দ্বন্দ্ব হলেও আনন্দ

নাসীমুল বারী

0
45

কিছু কিছু বানান আছে খুব সহজ। কিন্তু ই-কার (ি ), ঈ-কার ( ী), উ-কার ( ু) বা ঊ-কার ( ূ )- এসবের পার্থক্যে বানানের শুদ্ধতা নিয়ে বেশ দ্বন্দ্বে পড়ে যায় অনেকে। কোনটি সঠিক খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। ফলে বানানে ভুল হয়ে যায়। এমন ভুলে নম্বরও কাটা যায়। তখন নিজেকেই নিজের কাছে অসম্মানিত মনে হবে জানা শব্দের অশুদ্ধ বানান লেখার কারণে।
শুদ্ধ ভাষার ব্যবহার আমাদের নাগরিক ও নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের দেশের প্রতিযোগিতামূলক ও পেশাগত পরীক্ষায় ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ আবশ্যক। নিজের ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ে ‘বাংলা’ তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুদ্ধ ভাষার চর্চা করা মানেই বাংলা ভাষার গৌরবের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।
মনে দ্বন্দ্ব তৈরি করা এসব দ্বান্দ্বিক বানানকে শুদ্ধ করে লেখার জন্য মজার আর আনন্দময় কিছু টিপস দিব আজ। এসব টিপস কোনো বিধিবদ্ধ রীতি নয়- আনন্দের সাথে শেখা মাত্র।
বানানগুলো খেয়াল করো-
১. মুহুর্ত, মুহূর্ত, মূহুর্ত, মূহূর্তÑ কোন বানাটি শুদ্ধ?
এভাবে চারটি বানান দেখলে যে কেউ দ্বন্দ্বে পড়ে যাবে। আমি নিজেও দ্বন্দ্বে পড়ে যাই। সহজ বানান অথচ দ্বন্দ্বময়। মুখস্থ করবে? লাভ নেই। স্মরণের কোষগুলো দ্বন্দ্ব বাঁধিয়ে দেবে আরো বেশি। অনেক দ্বন্দ্বে ভোগার পর অবশেষে বের করেছি একটা সূত্র। আর সে সূত্রের কারণে কখনোও আর অশুদ্ধ হয়নি ওই বানানটা। সূত্রটা একদম সহজ।
একটু খেয়াল করো। হ-এর সাথে উ-কার ( ু ) দিলে ‘হ’ নিজ রূপে থাকে না। উ-কার উপরে উঠে গিয়ে হয় ‘হু’ এমন। কিন্তু ঊ-কারে ‘হ’ নিজ রূপেই (হূ ) থাকে। ব্যাস সূত্র এটাই। ‘হ’ ঠিক রাখতে হবে। তার মানে ‘হূ’ হবে। আর অন্যটা হবে উ-কার ( ু-); মানে ‘মু’। তাতেই হয়ে গেল শুদ্ধ বানানÑ ‘মুহূর্ত’।
‘হ’কে তার আসল রূপে রাখতে ‘হূ’ ব্যবহার করতে হবে। এটা মনে রাখলেই ‘মুহূর্ত’ বানান কখখনো অশুদ্ধ হবে না।
মনে থাকবে তো?

২. মুমুর্ষু, মুমুর্ষূ, মুমূর্ষু, মুমূর্ষূ, মূমুর্ষু, মূমুর্ষূ- কোনটি শুদ্ধ?
চোখ তো ছানাবড়া। একটা শব্দের এতগুলো বানান! মস্তিষ্কের কোষগুলো দ্বন্দ্বে মহা হুলুস্থুল বাধিয়ে দিয়েছে, তাই না?
ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এখানেও একদম সহজ সূত্র। দুই উ-কার ( ু )কে একসাথে থাকতে দেওয়া যাবে না। এর মানেই হলো মাঝখানে ঊ-কার ( ূ ) বসিয়ে দুই উ-কার ( ু ) কে দুই দিকে পাঠিয়ে দেবো। ব্যাস, তাহলেই শুদ্ধ ‘মুমূর্ষু’ পাওয়া যাবে।
আবার, আরেকটা সূত্রও দেখি। এটাও সহজ। ব্যাকরণে উ-কার ( ু ) আগে। এখানেও সেটাই মনে রাখতে হবে। তারপর ধারাবাহিকভাবে ঊ-কার ( ূ ), উ-কার ( ু ) বসাতে হবে। হয়ে গেল সূত্র।
সূত্রমতে তাহলে কী দাঁড়াল? প্রথমটা ‘মু’ তারপরে ‘মূ’ তারপরে ‘র্ষু’; অর্থাৎ ‘মুমূর্ষু’।

৩. পিপিলিকা, পিপিলীকা, পিপীলিকা, পিপীলীকা, পীপিলিকা, পীপীলীকা- কোনটি সঠিক?
ছয় পায়ে পিল পিল করে হাঁটা ‘পিঁপড়ে’র ছয়টি বানান! কোনটি সঠিক? মাথা তো আউলিয়ে গেছে, তাই না? পিঁপড়ে’র সারির মতো ওদের বানানেও কতো লম্বা পার্থক্য! বানানটা কি এলেবেলে না! পরীক্ষায় এমন প্রশ্নে ঘাবড়ে যাবে তুমি?
কিন্তু নাÑ মোটেই কঠিন না শুদ্ধ বানানটি মনে রাখা।
শুধু মনে রাখবে, পাশাপাশি দুই ‘প’ এর দুই মাথায় দুই ‘কার চিহ্ন’ বসবে। আর শেষটা ১মটা একই ‘কার চিহ্ন’। ব্যাস! হয়ে গেল শুদ্ধ বানান!
দেখো তো কী হয়Ñ
দুই ‘প’ এর প্রথমটার ১ম মাথায় অনিবার্যভাবেই ‘-িকার’। তার পরের ‘প’-এর শেষ মাথায় ‘ ী-কার’। আর শেষটা ১মটা একই; অর্থাৎ ‘-িকার’। লিখে ফেলো তো সূত্রানুযায়ী- ১ম ‘প’-এ ‘পি’ ২য় ‘প’-এ ‘পী’; এরপরে প্রথমটার একই ‘-িকার’; ‘লি’। হয়ে গেল ‘পিপীলিকা’। ভাবো তো কত্তো সহজ! মনে রাখতে পারবে তো?

৪. শারিরিক, শারীরিক, শারীরীক, শারিরীক- কোনটি সঠিক?
দেহের অবস্থার এত রূপ! ভিরমি খেলে? এই তো ক’ বছর আগেও এক প্রতিযোগগিতামূলক পরীক্ষায় এসেছিল এটি। সঠিক বানানটা মনে রাখা খুব কঠিন?
একটুও না। শুধু মনে রাখবে এই দেহের অর্থাৎ শরীরের মধ্যখানকে।
চার বর্ণের শব্দটির মাঝের দুটিই ‘র’। এই দুই ‘র’ এর মাঝখানে দুই ‘কারচিহ্ন’ বসিয়ে দিবে আর কোনো চিন্তা নেই। স্বাভাবিকভাবেই ১ম ‘র’-এ ‘ ী-কার’ এবং পরের ‘র’-এ ‘-িকার’। হয়ে গেল সঠিক বানান ‘শারীরিক’। দেখলে তো কত্তো সহজ! মনে রাখতে পারবে তো?
কত সহজ না সূত্রগুলো? একটু সচেতন হয়ে মনে রাখলে এমন দ্বন্দ্বময় বানানে আর কখনো অশুদ্ধ হবে না।
কি, আজ দ্বন্দ্বের মাঝেও আনন্দ পেলে বন্ধুরা?