চলো, ফ্রিতে দুনিয়া ঘুরি

আবরার হক

0
19

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। কেমন আছো সবাই? বিভিন্ন জায়গা থেকে তোমরা যারা এই লেখা পড়ছ, তোমাদের সবাইকে নিয়ে আজ আমরা ফ্রিতে সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াতে শিখব ইনশাআল্লাহ। চলো, দেরি না করে শুরু করা যাক।
আমরা তো সবাই চাই সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াতে এবং সুন্দর সুন্দর সব জায়গা দেখতে। মনে করো কেউ তোমাকে টার্কিশ এয়ারলাইন্স বা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটা স্পেশাল কার্ড গিফট করলো, যে কার্ড দিয়ে তুমি তাদের যে কোনো ফ্লাইটের টিকিট কাটতে পারবে একদম ফ্রিতে, কেমন হবে ভাবো তো ব্যাপারটা! একইসাথে সব জায়গায় এন্ট্রি টিকিটও ফ্রি! ইশশ! ভাবতে গিয়েই আমার মনে হচ্ছে, এমন পেলে বুঝি খুশিতে শূণ্যে উড়ে বেড়াবার মজাটাই পেতাম! কিন্তু এটা তো আসলে কেবল ইচ্ছা বা স্বপ্নে কথা। বাস্তবে এমন কোনো কার্ডও নেই। আবার নিতে হবে এন্ট্রি টিকিটও। আহা! এত তাড়াতাড়ি কষ্ট পেয়ে মুষড়ে পড়ে শোকে বিহ্বল হয়ে যাওয়ার কিছু নেই। আজ আমরা জানবো এমন কিছু, যেটা ঐ দুই টিকিটের কাজ আমাদের অনেকটাই করে দিবে, এবং সেটা অবশ্যই একদম ফ্রিতে!
আবার আরেকটা ব্যাপার ভাবো। মনে করো, তোমার বাসা খুলনায়। ফুলকুঁড়ির লিডারশিপ ক্যাম্পে এসে তোমার অনেকগুলো নতুন বন্ধু হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে দুইজনের সাথে আবার তোমার বেশ খাতির। একজনের বাড়ি সিলেট, আরেকজনের বাড়ি রংপুর। একদিন তোমরা তিনজন মিলে গ্রæপ কলে কথা বলার সময় আলাপ করছিলে, কার বাড়ি থেকে কার বাড়ি কতদূরে। তোমার বাড়ি থেকে কি রংপুর বেশি দূরে? নাকি সিলেট! এই প্রশ্নের উত্তর তো আন্দাজে পাওয়া যায় না।
-ওমা! এতে অবাক হওয়ার কি আছে? এখন তো গুগল করলেই হয়ে যায়। গুগল মামাকে একবার জিজ্ঞেস করবো খুলনা থেকে রংপুরের দূরত্ব, আরেকবার জিজ্ঞেস করবো খুলনা থেকে সিলেটের দূরত্ব। ব্যস, হয়ে গেলো।
এমনটাই ভাবছ কি? কিন্তু এতে একটু ঝামেলা আছে। তুমি এতে প্র্যাকটিক্যালি বুঝতে পারবে না, আসলে কিভাবে দূরত্ব কমবেশি হলো।
এখন তো মোবাইল হাতে নিয়ে আমরা বলতে পারি, আমার হাতে পুরো দুনিয়া আছে। কিন্তু মোবাইলের আগে? হ্যাঁ। মোবাইলের আগেও একটা জিনিস হাতে নিয়ে আমরা এটা বলতে পারতাম। সেটা হলো গেøাব। মানে ঐ যে স্ট্যান্ডের উপর রাখা পৃথিবীর গোলাকার যে ম্যাপ, সেটার কথাই বলছি। গেøাব হাতে নিয়ে আমরা আঙ্গুলের স্পর্শে ঘোরাতে ঘোরাতে পুরো দুনিয়া চষে বেড়াতাম। আজ আমরা ম্যাপ নিয়েই একটু জানাশোনার চেষ্টা করবো। এতে কাগজের ম্যাপের কথা যেমন
