তোমাদের দেশপ্রেম

আলম শামস

0
75

প্রিয় বন্ধুরা, তোমরাই আমাদের আগামী। আমাদের ভবিষ্যৎ উত্তসূরি। জাতীয় চেতনার প্রতিনিধি। তাই শৈশব থেকেই শিখে নাও দেশপ্রেমের পাঠ। সঠিকভাবে জেনে নাও জাতির বিজয়ের গল্পকথা আর সংগ্রামের ইতিহাস। এসব গৌরবগাথা ও গল্প তোমাদের মনে দেশপ্রেমের স্বপ্ন জাগাবে। দেশপ্রেমে অহেতুক আবেগ নয় বিবেক আর বুদ্ধি দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে দেশকে।
বুকের ভেতর দেশপ্রেমের স্বাদ জাগানোর প্রথম কাজ জাতীয় ইতিহাস জানা, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস শেখা, জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে পরিচিত হওয়া। এসব বিষয় সহজভাবে মনে রাখার জন্য মুখস্থ নয় বরং আনন্দের সাথে আকর্ষণীয় কৌশল জেনে নাও। আবার এমন যেন না হয়- তথাকথিত অ আ ক খ পাঠ। আনন্দ-গানের খেলা দেখতে দেখতে, গল্প-ছড়ায় শোনা। কথা বলায় মজা। -গল্প-গাথায় শেখা। গল্পে গল্পে জানো মার্চে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা আর ডিসেম্বরে গৌরবোজ্জ্বল বিজয়। বন্ধুরা মিলে খেলতে পারো উত্থানপতন খেলা। এরকম আনন্দদায়ক শেখার পদ্ধতি দিয়ে পরিকল্পনা সাজাও। হাতে কলমে অনুশীলনের জন্য আমরা আরও যে কাজগুলো করতে পারি তা হলো-
ভ্রমণ ও পর্যবেক্ষণ : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী স্থান, স্থাপনা পর্যবেক্ষণে গিয়ে বড়দের কাছ থেকে সেখানকার ঘটনা জেনে নিতে পারি।
দেশপ্রেমের গল্পে বলা : বন্ধুদের কাছে সহজ করে একজন মুক্তিযোদ্ধার জীবনকাহিনী গল্পাকারে বলতে পারি ।
গানে গানে দেশপ্রেম : জাতীয় সংগীত, দেশের গান, স্বাধীনতার গান গাইতে পারি ।
ছবিতে দেশপ্রেম : আমাদের আঁকা চিত্র মেলাতে প্রদর্শন করতে পারি।
টিভি দেখা : দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনার অনুষ্ঠান দেখতে পারি। চলমান অবস্থার আলোচনা করতে পারি। রেডিও, টিভি, পত্রিকায় উপস্থাপিত নির্দেশনা শুনে মা-বাবা ও বড়দের সঙ্গে বলতে পারি। ক্লাসেও বর্ণনা করতে পারি। এছাড়াও বুদ্ধিজীবীদের পোস্টার, বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি, শহীদমিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধের বড় সাইজের ছবি, ফ্লিপচার্ট, জাতীয় পতাকা, জাতীয় প্রতীক (ফল, ফুল, মাছ, পশু, পাখি) স্বদেশ ও বিশ্বের মানচিত্র ইত্যাদি দেখে কথা বলা ও আলোচনা করা। খাতা, পেনসিল, রং, গাম, কাঁচি, লাল-সবুজ কাগজ, কাঠি দিয়ে শহীদমিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি আঁকতে দেয়া যেতে পারে। দেশাত্মবোধক গল্পের বই পড়া ও গল্পের ভিডিও এবং গানের বই দেখে আলোচনা করতে পারি।

আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমে ও পাঠ্যসূচিতে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ নামে একটি বিষয় আছে। শিক্ষাক্রমে বলা হয়েছে একেবারে প্রথম শ্রেণি থেকেই ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা ও এর চেতনায় দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধে উদ্দীপ্ত হওয়া’র জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। আরো বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে এবং এগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া ও ভালোবাসা’ জাগিয়ে তোলার জন্যই বিদ্যালয়ে কাজ করতে হবে।

এবার আসো অজকের দেশপ্রেমে। বর্তমানে আমাদের দেশ এগিয়ে গেলেও সকল ক্ষেত্রে পুবোপুরি স্বাবলম্বী নয়। আজকের দিনে দেশের প্রতিনিধি হয়ে তুমিও পারো দেশপ্রেমের গল্প সাজাতে।
একুশের প্রথম ভোর, সূদুর নিউইয়র্ক থেকে তোমাদের ছোট্ট দুই বন্ধু সুবর্ণ আইজ্যাক বারী এবং প্রিসিলা ফাতেমা গাইলো জাতীয় সংগীত। আঁকলো জাতীয় পতাকা। বিশ্বকে জানিয়ে দিলো আমাদের ভাষা শহীদদের বীরগাথা। তোমরাও পারো আমাদের দেশের এমন গাথা মানুষকে জানাতে। কিংবা গত ২০২১ সালের লকডাউনে শিশু মারুফ তার সকল ভয় মাড়িয়ে ক্যামেরার সামনে তার দুখের কথা জানালো, এমনিভাবে তোমরাও পারো মানুষের কষ্টের ভাগিদার হতে। তাদের দুঃখ বুঝতে। দেশের মানুষের কষ্টের ভাগী হওয়ার চেয়ে বড় দেশপ্রেম আর কী হতে পারে?
আমরা আমাদের বন্ধুদের কাছে যখন জানতে চাই, বড় হয়ে তুমি কী হবে? বেশিরভাগই জবাব ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কিংবা শিক্ষক। চোখে মুখে তাদের তৃপ্তির হাসি। সত্যিই তৃপ্ত হওয়ার মতো। তবে কখনোকি আমরা জবাব পেয়েছি বড় হয়ে আমি একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হতে চাই? ডাক্তার শিক্ষক কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পর প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছে লোভ, উদাসীনতা, হিংসা, আর ক্রোধ ঝেড়ে ফেলে মানুষের সেবাটাও মহান দেশপ্রেম। দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসা আমাদের দুনিয়া এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য হতে পারে এক মহা অর্জন। আমরা আমাদের সুমহান আদর্শকে আর নৈতিকতা যদি ধরে রাখতে পারি তাহলে আমাদের মতো সফল দেশপ্রেমিক পৃথিবীতে মাথা উচু করে দাঁড়াবে।

আমরা শুধু শপথবাক্য পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবো না। এ দেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ভাষা, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে জাতীয় অর্জনের সুফল ভোগ করতে হবে।
আমরা যদি সঠিক পথে পরিচালিত হতে না পারি, সত্যিকার অর্থে সোনার বাংলা গড়া হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে। লাখো শহীদের রক্তে ভেজা এ স্বদেশের কল্যাণে কাজ করবো এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। দেশপ্রেমের সুচনা হোক পরিবার থেকে।
তারপর বিদ্যালয়ে। ধাপে ধাপে আমরা হয়ে উঠব সুযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নাগরিক।