শায়নের শীতের ছুটি

মেহেরুন ইসলাম

0
64

পশুরনদীর কোলঘেঁষেই ছোট্ট গ্রাম কেয়াবুনিয়া। এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষই জেলে। নদীর সাথে তাদের জীবন নিবিড়ভাবে জড়িত।
এই গ্রামের এক ছেলে শায়ন। সবেমাত্র সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। এই বয়সেই তার গ্রামবাসীদের নিয়ে কতো ভাবনা।
এক মাস শীতের ছুটি পেয়েও মামাবাড়ি যাবে না সে। শীতে গ্রামের শিশু, বৃদ্ধরা খুব কষ্ট পায় কাপড় বিনে। শায়ন তাদের জন্য কিছু করতে চায়। মামাবাড়ি না যাওয়াতে তার মা অনেক অভিমান করেছে, তবুও সে মামাবাড়ি যায় না। মায়ের সাথে সেও মন খারাপ করে আছে। রাতে কিছুই খায়নি। সারারাত ভেবেছে গ্রামবাসীদের নিয়ে। তাদের জন্য কিছু একটা করতেই হবে তার।

খুব ভোরে শায়নের ঘুম ভেঙে যায়। তারপর রাফি, রাজন, সাদিক, সাদাত, আদিল, আপন, তনু, তিশা, মিহি সবাইকে ডেকে তার প্লানের কথা জানায়। সবাই প্রথমে রাজি হয়নি। শীতের ছুটিতে মামাবাড়ি, নানাবাড়ি যাবে সবার কত্তো প্লান! শায়ন তাদের বোঝালো। দেখ বন্ধুরা আমরা তো কত শীতের ছুটি মামাবাড়ি, নানাবাড়ি কাটিয়েছি। এবার না হয় একটু নিজের বাড়িতে কাটাই। সবাই মিলে খুব মজা করবো। তোরা শুধু আমাকে বিশ্বাস কর, আমার পাশে থাক প্লি­জ।
শায়নের এমন আবেগঘন কথায় কেউ আর না করতে পারলো না।

তারপর শায়ন বন্ধুদেরকে তার প্লানের কথা জানালো। মাছ ধরার কথা শুনে সবাই খুশিতে হৈচৈ শুরু করলো।
পরের দিন সকাল থেকেই শুরু হলো তাদের কার্যক্রম।
প্রতিদিন সবাই মিলে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে। আর যে টাকা পায় তা শায়নের মাটির ব্যাংকে জমা রাখে।
পশুর নদীতে কত মাছ! চিংড়ি, গলদা, পুটি, রুই, বাগদা, টেংরা, পাঙ্গাস, তেলাপিয়া কত যে মাছ!
এভাবে প্রতিদিন মাছ ধরে বিক্রি করে তাদের অনেক টাকা জমা হয়। সবাই মিলে শায়নের মাটির ব্যাংকটা ভাঙে। কত্তো টাকা! সবার চোখেমুখে যেন উচ্ছ¡াসের ঢেউ খেলা করছে।
শায়ন সবাইকে নিয়ে বাজেট করে কী কী কিনবে। তারপর কয়েক বন্ধু মিলে বাজেট মাফিক জিনিস কিনে আনে।
বিকালেই অনুষ্ঠান। তিনটার সময় শুরু হবে।
শায়নের আজ যেন ঈদ ঈদ মনে হচ্ছে। যদিও খাওয়ার তেমন আয়োজন নেই। তবুও কম কিসে? সবার জন্য শীতের পিঠা তৈরি করেছে তারা। সবার আম্মুরাই এসব করেছে, শায়নরা শুধু সাহায্য করেছে।

তিনটা বাজার আগেই সবাই মাঠে হাজির। কতো মানুষ, সবার মুখে হাসি। এই হাসিটাই শায়ন দেখতে চায় আজীবন।

তারা বন্ধুরাই সবার মাঝে শীতের কাপড় বিতরণ করছে, হাতে হাতে পিঠা দিচ্ছে কলার পাতায় মুড়ে।
বৃদ্ধদের চাদর আর ছোট শিশুদের সোয়েটার দিচ্ছে। রঙবেরঙের সোয়েটার পেয়ে বাচ্চারা খুব খুশি। বৃদ্ধরা চাদর, আর ছোটরা সোয়েটার পরে মাঠের মাঝখানে বসে পিঠা খাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে শায়নের কী যে ভালো লাগছে। খুশিতে শায়নের চোখ দুটো ছলছল করছে।