উমাইরের স্বপ্ন পূরণ

আব্দুল্লাহ মাহমুদ সামিহ

0
40

উমাইর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। কতবা বয়স হবে আর। পাঁচ কি বা ছয়। কিন্তু এই বয়সেই তার সব ভাবনা বড়দের মতো। তাইত সবাই তাকে খুব ভালোবাসে। তার ইচ্ছে সে বড় হয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে কাজ করবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ ও কুরাআন পড়ে ঘণ্টা দুয়েক ছাদে হাঁটাহাঁটি করা তার প্রতিদিনের রুটিন। রোজকার মতো সে আজও হাঁটতে ছাদে উঠেছে। হাঁটতে হাঁটতে ছাদের কিনারে এসে দেখতে পেল একটি পরিবার রাস্তার পাশে পলিথিন ঘেরাও দিয়ে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করেছে। এসব দেখে তার মনটা খারাপ হয়ে গেল। সে বাসায় ফিরে পড়তে বসে তবে পড়ায় একটুও মন দিতে পারছে না। ভাবতে ভাবতে তার মাথায় একটি চিন্তা এলো। বন্ধুরা একসাথেমিলে এই মানুষদের জন্য কিছু করতে পারলে মন্দ হতো না। সে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হলো এবং বাবার সাথে স্কুলে চলে গেল। তার বাবা অফিসে যাওয়ার সময় তাকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে যায়। স্কুলে তার কয়েকজন ভালো বন্ধু আছে। মাহির, আবির, মুজাহিদ আর আবরার। টিফিন পিরিয়ডে উমাইর তার চিন্তার কথা বন্ধুদের জানায়। সে বলে আমরা এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র এবং সাথে শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করতে পারি। উমাইরের কথা শুনে তার বন্ধু মুজাহিদ বলে আমাদের স্কুলে “ফুলকুঁড়ি আসর” নামে একটি শিশুকিশোর সংগঠনের কয়েকজন ভাইয়া আসেন। ওনারাও এরকম সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে কাজ করেন। ওনাদের এ বিষয়টা বললে ওনারাও আমাদের সাহায্য করবেন। স্কুল ছুটির পর বাসায় ফিরে উমাইর তার মাকে এসব বিষয় বলে। তার মা তার কথা শুনে খুব খুশি হয়। তার মা বলে এটা তো খুব ভালো চিন্তা। তোমার বাবা আসলে তাকে তোমাদের সাহায্য করার জন্য বলব। তার বাবা অফিস থেকে আসার পর তার মা বাবকে সব বলে। সব শুনে তার বাবা বলে, আমার ছেলে আর ছোট নেই। ও বড় হয়েছে। আজ আমার খুব গর্ব হচ্ছে যে ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে ভাবছে। আমি যথাসম্ভব সাহায্য করব।

এর পর থেকে শুরু হয় তাদের চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার কাজ। উমাইরের বাবা একজন শিল্পপতি। তার অন্যান্য বন্ধুর বাবারাও কেউ বড় ব্যবসায়ী, কেউ শিল্পপতি, আবার কেউবা সামান্য বেতনের চাকরিজিবী। তবে সবার বাবাদের চিন্তাধারা একই। সে ও তার বন্ধুরা তাদের বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে তাদের উদ্দেশ্যের কথা বলে সাহায্য চাইল। তাদের কথা শুনে সবাই তাদের সাহায্য করল আর সেই সাথে প্রশংসা। সবার সাহায্যে তাদের হাতে মোটামুটি একটা ভালো অঙ্ক জমা হলো। টাকা জমা হওয়ার পর তারা ফুলকুঁড়ি ভাইয়াদের সহযোগিতায় জিনিসগুলো কিনে ফেলে। তারা সিদ্ধান্ত নেয় জিনিসগুলো উমাইরদের গ্রামেই বিতরণ করবে। কারণ তাদের গ্রামের মানুষদের আর্থিক অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। শীতকালে তারা ভালো গরম কাপড় পরতে পারে না। এবং সেখানকার শিশুরা ভালো করে পড়ালেখা করতে পারে না। এরপর তারা যাওয়ার জন্য দিন ঠিক করল। তারা যাবে তিনটি গাড়ি নিয়ে। একটি গাড়িতে থাকবে তাদের মালপত্র অন্য দুইটির একটিতে তাদের অভিভাবকেরা এবং অপরটিতে ফুলকুঁড়ি ভাইয়ারা এবং তারা।

সব ঠিক হওয়ার পর একদিন সকালে তারা তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। উমাইর গাড়িতে বসে ভাবতে লাগল এই জিনিসগুলো পাওয়ার পর মানুষগুলোর মুখে যে হাসি ফুটবে তাতে তার স্বপ্নের অন্তত কিছু অংশ হলেও পূরণ হবে। এই কয়েক দিন তাদের উপর খুব ধকল গেছে। ক্লান্তিতে তার চোখ বুজে আসে। সে গাড়ির সিটে গা এলিয়ে চলে যায় ঘুমের রাজ্যে। যেখানে তার স্বপ্নরা তাকে ডাকছে হাতছানি দিয়ে। আর সে দেখে তাদের অপেক্ষায় আছে এক সুন্দর সুরোভিত সুশোভিত সমাজ।

দশম শ্রেণি, কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা