আমার দেখা একাত্তর

নাসির হেলাল

0
104

আমার জন্ম যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার বাড়িয়ালি গ্রামে। যশোর শহর থেকে মাত্র ১০ মাইল দূরে। বর্তমান যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি। যশোর সেনানিবাস ও ভারতীয় সীমান্তের মাঝামাঝি বলা চলে। যশোর চৌগাছা সড়ক থেকে সোজা মাটির রাস্তা। রাস্তাটি বর্তমানে পাকা। ফুলশারা গ্রামের মধ্য দিয়ে উজিরপুর, মুক্তারপুর, ধুলিয়ানি হয়ে এক্কেবারে কপোতাক্ষের তীর ঘেঁষে আমাদের গ্রাম। কপোতাক্ষ পার হলেই ভারতের বয়রা বাজার।

৩০ মার্চ ১৯৭১। যশোর সেনানিবাসে নেমে আসে কালোরাত। বাঙালি সৈনিকরা বিদ্রোহ করলে শুরু হয় দু’পক্ষের গোলাগুলি। অনেকেই নিহত-আহত হন। অবশ্য বাঙালি সৈনিকেরাই বেশি হত্যাকান্ডের শিকার হন। এর মধ্যে যাঁরা জীবিত তাঁরা রাতের অন্ধকারে সেনানিবাস ছেড়ে অজানার উদ্দেশে রওনা দেন।
গ্রামের মানুষ সকাল হতে না হতেই ঘুম থেকে উঠে পড়ে। নামাজি মানুষেরা ফজরের ওয়াক্তে মসজিদে জামায়াতের সাথেই নামাজ আদায় করেন। এদিনও এর ব্যতিক্রম হলো না। আমাদের গ্রামে একটি মাত্র মসজিদ। আর সেটা আমাদের উঠোনেই। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে মুসল্লিরা বেরিয়ে কেউ কেউ হাঁটতে শুরু করেছেন, কেউ নিজের কাজে যাবেন- এমন সময় খবর এলো মিলিটারি আসছে। ভয়ে সবাই দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। গ্রামে আগেই সংবাদ পৌঁছেছিল যে পাকবাহিনী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা করে মানুষ হত্যা করছে।

ফি বছর শীত মৌসুমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা শীতকালীন মহড়ায় অংশ নিতে আমাদের গাঁয়ের মাঠে আসতেন। গ্রামের মানুষ তাদেরকে ডাব পানি ইত্যাদি দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। আমরা ছোটরা একটু দূরে দাঁড়িয়ে ভয়মিশ্রত চোখে তা দেখতাম। যে কারণে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেখলে আমরা চিনতে পারতাম। যাই হোক গ্রামের মানুষ যখন জানল আগত সৈনিকেরা পাকিস্তানি নয় বাঙালি। তখন সবাই বের হয়ে এগিয়ে গেল। দেখা গেল সৈনিকদের মধ্যে অনেকেই রক্তাক্ত। তাঁরা প্রায় ৮০ জনের মতো। তাঁদের খবরা-খবর শোনার পর গ্রামের মুরব্বিগণের নির্দেশে যুবকেরা দ্রুত তাঁদেরকে বিভিন্ন দহলিজে এবং বৈঠকখানায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন। যুবকেরা তাদের পোশাক পাল্টানোর ব্যবস্থা করেন, অস্ত্রপাতি হেফাজতের ব্যবস্থা করেন, যতদূর সম্ভব আহতদের চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের সেবায় সেদিন পুরো গ্রামবাসী একাট্টা হয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করেন। কিন্তু তারপরও সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সেনাবাহিনীর সদস্যগণ গ্রামে আর থাকতে চাইল না। তাঁরা ভয় পাচ্ছিল যে পাক সেনারা তাঁদের অনুসরণ করে গ্রামে পৌঁছতে পারে। বাধ্য হয়েই গ্রামের যুবকরা তাঁদেরকে ভারতের সীমান্তবর্তী কাবিলপুর গ্রামে পৌঁছে দেয়।
যশোর সেনানিবাসে ম্যাসাকারের পর দিনই যশোর শহরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলে পড়ে পাকবাহিনী। তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যায় মেতে ওঠে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করতে থাকে। ফলে নতুন খয়েরতলা থেকে খড়কি পর্যন্ত অনেক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। তারা আশপাশের গ্রামে গিয়ে প্রথম দিকে আশ্রয় নেয় এবং বিজয়ের আগ পর্যন্ত আর বাড়ি ফেরেনি। এদের মধ্যে আমাদের অনেক নিকটাত্মীয়ও আছেন। আমাদের বাড়িতে উদ্বাস্তু তিন পরিবার এসে ওঠে। কিছুদিন পরে দুটো পরিবার অন্যত্র চলে গেলেও একটি পরিবার পুরো ৯ মাস থেকে যায়।