থাকবে, একইসাথে থাকবে আধুনিক গুগল ম্যাপ বা গুগল আর্থ সম্পর্কেও। চলো আর দেরি না করে শুরু করা যাক।
গুগল ম্যাপ আর গুগল আর্থ, গুগলের এই দুই সার্ভিস সত্যিকার অর্থেই দুনিয়াকে আমাদের চোখের সামনে এনে দিয়েছে যেন। একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝার চেষ্টা করি চলো। কানাডার উত্তরাংশে একটি অসাধারণ দ্বীপ আছে, যেটিকে শুধু দ্বীপ বললে ভুল হবে। এটি আসলে দ্বীপের মধ্যে দ্বীপের মধ্যে দ্বীপ। বুঝতে পারো নি? যে দ্বীপের কথা বলছি, সেটি যে জলাশয়ের মধ্যে অবস্থিত, তা আবার একটি দ্বীপের মধ্যে; এই দ্বীপটিও আবার আরো একটি দ্বীপের একটি লেকের মধ্যে অবস্থিত। সবমিলে কয়েক লেয়ারের দ্বীপ বলতে পারো একে। প্রকৃতির কী আজব রহস্যসময় সৌন্দর্য্য, তাই না? কানাডার ভিক্টোরিয়া আইল্যান্ডের এই দ্বীপটির মতো আরেকটি ‘দ্বীপের মধ্যে দ্বীপের মধ্যে দ্বীপ’ আছে ফিলিপাইনের তাল লেকে। সে যাইহোক, কথা হলো, এই দ্বীপটির এই অস্বাভাবিক ব্যাপারটা দেখা এবং বুঝতে পারা অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে গুগল ম্যাপ বা আর্থের মাধ্যমে। তুমি চাইলের ম্যাপে গিয়ে ঐ নির্দিষ্ট জায়গাটা লিখে সার্চ করে জুম ইন বা জুম আউট করে এই ব্যাপারটা দেখতে পারো। অনেক মজার না ব্যাপারটা?
গুগল ম্যাপ আমাদের জন্য অনেক কিছু এত্ত সহজ করে দিয়েছে, যা বলার মত না। আমরা এর মধ্যে কিছু বেশ কার্যকরী ফিচার নিয়ে আজ জানবো। যেকোনো জায়গার রাস্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ সকল জায়গার অবস্থান গুগল ম্যাপে দেখানোটা গুগল ম্যাপের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃর হয় এমন ফিচার। যে কোনো জায়গাতে গেলেই রাস্তা খুঁজে পেতে বা কোনো গুরুত্বপুর্ণ জায়াগায় কিভাবে যাবে, তা সহজে বুঝিয়ে দিতে গুগলের নেভিগেশন সিস্টেম সারাবিশ্বেই অনেক বেশি জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত। এরপরে আসে যেকোনো জায়গার দুরত্ব মাপার সুযোগ। তুমি চাইলেই যেকোনো জায়গায় যাওয়ার জন্য এতে সার্চ করতে পারো। এই ফিচারের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, তুমি একসাথে ১০টি পর্যন্ত জায়গার দুরত্ব মাপতে পারবে। বুঝতে পারোনি? বুঝিয়ে দিচ্ছি। মনে করো তোমার বাসা ঢাকার মোহাম্মদপুরে। পরীক্ষায় রেজাল্ট ভালো করায় আব্বু আম্মু তোমাকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থায় করা আত্মীয় স্বজনদের বাসায় ঘুরতে যাবেন। ৩ খালা আর ৩ ফুফুর