নক্ষত্রের আলো

আলী ইমাম

0
69

কথাগুলো একেবারে পরিষ্কার শুনতে পেল ট্রেন্ট। স্পষ্ট শব্দ। রাগ মেশানো কণ্ঠ। গ্রাহকযন্ত্রের ভেতর দিয়ে ধারালোভাবে শোনা যাচ্ছে। তোমার পালিয়ে যাবার পথ কিন্তু বন্ধ ট্রেন্ট। আর বেশি সময় নেই। দুই ঘণ্টার মধ্যে তোমার গতিপথকে আটকে দেয়া হবে। তুমি যদি বাধা দিতে চাও তবে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। মহাশূন্য থেকে তোমাকে তখন চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে।
এ কথার উত্তর দিলো না ট্রেন্ট। চুপ করে রইল। তার সাথে কোনো অস্ত্র নেই। লড়াই করা যাবে না। দুই ঘণ্টা আগেই তার মহাকাশযান ঝাঁপ দেবে অতি মহাশূন্যের এমন জায়গায় যেখানে তার নাগাল কেউ পাবে না। ট্রেন্টের কাছে এখন রয়েছে এক কিলোগ্রাম ক্রিলিয়াম। এটা দিয়ে কয়েক হাজার রোবটের মস্তিষ্ক তৈরি করা সম্ভব। এই মহাবিশ্বে যে কোনো গ্রহে ক্রিলিয়ামের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এটুকুর জন্য মূল্য পাওয়া যাবে কয়েক ’শ কোটি ডলার।
পরিকল্পনাটা প্রথমে এসেছিল বৃদ্ধ ব্রেনমেয়ারের মাথায়। ত্রিশ বছর পরিশ্রম করে এই পরিকল্পনার ছক কেটেছে সে। এটা যে তার সারা জীবনের সাধনা।
বুঝলে, এ কাজটা করে এখানে আর ফেরা যাবে না। তোমাকে এ জন্যই আমার দরকার। কোনো মহাকাশযান নিয়ে পাড়ি দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। তোমার আছে। ট্রেন্ট এ কথায় আপত্তি করে।
মহাকাশে পাড়ি দেয়াটা কোনো কাজের কথা হলো না। ঘণ্টা কয়েকের মধ্যেই আমরা ধরা পড়ে যাব।
যদি আমরা ঠিকভাবে ঝাঁপ দিতে পারি তাহলে ওরা আমাদের কখনো ধরতে পারবে না। যদি আমরা অতি মহাশূন্যের ভেতর দিয়ে হিসেব অনুযায়ী বেরিয়ে যেতে পারি তাহলে তো মুহূর্তেই কয়েক আলোকবর্ষ দূরে চলে যেতে পারব।
এই ঝাঁপ দেয়ার ব্যাপারটা বুঝে উঠতে মহাকাশের প্রহরীদের অল্প সময় লাগবে এবং সাথে সাথেই মহাবিশ্বের সমস্ত উপনিবেশে খবর দিয়ে দেবে।

উত্তেজিত হয়ে পড়ল বৃদ্ধ বেনমেয়ার।
সব উপনিবেশে এরা খবর পাঠাবে না। কাছাকাছি যে ডজনখানেক উপনিবেশ আছে কেবল সেখানেই খবর পাঠাবে। কত বিশাল এই ছায়াপথ। কত বিস্তৃত এর পরিধি। যার ফলে গত পঞ্চাশ হাজার বছরে যেসব উপনিবেশ গড়ে উঠেছে তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছে।
এ মুহূর্তে ব্রেনমেয়ার আবেগাক্রান্ত। সৌরজগতের পরিকল্পনার ছবি ভাবছেন। আদি যুগে মানুষ তার আদিম গ্রহকে ডাকত পৃথিবী বলে। এই সৌরমণ্ডল সেই পৃথিবীর ভূত্বকের মতো না। মানুষ দলে দলে ছড়িয়ে পড়েছে বর্তমানের সব উপনিবেশগুলোতে। কিন্তু সব দলই যোগাযোগ রেখেছে শুধু তার কাছের গ্রহগুলোর সাথে।
আমরা যদি এসব এড়িয়ে মহাশূন্যে ঝাঁপ দিতে পারি হয়তো পঞ্চাশ হাজার আলোকবর্ষ দূরের কোনো গ্রহে পৌঁছানো সম্ভব। তখন আমাদের খুঁজে বের করাটা দুঃসাধ্য হবে। এটা যেন হবে উল্কাবৃষ্টির মধ্যে বিশেষ কোনো পাথর খুঁজে বের করা।
ট্রেন্ট এ বক্তব্যে কোনো সায় দেয় না।
তাহলে আমরাও হারিয়ে যাব। লোকজনের বসতিপূর্ণ কোনো গ্রহে যাবার কোনো উপায়ই থাকবে না।
ব্রেনমেয়ার চারদিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে ফিসফিস করে বলে, আমি গত ত্রিশ বছর ধরে প্রতিটি সময় ব্যয় করেছি এই ছায়াপথের প্রতিটি বসতিপূর্ণ গ্রহের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য। ঘেঁটে দেখেছি সমস্ত পুরনো দলিল। কাগজপত্র। পরিভ্রমণ করেছি হাজার হাজার আলোকবর্ষ। যে কোনো মহাকাশযান চালকের চাইতেও আমি বেশি ঘুরেছি। এর ফলে প্রতিটি বসতিপূর্ণ গ্রহের অবস্থানের সঠিক হিসেব সংরক্ষণ করেছি। সেগুলো রয়েছে পৃথিবীর সবচাইতে উন্নত কম্পিউটারের স্মৃতিতে।
ব্রেনমেয়ার তখনো বলে চলেছে, আমি কম্পিউটারের নকশা তৈরি করি। সেগুলো সব সেরা। বিশ্বের প্রতিটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের যথার্থ অবস্থান চিহ্নিত করতে পেরেছি। সবকিছুই রয়েছে কম্পিউটারের স্মৃতিভাণ্ডারে। যদি একবার আমরা মহাশূন্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি। তাহলে এই কম্পিউটার সেই মহাকাশকে স্তরে স্তরে বিশ্লেষণ করবে বর্ণালিবীক্ষণ দিয়ে। এবং কম্পিউটারের স্মৃতিভাণ্ডারে রাখা মহাবিশ্বের মানচিত্রের সাথে এই বিশ্লেষণের ফল মিলিয়ে দেখা হবে। যখন নতুন মহাকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্রটির অবস্থান ও মানচিত্রের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যাবে এবং সেই সাথে মহাকাশযানের সঠিক অবস্থান নির্দিষ্ট করা সম্ভব হবে। তখন প্রয়োজন হবে কোন গ্রহে যেতে হবে তা নির্দিষ্ট করা। কম্পিউটার একবার যখন সেটা নির্দিষ্ট করে ফেলবে তখন নির্দেশ দেবে দ্বিতীয় বার ঝাঁপ দেয়ার জন্য। এবং তখন-ই সম্ভব হবে কোনো একটি বসতিপূর্ণ গ্রহের নিকটঅঞ্চলে পৌঁছানো।

ব্রেনমেয়ারকে এখন একটু চিন্তিত দেখাচ্ছে। ব্যাপারটা কিন্তু আমার কাছে বেশ জটিল মনে হচ্ছে। কিন্তু জানি এতে কখনো ভুল হবে না। আমার এতদিনের সাধনা তো বিফলে যাবে না। আমি হয়তো একজন কোটিপতি হয়ে, ধনী হয়ে বড়জোর দশ বছর জীবনটা ভোগ করতে পারব। কিন্তু তোমার বয়স কম। তুমি অনেক বেশি সময় ধরে এর ফল ভোগ করতে পারবে। আচ্ছা ধরুন, প্রথম ঝাপটা তো বিচার না করেই দিতে হবে। তখন যদি কোনো নক্ষত্রের ভেতরে সোজা গিয়ে ঢুকে পড়ি, সব তখন যাবে না। তুমি একটি অসম্ভব কথা ভাবছ ট্রেন্ট। এর সম্ভাবনা কয়েক কোটির মধ্যে এক ভাগও না। আমরা তো মহাবিশ্বের কোনো উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক থেকে এত দূরে গিয়ে পৌঁছুতে পারি যে, কম্পিউটারের মানচিত্রে তার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া গেল না। এমনও হতে পারে প্রথম ঝাপটা কেবল এক বা দুই আলোকবর্ষ দূরে গিয়ে শেষ হল। তখন দেখা গেল মহাকাশ-প্রহরীরা কিছু ছাড়েনি। তবে এসবের কোনোরকম সম্ভাবনা নেই। তবে দুশ্চিন্তা করতে চাইলে অনেকভাবে করা যেতে পারে। হয়তো মহাকাশযান নিয়ে ঠিক ওড়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তো আপনারই বেশি।
বৃদ্ধ ব্রেনমেয়ার একথা শুনে নির্বিকার রইলেন। আমার কম্পিউটার সব কিছু করে যাবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। সেদিন ট্রেন্ট এ কথার কোনো উত্তর দেয়নি। তারপর কেটে গেছে বেশ কটি দিন।
এক মাঝরাতে ব্রেনমেয়ার একটা ব্রিফকেসে ক্রিলিয়াম ভরে উপস্থিত হলো। পরিকল্পনা অনুযায়ী মহাকাশযান তখন ওড়ার জন্য প্রস্তুত। ব্রেনমেয়ার ট্রেন্টকে খুব বিশ্বাস করত। তার প্রতি যথেষ্ট আস্থা ছিল। এরপরের কাজগুলো করতে তাই ট্রেন্টকে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। এক হাত বাড়িয়ে ব্রিফকেসটা নেয়ার সাথে সাথে ট্রেন্টের অন্য হাত ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে এলো ব্রেনমেয়ারের দিকে। হাতে ধরা ছোরা। মারণাস্ত্র হিসেবে খুব ভালো। যদি ঠিকমতো চালানো যায় তবে নিঃশব্দে মৃত্যু। ব্রেনমেয়ারের শরীরে ভয়ঙ্করভাবে গেঁথে গেল ছোরাটা। ট্রেন্ট সেটাকে আর টেনে বের করল না শরীর থেকে। ছোরার বাঁটে লেগে রয়েছে আঙুলের ছাপ। এসব নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ তার নেই; কারণ, খানিক পরই সে সবার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এই মুহূর্তে মহাশূন্যের অনেক গভীরে ঢুকে পড়েছে সে। পেছনে তাড়া করে আসছে মহাকাশ-প্রহরীরা। এতক্ষণ ধরে তারাই ট্রেন্টকে সতর্ক করছিল। এখন তাকে মহাবিশ্বের আওতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ঝাপ দিতে হবে। ট্রেন্টের তখন মনে হল তার ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ঝাপের ঠিক আগে অবশ্য এ রকমের এক অনুভূতি হয়।
ঝাপ দেয়ার মুহূর্তেই মহাকাশযান আর ট্রেন্টের কাছে কোনো কিছুরই অস্তিত্ব রইল না। এক মহাকাশ থেকে অন্য মহাকাশে যাওয়ার সময়ের শূন্যতার বোধটুকু যেন মুছে গেল। সময়হীনতার মধ্যে মুছে গেল সব পদার্থ, শক্তি। এতক্ষণে সে পৌঁছে গেছে মহাবিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে।
মৃদু হাসল ট্রেন্ট। এখনো সে বেঁচে আছে। ঝাপটা একটু বেশি হয়ে গেছে। এখানে নক্ষত্রগুলো কাছাকাছি নয়। আগের আকাশে নক্ষত্রগুলো ছিল কাছাকাছি। এখানকার কিছু নক্ষত্র উন্নত শ্রেণির। কম্পিউটার নিশ্চয়ই তার স্মৃতি থেকে খুব তাড়াতাড়ি এর সাথে খাপ খায় এমন ছবি বের করে আনবে। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে মহাকাশযান। ট্রেন্ট নিশ্চিন্তে বসে আছে। দেখছে। নক্ষত্রের উজ্জ্বল আলোর বিচিত্র সব নকশার আনাগোনা। হঠাৎ একটা খুব উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখা গেল। দূরত্ব মাত্র কয়েক আলোকবর্ষ। বিশেষ ধরনের অনুভূতি দিয়ে সে বুঝতে পারল যে, নক্ষত্রটা খুব উষ্ণ। এই নক্ষত্রটাকে কেন্দ্র করে যে গ্রহ-উপগ্রহের পরিমণ্ডল আছে তার সাথে স্মৃতিভাণ্ডারের নকশা মিলিয়ে নিয়ে কম্পিউটার নির্দেশ করছে কোথায় ট্রেন্টকে ঝাঁপ দিতে হবে। কিন্তু কম্পিউটার অনেক বেশি সময় নিচ্ছে। এতটা সময় নেয়ার কথা না। কোনোরকমের নির্দেশ আসছে না কম্পিউটারে। অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। কম্পিউটারের বোর্ডে নানারকম আলো জ্বলতে লাগল। কিন্তু কোনো নকশা ভেসে উঠল না।
ট্রেন্ট ক্রমশ চিন্তিত হয়ে উঠছে। নকশা ফুটে উঠছে না কেন? এর সাথে মিল খাওয়া নকশা কম্পিউটারের স্মৃতিভাণ্ডারে থাকতেই হবে। ব্রেনমেয়ার তাকে তার জীবনের সাধনার ফল দেখিয়েছে। সে কোনো নক্ষত্রের অবস্থান চিহ্নিত করে রাখতে ভুল করতে পারে না, অথবা তার অবস্থান ভুল জায়গা দেখাতে পারে না।
এটা ঠিক যে, নতুন নক্ষত্রের জন্ম হয় আবার কিছু নক্ষত্রের মৃত্যুও ঘটে; আবার কোনো কোনো নক্ষত্র বেঁচে থাকার সময় আকাশে স্থান পরিবর্তন করে। এসব প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটে যায় অত্যন্ত ধীরগতিতে। এজন্য লাগে লক্ষ লক্ষ বছর। ব্রেনমেয়ারের তৈরি করা নকশাও কয়েক লাখ বছরের আগে পরিবর্তিত হতে পারে না। হঠাৎ কী একটা কথা মনে হতেই ট্রেন্ট যেন শিউরে উঠল। আতঙ্কে হিম হয়ে গেল। নাহ্, এটা কিছুতেই হতে পারে না। অন্ধভাবে ঝাঁপ দিয়ে একটা নক্ষত্রের অভ্যন্তরে গিয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরো কম।
মহাকাশযানটি ক্রমাগত পাক খেয়ে যাচ্ছে মহাকাশে। উজ্জ্বল তারাটিকে আবার দেখার জন্য অপেক্ষা করছে ট্রেন্ট। যেইমাত্র তারাটিকে দেখা গেল অমনি কাঁপা কাঁপা হাতে টেলিস্কোপের ছবিটার আওতায় নিয়ে এল নক্ষত্রটিকে। যতটা সম্ভব টেলিস্কোপের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিলো। দেখতে পেল উজ্জ্বল আলোর চারপাশে ফুটন্ত গ্যাস থেকে নির্গত ধোঁয়ার আবরণ। এবার ব্যাপারটা বোঝা গেল। এটি আসলে নোভা। কোনো তারার আকস্মিক বিস্ফোরণের ফলে ভরবীক্ষণের জন্য অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তখন পরিণত হয় নোভায়। একটি ছোট অদৃশ্যপ্রায় নক্ষত্র থেকে এটা পরিণত হয়েছে একটা উজ্জ্বল নক্ষত্রে। সম্ভবত মাত্র মাসখানেক আগে এটা হয়েছে। এটা নিম্নশ্রেণির নক্ষত্র বলে হয়তো কম্পিউটারের হিসেবের মধ্যে আসেনি। কিন্তু এখন তার পরিবর্তন ঘটেছে। ব্রেনমেয়ার যখন মহাকাশের পরিসংখ্যান সংগ্রহ করছিল তখন নিশ্চয়ই সেটা ওখানে ছিল না। তাই এই তথ্যটা কম্পিউটারের স্মৃতিভাণ্ডার ধরে রাখতে পারেনি। আর এখন কম্পিউটার হন্যে হয়ে এই নক্ষত্রের চারপাশের নকশা খুঁজে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। অস্থির হয়ে উঠছে ট্রেন্ট। প্রচণ্ড শীতল একটি ভয়ের স্রোত তার ভেতরে যেন কুলকুল করে বয়ে যাচ্ছে। চিৎকার করে ওঠে সে, এই নক্ষত্রটা নিয়ে আর মাথা ঘামিও না। এটাকে বাদ দিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে চলো। ট্রেন্টের অসহায় চিৎকার একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে প্রতিহত হয়ে ফিরে এলো। পূর্বনির্ধারিত নির্দেশ অনুযায়ী কোনো উজ্জ্বল নক্ষত্র পর্দায় ফুটে উঠলেই কম্পিউটারের স্মৃতিভাণ্ডারে রক্ষিত মহাজাগতিক নকশার সাথে সেই নক্ষত্রের অবস্থান মিলিয়ে দেখবে এবং প্রয়ােজনীয় সঙ্কেত দেবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নোভার চারপাশের পরিমণ্ডল তার ভাণ্ডারের নকশার সাথে যতক্ষণ না মিলবে ততক্ষণ সে চেষ্টা করেই যাবে।

থামবে না কিছুতেই; যতক্ষণ না তার জ্বালানি শক্তির সরবরাহ নিঃশেষিত হচ্ছে। কিন্তু তার অনেক আগেই শেষ হয়ে যাবে মহাকাশযানের বায়ুর সরবরাহ। ট্রেন্টের জীবন যাবে নিভে। ভীষণ অসহায় দেখাচ্ছে ট্রেন্টকে। হতাশ হয়ে এলিয়ে পড়ল চেয়ারে। কম্পিউটারের পর্দায় তখন নক্ষত্রের আলোর অর্থহীন নকশা। অনিবার্য মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ট্রেন্ট। মুহূর্তগুলো যেন প্রবল যন্ত্রণায় ভরা। ট্রেন্টের একবার শুধু মনে হল, ব্রেনমেয়ারের মৃতদেহে গেঁথে থাকা ছোরাটা তখন তুলে আনলে এই যন্ত্রণার হাত থেকে নিজেই নিজেকে সে মুক্তি দিতে পারত।
আইজাক আসিমভের কাহিনী অবলম্বনে