এপ্রিলের প্রথম থেকে মানুষ গণহারে ভারতমুখী হয়। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন। কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের গ্রামগুলো বিশেষ করে হিন্দুপাড়া একেবারেই জনশূন্য হয়ে পড়ে। পাকিস্তান আমলে ভারত থেকে আসা মুসলিমরাও ঘর-বাড়ি ফেলে চলে যায়। আমাদের গ্রামের মধ্য দিয়ে কাবিলপুর পর্যন্ত রাস্তাটি ভারতে যাতায়াতের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হতে থাকে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টার জন্যই রাস্তাটি মানুষের পদভারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। হাজার হাজার ভারতগামী শরণার্থী তো ছিলই। সাথে ছিলো মুক্তিকামী মানুষের মিছিল। শুধু তরুণ-যুবা নয়, মধ্যবয়সী এবং বয়স্ক মানুষও দেশমাতার অধিকার আদায়ের জন্য মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লেখাতে ছোটেন ভারতপানে।
ট্রেনিং নিয়ে যেসব মুক্তিযোদ্ধা প্রথম দিকে দেশে প্রবেশ করে, তাঁদেরই এগারো জনের একটি দল আমাদের গ্রামের এগারো বাড়িতে অবস্থান নেন। সেসব বাড়িতেই তাঁদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বিজয় নাগাদ। আমাদের বাড়িতে ছিলেন যশোর শহরতলীর ডাকাতিয়া গ্রামের রিয়াজুদ্দিন বিশ্বাসের ছোট ছেলে আশাদুল হক আশা। তিনি আমার বড় মামার শ্যালক। তাঁদের সব অপারেশনের সঙ্গী আমার বড়ো ভাই নজরুল ইসলাম।
মে-জুন মাসের দিকে দেশের অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। সাধারণ মানুষ শহর-বন্দর কিংবা বাজারে যাতায়াত শুরু করে। অবশ্য কিছু বিধিনিষেধ ছিলো যেমন: যশোর যেতে হলে পরিচয়পত্র লাগে, শানতলায় চেক করা হয়। গ্রামের ভাষায় এ পরিচয়পত্রকে ডান্ডিকার্ড বলে। স্কুল বন্ধ থাকায় আমি ছোট একটা ক্রোকারিজের ব্যবসা শুরু করি। বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে দোকান নিই। ভারতে যাতায়াতরত মানুষেরাই আমার ক্রেতা। এর মধ্যে প্রায়ই যশোর যাই পাউরুটি বিস্কুট আনার জন্য। আমি ছোট কিশোর হওয়ায় আমার ডান্ডিকার্ড লাগে না। এই যাতায়াত আমার কাছে খুব রোমাঞ্চকর। যশোর থেকে ফিরে মুক্তিযোদ্ধা আশা মামার কাছে রিপোর্ট পেশ করা, ফুলশারা থেকে যশোর পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে কোথায় কিভাবে পাকসেনা আর রাজাকারেরা অবস্থান করে তার খবর দেওয়া, এজন্য মামার পক্ষ থেকে লোভনীয় পুরস্কার ছিলো তাঁর রাইফেল ধরা। আর হালকা প্রশিক্ষণ। অবশ্য প্রশিক্ষণ নিতে হয় তার নেতৃত্বেই। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে রাইফেল ধরা নিষেধ।

