার ধনকুণ্ডির জমিদারপুত্র আসগর হোসেন সরকারের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। বিলুর মা সৈয়দা নূরমহল শিরাজী ছিলেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজীর মেজো মেয়ে। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থানার ধোকড়াকেল গ্রামে এক জোতদার পরিবারে তার বিয়ে হয়। তার ছোট খালা ছিলেন সৈয়দা রওশন মহল শিরাজী। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের কর্মী ও সাহিত্যিক ইজাব উদ্দীন আহমদের সাথে বিয়ে হয় তাঁর। তিনি ঢাকায় থাকতেন। তিন বোনের মধ্যে বিলুর মা দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে খুব কষ্টকর জীবনযাপন করছেন। এর কারণ, ১৯৪০ সালে পদ্মা তীরবতী বহু গ্রামের বিশাল এলাকা ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়। আরো হাজার হাজার মানুষের সাথে বিলুর আব্বার পঞ্চাশ বিঘারও বেশী জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ফলের তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে অনিশ্চিত অবস্থায় সংসার রেখে তিনি মারা যান। বিলু তার জন্মের পর থেকেই দুঃসহ দারিদ্র্য দেখেছে। সত্যি বলতে কী, খুব কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছে সে। কিন্তু সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তার মাকে কখনো ভেঙে পড়তে দেখেনি সে। ভীষণ ধৈর্য্যশীলা ছিলেন তিনি। সমস্যা-বিপদের মধ্যে সবসময়ই তার মুখে শোনা যেতÑ‘ইন্নাল্লাহা মা’আস সবেরিন।’
চলবে…