ছোট্টবেলার ঈদ

জাফর আহমদ

0
39

দাদার কাছে লিখলো নাতি চিঠি
ছোট্ট হাতে আলতো মিটিমিটি।
চিঠি কি আর কাগজ কলম দিয়ে?
ওসব এখন এক্কেবারেই ইয়ে।
ইয়ে মানে পুরান যুগের কথা
চিঠি লেখার নেইকো আগের প্রা।
ডাকবাক্সে চিঠি কি কেউ রাখে?
কেউ কি এখন আসছে চিঠিÑ ডাকে?
কত্তো কিছু ছিল হলুদ খামে
হইতে- প্রতি দুপাশে দুই নামে।
দুঃখ-অসুখ- খুশির কথা যত
চিঠির ভেতর জমা ছিল, অনেক শত শত।
অপেক্ষা আর সইতো না তো তর
ডাকপিয়নের হলো নাকি জ্বর?
এখন সবি শেষ হয়ে যায় ফোনে
দেশ বিদেশে কিংবা ঘরের কোণে!
কেমন আছো, ভালো থেকো, বলেই কথা শেষ
ভালোই বলি, আসলে কি আছে ভালোর লেশ?
দাদার নাতি জ্বালিয়ে মারে তারে
লিখলো নাতি চিঠি ম্যাসেঞ্জারে।
তোমরা যখন ছোট ছিলে দাদা?
ঈদটা তখন কেমন ছিল, পুরো নাকি আধা?
চিনতে দাদা ঈদের কোথায় ঘর?
বলো বলো কি হলো তারপর?
বলল দাদা দেখতে গিয়ে চাঁদ
উঠছি কোথায়? ভাবছো বাড়ির ছাদ?
দুষ্টুরা সব উঠে গেলাম গাছে
গাছে ওঠার সিঁড়ি বুঝি আছে?
তরতরিয়ে মগডালে যেই ওঠা
তবেই না হয় চাঁদ দেখা যায় গোটা।
আহা আহা মেঘের ওপর মেঘ
বাড়ছে আবার ঝড়ের গতিবেগ।
নামতে গিয়ে কেউ বলেছে ধরো
আমরা কি আর মেঘের চেয়ে বড়ো?
হয়নি দেখা কারোর ঈদের চাঁদ
ঈদ না হলে সবই তো বরবাদ।
চাঁদ দেখিনি দুঃখ মনে তাই
চাঁদ না দেখে ঈদের মজাই নাই।
হঠাৎ কে যে বলল দেখো ওই
হুমড়ি খেয়ে পড়ল সবে কইরে দেখি কই?

ওই যে দেখিস একটি তারা? কানা!
তার বরাবর নিচেই আহা সুতোর মতো টানা।
তোমরা এখন টিভি দেখেই সাড়া
খবর শুনেই খুশিতে একহারা।
আচ্ছা দাদা চাঁদ দেখা তো হলো
ঈদের কথা, সেমাই টেমাই ওসব এবার বলো।
বলছি তবে ছোট্টবেলার ঈদ
বড় বলতে পুরো গ্রামে একটাই মসজিদ।
সামনে ছিল বিরাট বড় মাঠ
সবাই মিলে গড়তো এসে বিশাল এক জমাত।
বিছনা চাটাই, জায়নামাজে ঢাকা
মাথার ওপর শামিয়ানা, একটুও নেই ফাঁকা।
নদীর ধারে কাশফুলেরা যেমন সারি সারি
দুলছে মৃদু বাতাস পেয়ে গায় গুন গান তারই।
হিংসা, বিস্বাদ, দুঃখ, অসুখ এক কাতারে খাড়া
নেই ভেদাভেদ গরিব-ধনীর সমান সমান তারা।
আজকে দীনহীন যারা সবার দুহাত ভরে
ভরিয়ে দেবেন আল্লাহতালা সবই উজাড় করে।
আমরা যারা করছি কেবল নতুন জামার জিদ
যার জামা নেই তার তরে কি নেইরে তবে ঈদ?
যাদের আছে অনেক বেশি সেখান হতে নিয়ে
অল্প কিছু দেই বিলিয়ে নিঃস্ব হাতে গিয়ে।
নামাজ শেষে কোলাকুলি জড়িয়ে ধরা সুখে
ধূলির ধরায় শান্তি আনে ব্যাকুল মলিন বুকে।
হাট বসেছে মিষ্টি, লাড়–, আঙ্গুলি আর বাঁশির
ফটকা, বেলুন; তাল, তরমুজ, কলা তৈরি মাটির।
ঈদসালামির অংশ হতে কত্তো কিছু কেনা
মিষ্টি কিনে ভাগ করে খাই অল্প হলেও চেনা।
এরবাড়ি আর ওরবাড়িতে দল বেঁধে সব যাওয়া
সেমাই পায়েস পিঠা পুলি কত্তো রকম খাওয়া।
মনে পড়ে দিনগুলো সব এই তো সেদিন যেন
মিলেমিশে থাকত কেমন নিকট কুটুম হেন।
তোমরা এখন কেউ চেনো না একই ছাদের নিচে
যে যার মতো থাকছো এবং চলছো কেবল নিজে।
পাশের ফ্ল্যাটে শফি থাকে নিচতলাতে আশা
রাইসা, রিদি, মাহিন, মিহির কোথায় ওদের বাসা?
ভাবছো কেবল একলা একা পড়াশোনাই করা?
আজকে আসো নাড়িয়ে দেবো সব দরোজার কড়া।
সবাই মিলে ঈদ খুশিতে জাগিয়ে তুলি সাড়া
ঈদের খুশি ছড়িয়ে দিয়ে মাতিয়ে তুলি পাড়া।
সব বেদনার হোক অবসান নাচুক খুশির ঢেউ
ঢেউয়ের দোলা উথলে উঠুক বাদ না পড়–ক কেউ।