অক্টোবরের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন সীমান্তবর্তী অনেক জায়গায় পাকসেনাদের ক্যাম্প। তবে তাদের দিক দিয়ে কাবিলপুর সীমান্ত থেকে আমাদের গ্রাম পর্যন্ত অনেকটাই অরক্ষিত। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় ভারতীয় বাহিনী এ সুযোগটি গ্রহণ করে। নভেম্বরের প্রথম দিকে ভারতীয় বাহিনী কপোতাক্ষ নদ পার হয়ে কাবিল থেকে আসা রাস্তা অনুসরণ করে আমাদের গ্রামে এসে বাংকার খুঁড়ে শক্তভাবে অবস্থান নেয়। অথচ তখনও পাকসেনারা সব জায়গায় বহাল। মিত্রবাহিনীর পক্ষ থেকে একদিন আগে একজন মুক্তিযোদ্ধা এসে গ্রাম খালি করার কথা বলে যায়। নিরুপায় মানুষ বাধ্য হয়েই দেশের কল্যাণে উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। আমাদের পরিবার নানা গ্রাম ঘুরে জগদেশপুরে এক আত্মীয় বাড়িতে উপস্থিত হয়। উদ্বাস্তু জীবনে অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা। আমরা রাত কাটাই বাঁশবাগানে নিশাচরদের সাথে।
এ গ্রামে থাকা অবস্থায় আমাদের খাবার প্রায় ফুরিয়ে আসে। আব্বা জীবন হাতে নিয়ে গ্রামে চলে যান। পরে কোনো মাধ্যম দিয়ে মেজ ভাইকে খবর পাঠান, বাড়ি গিয়ে ধান বা চাল আনতে। আমরা দু’ভাই গরুর গাড়ি নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হই। ভাই সামনে বসে গাড়ি চালাচ্ছেন আর আমি গাড়ির মাঝখানে বসা। আমরা ছোট সিংঝুলি পার হয়ে জগন্নাথপুর পূর্ব পাড়ায় পৌঁছে পাকসেনাদের সামনে পড়ি। তারা জানতে চায় কোথায় যাব? ভাই তাদের বুঝিয়ে বললে আমাদের ছেড়ে দেয়। তখন জগন্নাথপুর থেকে আমাদের গ্রামের রাস্তায় ওঠার কোনো রাস্তা ছিল না। পায়েচলা শীর্ণকায় একটি পথ তাও আবার মাঠ ও বিলের মধ্য দিয়ে। আমরা সেপথেই ফুলশারা ও আমাদের গ্রামের মাঝামাঝি গিয়ে রাস্তায় উঠি। রাস্তায় উঠতেই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ। এরপর আমি আর কিছুই জানিনে। জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারি ধান ক্ষেতের মধ্যে চিৎ হয়ে পড়ে আছি। পিঠের নিচে পানি। জামা কাপড় ভিজে একাকার। পরখ করার জন্য পিঠের নিচে হাত ঢুকিয়ে দেই। হাত বের করেই আৎকে উঠি! পানি কোথায়? এ তো রক্ত! কিছুই বুঝতে পারি না। ধীরে ধীরে মনে পড়ে মেজো ভাইয়ের কথা, গরুর গাড়ি আর বিস্ফোরণের শব্দের কথা। তবে আহত হয়েছি এটা বুঝতে বেশ সময় লাগে। দীর্ঘক্ষণ পর ভাইকে দেখি রাস্তার ওপর ঠায় দাঁড়িয়ে। গায়ের শক্তি জড়ো করে কয়েকবার ডাকি কিন্তু আমার কণ্ঠ থেকে শব্দ বের হয় না। বিষয়টি বোঝার পর তখন একটু উঁচু হয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় হাত নাড়াতে থাকি। এক সময় তিনি আমার হাত দেখতে পান এবং ছুটে এসে আমাকে দাঁড় করিয়ে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। রাস্তায় উঠে আঁচ করতে পারি পাকসেনাদের পুঁতে রাখা মাইনে গাড়িটা ছিন্নভিন্ন। মুখ থুবড়ে পড়ে আছে একটা গর্তে ।
এ যাত্রায় আল্লাহর একান্ত রহমতে আমরা বেঁচে যাই। আমি মারাত্মকভাবে আহত হই। গাড়ি ফেলে আমরা চলে আসি। গ্রামে ঢুকতেই দুজন ভারতীয় সৈন্য পথ আগলে জিজ্ঞেস করে, ক্যায়া হুয়া? পাকসেনা হায়? কোনো বিবেচনা বাদেই আমি উত্তর দেই, হায়! আর যায় কোথায়? ওরা পাকসেনা হায়! পাকসেনা হায়! বলে চিল্লাতে চিল্লাতে উল্টো দিকে দৌড়াতে থাকে। খুব ভয় পেয়ে যাই। কী বলতে কী বলেছি, ওরা কী বুঝেছে! আরেকটু এগোতেই দেখি উঠোনে ভারতীয় বাহিনীর জটলা। অবাক হই, ওরা কী করে জানলো এটা আমাদের বাড়ি! প্রমাদ গুনলাম! পরক্ষণে বুঝি আমাদের গ্রামে অবস্থানরত ভারতীয় সৈন্যের কমান্ডিং অফিসার তিন জন আমাদের বাড়িতেই বাংকার খুঁড়ে সেখানে অফিস করেছে।

