ভূতের রাজ্যে টিনটিন

নাহিদ হাসান ইমন

0
104

রাত প্রায় একটা। নিজের টেবিলে বসে পরের দিনের অঙ্কের হোমওয়ার্ক করছিল টিনটিন। অঙ্কের নতুন মিস এসেছেন, খুব কড়া। ওই মিস এত কড়া যে পান থেকে চুন খসা তো দূরের কথা জর্দ্দা খসলেই অবস্থা খারাপ করে দেন। এজন্য হোমওয়ার্ক শেষ না করে বিছানায় যাবে না বলে পণ করে বসেছিল টিনটিন কিন্তু এখন একটা অঙ্কের উত্তর কোনোভাবেই মেলাতে পারছে না।
হালকা ঝিমুনি ভাবও চলে এসেছে এর মধ্যে। ঝিমুনি অবস্থাতেই টিনটিন দেখল তার ঘরে হালকা বেগুনি রশ্মি আসছে। ওই রশ্মির সাথে ভেসে আসছে কিছু অর্থহীন শব্দ। শব্দগুলো এরকম : gdkkn (shm)². H’n (qh)¹…
শব্দগুলো টিনটিনের মাথায় μমশ জট পাকিয়ে দিচ্ছে। কী হতে পারে এগুলো, সে অবচেতন মনে ভেবে যাচ্ছে আর তখনই সে শুনল, ওই আলোটা পরিষ্কার বাংলায় বলছে, কেমন আছো টিনটিন?
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এমনিতেও নিজের পেটে গুরগুর ডাকলেই ভয় পায়, কিন্তু আজ পাচ্ছে না। তখন টিনটিন লক্ষ করল, বেগুনি আলোটা অনেকটা কাছে এসে গেছে, আলোটা একটা অদ্ভুত ছায়ার মতো। তখন
ছায়াটা বলল, আমি প্রমে আমাদের ভাষায় তোমাকে কিছু বলেছিলাম। পরে মনে হলো তুমি তো আমার ভাষা বুঝবে না তাই তোমার ভাষাটা ট্যালিপ্যথির মাধ্যমে কপি করেছি, এখন তোমার ভাষাতেই বলছি। বাই দ্য রাস্তা, আমি ‘রি’। আমি ভূতসমাজে ‘বোকা রি’ নামে পরিচিত। তখন টিনটিন উঠে দাঁড়াল, সে এখনো বুঝতে পারছে না সে ভূতের সাথে কথা বলছে নাকি এটা তার অবচেতন মনের কল্পনা। তখন রি বলল, আমাদের ভূতরাজ ‘ঝি
‘তোমাকে আমাদের রাজ্যে নিয়ে যেতে বলেছেন। সেখানে এক বিরাট সমস্যা দেখা দিয়েছে অঙ্ক নিয়ে। কয়েক দিন আগে রাজা রাজ্যের সকল গণিতজ্ঞদের এক প্রতিযোগিতা দেন। ওখানে কি এক অঙ্ক ছিল যার সমাধান কেউ করতে পারেনি। এজন্য সবাই খাওয়াদাওয়া সব বন্ধ করে শুধু অঙ্ক নিয়ে পড়ে আছে। ওই অঙ্ক যিনি দিয়েছেন, রাজার ঘনিষ্ঠ মহাপ-িত ‘ইঞি’। রাজ্যের সব ভূত মিলে আন্দোলন করছে তার ফাঁসি দেয়ার জন্য। রাজা সাহেব বলেছেন, যদি অঙ্কটা সমাধান হয় তাহলে বেঁচে যাবেন ইঞি। এজন্যই আমাকে পাঠিয়েছেন তোমাকে নিতে। টিনটিনের বিস্ময় যেন অনেক আগেই এভারেস্ট জয় করে ফেলেছে।
