ছোটদের পত্রিকা ‘ফুলকুঁড়ি’র জন্য অলংকরণের কাজ করেছি অনেক দিন ধরে। কাজটি আমার কাছে আনন্দদায়ক, কারণ আমার ধারণা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এটা মনে হয়, যে কোনো শিল্পীর মাঝে একটি সুন্দর শিশুসত্তা বা মন লুকিয়ে থাকে। বড় বড় শিল্পী বা সাহিত্যিকরা যে মনটিকে প্রায়শই ‘পাগল’ বলে অভিহিত করে থাকেন। আমার মনে হয় এই শিশুমনটিকেই তাঁরা একটু বাড়িয়ে বলতে গিয়ে এমন অভিধা দেন। শিশুমনের ছন্নছাড়া খেয়ালিপনাই তাঁদের ভাষায় রূপান্তরিত হয় পাগলামি হিসেবে। আমি এটিকে মানবসত্তার অকৃত্রিম প্রকাশ বলে মনে করি। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়- ‘অসংকোচ প্রকাশের সাহসের দুরন্ত সাহস’! এটা কেবল শিশুদের কাজেই প্রকাশ পায়। কথাটা বোঝাবার জন্য আমি আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিল্পী সবিহ-উল-আলম এর উদাহরণ দিতে চাই।

দেশের একজন এত বড়ো প্রথিতযশা শিল্পী, তাঁকে দেখুন কী অসাধারণ আনন্দে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোটদের সচিত্র মাসিক ‘টইটম্বুর’ পত্রিকাটি তাঁর রঙে রেখায় অপার আনন্দে রাঙিয়ে চলেছেন। একইভাবে পৃথিবী বিখ্যাত অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রকার প্রয়াত সত্যজিৎ রায় তাঁর জীবদ্দশায় প্রাণবন্ত অলংকরণে ভরিয়ে তুলতেন ছোটদের পত্রিকা ‘সন্দেশ’-এর পৃষ্ঠাসমূহ। এই দু’জন বরেণ্য শিল্পীর কথা আমার মনে এলো আমার অনুভূতিটাকে বোঝাবার জন্য। আমি বলতে চাই- শিশুদের জন্য লেখা এবং শিশুদের জন্য আঁকা একটা আনন্দজনক কাজ এবং অভিজ্ঞতা। শিল্পী হিসেবে ফুলকুঁড়ির প্রচ্ছদ করতে গিয়ে, আঁকতে গিয়ে অনুভব করেছি একটি সুন্দর পরিপাটি পত্রিকা পাঠকের প্রথম দৃষ্টি তার আত্মার দরজাও খুলে দেয়। এই পাঠকের উৎসাহে আর সৃজনের প্রতি ভালোবাসার শিল্পী হিসাবে আমাকে সবসময় আরও নতুন আরও জীবন্ত শিল্পকর্ম সৃষ্টি করতে অনুপ্রাণিত করেছে। মাসিক ‘ফুলকুঁড়ি’ অলংকরণের কাজে সেই আনন্দ দীর্ঘদিন সানন্দ চিত্তে করতে পারার জন্য পত্রিকাটির পাঠক এবং প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত সম্পাদকমণ্ডলীর প্রতি জানাই আমার আন্তরিক ভালোবাসা। ‘ফুলকুঁড়ি’র এই চলা অব্যাহত থাক। শিশুদের স্বপ্নগুলো উড়বার ডানা পাক- এই শুভ কামনা নিরন্তর।