আমার আব্বা আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরেন। কী হয়েছে? বলে কাঁদতে থাকেন। এ সময় অফিসারগণ এগিয়ে এসে তারাও জানতে চান মূল ঘটনা কী? মেজো ভাই ঘটনা খুলে বলেন। সৈন্যরা আব্বাকে সান্তনা দিয়ে বলেন, আপনার ভাগ্য খুবই ভালো। আপনার দু’ছেলে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছে। আপনি সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন। বাকিটা আমরা দেখছি।

আধা ঘণ্টার মধ্যে ডাক্তারসহ অ্যাম্বুলেন্স চলে আসে। এসে আমার শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেন। বেশ কিছু ওষুধও দিয়ে যান। ভীষণ কঠিন মুহূর্তের এই অনাক্সিক্ষত চিকিৎসা না পেলে আজকের এই স্মৃতিচারণ আদৌ সম্ভব হতো কি না আল্লাহই ভালো জানেন। এজন্য আমি ঐ সৈনিকদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমি ৬/৭ মাস যাবৎ বিছানায় পড়ে থাকি।

পাকবাহিনীর পরাজয় ঘনিয়ে আসে। গরীবপুর-জগন্নাথপুর মাঠের বিমান যুদ্ধ, ট্যাংক যুদ্ধ, আর শেষ পর্যন্ত হাতাহাতি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পরাজিত হয় পাকবাহিনী। আমি এ যুদ্ধ দেখার সৌভাগ্য আর্জন করি। যে মাঠে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয় তার উল্টো পাশেই আমাদের গ্রাম। এ যুদ্ধে ভারতীয়দের হাতে পাকিস্তানিরা একটি জঙ্গি বিমান হারায়। আর ভারতীয়রা হারায় তিনটি সুবিশাল ট্যাঙ্ক ।
আমার আহত হওয়ার ৭ দিন পর ২৬শে নভেম্বর চৌগাছা উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়। বাংলাদেশের প্রথম শত্রুমুক্ত এলাকা আমাদের চৌগাছা। এজন্য চৌগাছাকে বলা হয় স্বাধীনতার প্রবেশদ্বার। আর পুরো যশোর মুক্ত হয় ৭ ডিসেম্বর। ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের পক্ষ থেকে যশোরের মেহেরউল্লাহ ময়দানে (বর্তমান টাউন হল ময়দান) প্রথম জনসভা হয়। এর মাত্র ৬ দিনের মাথায় ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

তারপর আমি ভর্তি হই যশোরের সদর হাসপাতালে। আমার নিতম্ব আর পিঠ থেকে বের করা হয় বড় স্পিøন্টার। স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিশাল ক্ষতচিহ্ন। আর সেই সাথে স্পষ্ট হয় আমাদের সুমহান বিজয়। পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামক একটি নতুন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমরা অর্জন করি মহান স্বাধীনতা।