এজন্য সে আর কিছুতেই বিস্মিত হচ্ছে না। কোনো কিছু না ভেবেই সে বলল, চলো রি যাওয়া যাক। এক অদ্ভুত বাহনে চড়ে শূন্যের দিকে রওনা হলো টিনটিন আর রি। কিছু সময় পরেই এক বিশাল রাজ্যের গেটের সামনে এসে দাঁড়ায় বাহনটি, রি তখন গেটের কাছে এসে পায়ের একটা ঝলক দিলো, এতেই বিশাল গেট খুলে দিলো ভেতরে থাকা আরও কিছু আলোছায়া।
টিনটিন দেখল, গেটে লেখা ‘vdkbnld’।
সে একটা বিষয় ধরতে পারলো, ওরা সবসময় এক ঘর আগের বর্ণ
ব্যবহার করে। ও প্রমে যা বলেছিল তা হচ্ছে, ‘hello (tin)² . I’m (ri)¹.
যা আগের বর্ণ দিয়ে লেখা ছিল। এখানে লেখা ‘welcome’ যা প্রত্যেকটির আগের বর্ণ দিয়ে লিখা। ও ভূতরাজ্যের ভেতরে গেল, সেখানে সব আলোর আবছায়ার মতো। বড় বড় প্রাসাদ তাও আলো দিয়ে বানানো। আশেপাশে অনেক ভূতেরা ঘুরছে সবই আলোর আবছায়া। রি বলল, আমাদের রাজ্যে সবাইকে আলোর রং দিয়ে অবস্থান দেওয়া হয়। যেমন আমার নাম (রি)১ এজন্য আমার রঙ বেগুনি। আমার নামের সাথে যুক্ত পাওয়ার ১ এর দ্বারা আমার বুদ্ধির মাত্রা প্রকাশ করে। আমাদের মোট ৭টি রং আছে। এগুলো রংধনুর হিসেব অনুযায়ী ‘বেনীআসহকলা’।
আমি একদম নিচের স্তরের ভূত, তাই আমার রং বেগুনি আর পাওয়ার ১ আমাদের রাজা হচ্ছেন (ঝি)৭ উনি লাল আলোর ভূত যার বুদ্ধির মাত্রা ৭। টিনটিন বুঝতে পারলো রি ভূতটা খুব বোকা টাইপ কিন্তু বন্ধু হিসেবে অনেক ভালো। তখন রি বলল, আমাদের বুদ্ধি থাকে হাঁটুর নিচে, তোমাদের যেমন থাকে মাথায়।
তোমরা মানুষেরা যখন বলো, তোর বুদ্ধি হাঁটুর নিচে তখন আমরা খুব খুশি হই। এজন্য তাকে অতিথি করে নিয়ে আসি আমাদের রাজ্যে। তাকে ঘুরিয়ে দেখাই আমাদের রাজ্যটা, যেন তার মন ভালো হয়ে যায়।
তখনই টিনটিনের মনে পড়ল গতক্লাসে অঙ্কের মিস তাকে অঙ্ক না পাড়ায় বেত দিয়ে মেরেছিল আর বলেছিল, মানুষের বুদ্ধি তো জানতাম হাঁটুর নিচ পর্যন্ত হয়, তোর তো দেখছি গোড়ালিরও নিচে। এর পর থেকেই ওর মন
প্রচ- খারাপ। এখন ও বুঝতে পারল আসলে অঙ্ক সমাধান করতে তাকে আনা হয়নি, তার মন ভালো করার জন্য নিয়ে এসেছে রি।
টিনটিনের হালকা মন খারাপের মতো হলো আবার ভাবলো ওর সাথে ঘুরতে এসে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা দিয়ে অনায়াসে ১ মাস বন্ধুমহলে গল্প বলে চালানো যাবে। তার মনটা হঠাৎই আনন্দে নেচে উঠল। তখনই টিনটিন লক্ষ করল রি-এর বুকের জায়গায় একটা লাল আলো জ্বলে উঠেছে। তাহলে ও বেগুনি আলোর নিমড়ববুদ্ধির ভূত না। লাল আলোর পাওয়ার ৭ এর উচ্চমাত্রার ভূত।