বাসায় যাওয়ার প্ল্যান। খালাদের বাসা যাত্রাবাড়ি, শাহবাগ, আর উত্তরায়। আবার ফুফুদের বাসা ঝিগাতলা, বাড্ডা আর মিরপুরে। তুমি বুঝতে পারছ না, কিভাবে রুটপ্ল্যান করলে ঠিক হবে। আব্বু-আম্মুকে জিজ্ঞেস করলে উনারা তোমার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিলেন। তুমি এরপর গুগল ম্যাপ নিয়ে বসলে। এরপর একে একে সব ডেস্টিনেশন এড করে দেখলে কোনটা কোথায় বা একেকটি থেকে অন্যটির দূরত্ব কত। এড করার পর প্রয়োজনমত উপরে-নিচে বা আগে-পরে করে দেখে সিদ্ধান্ত ঠিক করে আব্বু আম্মুকে জানালে।
এরপরে তুমি যখন প্ল্যান করে সবার আগে ঝিগাতলা যাত্রা করলে, গুগল ম্যাপের লোকেশন শেয়ারিং থেকে তোমার ফুফাত ভাইকে তোমার রিয়েল টাইম লোকেশন শেয়ার করে দিলে, এতে সে সবসময় দেখতে পাবে, তোমরা কতদূর আছ। আবার ১ সপ্তাহ ধরে সবটুকু ঘুরে আসার পর বাসায় এসে আবার দেখতেও পারলে কোনদিন কতদুর গিয়েছ, যেতে কতক্ষণ সময় লেগেছে, কোথায় কতক্ষণ ছিলে ইত্যাদি।
আরেকভাবে গুগল ম্যাপে দূরত্ব মাপা যায়, যেটা অনেকেই জানে না। কোনো জায়গা সিলেক্ট করলে দেখবে গবধংঁৎব উরংঃধহপব একটি অপশন আসবে। এই অপশনটিতে ক্লিক করার পর তুমি যে যে জায়গা সিলেক্ট করবে, তার সোজাসুজি দুরত্ব সেখানে দেখাবে। যেমন, বাংলাদেশের সর্বউত্তরের বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট থেকে সর্বদক্ষিণের টেকনাফ জিরোপয়েন্টের সড়কপথে দূরত্ব ৯৩৯ কিলোমিটার। কিন্তু সোজাসুজি দূরত্ব প্রায় ৭৬৭ কিলোমিটার।
গুগল ম্যাপে তুমি ট্রেনের সময়সূচিও দেখতে পারবে। যেকোনো স্টেশন সিলেক্ট করলে সেই স্টেশনে কোন ট্রেন কখন আসে, সেই তথ্য তুমি সেখান থেকে দেখতে পারবে। আবার সেই ট্রেনের নামের উপর ক্লিক করলে সেই ট্রেনের পুরো যাত্রাপথটিও তোমার সামনে ভেসে উঠবে। উন্নত বিশ্বে, এমনকি আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতেও ট্রেনের একেবারে রিয়েল টাইম আপডেট গুগল ম্যাপেই দেখা যায়। এছাড়া বড় শহরগুলোর মেট্রোরেল, বাস বা ট্রামের সময় বা তথ্যও দেখা যায় এতে। ঢাকার মতো বড় শহরগুলোর একটা বড় সমস্যা হলো ট্রাফিক জ্যাম। এজন্যেও গুগল ম্যাপ বেশ কার্যকরী। রাস্তায় বের হওয়ার আগেই তুমি দেখে নিতে পারো রাস্তায় জ্যাম কেমন। একাধিক রাস্তায় যাওয়ার সুযোগ থাকলে বেছে নিতে পারো কম জ্যামের রাস্তা। এভাবে সময় বাঁচানোর কাজেও গুগল ম্যাপ বেশ হেল্প করে থাকে। এছাড়া যেকোনো জায়গা, যেমন পার্ক, অফিস, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি কতক্ষণ খোলা থাকে, কোনদিন বন্ধ থাকে, কী কী সুবিধা সেখানে পাওয়া যায়, তার প্রায় সব তথ্যও এখন গুগল ম্যাপে পাওয় যায়। ফোনে বসে বসে দেখা ছাড়াও তুমি চাইলে অশরীরে ঐ এলাকা ঘুরেও আসতে পারবে, সে সুবিধা দিবে গুগলের স্ট্রিট ভিউ। অশরীরে মানে
