উইন্ডিজ : নান্দনিক ক্রিকেটের অনন্য সৌন্দর্য

কামরুল হাসান রিপন

0
32

বন্ধুরা, তোমরা যারা খেলাপ্রিয় বিশেষত ক্রিকেটভক্ত তারা উইন্ডিজ তথা ওয়েস্ট ইন্ডিজের নাম নিশ্চয়ই শুনেছো। ক্রিকেট ইতিহাসের অনন্য রূপকথার অনেক ইতিহাসের জন্ম এই উইন্ডিজে। এই ভ‚মিতে জন্ম নিয়ে বিশ্বজোড়া নাম কুড়িয়েছেন অনেক বিখ্যাত ক্রিকেটার। যদিও বর্তমানে ক্রিকেট দেশটির আগেরমতো সেই জৌলুশ আর নেই বললেই চলে। তারা এখন ¤্রয়িমান শক্তি হিসেবে পরিচিত। তবে মজার বিষয় হলো যেই দেশ নিয়ে এত মাতামাতি সেই উইন্ডিজ বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ নামে পৃথিবীতে কোনো দেশ নেই। কী! অবাক হচ্ছো, তাই না? অবাক হলেও সত্যি এই নামে কোনো দেশ নেই। আজ তোমাদের সাথে সেই বিষয়ে বলব খেলার পাতায়।
অন্যান্য দেশের ক্রিকেট দলের মতো উইন্ডিজ নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের দল না। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ক্যারিবীয় সাগরের তীরে অবস্থিত ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৯টা স্বাধীন দেশ (বার্বাডোজ, গায়ানা, জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, ডমিনিকা, সেইন্ট লুসিয়া এবং সেইন্ট ভিনসেন্ট), ২টা দেশের অংশবিশেষ (নেভিস এবং সেইন্ট কিটস), ৩টা ব্রিটিশ কলোনি (এংগুইলা, ব্রিটিশ ভার্জিন এবং মন্টসেরাট), ১টা ডাচ কলোনি (সেইন্ট মার্টিন) আর যুক্তরাষ্ট্রের ১টা দ্বীপ (ইউ এস ভার্জিন) নিয়ে উইন্ডিজ দল গঠিত। এবং এদের দলটি একটি সম্মিলিত বোর্ড-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এই দলটির আগের নাম ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ বর্তমানে সংশোধন করে রাখা হয় উইন্ডিজ। আর ক্রিকেট বোর্ডের নাম ডবিøউআইসিবি পরিবর্তন করে রাখা হয় সিডবিøউআই। দলের হারানো গৌরব ফেরাতে কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থে তারা তাদের নাম পরিবর্তন করে। এই দলটি শুধু ক্রিকেট খেলার সময়ই একত্র হয় বাকি অন্যান্য খেলায় তারা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে তাদের সরকারব্যবস্থাও আলাদা এমনকি তাদের অনেক বিষয়ে মতবিরোধও রয়েছে।

১৮৯০-এর দশকে উইন্ডিজ ক্রিকেট দলের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তখন তারা সফরকারী ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে প্রথম মাঠে খেলতে নামে। ১৯২৬ সালে ক্রিকেটের তৎকালীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওসঢ়বৎরধষ ঈৎরপশবঃ ঈড়হভবৎবহপব যা বর্তমানে ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈৎরপশবঃ ঈড়ঁহপরষ (ওঈঈ) তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড বা ডবিøউআইসিবি যোগদান করে। এরপরই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করে। ১৯২৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল ৪র্থ টেস্ট খেলুড়ে দলের মর্যাদা লাভ করে। তার আগে শুধু ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট খেলত। ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয় ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মাঝে ১৮৭৭ সালে।
১৯৬০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৯০ দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত দলটি টেস্ট ক্রিকেট এবং এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট উভয় স্তরের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যান্য দলের তুলনায় একচ্ছত্র প্রাধান্য বজায় রেখেছিল। একগুচ্ছ সেরা ক্রিকেটার ঐ সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পক্ষে খেলেছিলেন। অলরাউন্ডার স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স, স্পিনার ল্যান্স গিবস, ব্যাটসম্যান গর্ডন গ্রিনিজ, জর্জ হ্যাডলি, অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড, ম্যালকম মার্শাল, অ্যান্ডি রবার্টস, আলভিন কালীচরণ, রোহান কানহাই, ফ্রাঙ্ক ওরেল, এভারটন উইকস, আগুনঝরা পেসার জোয়েল গার্নার, কোর্টনি ওয়ালশ কার্টলি এমব্রোস, মাইকেল হোল্ডিং, মারকুটে ব্যাটসম্যান স্যার ভিভ রিচার্ডস প্রমুখ ক্রিকেটারগণ আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে স্থান পেয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটের এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪০০ রানের বর্তমান বিশ্বরেকর্ডধারী ব্রায়ান লারা উইন্ডিজের অন্যতম প্রতিভা ছিলেন। তিনি ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার হারানো রেকর্ড পুনরুদ্ধার করেন যা ইতিহাসে বিরল। হাল আমলের টি-টোয়েন্টি ক্রেজ ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ডও উইন্ডিজের প্রতিনিধি।
আইসিসি পরিচালিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটে উইন্ডিজ ক্রিকেট দল ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালে দুইবার শিরোপা জয় করে। প্রথম ক্রিকেট দল হিসেবে পরপর দুইবার শিরোপা লাভের গৌরব অর্জন করে। এছাড়াও প্রথম দল হিসেবে একাধারে ১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৮৩Ñএই তিনটি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ফাইনালে অংশ নিয়েছিল। ২০০৪ সালে দলটি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। একই বছর আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করে। তবে উইন্ডিজের ক্রিকেটাররা বরাবরই পরিচিত ছিলেন স্বাধীনচেতা ও বুনো নান্দনিক সৌন্দর্যের জন্য। যা সবাইকে মাতিয়ে রাখত। তাছাড়া ক্যারিবীয় সাগরের নীল জলরাশির অনুপম সৌন্দর্য যেকোনো ভ্রমণপিয়াসীর মন মাতিয়ে তোলে।