বুঝনি? শরীরসমেত গেলে হয় সশরীরে, তাই শরীর ছাড়াই ঘুরে আসাকে বললাম অশরীরে। মজার না? যাইহোক, স্ট্রিট ভিউ এর ব্যবহার তোমাকে যেকোনো এলাকায় সরাসরি গিয়ে হেটে হেটে দেখার মত অনুভ‚তি দিতে পারে। গুগল ম্যাপ থেকে এবার চলো গুগল আর্থে যাই। গুগল ম্যাপের সব পাওয়ারফুল ফিচার দেখে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগছিল? তাহলে বলে রাখি, গুগল আর্থকে গুগল ম্যাপের বড় ভাই বলা যেতে পারে রীতিমতো। পার্থক্য হলো গুগল ম্যাপ আমাদের নিয়মিত জীবনের ব্যাপারগুলোর সাথেই বেশি জড়িত। অন্যদিকে গুগল আর্থ যেন একটা এক্সপ্লোর করার জন্য বিশেষভাবে বানানো কোনো জগত।
গুগল আর্থের অনেকগুলো পাওয়ারফুল আর ইন্টারেস্টিং ফিচারের মধ্যে সবার আগে বলতে হয় ‘ও’স ঋবষষরহম খঁপশু” নামের লুডু খেলার গুটির মত দেখতে অপশনটির
কথা। তুমি আর্থ ওপেন করে যখন এই অপশনে ক্লিক করবে, এই অ্যাপটি পৃথিবীর যে কোনো এক জায়গায় তোমাকে নিয়ে যাবে। আরো মজার হলো, এই যাওয়াটা হুট করে হবে না, তুমি দেখবে তোমার সামনে পুরো পৃথিবী ঘুরে ঐ জায়গাটা যেন তোমার সামনে হাজির হচ্ছে এসে। ভাবো ব্যাপারটা! কী ইন্টারেস্টিং। এখানেই শেষ তো না। ঐ জায়গা সামনে আসার পর ঐ অপশনে আবার ক্লিক করলে আবার হাজির করবে নতুন জায়গা। মনে হবে, তোমার সামনে যেন কেউ একটা ম্যাজিক ডোর এনে দিয়েছে, যেটি দিয়ে একেকবার প্রবেশ করলে নতুন একেকটা জায়গায় চলে যাওয়া যায়। এরপরে বলি ভয়েজারের কথা। এটিও বেশ জোশ একটা ব্যাপার। এই ভয়েজারটি দেখতে জাহাজের নাবিকের ব্যবহারের সেই হালের মতো। তোমরা জাহাজে ভ্রমণ করলে নাবিককে এটা দিয়ে জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করতে দেখতে পাবে। এই ভয়েজার থেকে অনেক কিছু দেখার আছে, এমনকি সেখানে গেমসও আছে। আছে বিভিন্ন বিখ্যাত এলাকা কিভাবে ধীরে ধীরে চেঞ্জ হয়ে গেছে, তার টাইমল্যাপস স্যাটেলাইট ভিউ। আবার বিভিন্ন কালচার বা ট্যুরিস্ট প্লেস সম্পর্কে ব্যাপকভাবে জানা যাবে। এছাড়া এডুকেশন ট্যাবে গেলে সেখান থেকেও তোমার হয়তো বের হতে ইচ্ছে করবে না, আমাদের পরিচিত জায়গাগুলো নিয়েও এত সুন্দর সুন্দর তথ্য ও ছবি সেখানে দেখতে পাবে।
আর হ্যাঁ, গুগল আর্থেও স্ট্রিট ভিউ রয়েছে। এছাড়া আরো রয়েছে গুগল আন্ডারওয়াটার, যার মাধ্যমে সাগরের তলদেশে চলাফেরা করার অনুভ‚তিও নিতে পারবে। ভাবো তো ব্যাপারটা, কেমন লাগে!
উপরে যে গুগল ম্যাপ ও গুগল আর্থের কথা জানলাম, দুটোতেই কিন্তু তোমারও কন্ট্রিবিউশান করার সুযোগ আছে। সে ব্যাপারে নাহয় অন্য কোনোদিন আলাপ হবে। এই যে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি গুগল ম্যাপ বা আর্থের কথা, তার একটা বড় অংশ কাজ হচ্ছে স্যাটেলাইট দিয়ে। আমি যখন এই লেখাটি লিখছি, তখনও পৃথিবীর চারপাশে প্রায় ৭৭০০টি স্যাটেলাইট কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এর আগে যখন এসব আধুনিক প্রযুক্তি ছিল না, তখন? তখন কি ম্যাপ ছিল না? ছিল, ম্যাপ তখনও বেশ কার্যকরী ও পাওয়ারফুল বিষয় ছিল। তখনো পৃথিবীতে যে দেশ বা সা¤্রাজ্যগুলো ছিল, তার তো সীমানা ছিল। তাছাড়া যুদ্ধ করতে গেলেও তখন ঐ এলাকার ম্যাপ নিয়ে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হতো। এখনকার মত অনেক ডিটেইল না হলেও, ম্যাপ নিয়েই কিন্তু মানুষ তখন সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াত।
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পুরনো যে ম্যাপসদৃশ জিনিসটি পাওয়া যায়, সেটি প্রায় ২৭০০০ বছরের পুরনো। ভাবতে পারো? সাতাশ হাজার বছর! হাতির দাঁতের উপর আঁকা সেই ম্যাপে কোনো এলাকার, পাহাড়, নদী, উপত্যকা, রাস্তা প্রভৃতির চিহ্ন পাওয়া যায়। আর প্রথম যে ওয়ার্ল্ড ম্যাপের সন্ধান পাওয়া যায়, তা আঁকা হয়েছিল ৫ম-৬ষ্ঠ খৃষ্টপূর্বে বা এখন থেকে ২৫০০-২৬০০ বছর আগে। তখন অবশ্য সবাই পৃথিবীকে ফ্ল্যাট বা সমতল মনে করতো, গোলাকার মনে করতো না।
তোমার বাড়ি কোথায়, তার একদম নিখুঁত লোকেশন কাউকে কিভাবে দিবে? তুমি হয়তো এলাকার নাম বলার কথা ভাবছ। কিন্তু আমরা আজকে অন্যকিছু জানবো। পুরো পৃথিবীতে কারো অবস্থান জানার সুবিধার্থে পূর্ব পশ্চিমে অক্ষরেখা ও উত্তর দক্ষিণে দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়েছে। এই দুইটা রেখা থেকে কোনো জায়গা কতটুকু দূরত্বে অবস্থিত, এই হিসেব করে কোনো জায়গার অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। যেমন বাংলাদেশ ২৬ক্ক ৩৮’ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২০ক্ক ৩৪’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ক্ক ০১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২ক্ক ৪১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এলাকায় অবস্থিত। এভাবে পৃথিবীর যে কোনো জায়গার অবস্থান তুমি বের করতে পারবে। তুমি কি কখনো দেখেছ, তোমার বাড়ি পৃথিবীর ঠিক কোন জায়গায় অবস্থিত? গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে তুমিও এটি বের করে নিতে পারবে।
তোমরা অনেকেই জানো, ম্যাপে সবসময় উত্তর দিক উপরে আর দক্ষিণ দিক নিচে হয়। এটা কেন হয় জানো? এটা নিয়ে অনেক কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু দিনশেষে সহজ উত্তর হলো, শুরুর দিকে যারা ম্যাপ বানাতেন, তারা এটা শুরু করেছিলেন। এরপরে ধীরে ধীরে সবাই এতেই অভ্যস্ত হয়ে যান। ম্যাপ পৃথিবীর সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয়গুলোর একটা। বিশেষত আধুনিক গুগল আর্থের কথা বলতেই হয়। তোমরা এই ম্যাপ সম্পর্কে জানবে। একইসাথে জানবে এই ম্যাপের বিভিন্ন জায়গায় থাকা মানুষদের ব্যাপারে। এরপর ধীরে ধীরে অজ্ঞতা আর কলুষতায় ভরা মানুষদের মনের ম্যাপ পাল্টে দিয়ে সেখানে আলোর ফোয়ারা ছুটিয়ে দিবে, এই প্রত্যাশায় আজকের মত শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।